বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মি. ডার্কনেস

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X || থ্রিলার গল্প : মি. ডার্কনেস || ফার্স্ট সেশন… - ডাক্তার সাহেব, আপনি কি অস্বস্তি বোধ করছেন? - জ্বি। এটাই কি স্বাভাবিক না? - স্বাভাবিকতা অস্বাভাবিকতা আপেক্ষিক জিনিস। আপনার জায়গায় আমি হলে নিশ্চয়ই ভয় পেতামনা। - কেউ কারো জায়গায় অধিষ্ঠিত হতে পারেনা, মি. ডার্কনেস। - আহ… এই নামে আমাকে শুধু আপনি, পুলিশের লোক আর মিডিয়াওয়ালারাই ডাকে। আই লাভ দ্যাট নেম! - নামটা অদ্ভুত। - হ্যাঁ। আমি মানুষ হিসেবেও কম অদ্ভুত না। কি বলেন, ডাক্তার সাহেব? সামনে বসে মিটিমিটি হাসতে থাকা লোকটার দিকে তাকিয়ে বরাবরের মতোই এক ধরণের দুর্বোধ্য অস্বস্তি বোধ করলাম। আমার সামনে এই মুহূর্তে অফ হোয়াইট শার্ট আর ব্লু জিন্স পরিহিত ফর্সা লোকটার আসল নাম আমি জানিনা। তবে যেটা জানি সেটাও কম ভয়ঙ্কর না। লোকটা নিজের পরিচয় দেয় মি. ডার্কনেস নামে। সাম্প্রতিক প্রিন্ট আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গলিঘুপচিজুড়ে এখন শুধু তার-ই নাম। হবে না-ই বা কেন! মি. ডার্কনেস একজন ঠান্ডা মাথার খুনী। একজন সিরিয়াল কিলার। প্রায় দুই বছর আগে এই ঘটনার শুরু। বাংলাদেশের মফস্বল শহরগুলোতে অদ্ভুত কিছু খুনের ঘটনা সংঘটিত হতে লাগলো। যারা খুন হতে লাগলো, তারা গুরুত্বপূর্ণ কেউ না। তবে খুনের পর খুন হওয়া লোকগুলোর অতীতের অন্ধকার অংশগুলো প্রকাশ হতে লাগলো। যে অংশগুলো সম্পর্কে মানুষগুলোর কাছের লোকদেরও হয়তো কোন ধারণা ছিলোনা। মাস দুয়েক আগে একদিন হঠাৎ-ই মি. ডার্কনেস পরিচয় দিয়ে খুনী আত্মসমর্পণ করলো পুলিশের কাছে। অনেক তলিয়ে দেখেও লোকটার আসল নাম বা আবাসস্থল সম্পর্কে কোন তথ্য বের করা গেলোনা। একেবারে কোনরকম কোন রেকর্ডশূন্য মানুষ এই মি. ডার্কনেস। ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের কাছে ব্যাপারটা স্থানান্তর করার পর সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো মি. ডার্কনেসের কাছ থেকে তথ্য আদায় করার। কিন্তু সেটা কোন সাদামাটা প্রসেসে না করে মনোবিজ্ঞানের সাহায্য নেয়া হলো। নিয়োগ দেয়া হলো আমাকে। তার সাথে আমি বেশ কয়েকটা সেশন ফিক্স করলাম। এগুলো অনুষ্ঠিত হবে সর্বোচ্চ সিকিউরিটি নির্ভর ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের সেলে। যেখানে মি. ডার্কনেসকে রাখা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটাই তার সাথে আমার প্রথম সেশন। আগের সেশনগুলোতে মি. ডার্কনেস গুরুত্বপূর্ণ তেমন কোন তথ্য দেয়নি। তবে একটা ব্যাপারে লোকটা আশ্চর্যরকম