বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বারবার মনে হল
মেয়েটায় মনে এতো
কিসের কষ্ট ?
তারপরের সারাটা
রাত আমি কেবল
এই ভেবে কেটে
গেল যে মেয়েটার
মনে এতো কিসের
কষ্ট ?
পরদিন আমি
আবার গেলাম ঐ
বাড়িটার সামনে ।
কিন্তু মেয়েটা বের
হল না । পরের দিনও
না ।
কিন্তু পরদিন এক
পুলিশ কনেস্টেবল
বের হল । আমার
দিকে তাকিয়ে
বলল “কি ভাই
সাহেব এদিক
ওদিক তাকান
ক্যান” ?
“তা কিছু না । আপা
মনি আমাকে বলছে
আপনাকে চলে
যেতে । আর যদি
আপনাকে এখানে
দেখি তাহলে
ঘেডিঘুডি একদম
ভাঙ্গাইয়া দিবো” ।
আমি ভয় পেলাম ।
বেশ ভয় পেলাম ।
পুলিশের ভয় সবাই
পায় আর আমি তো
গাও গ্রামের ছেলে ।
ভয়তো পাবোই ।
ওখান থেকে চলে
এলাম । আর যাই নি
।
আর কাল মোবারক
সাহেবের ঐ কাগজ
আর আজ আমি
এখানে ।
একটু একটু ভয় ভয়
করছিল এখানে
বসে থাকতে ।
চারিপাশে সব
কেমন হাইফাই
লোক জন । আর
আমি এখানে কোন
গ্রামের গ্যাল ।
নিজেকে কেমন
জানি বেমানান
লাগছে ।
পপকর্ন চিবাচ্ছি
আর চারিপাশের
মানুশ জন দেখছি
এমন সময় মেয়েটা
কাচের দরজা ঠেলে
ভিতর ঢুকল ।
সরাসরি আমার
দিকেই এগিয়ে এসে
বসল আমার আমার
সামনে । ওর সব
কিছুই যেন চেনা ।
“কিছু অর্ডার দেন
নি” ? আমি
হাসলাম ।
“আপনার জন্য
ওয়েট করছিলাম” ।
তারপর ও অর্ডার
দিল । খেতে খেতেই
আমরা কথা
বলছিলাম । হালকা
কিছু কথা বলার
পর মেয়েটা
খানিকক্ষন চুপ
করলো । আমি
বুঝলাম ও
খানিকটা প্রস্তুতি
নিচ্ছে ওর কথা
বলার জন্য ।
"খুব অবাক
হয়েছেন না" ?
আমি হাসলাম ।
সত্যি খুব অবাক
হয়েছি ।
"আপনাকে আজ
কেন ডেকেছি
জানেন ! আমার
কিছু কথা বলার
জন্য । জানি না
আপনাকে কেন
বলছি । তবা আমার
মনে হচ্ছে
আপনাকে বল্লে
হয়তো আপনি
বুঝবেন ।
আমি কোন কথা
বলি না । মেয়েটা
আরো কিছুটা সময়
নেয় ।
তারপর শুরু করে ।
“জানেন আমার
বাবা আমার বাবা
আমার মাকে খুব
ভালবাসতেন ।
আমি যখন জন্মাই
তখন আমার মার
শরীরে অনেক
কমপ্লিকেশন দেখা
দেয় । আমাকে জন্ম
দিতে গিয়ে আমার
মা মারা যান ...... ।
বাবা আম্মুকে
অনেক
ভালবাসতেন তো
তাই মার মৃত্যটা
তিনি সহজ ভাবে
মেনে নিতে পারেন
নি । আমাকে
জন্মদিতে গিয়ে
আম্মু মারা গেছে
তো তাই বাবা মনে
করতেন আমি
আম্মুর মৃত্যুর
জন্য দায়ী” ।
“আরে এটা কেমন
লজিক হল” ? আমি
মুখ ফসকে বলে
ফেললাম ।
মেয়েটির দিকে
তাকিয়ে দেখলাম
ওর চোখের পানি
টলমল করছে ।
আমি বললাম
“জন্ম মৃত্যু তো
আল্লাহর হাতে ।
এতে আপনার দোষ
কোথায়” ?
