বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--বয়স কত ?
সামনে বসে থাকা ভদ্রমহিলাটি পান চিবাতে চিবাতে প্রশ্ন করলো আমায়।
বয়স জিজ্ঞেস করছে! আশ্চর্য !
--৩৩
বেশ বিব্রত হয়ে উনার প্রশ্নের উত্তর দেই।আর কথা না বাড়িয়ে ট্রেনের কামরাতে গা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে থাকি।ভীষণ ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছি।জার্নি ব্যাপারটা আমার একদমই সহ্য হয় না।
--বিয়ে হয়েছে ?
ভদ্রমহিলা আরেকটা পান মুখে পুরে দিয়ে আমার সামনের কামরাতে বসতে বসতেই প্রশ্ন করলো।
--জ্বি না।
একটু নড়েচড়ে বসে উনার প্রশ্নের উত্তর দিলাম।
--ও মা মারে! এত বয়স হয়ে গেছে! আর এখনও বিয়ে করোনি? কয়েকদিন পরে তো চুলে পাক ধরবে।বুড়ি হয়ে যাবা।বিয়ে হবে ?
আমি উনার কথার পরিপ্রেক্ষিতে কিছুই বললাম না।চোখ বন্ধ করে এড়িয়ে গেলাম।মূলত এই টাইপের কথাগুলো শুনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।অফিসে,বাড়িতে,প্রতিবেশীদের কাছ থেকে,ইনফ্যাক্ট বন্ধুরাও বলতে ছাড়েনা।
--নাকি কারো সাথে অশ্লীল বা অবৈধ সম্পর্ক আছে? ঐ যে প্রেম টেম আরকি!আছে?
কি বিশ্রীভাবে একটা মানুষ অন্য একটা মানুষকে এইসব কথা বলতে পারে সেটা এই মহিলার সাথে মুখদর্শন না হলে আমি বুঝতেই পারতাম না।
--প্রেমকে আপনি অশ্লীল বা অবৈধ বলছেন!
আশ্চর্য!
--মেয়ের তো দেখছি গায়ে লেগে গেছে! হেহে, তো বিয়েতো করোনি। বাপের ঘেটির উপর বসে বসে খাচ্ছো নাকি?
ভদ্রমহিলা স্বাভাবিকভাবেই কেমন অভদ্রটাইপ কথাগুলো বলে চলেছে! আশ্চর্য !
--আমি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে ভালো পোস্টেই জব করছি।
ট্রেনের জানালাটা খুলে দিয়ে উত্তর দিলাম।ভ্যাপসা গরমে ক্লান্তিভাবটা ভীষণরকম টের পাচ্ছিলাম।এখন হালকা হাওয়াতে বেশ লাগছে!
--ও মা মারে! এবার বুঝছি, বাপ মা কেন বিয়ে দেয় না! মেয়ের কামাই খাওয়ার জন্যই মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছেনা।বাপরে! কি লোভী বাবা মা তোমার?
--দেখুন,ভদ্রভাবে কথা বলুন।এসব উল্টাপাল্টা কি বলছেন আপনি?আপনি আমার থেকেও বয়সে বড় তাই আমি কিছুই বলছিনা, এর মানে এটা নয় যে আমি চুপ করে সব হজম করে যাবো!
--শাবাশ মেয়ে। কখনোই এই ধরণের বাক্যবাণ হজম করবে না।মনে রাখবে যত বেশি হজম করবে মানুষ ততবেশি বলবে।আমাদের সমাজে একদল মানুষ আছে,যারা বলে বেড়ায় মেয়েদের হজম করতে হয়, সেটা মেয়েদের ধর্ম। হ্যাঁ মেয়েরা মায়ের জাত,হজম করতেই পারে মেয়েরা।কিন্তু হজমের নাম করে ওরা মেয়েদের ঘাড়ের উপর নোংরা কথার ঝুড়ি উঠিয়ে দেয়, বুঝলে? মনে রাখবে,ঝুড়ি বেশি ভারি হলে মানুষ কিন্তু সেটা আর বহন করতে পারেনা।হয় ঝুড়িটা ফেলে দেয় আর নতুবা নিজেকে বিসর্জন দেয়।ঝুড়ির থেকে অবশ্যই নিজের মূল্য বেশি।সুতরাং নোংরা কথা পুঁজি করে ঝুড়ির ওজন বাড়িও না।
--মানে ?
আমি বেশ অবাক হয়ে সামনে বসে থাকা ভদ্রমহিলার কথাগুলো শুনছি! অথচ একটু আগে ইনি আমাকে কি সব বলছিলেন!
--আমার বয়স ৪০ ছুঁই ছুঁই। এখনও বিয়ে করিনি।তোমার মতই জব করি।আমি তোমাকে যেসব কথা বলেছিলাম ট্রেনে উঠার আগে বা পর থেকে, সেসব কথা আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত মেয়েরা শুনে আসছে।ইভেন আমাকেও শুনতে হয়েছে।কিন্তু আমি কখনোই এসব কথা বলা নিম্ম মন মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দেই নি।তুমি যদি আমার প্রথম কটু কথাটার প্রতিবাদ করতে তাহলে নিশ্চয় পরের কথাগুলো বলার সাহস আমার হতো না। আর তোমাকেও শুনতে হতো না।বুঝলে?
--জ্বি, আমি বুঝেছি।
মৃদু হেসে উত্তর দিলাম।
পরের ষ্টেশনে ভদ্রমহিলা নেমে গেলেন।যাওয়ার আগে বলে গিয়েছেন,
--আগামী জুলাই মাসের ১৪তারিখ আমার বিয়ে।প্রিয় মানুষটির সাথেই ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছি।আমাদের জন্য দোয়া করবে। আর হ্যাঁ তোমার জীবনের জন্য শুভ কামনা রইলো।
উনি নেমে গলেন।আমি আবারও চোখ বন্ধ করে বসে আছি।ট্রেন চলছে আপন গতিতে।
মনে হচ্ছে,ভদ্রমহিলার বলে যেওয়া শেষ কথাগুলো প্রতিধ্বনি হয়ে কানে বাজছে! ঝনঝন শব্দ করে,ঠিক যেভাবে ট্রেন পুল অতিক্রম করে যাচ্ছে অজানা গন্তব্যে।
#collected
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now