ইস্পাতনির্মিত স্নায়ুর অধিকারী। সে কোনভাবেই তার আসল পরিচয় আমাকে জানাতে চায়না। অবশ্য ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ তার আসল পরিচয় জানার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এদিকে আমার চেষ্টা তো আছেই। তবে আমি তাক্র কোন চাপ দিচ্ছিনা। দেখাই যাক। তার মূল আগ্রহ তার 'কাজ' এর বর্ণনা দেয়াতে। মি. ডার্কনেস তার করা খুনিগুলোকে 'কাজ' বলে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আবারো আমাদের কথাবার্তা শুরু হলো। - ডাক্তার সাহেব, কেন জানিনা আপনাকে আমার কাজের গল্পগুলো বলতে খুব ভালো লাগে। - আমার যে শুনতে ভালো লাগে, তা না। তবে শোনাটা আমার কাজ। - সেটা জানি। আজ আমি আপনাকে নওগাঁর পত্নীতলার বাসিন্দা বৃন্দাবন নাগের ওপর আমার কাজের গল্প শোনাবো। - ওই যে চালের আড়তের পাহারাদার লোকটা? - জ্বি, ডাক্তার সাহেব। লোকটার বাহ্যিক পরিচয় আপনারা জানেন। আর ভেতরেরটার জন্যই আমি ওকে নরকদর্শন করিয়েছি। - মি. ডার্কনেস, খুলে বলুন। - অবশ্যই। আমি আমার স্মার্টফোনের সাউন্ড রেকর্ডারটা অন করলাম। সত্যিই অনেক আগ্রহী আমি এখন। গল্প শোনার নির্দোষ আগ্রহ না, লোকটাকে জানতে চাওয়ার আগ্রহ। মি. ডার্কনেস তার গল্প শুরু করলো। - বৃন্দাবন নাগ লোকটা আপাতদৃষ্টিতে সহজ সরল ভালো মানুষ। অন্তত সবাই তাই জানতো। আমি যখন নওগাঁর পত্নীতলায় আসি, তখন তার বাড়ির পাশেই একটা লন্ড্রী শপের দোতলায় একটা সিঙেল রুম ভাড়া নিই। যথারীতি আমি আমার কাজের জন্য শিকার খুঁজতে থাকি। কিন্তু আমি জানতামইনা, শিকার স্বয়ং আমার আবাসস্থলের পাশেই থাকে। হা হা হা! - সেটা কিভাবে বুঝলেন? - ডার্ক একটা ওয়েতে। ক্লিয়ার করি। সেদিন রাতে খাওয়াদাওয়া করার পর খুব ইচ্ছা হলো জর্দা দিয়ে একটা পান খাই। আমি খেতাম আমার আবাস্থলের কিছুটা দূরের একটা হোটেলে। হোটেল মক্কা। হোটেলের পাশের টং দোকান থেকে পান কিনে মুখে দিয়ে চিবাতে লাগলাম। বাড়ির পথ ধরে হাঁটছি। ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাপারটা শুরু হলো। অনেকদিন পর এপিলেপ্সির অ্যাটাক হলো আমার। - তখন রাত কয়টা ছিলো? - আমার হাতঘড়ি নেই। ছিলোওনা কখনো। হাতঘড়ি ইউজ করতে ভালো লাগেনা। আন্দাজে সময়টা বলতে পারি। উম্ম… রাত সাড়ে এগারোটার আশেপাশের সময় ছিলো। - তারপর? - এপিলেপ্সির অ্যাটাকের কারণে প্রায় অচেতন হয়ে পড়ে গেলাম রাস্তার একটা পাশে। রাস্তার ঢালু প্রান্ত দিয়ে ওই অবস্থাতেই গড়িয়ে নিচে নেমে গেলাম। শরীরের অর্ধেকটা পড়লো একটা ডোবায়। ওই অবস্থাতেই মৃগীর প্রভাবে কাঁপতে কাঁপতে কতোক্ষণ কেটে গেলো জানিনা। সুস্থির হলাম যখন, তখন খেয়াল করলাম আধাচর্বিত পানের রস আর মণ্ডে থুতনি-গলা আঠালো হয়ে আছে। তার ওপর ডোবা'র পচা পানির গন্ধে নাড়িভুঁড়ি পাক দিয়ে ওঠা তো আছেই। দুর্বল।