বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-০৮

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না --------------- (পর্ব-৮) ------------ চার হোটেল নীল হিলটন।সন্ধ্যা। হালকা অ্যাশ কালারের একটা পুলওভার গায়ে চাপিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এল সাইফ।ঘন্টাদুয়েক আগেই মোবারক ওকে হোটেলে নামিয়ে দিয়ে গেছে সারাদিনের অনুসন্ধানের শেষে।সামান্য বিশ্রাম আর খাওয়া দাওয়া সেরে এখন আবার বের হচ্ছে সাইফ।যাবে ওই পিরামিডের উদ্দেশ্যে। নিজের চোখে দেখে আসবে ট্রেজারের অস্তিত্ব। দরজা লক করে লিফটের দিকে এগোচ্ছে,ঠিক সেই সময় চাপা একটা শব্দ কানে এল সাইফের।মুহুর্তের ব্যাবধানে শব্দটা চিনতে পারল সাইফ।শব্দটার ব্যাপারে ও অনেক অভিজ্ঞ।জীবনে বহুবার শুনেছে। গুলীর আওয়াজ! বিলাসবহুল এই হোটেলের সবগুলো কামরাই সাউন্ডপ্রুফ।এজন্য আওয়াজটা চাপা শোনালেও উৎস চিনতে পারল সাইফ।ওর দুই রুম পরের রুমটা থেকেই আওয়াজটা এসেছে।ব্যাপারটা দেখা প্রয়োজন। হোটেল রুমে গুলীর আওয়াজ সাধারণ ঘটনা হতে পারে না। ২৩৭ নাম্বার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন ইতস্তত করে শেষ পর্যন্ত কড়ায় নাড়া দিল।সতর্ক। দরজাটা অনড় রইল। দ্বিতীয়বারের মত কড়া নাড়ল সাইফ।এবার বেশ জোরেসোরেই। ঝট করে দরজা খুলে গেল।বেশি না,মাত্র আধ হাতের মত ফাঁক হল।ওপাশ থেকে মধ্য ত্রিশের এক গাট্টাগোট্টা লোক কুতকুতে চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।ভ্রু দুটো সার্বক্ষনিক কুঁচকে থাকায় একটা স্থায়ী ভাঁজ পড়ে গেছে কপালে।প্রথম দেখাতেই লোকটাকে ঝামেলাবাজ বলে চিহ্নিত করল সাইফ। ‘কী চাই?’ বলে উঠল লোকটা? ‘হোটেল সিকিউরিটি।আমরা কমপ্লেই পেয়েছি। একবার ভেতরে আসতে চাই।’ গলায় দৃঢ়তা নিয়ে বলল সাইফ। ‘আপনি ভুল দরজায় নক করেছেন,মিস্টার।’ কথাটা বলেই দরজা লাগিয়ে দিতে উদ্যত হল লোকটা। ঝট করে দরজা আর চৌকাঠের মাঝে একটা পা ঢুকিয়ে দিল সাইফ। দরজা বন্ধ করতে বাধা পেয়ে প্রথমে কয়েক মুহুর্ত সাইফের দিকে কুতকুতে দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রইল মিস্টার ঝামেলা।এরপর দরজাটা এক ঝটকায় সম্পুর্ন খুলেই সাইফের দিকে একটা ঘুসি ছুড়ে দিল। ধনুকের ছিলার মত টানটান হয়ে ছিল সাইফের শরীর। ঘুসিটাকে আসতে দেখে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় ধরে ফেলল হাতটা।জুডোর একটা প্যাচ কষে মোচড় দিয়ে ঠেলে ধরল উপরের দিকে। বেকায়দায় পড়ে গেল মিস্টার ঝামেলা।সাইফের সামান্য চাপেই মট করে ভেঙ্গে যাবে হাত।