বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্পাই থ্রিলার,
মিশরীয় গুপ্তধন
--------------
আবুল ফাতাহ মুন্না
(পর্ব-২)
---------------
সাইফ হাত বাড়িয়ে প্রিন্ট আউটটা নিয়ে পড়া শুরু
করল।
“কর্নেল,কেমন আছো।আমার শারীরিক অবস্থা খুব
একটা ভাল নয়।ডাক্তাররা এক প্রকার আশা ছেড়েই
দিয়েছে।লিভার প্রায় অকেজো।হয়ত আর কোনোদিন
দেখা হবে না।কারণ,এই চিঠিটা যখন তুমি পড়বে,তখন
ধরে নিয়ো আমি আর নেই।সেভাবেই বলে
গেলাম,আমার ভাই,আমার বন্ধু শেইখ
সালাহউদ্দিনকে।শেইখ সালাহউদ্দিন আমার
দুঃসম্পর্কের ভাই।কিন্তু এতটা বছরে আমার আপন
ভাইয়ের থেকেও আপন হয়ে গেছে।সালাহউদ্দিন
আমার ম্যানেজারও।
তুমি তো জানো,আমার কোনো উত্তরাধিকার নেই।
কোনো সন্তানও আল্লাহ আমাকে দেননি।এজন্য আমি
আমার সমস্ত সম্পত্তি দান করে গেলাম একটা
ট্রাস্টিতে।তোমার মনে আছে,তুমি অনেক আগে
আমাকে একটা স্বপ্নের কথা বলেছিলে?
বলেছিলে,তোমার ছোট্ট দেশটার জন্য তুমি কিছু
করতে চাও।কথাটা তখনই আমার বুকে গিয়ে
লেগেছিল।আমি তোমার দেশ কখনো দেখিনি।কিন্তু
তোমার মুখে শুনে শুনে,সত্যি বলতে আমি তোমাদের
ছোট্ট,সবুজ দেশটার প্রেমে পড়ে গেলাম।সবসময়ই
ইচ্ছা হত তোমার জন্য কিছু করি।কিন্তু কাজটার
ঝুঁকির কথা চিন্তা করেই বারবার ইতস্তত করেছি।
কিন্তু জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে আর ইতস্তত করার
মানে হয় না।এখনও যদি কথাটা না জানাই তাহলে
সারাজীবনের জন্যই হয়ত রহস্যটা মরুভূমির বালির
নীচে চাপা পড়ে থাকবে।
যাইহোক,গোড়া থেকেই বলি।ছোটবেলা থেকেই
আমি একটু বাউন্ডুলে টাইপের ছিলাম।মাঝে মধ্যেই
গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম মরুভূমিতে।একা একাই
ঘুরে বেড়াতাম।কখনো সন্ধ্যা,আবার কখনো গভীর
রাতে বাড়ি ফিরতাম।আমরা এখনকার মত না হলেও
পারিবারিকভাবেই ধনী ছিলাম।বাবা মারা যাবার
আগ পর্যন্ত আমাকে ব্যবসা নিয়ে মাথা ঘামাতে
হয়নি।সেজন্য এই ধরনের এডভেঞ্চার ঘন ঘনই হত।
এমনই একদিন আমার গাড়ি নিয়ে বের হয়ে পরলাম।
সত্যি বলতে,মরুভূমির নিঃসঙ্গতা আমাকে চুম্বকের
মত টানত।চারদিকের শুনশান নীরবতায় ঘোর লেগে
যেত।মরুভূমিতে ঢুকলেই আমি যেন ঘোরের মধ্যে চলে
যেতাম।মাঝে মধ্যেই খেয়াল রাখতে পারতাম না
কোথায় যাচ্ছি।ঘোর কেটে গেলে কম্পাসের
সাহায্য নিয়ে অনেক ঝক্কি সহ্য করে ফিরে আসতে
হত।তো,সেদিনও গাড়ি চালাতে চালাতে আমি এক