লাগছিলো। তারপরো ধীরে ধীরে উঠে বসে কিছুক্ষণ শ্বাস নিয়ে ঢালু জায়গাটা থেকে উঠে বাড়ির পথ ধরলাম। - মি. ডার্কনেস, রাস্তায় ওই সময় কোন লোক ছিলোনা? - ওই সময়ে মফস্বল শহরের কোন রাস্তায় লোকচলাচল সেভাবে থাকেনা। আর আমি যেখানে পড়ে ছিলাম, জায়গাটা জমাট অন্ধকারে ঢাকা ছিলো। আশেপাশে কোন দোকানও ছিলোনা। - তারপর? - ডাক্তার সাহেব, আমি বুঝতে পারছিলাম আমার স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে আছে শিকারের ওপর কাজ করার নেশায়। এপিলেপ্সির অ্যাটাক হবার এটাই কারণ। মনমানসিকতা বিক্ষিপ্ত ছিলো। রাত যে মধ্যরাতে ঠেকেছে তা বুঝলাম যে লণ্ড্রী শপটার উপরে আমার আবাসস্থল সেখানে এসে। পুরোপুরিভাবে জনশূন্য এলাকা। একটা নেড়ি কুকুর লণ্ড্রী শপের সামনের বারান্দায় হিজ মাস্টার্স ভয়েজ স্টাইলে বসে আছে। - পানি খাবেন? - না। আমি পকেট থেকে চাবি বের করে নিচের কলাপসিবল গেটের কাছে যেতেই আমার শরীরের রোমগুলো দাঁড়িয়ে গেলো। খুব কাছ থেকে চাপা একটা গোঙ্গানি শোনা যাচ্ছে। গোঙ্গানিটা কোন নারীকণ্ঠের। পাশাপাশি শোনা যাচ্ছে ক্রুদ্ধ কোন পশুর গর্জনের মতো গর্জন। সেটাও চাপা। আমার শিকারি সত্ত্বা যেন সতর্ক হয়ে উঠলো। শব্দের উৎস খোঁজার জন্য আমি এদিকে সেদিকে তাকালাম। - খুনটা কি আপনি সেদিন রাতেই করেছিলেন? - ডাক্তার সাহেব, ধীরে। ক্রমান্বয়ে আসছি। তো, আমি একটা সময় বুঝতে পারলাম অদ্ভুত গোঙ্গানির আওয়াজ লণ্ড্রী শপের পাশের টিনশেড ঝুপড়ি ঘরটা থেকে আসছে। আমি পা টিপে টিপে লণ্ড্রী শপ আর ঝুপড়ির মাঝামাঝি চিকন গলিটার দিকে চলে গেলাম। আওয়াজটা আরো স্পষ্ট এবার। - মি. ডার্কনেস, আপনার শরীর পচা পানিতে মাখা ছিলো। আপনার মুখ-গলা নোংরা হয়ে ছিলো পানের পিক দিয়ে। ওরকম অবস্থাতে আপনার নিজেকে ওয়াশ করার কোন চিন্তা আসেনি? - না। আমি বাহ্যিক নোংরামি খন্ডকালীন সময়ের জন্য বরদাস্ত করতে পারি, কিন্তু ভেতরের নোংরামি না। আর আমি সেই সময় একজন নোংরা মানুষকেই খুঁজছিলাম শিকারের জন্য। - বুঝলাম। আপনি কন্টিনিউ করুন। - ডাক্তার সাহেব, জানালা হয় খোলা, নাহলে পুরোপুরি বন্ধ করে রাখা উচিৎ। আধখোলা জানালা অনেকসময় রহস্যময় অনেক মৃত্যুর কারণ হয়, এটা জানেন? সেটাই হলো বৃন্দাবন রায়ের ক্ষেত্রে। তার ঝুপড়ি ঘরের যে জানালাটা আধখোলা ছিলো, সেটার পাশে গিয়ে আমি দাঁড়ালাম। পশুর ক্রুদ্ধ চাপা গর্জন আর নারীকণ্ঠের গোঙ্গানির সাউন্ড এবার ক্রিস্টাল ক্লিয়ার। আমি অতি সন্তর্পনে ভেতরে উঁকি দিলাম। ডাক্তার সাহেব, এক কাপ কড়া কফি খাওয়ানো যায়? গলা