তাকে ওই অবস্থায়ই ঠেলে রুমের ভেতরে চলে এল সাইফ।পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বন্ধ করে দিল দরজা।মিস্টার ঝামেলা রাগে সাপের মত হিসহিস করছে।তাকে হিসহিস করতে দিয়ে পুরো রুমের উপর নজর চালাল সাইফ। যেন টর্নেডো বয়ে গেছে গোটা রুমটার মধ্য দিয়ে। সবকিছু তছনছ।কিছু জিনিস মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে। বিছানার চাদর এলোমেলো।এলোমেলো চাদরের উপর একইরকম এলোমেলো ভঙ্গিতে পড়ে আছে একটা মানুষের দেহ।বেঁচে আছে না মারা গেছে বোঝা যাচ্ছে না।কপালের একপাশ থেকে রক্তের একটা ধারা কানের পেছন পর্যন্ত নেমে গেছে। পুরো দৃশ্যটা দেখতে ছয় সেকেন্ডের বেশি লাগেনি। মনোযোগ মুহুর্তের জন্য সরে গিয়েছিল নিথর দেহটার দিকে।সুযোগটা পুরোমাত্রায় নিল মিস্টার ঝামেলা।সাইফের হাঁটু লক্ষ্য করে একটা লাথি ছুঁড়ল। এই লাথিটা ভয়ংকর।জায়গামত লাগলে হাঁটুর জোড়া থেকে ভেঙ্গে যেতে পারত সাইফের।শেষমুহুর্তে হাঁটুটা সরিয়ে নিতে পারলেও হাত থেকে ছুটে গেল মিস্টার ঝামেলার হাত।এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়েই একটা ঘুসি হাঁকাল সাইফের মুখ লক্ষ্য করে। নিজেকে তখনো সামলে নিতে পারেনি সাইফ।সরে যেতে চাইল,সফল হল না পুরোপুরি।ঘুসিটা মাথার একপাশে লাগল।তাতেই ব্যাথায় চোখে অন্ধকার দেখল সাইফ।ওই অবস্থায়ই আরেকটা ঘুসি আসতে দেখল।এবার এড়াতে পারল না।শুধু মুখটা ঘুরিয়ে নেয়ায় নাকটা চ্যাপ্টা হল না।ডান গালে আঘাত করল ঘুসিটা।চোখের অন্ধকার আরো গাঢ় হল সাইফের।চোয়ালটা অবশ হয়ে গেছে মনে হল। মরিয়া হয়ে সাইফ উপলব্ধি করল,আর কয়েক সেকেন্ড সময় পেলেই লোকটা ওর বারোটা বাজিয়ে দেবে। তৃতীয় ঘুসিটাকে আসতে দেখল সাইফ।সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ খেলে গেল ওর গোটা দেহে।বাউলি কেটে ঘুসিটাকে পাশ কাটিয়ে লোকটার পাশে চলে এল। এরপর লোকটা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কানের নীচের নার্ভ সেন্টারে তীক্ষ্ণ এক খোঁচা দিল। সমাপ্তি ঘটল স্বল্পদৈর্ঘ্যের হাতাহাতির।জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে ঢলে পড়ল মিস্টার ঝামেলা। সেদিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে চোয়াল ডলতে ডলতে এগিয়ে গেল বিছানায় পড়ে থাকা দেহটার দিকে। পরীক্ষা করে দেখল,মারা যায়নি লোকটা।পালস স্বাভাবিক।শুধু জ্ঞান হারিয়েছে।এঁর বয়স মিস্টার ঝামেলার চাইতে কিছুটা বেশি হবে। বেসিন থেকে এক আঁজলা পানি এনে ছিটিয়ে দিল লোকটার চোখে মুখে।কিছুক্ষনের মধ্যেই জ্ঞান ফিরে আসতে শুরু করল।