সময় লক্ষ্য করে দেখলাম,জায়গাটা সম্পুর্ন অপরিচিত
ঠেকছে।এর আগে কখনো আমি আসিনি এখানে।
ইতিউতি তাকিয়ে ব্যাপারটা আঁচ করবার চেষ্টা
করছি এমন সময় আমার সিক্সথ সেন্স বলে
দিল,সামনে বিপদ! ধেয়ে আসছে মরুভূমির আতঙ্ক
সাইমুম।ভয়ঙ্ককর এই বালু ঝড় আসে কোনো রকম
আগাম আভাস না দিয়েই।এর স্থায়ীত্বেরও কোনো
ঠিক ঠিকানা নেই।কখনো কয়েকমিনিট আবার কখনো
লাগাতার কয়েক ঘন্টা হওয়াও বিচিত্র না।খুব দ্রুত
একটা আশ্রয় নিতে হবে।ঝড়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে
আগে থেকে আঁচ করা সম্ভব নয়।সাইমুম যখন বিদায়
নেয়,তখন দেখা যায় এখানে ওখানে অনেক বালির
ঢিবি গজিয়ে গেছে।কোনো কোনোটা ছোটখাট
টিলার মত।এরকম একটা টিলা আমার মাথায় গজালে
তো মুশকিল!
আমার গাড়িটা ছিল একটা হুড খোলা ল্যান্ড
রোভার।এটাকে আর যাই হোক,আশ্রয় ভাবার অবকাশ
নেই।এদিক সেদিক তাকাতেই কিছুটা দূরে কতগুলো
পাথরের স্তুপ দেখতে পেলাম।স্তুপের মধ্যেই একটা
গর্ত মত জায়গা।গুহা ভেবে দৌড় দিলাম সেদিকে।
কাছাকাছি আসতেই লক্ষ্য করলাম,কিছু কিছু
পাথরের আকৃতি অদ্ভুত।যেন যত্ন করে আকার দেয়া
হয়েছে ওগুলোকে।হতভম্ব হয়ে গেলাম আমি
ব্যাপারটা বুঝতে পেরে।এটা কোনো পাথরের স্তুপ
নয়,একটা পিরামিডের ধ্বংসাবশেষ! স্তুপের গায়ের
গর্তটা দেখতে দেখতেই আমি আরেকটা ব্যাপার
বুঝে ফেললাম।
পিরামিডের ইতিহাস তো জানোই।প্রাচীন মিশরে
উচ্চ শ্রেণীর মানুষ মারা গেলে পিরামিড তৈরি
করে তাদের সমাহিত করা হত।সেই সাথে প্রচুর ধন
সম্পদ,আর দাসদাসী মেরে দিয়ে দিত।অনেকেরই
ধারনা,পিরামিডের ভেতরটা বোধহয় ফাঁপা।এর
ভেতরই বোধহয় সমাধি আর ধন সম্পদ থাকে।তবে আসল
ব্যাপারটা হল,পিরামিড একটা নিরেট জিনিস।লাশ
কিংবা ধন সম্পদও এর ভেতরে থাকে না।
পিরামিডের ঠিক নীচেই একটা চেম্বার থাকে।
এখানেই থাকে সব।এই চেম্বারে প্রবেশে করতে হয়
একটা টানেলের মাধ্যমে।আর এই টানেলের গোপন
প্রবেশ মুখটা থাকে পিরামিড থেকে কয়েকশ গজ
দূরে।গর্তটা দেখেই আমি বুঝতে পারলাম কিছুটা
দূরেই যে পিরামিডের ধ্বংসস্তুপ দেখতে পাচ্ছি
সেটারই প্রবেশ মুখ এই গর্ত।কত বছর আগে কে
জানে,একটা ভয়াবহ ভূমিকম্পে পিরামিডটা ধ্বসে
পড়েছে।এখন স্রেফ এলোমেলো কতগুলো পাথরের
স্তুপে পরিণত হয়েছে।তবে ভুমিকম্প একটা উপকার
করেছে।পিরামিডটার গোপন প্রবেশপথটা উন্মুক্ত
করে দিয়ে গেছে।নইলে হয়ত কখনই বুঝতে পারতাম
না,আমার পায়ের নীচেই লুকিয়ে আছে একটা
পিরামিডের চেম্বার!
