বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-০৫

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না ---------------- (পর্ব-৫) ----------- আলো আঁধারি ঘেরা একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে সাইফ আর সুমাইয়া। একটা জিনিস লক্ষ্য করে বেশ মজা পাচ্ছে সাইফ। এখানেও কমবয়সী কপোত-কপোতীরা ঘন হয়ে বসে প্রেমালাপ করছে।ঠিক যেমনটা দেশের প্রায় সব রেস্টুরেন্টেই দেখা যায়।প্রেমের ভাষা বোধহয় সব জায়গাতে একই! সুমাইয়া মিশরের ঐতিহ্যবাহী খাবার দাবার অর্ডার করেছে।এরমধ্যে মেইন ডিশ হল,“কোশারী”।ডেজার্ট হিসেবে আছে,“হালাওয়া”।সাইফের ধারণা এই “হালাওয়া”ই বাংলাদেশে গিয়ে “হালুয়া” হয়েছে। এই জিনিসটা সাইফের সবসময়ই হয়,দেশের বাইরে এলে সব জিনিসের মধ্যেই দেশের ছায়া খুঁজে পায়। ‘তো,তারপর,বলুন,ট্রেজার পেলে কি করবেন আপনারা?’ খাবার আসার অবসরে জিজ্ঞেস করল সুমাইয়া। সাইফ কপোত-কপোতীদের থেকে চোখ ফিরিয়ে বলল,‘উমম,আসলে গোড়া থেকে বলতে গেলে,এই স্বপ্নটা মূলত আমি দেখিনি।তবে এই মুহুর্তে স্বপ্নটা আমারও।আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তি,কর্নেল আজহার চৌধুরী এমন একটা সিক্রেট সার্ভিসের স্বপ্ন দেখতেন যেটা অনায়াসে সিআইএ,এমআইসিক্স কিংবা আপনাদের প্রতিবেশী ইজরাইলের মোসাদকে টেক্কা দিতে পারবে।কিন্তু একটা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।আমরা চাইলেই সব কিছু করতে পারব না।আমাদের করতে দেয়া হবে না।সেজন্য তাঁর ইচ্ছে একটা প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি চালু করা।সারা পৃথিবীতে এর শাখা থাকবে।মূলত এর কাজ হবে প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন,কিন্তু গোপনে বাংলাদেশ সরকারের হয়ে এসপিওনাজের কাজও করবে।’ ‘কিন্তু আপনাদের সরকার কি এটা মেনে নেবে?’ ‘ভাল কাজ দেখাতে পারলে তো না মেনে নেয়ার কোনো কারণ নেই।তাছাড়া একটা দেশের জন্য এসপিওনাজের ভূমিকা এই যুগে কেউই অস্বীকার করতে পারবে না।’ ‘তাহলে তো প্রচুর টাকার প্রয়োজন।’ ‘হ্যা,সেজন্যই এই ট্রেজার আমাদের খুব প্রয়োজন। এটা না পেলে আমাদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।’ ‘কিন্তু আপনাদের দেশের জন্য তো কনসেপ্টটা একেবারেই নতুন,জনবল পাবেন কিভাবে?’ ‘তরুনদেরই গড়ে পিটে নিতে হবে।অনেক রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার ট্রেইনিং দিতে পারবে শিক্ষানবীসদের।তাছাড়া একবার সরকারের সুনজরে আসতে পারলে আর্মি থেকে প্রত্যক্ষভাবেই সাহায্য পাওয়া যাবে।’ ‘সবকিছুই ভেবে রেখেছেন মনে হচ্ছে?’ ‘নাহ,সব আর ভাবলাম কই?এই মুহুর্তে একটাই ভাবনা- ট্রেজার।নইলে এসব ভাবনার এক পয়সা দাম নেই।’ ‘হুম,তারমানে আমি এখন একজন ভাবী স্পাইয়ের সামনে বসে আছি?’ হালকা চালে বলল সুমাইয়া। ‘বলতে পারেন,তবে আমি আর্মির ইন্টলিজেন্স ঊইং এর হয়ে কিছুদিন কাজ করেছি।