চোখ পিটপিট করছে।আর কয়েক মুহুর্ত পর চোখ মেললেন।চোখে শূন্য দৃষ্টি ফুটে উঠল।এরপর চিৎকার করে বলে উঠলেন,‘ওই শয়তানটা কোথায়?’ ‘ওকে নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না।আপনি এখন সম্পুর্ন নিরাপদ।’ ‘আপনি কে?’ ‘আমি সাইফ হাসান।আপনাদের রুমের সামনে দিয়ে যাবার সময় গুলীর আওয়াজ পেয়ে দেখতে এসেছিলাম।কী হয়েছিল,একটু বলবেন?’ ‘ওহ...’সোজা হয়ে বসতে গিয়ে গুঙ্গিয়ে উঠলেন ভদ্রলোক।‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মিস্টার সাইফ।’ ‘ওসব পরে হবে।লোকটার জ্ঞান ফিরে আসার আগেই আমি পুরোটা শুনতে চাই।’ কষ্টেসৃষ্টে সোজা হয়ে বসে বলতে লাগলেন ভদ্রলোক।‘আমার নাম আহমাদ হোসেন।ব্যাবসায়ী। আর হিগাজি,’ মিস্টার ঝামেলার দিকে ইশারা করলেন ভদ্রলোক,‘আমার পার্টনার।ব্যাবসায়িক পার্টনার হিসেবে খুবই জঘন্য লোক হিগাজি। সারাদিন জুয়া খেলে নিজের সব টাকা পয়সা উড়িয়ে দিয়েছিল।পাওনাদারদের চাপে টিকতে না পেরে ওর শেয়ারগুলো বিক্রি করে দিতে চাইছিল আমার কাছে।আমিও শুনে হাঁপ ছেঁড়ে বাঁচি।এক বাক্যে রাজি হয়ে যাই ওর শেয়ার কিনতে।সন্ধ্যায় ফোন করে বলল,ও এখানেই আছে,আমি যেন টাকাপয়সা নিয়ে চলে আসি। আমি এসে শুনলাম,ও নাকি ব্যাংকে শেয়ারের কাগজ মর্টগেজ রেখে মোটা অংকের টাকা লোন নিয়েছে।শুনে বললাম,বেশ,তাহলে আমাকে মর্টগেজের কাগজপত্রগুলো দিয়ে দাও,আমি ব্যাংকের লোন শোধ করে বাকি টাকা তোমাকে দিয়ে দেব।তখন হিগাজির আসল রুপটা বেরিয়ে পড়ল। আমাকে টাকাপয়সা রেখে চুপচাপ বেরিয়ে যেতে বলল। বলাই বাহুল্য,আমি আমল দিলাম না।রুম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চাইলাম।ও আমাকে বাধা দিতে এল। শুরু হল ধস্তাধস্তি।গায়ের জোরে হিগাজির সাথে পেরে ওঠার কোনো কারণই নেই আমার।তার উপর মাতাল ছিল ও।হাতাহাতির এক পর্যায়ে লক্ষ্য করলাম,ওর কোমরে একটা পিস্তল আছে।একটানে ওটা বের করেই গুলী ছুড়লাম।ক্ষীন আশা ছিল,কারো দৃষ্টি আকর্ষন করবে আওয়াজটা।গুলীর শব্দে ভড়কে গিয়ে পিস্তলটা কেড়ে নিয়েই হিগাজি আমার মাথায় আঘাত করে বসে।এই হল ঘটনা।’ ‘দেখা যাচ্ছে আপনার কৌশলটা পুরোপুরি কাজে লেগেছে।’ ‘হুম,কিন্তু আপনি ওর সাথে পারলেন কিভাবে। মোষের মত জোর ওর গায়ে।’ ‘তা আর বলতে!’ চোয়ালে একবার স্পর্শ করে বলে উঠল সাইফ।আহমাদ হোসেনের প্রশ্নটা এড়িয়ে জানতে চাইল,‘আচ্ছা,ওর সেই পিস্তলটা কোথায়?’ ‘সম্ভবত এখনো ওর কোমরেই গোঁজা আছে।’ সাইফ উঠে গিয়ে জ্ঞানহীন হিগাজির শরীর সার্চ করতেই কোমরে পিস্তলটা খুঁজে পেল।ভাগ্যিস ওর উপর হিগাজি এটা ব্যাবহার করার সুযোগ পায়নি। এরপর হিগাজির জামা কাপড়ও খুঁজে দেখল।