শুকিয়ে গেছে। আমি হাতের আঙুলগুলো মটকালাম। আড়ষ্ট হয়ে ছিলো। তারপর উঠে মি. ডার্কনেসকে রাখা এই সেলের বন্ধ দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম। দরজাটা নিরেট স্টিলের তৈরি। মাঝের দিকে একটা দেড়ফুট বাই একফুট চৌকোনা ফাঁকা জায়গা আছে, যা বুলেটপ্রুফ গ্লাস দ্বারা আচ্ছাদিত। সেখানে দুটো টোকা মারতেই সেলের দরজা খুলে গেলো। কফির কথা জানিয়ে ফিরে এলাম। দরজাটা আবারো বন্ধ হয়ে গেলো। মি. ডার্কনেস তার সেলের দরজার বামদিকে বসানো যান্ত্রিক প্রাণপাপ্ত সিসি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছে। তার ঠোঁটে মৃদু হাসি। আমি আমার চেয়ারটাতে বসতেই সে আমার দিকে তাকালো। - ডাক্তার সাহেব, এখন থেকে ঠিক তিন মিনিটের মাথায় কফি আসবে। সেই কফি খেতে ভালো হবেনা। - কিভাবে জানলেন? - সব 'কিভাবে' আসলে বোঝানো যায়না। আসলেই মিনিট তিনেকের মধ্যে দুই মগ কফি চলে এলো। মগগুলো বহুল ব্যবহৃত এবং কফির স্বাদ বলে আসলেই কিছু নেই। আমি সামান্য চমকৃত হলাম। আচ্ছা, মি. ডার্কনেস কি আমাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে? - ডাক্তার সাহেব, আমি আমার গল্পটা শেষ করি। সেদিনের ওই মধ্যরাতে বৃন্দাবন নাগের ঝুপড়ির আধখোলা জানালা দিয়ে আমি যা দেখলাম, সেটাকে আপনারা পৈশাচিকতা বলেন। ঘরটা ফাইভ ওয়াটের একটা নীলচে বাল্বের আলোয় আলোকিত ছিলো। সেই আলোয় একজন নগ্ন মাঝবয়েসী পুরুষ ও রক্তাক্ত কিশোরী মেয়েকে দেখা যাচ্ছিলো। লোকটার হাতে জিয়োমেট্রিক বক্সের কাঁটাকম্পাস জাতীয় কিছু একটা ছিলো। ওটা দিয়ে সে মেঝেতে সটান পড়ে থাকা মেয়েটার শরীরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত আঁচড়ে এঁকে যাচ্ছিলো। সেই লম্বা আঁচড়গুলো ভেদ করে ফুটে উঠছিলো রক্তের চিকন ধারা। নীলচে আলোয় সেই রক্তের রঙ কালচে মনে হচ্ছিলো। - মি. ডার্কনেস, মেয়েটার কি হাত পা বাঁধা ছিলো? - না। সম্ভবত তাকে নেশাযুক্ত কিছু খাওয়ানো বা পান করানো হয়েছিলো। তবে সে ঠিকই যন্ত্রণা অনুভব করছিলো। আঁচড়পর্ব শেষ হবার পর বৃন্দাবন নাগ মেয়েটার ওপর ভয়াবহ পাশবিক নির্যাতক শুরু করলো। সেই বিকৃত আচরণ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বর্ণনা করতে চাচ্ছিনা। ওটা ভাবলে আবারো এপিলেপ্সির অ্যাটাক হবে। আমি প্রায় দেড় ঘন্টা ওই ব্যাপারটা দেখলাম এবং বৃন্দাবন নাগকে আমার পরবর্তী কাজের উপকরণ হিসেবে চূড়ান্ত করলাম। - খুনটা কবে করলেন? - ডাক্তার সাহেব, খুন-এর মতো একটা স্থুল শব্দ কি ব্যবহার না করলেই না! আমি আমার কাজটা করলাম। প্রতিটা মানুষকেই কোন না কোন নির্দিষ্ট কাজের জন্য দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়েছে। আমাকে