সাইমুম চলে এসেছে।এখানে দাঁড়িয়ে আকাশ পাতাল
ভাবার সময় নেই।তড়িঘড়ি করে আমি সুড়ঙ্গ দিয়ে
মাথা গলিয়ে দিলাম।টানেলের প্রবেশ মুখের ঠিক
নীচেই ছোট্ট একটা চেম্বার।দশ বাই দশ ফুট।এটা মূল
চেম্বার নয়।মূল চেম্বার আরো ভেতরে।একদিকের
দেয়ালে একটা পাথুরে দরজা দেখা যাচ্ছে।গায়ে
হিজিবিজি করে কি সব লেখা।অন্তত প্রথম দৃষ্টিতে
সেরকমই মনে হয়।যদিও এগুলো আসলে
হায়ারোগ্লিফিক।মিশরের বেশিরভাগ শিক্ষিত
মানুষ কিছু কিছু হায়ারোগ্লিফিক জানে।আমিও এক
কালে শিখেছিলাম।সেই অপূর্ন জ্ঞান দিয়ে দরজার
গায়ে কথাগুলোর মানে বের করতে চাইলাম।ভাসা
ভাসা বুঝলাম,আমাকে অভিশাপ দেয়া হচ্ছে এখানে
আসার জন্য! এগুলোই লেখা থাকে সব পিরামিডে।
আমি লেখার পাঠোদ্ধার বাদ দিয়ে লুকনো লিভার
খুঁজতে লাগলাম।জানি,এখানে একটা লুকনো লিভার
থাকবে।ওটা দিয়েই এই দরজা খোলা সম্ভব।বেশ
কিছুক্ষন পর দেয়ালের গায়ে একটা পাথরের ব্লক
আবিষ্কার করলাম।অন্য ব্লকগুলো থেকে খানিকটা
উচু।বিসমিল্লাহ বলে চাপ দিতেই যেন সাইমুম এই
ছোট্ট চেম্বারটাতে ঢুকে পড়ল।ঘড়ঘড় শব্দ,সেই সাথে
কাঁপুনি।
এক সময় সব থামল।দরজাটা খুলে গেছে।ভেতরটা
কালিতে চোবানো।কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না।একটা
লাইটার অবশ্য সাথে আছে।সেটা দিয়ে আর কতটুকু
কী হবে?তবে বাইরে বোধহয় সাইমুম থেমে গেছে।
সুরঙ্গ পথে আসা আলোর উজ্জ্বলতা বেড়ে গেছে।
সেই আলোকে সম্বল করে আরেকবার আল্লাহর নাম
নিয়ে আমি দরজা পেরিয়ে ঢুকে পড়লাম।
কয়েক পা এগোতেই চোখে আলো সয়ে এল।বুঝতে
পারলাম,আমি আরেকটা টানেলে চলে এসেছি।
টানেলের শেষটা দেখা যাচ্ছে না।
স্বাভাবিকভাবেই বেশ বড় হবার কথা।শেষ মাথায়
আমার জন্য কী অপেক্ষা করছে তাও জানি না।
এডভেঞ্চারের উন্মাদনায় শরীরের রোমকূপ দাঁড়িয়ে
গেল।
কতটা দূর এলাম,ঠিক ঠাহর করতে পারলাম না।যতই
ভেতরে এসেছি ততই আঁধার বেড়ে গেছে।প্রবেশ
পথটা যেন সুদূর অতীত।শুধু আলোর একটা বিন্দু দেখা
যাচ্ছে ফেলে আসা পথের মাথায়।আমি লাইটার
জ্বাললাম।সামনে এখনো অনেকটা টানেল পড়ে
রয়েছে।আরো খানিক এগিয়ে গেলাম।পেছনে
