বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েটা আজও ঠিক এই বাসেই উঠেছে। যথারীতি বাসের উঠার সাথে সাথেই সকলের দৃষ্টি মেয়েটার দিকে। হবেই না বা কেন, এরকম সুন্দরী মেয়ে আমার লাইফে আর দ্বিতীয়টি দেখিনী। টানা চার দিন আমার সাথে দেখা। প্রথমদিন থেকেই মেয়েটার প্রতি আমি ক্রাশ খাওয়া! সাহস করে কথাও বলতে পারছি না। সুন্দরী মেয়েরা এমনিতেই একটু দাম্ভিক হয়। তার উপর এই ক'দিনে আমি মেয়েটাকে কারও সাথে একটি বারের জন্যও কথা বলতে দেখিনী। আজ আমি আগে থেকেই বাসে দুটো সিট কেটে পাশের সিটটা ফাঁকা রেখেছি। কাউকে বসতেও দেইনি। কারন জানি মেয়েটা যেখান থেকে গাড়িতে উঠে সে সময় কোন সিট ফাঁকা থাকে না। দাড়িয়েই যেতে হয়। গত তিন দিন একটাই দেখছি। মেয়েটা গাড়িতে উঠে পাশের সিটট খালি দেখে আমার দিকে একবার তাকালো। আমি হেডফোন লাগিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আছি। মেয়েটা পাশে বসল। খুশিতে আমার মনের মধ্যে দোল খেতে লাগলো। দেহের ভিতর থেকে যেন একটা শীতল অনুভূতি বয়ে গেল। কিছুক্ষন চুপচাপ থাকলাম। কিন্তু এভাবে অসহ্য লাগছিলো। মেয়েটাকে দেখলাম ফেইসবুকে ডুকা। আড়চোখে তাকিয়ে আমি নামটা দেখে নিলাম।
বেশিক্ষন চুপচাপ থাকতে পারলাম না। আমিই বকবক শুরু করলা-
"কিছু মনে না করলে একটা কথা বলি-আপনি কি এ.এন কলেজে পড়েন?
আমার দিকে শুধু একবার তাকালো। কিন্তু উত্তর নেই!
আমি পরপর কয়েকটা প্রশ্ন করি কিন্তু একটারও কোন উত্তর নেই!
রাগে আমার মেজাজ সহ্যের শেষ সীমায়। মেয়েটাও বোধহয় বুঝতে পেরছে। আমি রাগে হেডফোন লাগিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছি। কিছুক্ষন পর মেয়েটা আমার হাতে তার খাতাটা এগিয়ে দেয়। লেখা-আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি বোবা। ঈশ্বর আমাকে কথা বলার ক্ষমতা দেয় নি।
মুহুর্তেই থ খেয়ে গেলাম। প্রথমে মনে করেছিলাম ফান করছে। কিন্তু খাতাটা এবং সাথের বইটা ঘাটাঘাটি করে বুঝলাম-না মেয়েটা সত্যিই বোবা। একটা প্রতিবন্ধী স্কুল থেকে পাশ করে এখন কলেজে পড়ছে!
কি করবো ঠিক বুজতে পারছিন না। এরকম একটা মেয়ে বোবা হতে পারে তা আমি কেন কেউই কল্পনা করতে পারবেনা। আসলেই, বিধাতার খেলা বোঝা বড় দায়!
.
সামনেই মেয়েটার স্টিশন। আমি কোন কথা বলছিনা। হঠাৎ কি মনে করে যেন আমি ওর খাতাটা হাতে নিলাম। লিখলাম-'আমি তোমার কথা হতে চাই'
মেয়েটা আমার দিকে তাকালো। দেখলাম চোখ থেকে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।
.
মেয়েটা নেমে গেলো। আমার বাস ছেড়ে দিয়েছে। আমি জানালা থেকে তাকিয়ে আছি। মেয়েটা দাড়িয়ে আছে, আমার বাস চলছেই, নিশ্চিত দেখলাম মেয়েটা বারবার চোখ মুছছে। আমি শুধু জানালা থেকে তাকিয়ে আছি, যতক্ষন মেয়েটাকে দেখা যায়...।
.
লিখাঃ প্রসেনজিৎ রায়
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now