যেমন শাস্তি দেয়ার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে, আপনাকে প্রেরণ করা হয়েছে গল্প শোনার জন্য। তবে আপনার আরো একটা কাজ করতে হবে। আমি কিভাবে আমার শিকারের ওপর কাজ করেছি, সেটা তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে বের করতে হবে। - মানে? আপনি বলবেননা? - না। এটা যেহেতু রিমান্ড না, তাই বলার প্রয়োজন দেখছিনা। আপনি এমনিতেই বের করতে পারবেন। শুধু এটুকু বলি, পরের দিন থেকে আমি বৃন্দাবন দাসের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া শুরু করলাম। ব্যাপারটা অনেকটা ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো। নানা সোর্স থেকে নির্দোষভাবে তার সম্পর্কে তথ্য নিলাম। জানলাম, লোকটাকে সবাই নির্বিরোধী ভালো মানুষ হিসেবেই জানি। ভালো মানুষ না হলে কেউ স্ত্রী'র মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে না করে কিশোরী মেয়েটাকে একা মানুষ করে! - ও মাই গড! - হা হা হা! ডাক্তার সাহেব, গড সাহেবের সমর্পিত কাজটাই আমি করেছি। বৃন্দাবন নাগ দিনের পর দিন তার কিশোরী মেয়েটার ওপর যৌন নির্যাতন করে যাচ্ছিলো। তার ঝুপড়ি ঘরের আশেপাশে আর কোন ঘর বা বাড়ি না থাকায় কেউ-ই গভীর রাতে মঞ্চস্থ হওয়া পৈশাচিক নাটকটা সম্পর্কে জানতোনা। - যেদিন আপনি আপনার তথাকথিত কাজ সারলেন, সেদিন মেয়েটা কোথায় ছিলো। - মেয়েটাকে আমার কাজের সুবিধার জন্য মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান করতে হয়েছিলো। ড্রামাবাজ পুলিশ এটাকে কি বানালো জানেন? বাপকে মেরে আর মেয়েকে অজ্ঞান করে ডাকাতির চেষ্টা। বাংলাদেশে কেস সাজানোর ব্যাপারে পুলিশের ক্রিয়েটিভিটি প্রশংসার দাবীদার। হা হা হা! - বুঝলাম। খুনের পরপর আপনি সেই এলাকা ত্যাগ করেন। কোথায় গিয়েছিলেন? - সেটা জানা খুব জরুরি না। তবে খুনটা আমি করেছিলাম সেই মধ্যরাতের নয় দিন পর। আপনি এবার আসতে পারেন, ডাক্তার সাহেব। শুভ সন্ধ্যা। অ্যানালাইসিস (রেকর্ডেড ফাইল ও টাইপড ডকুমেন্ট)… আমি অ্যালান রসুল। সাইকিয়াট্রিস্ট। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মনোবিজ্ঞান বিভাগ। সিরিয়াল কিলার মি. ডার্কনেসের সেশন অনুষ্ঠিত হয় আমার সাথে। এই রিপোর্টটা তার সাথে ১২-ই আগস্ট, ২০১৬ এর সেশনের ভিত্তিতে প্রস্তুতকরণ হচ্ছে। উক্ত সেশনে মি. ডার্কনেস নওগাঁর পত্নীতলায় বৃন্দাবন নাগের খুন বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছে। তার জানানো তারিখ অনুযায়ী, খুনটা ২০১৫ সালের মার্চের ১১ তারিখ সংঘটিত হয়েছে। সে কেন বৃন্দাবন নাগকে খুন করেছে, সেটাও জানিয়েছে। একজন যৌনবিকৃত