তাকিয়ে দেখি আলোর সেই বিন্ধুটাও অদৃশ্য হয়েছে।
গা টা ছমছম করে উঠল।সহস্রাব্দ প্রাচীন এক
পিরামিডের কালি গোলা আঁধারে নির্ভীক
দাঁড়িয়ে থাকতে যতটা সাহসের প্রয়োজন
হয়,স্বীকার করতে দ্বিধা নেই,অতটা সাহসী আমি
কোনোকালেই ছিলাম না।
আবারও লাইটার জ্বাললাম।এবার দেখা গেল কয়েক
হাত সামনেই হুবুহু আগের মত আরেকটা দরজা।কাছে
গেলাম।কিছুটা আগের অভিজ্ঞতা থেকে হাতড়ে
হাতড়ে আর কিছুটা লাইটারের দুর্বল আলোর সাহায্য
নিয়ে বের করে ফেললাম লিভারটা।
চাপ দিতেই সেই পুনরাবৃত্তি।কিছুক্ষন ঘড় ঘড়
শব্দ,এরপর খুলে গেল দরজাটা।আমি ভেতরে ঢুকে
পড়লাম।লাইটারের অপ্রতুল আলোতে বলতে গেলে
কিছু দেখা যাচ্ছে না।এরপরও আঁচ করা যাচ্ছে এই
চেম্বারটা বিশাল।আমি ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক সেদিক
তাকাতে লাগলাম।আগুনের কাঁপাকাঁপা আলোয় সেই
সময় অদ্ভুত ব্যাপারটা চোখে পড়ল।আমার কিছুটা
সামনেই একটা উঁচু বেদীর মত জায়গায়।সেই বেদীটার
উপর রাখা আছে একটা কফিন! সারকোফেগাস!
আমি পায়ে পায়ে এগিয়ে যেতেই লাইটারের
আলোর ব্যাপ্তি বেড়ে গেল।আমি আবারও অভিভূত
হয়ে লক্ষ্য করলাম।উচু কফিনের দুপাশে আরো
কয়েকটা কফিন রাখা আছে।এক,দুই,তিন...পাচটা!
মোট পাঁচটা বাক্স।
মাঝের কফিনটাই শুধু উঁচু বেদীতে রাখা।বাকিগুলো
খানিকটা নীচুতে।আমি সামান্য মাথা খাটাতেই
ব্যাপারটা বুঝে ফেললাম।এই সমাধি যার জন্য তৈরী
করা হয়েছে,উচু কফিনটাতে রয়েছে তার মমি।আর
বাকিগুলোতে...আমি আর আকাশ কুসুম ভাবতে
চাইলাম না।হাত বাড়িয়ে একটা কফিনের ডালা
ধরলাম।দুরুদুর বুকে উঁচু করতে চাইলাম।বেশ ভারী।
লাইটারটা বন্ধ করে দুই হাত লাগাতে হল।এক সময়
খুলে ফেললাম ডালাটা।এরপর পকেট থেকে লাইটার
বের করলাম।জ্বালবার আগে কয়েকমুহুর্ত সময়
নিয়েছিলাম নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে।
লাইটার জ্বাললাম।
ওহ মাই গড,কর্নেল!কল্পনা করতে পারছ আমি কী
দেখলাম?!
পুরো সারকোফেগাস ভর্তি বিপুল পরিমাণ ঐশ্বর্যে!
একে একে বাকি তিনটা সারকোগফেগাসও খুলে
দেখলাম,একই অবস্থা।স্বর্ণালংকার থেকে শুরু করে
অমূল্য সব পাথর,কী নেই!