সুতরাং চাইলে এখনও স্পাই বলতে পারেন।’ সাইফও রসিকতা করল।কিন্তু এতেই সুমাইয়ার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। ‘সত্যিই আপনি একজন স্পাই?!’ আবারও মুচকি হাসল সাইফ।জেমস বন্ড ব্যাটা মানুষের মনে স্পাইদের ব্যাপারে ভালই ফ্যাসিনেশন তৈরি করতে পেরেছে! মানুষ ভাবে,স্পাইদের কোনো খেয়ে দেয়ে কাজ নেই,বগলের তলায় সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল নিয়ে সারাবিশ্ব ঘুরে বেড়াও,আর সুন্দরী মেয়েদের বগলদাবা করো! বাস্তবে স্পাইরা অনেক সুযোগ সুবিধা পেলেও তাদের প্রতি মুহুর্ত যেভাবে জীবনটাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে কাটাতে হয় তাঁর তুলনায় এই আয়েশী জীবন কোনো মূল্যই রাখে না।তবুও সাইফের আজন্ম স্বপ্ন,এভাবে দেশের জন্য জীবনটাকে হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াবে দেশ দেশান্তরে। ভাবতে ভাবতেই ডিনার নিয়ে হাজির হল ওয়েটার। সার্ভ করল। ‘নিন,শুরু করুন।’ ওয়েটার বিদায় নিতেই বলল সুমাইয়া। সাইফ আগে মেইন ডিশটাই প্লেটে তুলে নিল। স্বাদটা চমৎকার,তবে এটার সাথেও দেশী একটা খাবারের যথেষ্ট মিল দেখতে পেল। ‘আগে “কোশারী”ই নিলেন দেখছি।কেমন?’ ‘হুম,ডিলিশিয়াস।তবে আমাদের দেশের একটা খাবারের সাথে মিল আছে।’ ‘তাই নাকি?কী খাবার?’ ‘খিচুড়ি!’ ‘কিশোরী?!’ অদ্ভুত উচ্চারণে বলল সুমাইয়া। সাইফ হো হো করে হেসে উঠল।“কিশোরী” না,ওটা আবার অন্য জিনিস। খিচুড়ি।’ সুমাইয়া আর দ্বিতীয়বার উচ্চারনের ঝুঁকি নিতে গেল না।হাসি মুখে কেবল একবার ‘ও আচ্ছা’ বলল। ঠিক সেই মুহুর্তে সাইফ খেয়াল করল,“কোশারী” আর “খিচুড়ি”র নামের মধ্যেও বেশ মিল আছে।তবে কি “হালাওয়া”র মত এই “কোশারী”ই “খিচুড়ির” পূর্বপুরুষ?! *** পরদিন। বেলা এগারোটা,হোটেল নীল হিলটন,কায়রো। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে বাক্স প্যাঁটরা নিয়ে হিলটনে চলে এসেছে সাইফ।কিছুক্ষন আগেই চেক-ইন করেছে।রুমে ঢুকেই একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেছে।ওর রুম দোতলায়।হোটেলটা নীলনদের একেবারে তীর ঘেঁষে।প্রায় দেয়ালজোড়া বিশাল কাচের ঊইন্ডোটা দিয়ে আক্ষরিক অর্থেই নীল রঙের দুর্দান্ত নীলনদ দেখা যায়।হঠাৎ দেখায় সমুদ্র বলে ভ্রম হওয়া বিচিত্র না।দূরে এক জায়গায় নদীর মধ্যে সবুজ একটা টুকরো ভাসছে।ওটা একটা দ্বীপ।ওখানে রিসোর্ট তৈরি করা হয়েছে।সময় পেলে একবার ঢু মেরে আসবে ঠিক করল। এমনসময় ওর প্রকৃতি দেখার বারোটা বাজিয়ে যান্ত্রিক স্বরে ইন্টারকমটা বেজে উঠল। সাইফ এগিয়ে গিয়ে রিসিভার তুলল। ‘গুড,মর্নিং স্যার।একজন গাইড পাওয়া গিয়েছে,পাঠিয়ে দেব?’ ওপাশ থেকে বলা হল। ‘ওকে,পাঠিয়ে দিন।থ্যাংকস।’ ‘ওয়েলকাম,স্যার।’ লাইনটা কেটে দিল সাইফ।হোটেলে চেক-ইন করবার সময় রিসিপশনে বলে এসেছিল ভাল কোনো গাইডকে ওর রুমে পাঠিয়ে দিতে।