“না বাবাকে দোষ
দিই কিভাবে
বলুন ? বেঁচে থাকার
জন্য মানুষের
ভালবাসার দরকার
। আমাকে ঘৃনা করে
উনি বেঁচে আছেন”
। মেয়েটা কিছুক্ষন
সময় নিলো ।
“আমি যখন ছোট
ছিলাম তখন না
আমি ঠিক বুঝতাম
না । বাবা কেন
আমার সাথে এমন
আচরন করছে ।
আমার আরো এক
ভাই এক বোন আছে
। তাদের কে উনি
কি আদরই না
করতো । আমি
বুঝতাম না কেন
আমার সাথে বাবা
এমন করে । একটু
বড় হলে আমি
একটু একটু বুঝতে
শিখি । একদিন
বাবার ডায়রি পড়ে
সব কিছু জানি ।
কিন্তু বাবা
আম্মুকে এতো
ভালবাসেন এটা
জেনে বাবার উপর
আমার কোন রাগ
নেই” । মেয়েটা
আবার চুপ করল ।
আসলেই মেয়েটার
মনে কত কষ্ট ।
কত অভাগা মেয়েটা
। জন্ম হতেই মাকে
হারিয়েছে । আর
বাবার আদরও
পাইনি । এটা সহ্য
করা এক জনের
জন্য কতটা
কষ্টের হতে পারে !
“আপনাকে একটা
কথা জিঞ্জেস
করি” ?
আমি বললাম
“বলেন” ।
“আপনি সেদিনের
আগে কোন দিন
আমাকে দেখেন নি ।
তাহলে আপনি
কিভাবে বললেন
আমার কথাটা” ?
“আমি জানি না ।
আপনি সে দিন
যখন হাসলেন
আপনার হাসিতে
কেমন জানি একটা
বিসন্নতা ছিল ।
আপনার চোখে
কিসের যেন একটা
কষ্ট ছিল” ।
মেয়েটা আবার
হাসলো । “এতো
দিনে এই জিনিসটা
কেউ বুঝতে পারি
নি । আমার কত
শত পরিচিত
বন্ধুবান্ধব । কেউ
না । আপনি একজন
অপরিচিত হয়ে
কিভাবে বুঝলেন” ?
আমি কিছু বলতে
পারলাম না । কেবল
হাসলাম ।
“জানেন আমি
প্রথমে
ভেবেছিলাম
আপনার সাথে আর
দেখা করবো না । যে
মানুষের ভিতরটা
চট করে ধরে ফেলে
তার কাছ থেকে
দুরে থাকাই ভাল ।
তাই সেদিন হামিদ
কে পাঠিয়েছিলাম ।
আপনাকে চলে
যেতে বলার জন্য” ।
আমি হাসলাম ।
“হামিদ কি বেশি
কিছু বলেছে” ।
“না না বেশি কিছু
বলেনি” ।
“কিন্তু তারপর
মনে হল না আপনার
সাথে শেয়ার করা
যায় । তাই মোবারক
সাহেবকে পাঠালাম
। আপনি
বলেছিলেন আপনি
কাজীর গলিতে
টিউশনীতে আসেন
। তাই উনি ওখানে
আপনার জন্য
ওয়েট করতেন ।
তারপর আপনাকে
পাওয়া গেল । আচ্ছা
আপনার নামটা
আমি এখনও জানি
না” ।
আমি আমার নাম
বললাম ।
“অপু” ! নামটা ও
উচ্চারন করলো ।
বলল “সুন্দর নাম ।
আমি ঈশিতা” ।
কিছুক্ষন চুপ করে
থেকে ঈশিতা বলল
“অপু সাহেব
মেইনলি আপনাকে
এই কথা গুলো বলার
জন্য আমি এখানে
ডেকেছি । আমি
সারাটা জীবন বড়
একা একা ভালবাসা
শুন্য একটা
পৃথিবীতে বড়
হয়েছি । বাবা
যেমন আমাকে ঘৃণা
করতো আমার বড়
দুই ভাই বোনও
ব্যাপারটা বুঝে
গিয়েছিল । তাই
তারাও আমাকে
খানিকটা ইগনোর
করতো । একটু বড়
হয়ে অনেক
ফ্রেন্ডস আমি
পেয়েছি কিন্তু
আমাকে বোঝার
মত কাউকে পাইনি
। নিজের কথা
বলার মত কাউকে
না । আপনি চট
করে সেদিন
আমাকে ধরে
ফেললেন এমনটা
কেউ পারে নি ।
আপনার কাছে
বলতে পেরে ভাল
লাগল । আমি আরো
কথা বলতে চাই ।
আমি জানি আপনি
বুঝবেন । আপনি
কি শুনবেন আমার
কথা গুলো” ?
মেয়ে্টার এই
আবেদন টা আমার
মন টা খারাপ করে
দিল ।
আমি যখনই মিন্টু
রোডের বাড়ি গুলোর
দিকে তাকাতাম
মনে হত আহা কত
সুখেই না আছে
যারা এই
বাড়িগুলোতে থাকে
।
কিন্তু হায় । সুখ
কি এতোই সহজ !
সব কিছুর
পরিপুর্ণতা থাকা
সত্তেও এই মেয়েটা
কত অসুখী ! কত
টা বিষন্ন ! কতটা
ভালবাসা শুণ্য
জীবন কাটাচ্ছে ।
ঈশিতার জন্য
সত্যি আমার খুব
খারাপ লাগতে
লাগলো ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now