মানুষ, যে দিনের পর দিন তার নিজ কন্যাকে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো, এমন মানুষকে খুন করার ব্যাপারে মি. ডার্কনেসের কোন মনোবিকার বা অনুশোচনা লক্ষ্য করা যায়নি। আমি তার সেলে তার সাথে উক্ত সেশনে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় কাটাই। সেখানে সে বিভিন্ন ব্যাপারে আলোকপাত করে। তবে কিভাবে সে বৃন্দাবন নাগকে খুন করেছে, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানায়। বৃন্দাবনের লাশের নানা অ্যাঙ্গেলে তোলা ছবিগুলো দেখে আমি একটা অ্যানালাইসিস দাঁড় করিয়েছি। লাশের ঝলসে যাওয়া মুখগহ্বর দেখে ধারণা করা যায়, মি. ডার্কনেস একের পর এক জ্বলন্ত ম্যাচের কাঠি কোন এক উপায়ে লোকটার মুখ হাঁ করিয়ে সেখানে ফেলে দেয়। লাশের পাকস্থলিতে পাওয়া গেছে পোড়া বারুদ সমেত ম্যাচের কাঠি। বেশ অনেকগুলো কাঠি পাওয়া গেছে ঝলসে গলে যাওয়া খাদ্যনালী ও গলার ভেতরের অংশে। তবে বৃন্দাবন নাগের মৃত্যুর কারণ এটা না। সে মারা গেছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে। সারা শরীর কাঁটাকম্পাসের আঁচড়ে রক্তাক্ত করার পর মি. ডার্কনেস লোকটার অণ্ডকোষ সেটা দিয়েই খুঁচিয়েছে। উপর্যুপরি অণ্ডকোষে আঘাত করার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সে ধীরে ধীরে মারা যায়। মৃত্যুর এই পুরো ব্যাপারটা মি. ডার্কনেস খুব কাছ থেকে দেখেছিলো। এটা বোঝা যায় বৃন্দাবন নাগের শরীর থেকে বের হওয়া রক্তের মাঝে মি. ডার্কনেসের পায়ের ছাপ থেকে। সে বেশ কয়েকবার যন্ত্রণাকাতর লোকটাকে প্রদক্ষিণ করেছিলো। বৃন্দাবনের বুকের বামপাশে তীর্যক দুটো চোখ আঁকা ছিলো। তার চামড়া ফুঁড়ে মি. ডার্কনেস যতোটা সম্ভব নিখুঁত করে চোখদুটো আঁকার চেষ্টা করে। এই কাজের জন্যও সে সম্ভবত কাঁটাকম্পাসটাই ব্যবহার করেছে। পরদিন সকালে বৃন্দাবন নাগের অজ্ঞান মেয়ের জ্ঞান ফিরলে সে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে ও লোকজনকে ডাকে। পুলিশের কাছে সে জানিয়েছে মধ্যরাত্রিতে মাফলারে মুখ জড়ানো এক লোক দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে ও হাতের কনুই দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে সে জ্ঞান হারায়। পুলিশের কাছে সে তার বাবা'র যৌন নির্যাতনের কথাও স্বীকার করেছে। উপরোক্ত অ্যানালাইসিস বৃন্দাবন নাগের লাশের ছবি ও মি. ডার্কনেসের দেয়া নানা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। (ফার্স্ট সেশন সমাপ্ত) ©শুভাগত দীপ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মি. ডার্কনেস

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now