এরপরের কাহিনি সংক্ষিপ্ত।আমি ওখান থেকে চলে
আসি।এর ক’দিন পরই বাবা মারা গেলেন।এরপর
বাবার পুরো ব্যবসার হাল আমাকেই ধরতে হল।
নিঃশ্বাস নেবার সময় পেতাম না।মাঝে মধ্যে মনে
হত ওগুলো নিয়ে আসি।কিন্তু বললেই তো আনা যায়
না।এটা একটা রহস্যই বটে,মরুভূমিতে ঘোরাঘুরির
ফলে আমার ব্যাপারে বাজারে গুজব ছিল-আমি
নাকি গুপ্তধন পেয়েছি।সেটা এভাবে সত্যি হবে
ভাবিনি।আর ওই গুজবটার কারণেই এত বিপুল সম্পদ
কারো চোখে না পড়ে খরচ করা কিংবা নিজের
কাছে রাখা সম্ভব নয়।তাছাড়া আমার নিজের টাকা
পয়সা নেহাত কম ছিল না।তাছাড়া আমার ধারণা
ছিল,নিজের কাছে রাখার চাইতে ওই প্রাচীন
পিরামিডেই ওগুলো নিরাপদ থাকবে বেশি।হাজার
হাজার বছর ধরেও যখন সবার অলক্ষ্যেই থেকে গেছে
তখন আরো অনেকগুলো বছর নিরাপদেই থাকবে-
ভাবতে দোষ নেই।মাঝে মধ্যে আবার চিন্তা করতাম
সরকারকে সব জানিয়ে দেই।কিন্তু এই চিন্তাটা কখনই
খুব বেশিক্ষন স্থায়ী হত না।তুমি তো জানোই
আমাদের দেশের শাষন ব্যবস্থার প্রতি আমার একদমই
আস্থা নেই।হয়ত কিছু ট্রেজার মিউজিয়ামে রাখা
হবে,বাকি সব বারো ভূতে লুটে পুটে খাবে।তার
চাইতে ওখানেই থাক,কখনো প্রয়োজন পড়লে গিয়ে
নিয়ে আসা যাবে।পিরামিডটাকে ব্যাংকের
সুরক্ষিত ভল্ট হিসেবে নিয়েছিলাম।
এভাবেই কেটে গেল আমার সারাটা জীবন।
মরণব্যাধি লিভার ক্যান্সার এক ঝটকায় আমাকে
পথের শেষ দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।এমন সময় তোমার
সেই স্বপ্নের কথা মনে পড়ল।বুঝতে পারলাম,এখনই
সময়।ট্রেজারগুলো নিজের কাছে এনে রাখতে হবে।
এরপর সুযোগ বুঝে তোমার হাতে তুলে দেব।কিন্তু
আমি হতাশ হয়ে লক্ষ্য করলাম,আজ এত বছর পর
পিরামিডটার অবস্থান আমি আর মনে করতে পারছি
না!
