বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-০৪

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না --------------- (পর্ব-৪) ----------- একটানা বিকেল পর্যন্ত ঘুমাল সাইফ।দীর্ঘ ঘুমের কারনে মাথা কিছুটা ভার হয়ে আছে।বিছানা ছেঁড়ে সোজা বাথরুমে ঢুকল।দীর্ঘ সময় ধরে শাওয়ার নিল।বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল টগবগে এক সাইফ হাসান।এই মুহুর্তে পুরো কায়রোতে দৌড় লাগাতে পারবে! জামা কাপড় পাল্টে নীচে নেমে এল।সামান্য খিদে পেয়েছে,তবে এখন আর খাবে না।একটু বের হবার ইচ্ছা আছে।কায়রো শহরটা ঘুরে দেখবে।এখানে সম্ভবত ওকে অনেকদিন থাকতে হবে।পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়াটা জরুরী। নীচে নামতেই দেখতে পেল শেইখ সালাহউদ্দিন ড্রয়িংরুমে বসে পত্রিকা পড়ছেন।ওর উপস্থিতি টের পেয়েই মুখে হাসি নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। ‘ঘুম কেমন হল।’ ‘ভালো।’ উজ্জ্বল একটা হাসি দিয়ে কথাটার সত্যতা প্রমান করল সাইফ। ‘খাবার দিতে বলি?’ ‘নো,থ্যাংকস।আমি আসলে কায়রো শহরটা ঘুরে দেখতে চাইছিলাম একটু।কাল থেকেই তো কাজে লেগে যেতে হবে।’ ‘শিওর।আমি ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি।’এরপর কেমন একটা ইতস্তত ভঙ্গি দেখা গেল তাঁর মধ্যে।কিছু একটা যেন বলতে চাইছেন।এক সময় ইতস্ততা ঝেড়ে ফেলে বললেন,‘সুমাইয়া কি আপনার সাথে যেতে পারে?’ এরপর তড়িঘড়ি করে কৈফিয়তের সূরে বললেন,‘বিদেশে পড়াশোনা করাতে এখানে ওর তেমন বন্ধু বান্ধব নেই।বেচারি তিনমাস হল দেশে এসেছে এরমধ্যে একদিনও বাইরে ঘুরতে বের হয়নি। আমিও ব্যবসার কাজে ওকে সময় দিতে পারি না।এই তো এখনই আবার আমাকে বের হতে হবে একটা কাজে।’ ‘হ্যাঁ হ্যাঁ,শিওর।’ ‘অনেক ধন্যবাদ।আচ্ছা,খাবার খেতে না চাইলে কফি দিতে বলি?’ ‘হুম,বলতে পারেন।’ ‘ওকে,আমি সুমাইয়াকে বলছি।ড্রাইভারকে বলে দেব,আপনাদের ঘুরিয়ে আনবে।’ বলে উপরে চলে গেলেন সালাহউদ্দিন। একটু পর একজন এসে একপট কফি দিয়ে গেল।কফিতে চুমুক দিতেই মনটা আরো খানিকটা সতেজ হয়ে গেল। কফি শেষ হবার আগেই উপর থেকে নেমে এল সুমাইয়া।গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা বোরকা জাতীয় কি একটা পোশাক পরনে।কালোর উপরে হায়ারোগ্লিফিকের মত নকশা করা। সম্ভবত মিশরের ঐতিহ্যবাহী পোশাক।মাথায় সকালের মতই স্কার্ফ। চোখ সরিয়ে নিতে আবারও বেগ পেতে হল সাইফকে! ‘আপনাকে ঝামেলায় ফেলে দিলাম।’ কাছে এসে মুচকি হেসে বলল সুমাইয়া। ‘এরকম ঝামেলায় মাঝে মধ্যে পড়তে মন্দ লাগে না!’ চেষ্টা করেও নিঃশব্দে হাসতে পারল না সুমাইয়া। ‘যাওয়া যাক তবে।’ বলল সাইফ। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বুইকটার কাছে চলে এল ওরা। একজন ড্রাইভার বসা। ‘গাড়িটা চাচার খুব প্রিয় ছিল।