এইমাত্র সেটাই জানাল ওরা।দেরী করার উপায় নেই।আজ থেকেই কাজে নামতে চেয়েছিল,কিন্তু গাইডের অভাবে হল না। খট খট করে দরজায় মৃদু নক হল। সাইফ উঠে গিয়ে কী-হোলে চোখ রাখল।দেখে মনে হচ্ছে গাইডই এসেছে।দরজা খুলে দিল। ‘শুভ সকাল,স্যার।’ দরজা খুলতেই চকচকে একটা হাসি মুখে নিয়ে বলল আগন্তুক। ‘শুভ সকাল।’ সাইফও প্রতিউত্তর করল।দরজা পুরোপুরি মেলে ধরল আগন্তুককে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে।‘বসুন আপনি।’ ‘থ্যাংক ইউ,স্যার।’ বলে রুমে ঢুকে আগন্তুক এগিয়ে গেল কয়েক পা। দরজা লাগাতে লাগাতে একনজরে তাকে মেপে নিল সাইফ।বয়সে ওর কিছুটা বড়ই হবে মনে হচ্ছে।উচ্চতায় অবশ্য ইঞ্চি তিনেক খাটো। মরুভূমির রোদে পুড়ে যাওয়া চেহারায় কিছুটা কঠোরতার ছাপ আছে। যেমনটা খেটে খাওয়া সব মানুষের চেহারাতেই থাকে।তবে ঠোঁটে একটা হাসি হাসি ভাব লেপ্টে রয়েছে। সাইফ,এগিয়ে গিয়ে সোফায় লোকটার মুখোমুখি বসল। ‘নাম কী আপনার?’ ‘মোবারক সিদ্দিকী।’ অমায়িক ভঙ্গিতে বলল আগন্তুক। ‘আচ্ছা,তুমি করেই বলি,’ এরপর মোবারকের সম্মতির অপেক্ষায় না থেকেই বলল,‘আমি সাইফ হাসান। কয়েকটা দিনের জন্য আমি মরুভূমিতে কিছুটা ঘোরাঘুরি করতে চাই।’ লোকটাকে সাইফের বেশ পছন্দই হয়েছে।আর ঝামেলা না করে একেই নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘নির্দিষ্ট কিছু কি খুঁজছেন?’ স্বাভাবিক একটা প্রশ্ন।যেকোনো গাইডই করবে। সাইফ আংশিক সত্যি বলার সিদ্ধান্ত নিল। ‘হ্যাঁ,একটা নির্দিষ্ট জায়গা খুঁজে বের করতে চাই। তবে তোমাকে সেটা নিয়ে ভাবতে হবে না।আমি তোমাকে নির্দিষ্ট একটা এরিয়া ঠিক করে দেব,তুমি শুধু ওই এরিয়াটায় আমাদের নিয়ে যাবে।পুরো এরিয়াটা ঘুরিয়ে দেখাবে।মরুভূমিতে আমার কোনো একটা অভিজ্ঞতা নেই এজন্যই একজন গাইডের প্রয়োজন।আশা করি,কাজটা তুমি করতে পারবে?’ ‘জী,স্যার,আমার জন্মই মরুভূমির এক বেদুইন পরিবারে।মরুভূমি আমার নিজের বিছানার মতই আপন!’ ‘হুম,খুশি হলাম।’ নিরাসক্ত গলায় বলল সাইফ। ‘স্যার,ওই এরিয়াটার ব্যাপারে কিছু জানতে পারি?’ ‘উঁহু,আজ না।আমরা আগামীকাল বের হব।তুমি কাল সকাল সাতটার দিকে এখানে চলে এসো।আমি মরুভূমিতে চলার উপযোগী ফোরহুইল ড্রাইভ গাড়ি যোগার করে রাখব।’ ‘স্যার,গাড়ির দরকার হবে না,আমার নিজেরই একটা ল্যান্ড রোভার আছে।’ ‘যাক,তাহলে তো ঝামেলা মিটেই গেল।তাহলে,ওই কথাই রইল,কাল সকাল সাতটায় তোমার গাড়ি নিয়ে এখানে চলে এসো।বাকি কথা তখন হবে।’ ‘ওকে,স্যার,আমি তাহলে আজ আসি?’ উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল মোবারক। ‘ওকে।’ সাইফও উঠে দাঁড়াল। মোবারক বিদায় নিতেই সাইফ আবার বিশাল উইন্ডোর সামনে চলে এল।চিন্তায় ডুবে আছে। ----------- ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিশরীয় গুপ্তধন-০৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now