অনেক চেষ্টার পর এলাকার একটা পজিশন
আবছাভাবে ধারণা করতে পারলাম।আমি সেটা
শেইখ সালাহউদ্দিনকে জানি গেলাম।যদিও নিশ্চিত
নই অবস্থানটা পুরোপুরি সঠিক কিনা।তবে আরো কিছু
ব্যাপার আছে,যেগুলো অনুসরণ করলে দুঃসাধ্য হলেও
একেবারে অসম্ভব নয় সেই পিয়ামিড খুঁজে বের করা।
তাছাড়া ট্রেজারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার
জন্য আমি কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি।সেজন্য আশা করি
এখনো নিরাপদেই আছে ট্রেজারগুলো।তবে সেগুলো
খুঁজে বের করতে হলে তীক্ষ্ণ মেধাবী আর পরিশ্রমী
কাউকে প্রয়োজন হবে।এমন বিশ্বস্ত কেউ যদি
তোমার কাছে থেকে থাকে তবে তাকে পাঠিয়ে
দিয়ো।আমি সালাহউদ্দিনকে সব বলে গেলাম,সে
তাঁকে সর্বতোভাবে সাহায্য করবে।
আর বেশি কিছু বলার নেই।এই মেইলটা লিখতে
পরিশ্রমের চুড়ান্ত করতে হচ্ছে আমাকে।তোমার
কাছে জীবনের শেষ অনুরোধ,ট্রেজারটা তুমি উদ্ধার
করো।
ইতি
নাসের বিন ইউসুফ
র্যামসিস,ইজিপ্ট
চিঠি থেকে চিন্তিত মুখে মাথা তুলতেই সাইফ
দেখতে পেল ততোধিক চিন্তিত মুখে ওর দিকে
তাকিয়ে আছেন কর্নেল আজহার চৌধুরী।
‘কী বুঝলে?’
‘অবিশ্বাস্য ব্যাপার,স্যার।’
‘হুম,তবে ঘটনা সত্য।আজ বিকেলে শেইখ
সালাহউদ্দিন ফোন করেছিলেন।জানতে
চাইলেন,কাউকে পাঠাচ্ছি কিনা।আমি কাল জানাব
বলেছি।’
সাইফ মাথা নীচু করে ভাবতে লাগল।সাইফ স্পষ্টই
বুঝতে পারছে কর্নেল কী বলতে চান।কাজটা ঝুঁকি
আছে।মারাত্মক ঝুকি।একটা দেশ থেকে সে দেশের
সম্পদ বলতে গেলে চুরি করে আনতে হবে।কতদিনের
ধাক্কা কে জানে?তার চাইতে বড় প্রশ্ন আদৌ সেই
ট্রেজার খুঁজে পাবে কিনা সেটারও নিশ্চয়তা নেই।
নাসের বিন ইউসুফ নিজেও নিশ্চিত নন জায়গাটার
ব্যাপারে।আর পেলেও একেবারে ধেই ধেই করে
নাচতে নাচতে দেশে নিয়ে আসবে,এমনটা ভাবার
কোনো কারণ নেই।আনতে হবে সমুদ্রপথে।সবমিলিয়ে
হয়ত প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করতে বলছেন কর্নেল।
তবে কর্নেলের স্বপ্নটা ওকে নাড়া দিয়ে গেছে।ও
নিজেই তো কতদিন স্বপ্ন দেখত,বাংলাদেশের
সিক্রেট সার্ভিসের হয়ে কাজ করবে।যদিও আর্মির
ইন্টেলিজেন্স ঊইং এর হয়ে কিছুদিন কাজ করেছে
কিন্তু সেটা আসলে এসপিওনাজের মধ্যে পড়ে না।
আর বর্তমান বিশ্বে এসপিওনাজের গুরুত্ব অস্বীকার
করার উপায় নেই।ট্রেজারটা উদ্ধার করা গেলে
সত্যি দেশের জন্য অনেক বড় একটা কাজ হবে।আর
সবচাইতে বড় কথা,সামনে দাঁড়ানো এই মানুষটার
কথা ও ফেলতে পারবে না।
সাইফ যখন মাথা তুলল,তখন ওর চোখে ইস্পাত কঠোর
দৃঢ়তা দেখতে পেলেন কর্নেল।
‘কবে যেতে হবে স্যার?’
স্বস্তির নিঃশ্বাসটা গোপন করার কোনো চেষ্টাই
করলেন না কর্নেল।‘তোমার কাগজপত্র আমি তৈরি
করে রেখেছি।আগামীকাল রাতেই তোমার ফ্লাইট।’
সাইফের মনে পড়ল তিন চারদিন আগে কর্নেল ওর
পাসপোর্ট চেয়ে নিয়েছিলেন।
---------
--------
।। একাকি কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now