অনেক আগে কিনেছিলেন।বেশিরভাগ সময় এটাতেই চড়তেন।’ গাড়িতে ওঠার সময় বলল সুমাইয়া।মেয়েটা বেশ প্রানবন্ত।সাইফ মনে মনে খুশি হয়ে উঠল।অন্তত কোনো কাঠের পুতুলের সাথে ঘুরুতে বের হতে হচ্ছে না। ‘কোথায় যাবার ইচ্ছা ছিল আপনার?’গাড়ি চলতে শুরু করলে আবারও জিজ্ঞেস করল সুমাইয়া। ‘বিশেষ কোথাও না।উদ্দেশ্যহীন।তবে এখন যেহেতু আপনি আছেন সেহেতু আপনার উপরে ছেড়ে দিলাম দায়িত্বটা।আপনার দেশ আপনিই ঠিক করুন।’ ‘আমার দেশ হলেও আমি খুব বেশি কিছু চিনি না। তেমন একটা বের হওয়া হয় না।আপনি না থাকলে আজও হত না।’ ‘হুম,আপনার বাবা বললেন।’ ‘উমম...মিউজিয়ামে যাবেন?’ ‘যাওয়া যায়।কাছেই তো।আসার পথে দেখেছিলাম বোধহয়।’ ‘উহু,ওটা না।ওটা র্যামসিস রেলওয়ে মিউজিয়াম। আমি কায়রো মিউজিয়ামের কথা বলছিলাম।ওটা ভালই দূর আছে।তাহরীর স্কয়ারে।’ ‘ওখানেই নিশ্চয়ই ফারাওদের মমি টমি আছে?’ মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিল সুমাইয়া।‘আপনি আরো দুবছর পর এলে আপনাকে ‘গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম’ দেখাতে পারতাম।গিজাতে তৈরি হচ্ছে।বিশ্বের সবচাইতে বড় আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়াম হবে এটা।এগারো লক্ষ স্কয়ার ফিটের। আর্কিটেকচারাল ডিজাইন মাথা ঘুরিয়ে দেবার মত। ৭৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হচ্ছে।’ বলার সময় মুখটা গর্বে উজ্জ্বল দেখাল সুমাইয়ার।যেমনটা প্রতিটা বাঙ্গালীর উজ্জ্বল দেখায় বাংলাদেশের কোনো কীর্তি বলার সময়।আসলে দেশরপ্রেমের জায়গাটাতে সবাই খুব স্বার্থপর। ‘এবার জান নিয়ে ভালোয় ভালোয় ফিরতে পারলে নিশ্চয়ই আসবো মিউজিয়ামটা দেখার জন্য!’ হালকা চালে বলল সাইফ। সাইফের বলার ভঙ্গিতে হেসে ফেলল মেয়েটা। এরপর বলল,‘জানের প্রশ্ন আসছে কেন?আপনি কি বিপদের আশংকা করছেন?’ ‘না করার কি কোনো কারণ আছে?’ ‘ব্যাপারটা তো আমি আর বাবা ছাড়া আর কেউ জানে না।’ ‘তা না জানুক।কিন্তু আমি যে জিনিসটার জন্য এসেছি সেটার গায়ে মানুষের রক্ত লেগেই যায়।’ ড্রাইভারের কারণে সাবধানে রেখে ঢেকে কথা বলছে সাইফ।হয়ত মাঝবয়সী ড্রাইভারটা খুবই বিশ্বস্ত,এরপরও কোনো ঝুকিই নিতে চাচ্ছে না সাইফ।‘মানুষের আদিম প্রবৃত্তিই কিভাবে কিভাবে যেন টেনে আনে।অন্তত ইতিহাস তো তেমনই বলে।’ ‘তারমানে আপনি স্রেফ ভয় থেকে কথাগুলো বলছেন?’ ‘তা একরকম বলতে পারেন।’ ‘তাহলে বলব,ইনশাআল্লাহ কোনো সমস্যাই হবে না।’ ‘না হলেই তো ভাল।’ কিছুক্ষনের জন্য বিরতি নেমে এল।এবার সাইফই ভেঙ্গে ফেলল সেটা।‘আচ্ছা,আপনি পড়াশোনা করেছেন কোথায়?’ ‘অক্সফোর্ড’ ‘গ্রেট।’ ‘আপনি?’ ‘আমিও।’ ‘অক্সফোর্ডে?’ ‘লন্ডনের না,প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে।’ ‘মানে?’ ‘মানে,আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলা হয়।’ এবার সেই উজ্জ্বলতা ফুটে উঠল সাইফের চোখে মুখে।ইচ্ছে করেই বলল না,হার্ভার্ড-এ ক্রিমিনালজি’র উপর পড়াশোনা করেছে ও।’ ‘আচ্ছা!দারুণ তো!’ সাইফ কিছু বলল না। কিচ্ছুক্ষন পরই গাড়ি থেমে গেল। ‘চলে এসেছি,’ বলে নেমে পড়ল সুমাইয়া। সাইফও নেমে পড়ল।মিউজিয়ামটা বিশালাকৃতির লাল রঙের ভবনে অবস্থিত।বেশ পুরনো ধাঁচের। ‘অনেক আগের তৈরি মনে হচ্ছে।’ সাইফ দেখতে দেখতে জিজ্ঞেস করল। ‘হুম।’ মাথা ঝাঁকাল সুমাইয়া।এই মিউজিউয়ামটা অনেক জায়গায় স্থানানন্তিত করা হয় বিভিন্ন কারণে।অবশেষে ১৯০২ সাল থেকে এখানেই আছে।’ টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ল ওরা। ভেতরে ঢুকতেই সুমাইয়া প্রশ্ন করল,‘আগে কোথায় যাবেন?এই মিউজিয়ামে দুটো মেইন ফ্লোর রয়েছে। গ্রাউন্ড ফ্লোরে আছে প্যাপিরাস আর কয়েনের কালেকশন।আর ফার্স্ট ফ্লোরে আছে মমি,সারকোফেগাস এসব।’ ‘আগে কয়েন দেখে আসি তাহলে।’মুচকি হেসে বলল সাইফ। ‘চলুন।’ গ্রাউন্ড ফ্লোরে চলে এল ওরা।এখানে ইজিপশিয়ান ছাড়াও গ্রিক,ল্যাটিন আর ইসলামি ঐতিহ্যের বেশ কিছু আর্টিফ্যাক্টস আছে।বেশিরভাগই প্যাপিরাস আর আর কয়েন।এখানে দেখা শেষে চলে এল ফার্স্ট ফ্লোরে।এখানে শুধু মমি আর মমি। তুতানখামেন,থুতমোসিসসহ আরো উদ্ভট নাম বিশিষ্ট ফারাওদের প্রচুর মমি দেখতে পেল সাইফ।এদের মধ্যে ফারাও তুতানখামেন এর মমিটা এপর্যন্ত প্রাপ্ত সবচাইতে প্রাচীন মমি।এরপর চলে এল র্যামসিস দ্বিতীয়-এর মমির কাছে।ধারণা করা হয় এই সেই “ফেরাউন”,যার কথা পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে।র্যামসিস দ্বিতীয় ছিল খৃষ্টপূর্ব ১০৬৯ থেকে ১৫৫০ পর্যন্ত ব্যাপ্ত “নিউ কিংডম” ডায়নাস্টির একজন ফারাও।এখানে আসার পেছনে এই মমিটা দেখার আগ্রহই সবচাইতে বেশি ছিল সাইফের।এরপর তুতানাখামেনের মমি।এই দুটো দেখা হতেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলল সাইফ। সুমাইয়াকে বলল,‘শুকনো লাশগুলো দেখে ভয় পাচ্ছি,বের হতে পারি এখান থেকে?’ সশব্দে হেসে উঠল সুমাইয়া।‘সত্যিই এত ভীতু আপনি?’ ‘হুম,সেজন্যই তো আর্মিতে টিকতে পারিনি।’ বিস্ময় ভর করল সুমাইয়ার চোখে।‘টিকতে পারেননি মানে? তারমানে,আপনি এখন আর্মিতে নেই?’ ‘নাহ।’ ‘তাই নাকি? আমি তো ভেবেছিলাম আপনাদের দেশের সরকারের পক্ষ থেকে আপনাকে গোপন মিশন দিয়ে পাঠানো হয়েছে।’ মুচকি হেসে মাথা নাড়ল সাইফ।‘বলতে পারেন আমি চুরি করতে এসেছি এখানে।তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন,ট্রেজার পেলে সেটা আমাদের দেশের জন্যই ব্যয় করা হবে।’ ‘কি করবেন আপনি এত টাকা দিয়ে?’ ‘আমি না,আমরা।চলুন কোথাও বসে কথা বলা যাক।’ ‘ওহ,শিওর।’ মিউজিয়াম থেকে বেরিয়ে এল ওরা। ------------- ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিশরীয় গুপ্তধন-০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now