বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেসেঞ্জারে ঢুকতে না ঢুকতেই বড় ধরণের একটা ধাক্কা খেল পিয়াল! এতগুলো দিন পর রিমির মেসেজ!! সে ভুল কিছু দেখছে না তো? কাঁপাকাঁপা হাতে দ্রুত মেসেজটা ওপেন করল পিয়াল। মোটামুটি লম্বা একটা মেসেজ।
.
"পিয়াল,
মেসেজটা আমি কীভাবে শুরু করব, ঠিক বুঝতে পারছি না। এই মুহূর্তে মেসেজটা লিখতে গিয়ে আমার হাত দুটো কাঁপছে থরথর করে। তুমি হয়ত আমার উপর অনেক অভিমান জমা করে বসে আছো এই দুইটা মাস তোমার সাথে কোনোরকম যোগাযোগ করিনি বলে। কিন্তু কী করব বলো, বাস্তবতার কাছে যে আমি বাঁধা! তোমাকে ছাড়া এই দুইটা মাস কীভাবে যে আমার কেটেছে, তা কেবল আমি জানি আর জানে ঐ অন্তর্যামী। কত স্বপ্ন দেখতাম আমরা তাই না? আমাদের ছোট্ট একটা সংসার হবে, ছোট্ট একটা বাবু সেই ছোট্ট ঘরটা মাতিয়ে রাখবে। আমরা হবো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কাপল! কিন্তু এসবের কিছুই হলো না। তোমার আমার সেই স্বপ্নটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। আমি কিছু করতে পারলাম না। পারলাম না মা বাবার কথার অবাধ্য হতে। কারণ আমি অবাধ্য হলে মা বাবার মরা মুখ দেখতে হতো। আজ মা বাবার পছন্দের ছেলে এসে আমাকে আংটি পরিয়ে গেল। আমি দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সাথে ওরনা প্যাঁচাতে চেয়েছিলাম সুইসাইড করব বলে। যে জীবনে তুমি থাকবে না, সে জীবন রেখে কী লাভ? কিন্তু আমি সেটাও পারিনি। সবাই কীভাবে যেন বুঝে ফেলে আমাকে বাঁচিয়েছে। লিখতে লিখতে এখনো আমার চোখে পানি টলমল করছে।
মা বাবা একটা ডাক্তার ছেলেকে আমার জন্য মাস দুয়েক আগে থেকেই পছন্দ করে রেখেছিল। আমি তাদের অনেক বুঝিয়েছি, তোমার কথা বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আর তাই আমি আর উপায় না দেখে তোমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। সিমও পালটে ফেলি। যাতে আমাদের মায়া না বেড়ে যায় আর তুমিও বেশি কষ্ট না পাও। সর্বোপরি একটাই চাওয়া, তুমি অনেক ভালো থাকো, আমার চেয়েও অনেক ভালো মেয়ে তুমি পাবে। যেতে নাহি দিব হায় তবু যেতে দিতে হয়। তোমার স্মৃতি গুলো আমাকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে। ভালো থেকে।"
.
.
মেসেজটা পড়ে পিয়ালও একটা রিপ্লাই পাঠালো।
.
"রিমি,
তুমি প্লিজ আমার জন্য কষ্ট পেও না। দুঃখ কষ্ট নিয়েই তো আমাদের জীবন। এগুলোকে মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হয়। আমারও কান্না পাচ্ছে খুব। কিন্তু কী আর করা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসকে তো মেনে নিতেই হবে। যাইহোক আশা করি তুমি তোমার হবু স্বামীকে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসতে পারবে। সেও তোমাকে অনেক ভালোবাসা দিবে। তোমাদের জীবন সুখময় হোক, শান্তিময় হোক, এই কামনাই করি। তুমিও ভালো থেকে।"
.
.
পিয়ালের রিপ্লাইটা দেখে ফিক ফিক করে হেসে ফেলল রিমি! গাধামার্কা ছেলেটাকে অবশেষে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে ঠান্ডা করা গেছে। বিয়েতে আর কোনো ঝামেলা হবার চান্স নেই। ও কী ভেবেছিল এত ভালো একটা ডাক্তার ছেলে পেয়েও ওর মত হাদারাম বেকার ছেলেকে সে বিয়ে করবে? কিছুদিন যে সে ওর সাথে টাইমপাসটা করলো, এটাই তার সাত জনমের সৌভাগ্য!
.
.
পিয়াল এদিকে রিপ্লাইটা পাঠিয়েই হো হো করে হেসেই যাচ্ছে। হাসি যেন তার থামছেই না! এত সহজে যে আপদটা বিদেয় হবে, সেটা তার ধারণাও ছিল না। মেয়েটা যেভাবে তাকে মাঝেমাঝে বিয়ের কথা বলত, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসত পিয়ালের। তবুও সে নানান ভাবে ভুলিয়ে ভালিয়ে ম্যানেজ করত রিমিকে। ভাগ্যিস রিমি আর তাকে বিয়ে করার জন্য জোরাজুরি করেনি। করলে কী ঝামেলাটাই না হতো! তবে মেয়েটার সাথে টাইমপাস করতে মজা লেগেছে পিয়ালের। মেয়েটা হট ছিল!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now