কোটের ভেতরের পকেটে কিছু কাগজপত্র দেখতে পেল ব্যাংকের।সম্ভবত মর্টগেজের ডকুমেন্ট।ওগুলো হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়াল সাইফ।আহমাদ হোসেনের দিকে তাকিয়ে বলল,‘পুলিশকে ইনফর্ম করতে হবে। ব্যাংকের কাগজপত্র পাওয়া গেছে।আপনি পুলিশকে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে কাগজগুলোর মাধ্যমে ব্যাংকের লোন শোধ করে শেয়ারগুলো ছাড়িয়ে আনতে পারবেন।’ মাথা ঝাঁকালেন ভদ্রলোক। সাইফ এগিয়ে গিয়ে রিসেপশনে ডায়াল করে বিস্তারিত জানাল।রিসেপশন থেকে জানানো হল এক্ষুনি হোটেল সিকিউরিটি আসছে।দশ মিনিটের মধ্যে পুলিশও চলে আসবে। সাইফের কথা শেষ হতেই,আহমাদ হোসেন ওর সামনে এসে দাঁড়ালেন। ‘মিস্টার সাইফ,আপনি আপনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই না।চাই,শুধু একটা উপকার করার সুযোগ।’ একটা ভিজিটিং কার্ড বাড়িয়ে দিলেন ভদ্রলোক,‘যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে স্বরণ করবেন,প্লিজ।’ ‘নিশ্চয়ই।’ কার্ডটা না দেখেই পকেটে রেখে দিল সাইফ। মিনিট বিশেক পর পুলিশী ঝামেলা সেরে হোটেলের রিসিপশনে চলে এল সাইফ।একটা গাড়ি ভাড়া করে দিতে বলল।রিসিপশন থেকে কিছুক্ষনের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হল ওকে। সাইফ লবিতে গিয়ে বসল।তাড়া নেই ওর।সারারাতই পড়ে রয়েছে ওর সামনে।তবে মারাত্মক উৎকণ্ঠা হচ্ছে।জানে না,কী দেখতে পাবে ওই সহস্রাব্দ প্রাচীন পিরামিডের অভ্যন্তরে।পিরামিডটাই খুঁজে পাবে কিনা সেটাই বা কে বলতে পারে? একটা কফির অর্ডার করল।শেষ হবার আগেই একজন বেয়ারা এসে ওর হাতে একটা চাবি ধরিয়ে দিয়ে গাড়ির নাম্বার বলে গেল।কফি শেষ করে হোটেলের গাড়ি বারান্দায় এসে পড়ল। ‘করছে কী!’ নাম্বার মিলিয়ে গাড়িটা খুঁজে পেতেই খাঁটি বাংলায় অস্ফুটে বলে উঠল সাইফ। ঝাঁ চকচকে কালো রঙের একটা ছাদ খোলা কনভার্টিবল দাঁড়িয়ে আছে গর্বিত ভঙ্গিতে। এই গাড়ি নিয়ে মরুভূমিতে চলা মুশকিল।সন্দেহ করতে পারে ভেবে রিসিপশনে ফোরহুইল ড্রাইভের গাড়ির কথা বলেনি সাইফ।শুধু বলেছিল ভাল একটা গাড়ির ব্যবস্থা করতে।গাড়িটা ভাল,তাতে সন্দেহ নেই।একটু বেশিই ভাল আরকি! যাক,কী আর করার।এটাতেই কাজ চালাতে হবে। দরজা খুলে ড্রাইভিং সীটে উঠে বসল সাইফ। পরমুহুর্তেই হোটেলের ড্রাইভওয়ে ছেড়ে সাঁ করে বেরিয়ে এল কালো রঙের কনভার্টিবল। ---------- ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিশরীয় গুপ্তধন-০৮

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now