বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেরুন রঙের অভিমান-০২

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shuvo (০ পয়েন্ট)

X #মেরুন_রঙের_অভিমান(০২) অর্চিতা অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে।দীপক টেলিফোনের অপরপাশ থেকে কতক্ষণ অর্চিতা শুনছো! বলে চিল্লালো। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ পেলো না।অর্চিতার অনামিকা আঙুলে তাদের এনগেজমেন্টের রিংটা এখনো চকচক করে ঝিলিক দিচ্ছে রোদের মৃদু আলোতে। খানিকটা সময় নিল দীপক।অর্চিতা কি অভিমান করে ফোন রিসিভ করেও কথা বলছেনা? কথায় আছে হাতের পাঁচ আঙুলের সঙ্গে জীবনের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। অঙ্গুষ্ঠা বা বুড়ো আঙুল নির্দেশ করে অভিভাবক অর্থাত বাবা, মাকে। তর্জনী নির্দেশ করে ভাই-বোনদের। কনিষ্ঠা নির্দেশ করে সন্তানদের। আর অনামিকা নির্দেশ করে নিজেদের এবং আমাদের জীবনসঙ্গীকে। অনামিকাতে একটি শিরা থাকে, যা সরাসরি হৃদয়কে নির্দেশ দেয়। তাই বিবাহের পর এই আঙুলে আংটি সাধারণত স্বামী-স্ত্রীর হৃদয় এক করে রাখে বলে নাকি রোমানদের ধারণা।দীপক এগুলোকে কুসংস্কার মনে করলেও আজ তার মনে হলো অর্চিতা বিপদে পড়েছে।নিজেকে অপরাধী মনে হলো।সে কেন মেয়েটাকে একটু বোঝার চেষ্টা করলো না!অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় চলে গেলো।এখন তার মনের মধ্যে অজানা অচেনা এক ভয় গ্রাস করছে।ঠিক আট বছর আগে তার মা'য়ের অসুস্থতার সময় এই ভয়টা জেঁকে বসেছিলো।আজ তার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়।গায়ের লোমকূপ খাঁড়া হয়ে উঠছে। এই মুহূর্তে।ঠিক এই মুহূর্তে দীপক তার হ্যান্ডব্যাগ থেকে অর্চিতার দেওয়া ডায়েরিটা বের করল খুব সন্তর্পণে যেন একটু স্পর্শতেই ডায়েরিটা ব্যথা পাবে।অর্চিতার দেওয়া প্রথম উপহার।যখন দেয় তখন এটা কাগজে মোড়ানো ছিলনা।সাধারন একটা ডায়েরি।কোন আহামরি চাকচিক্য নেই।ডায়েরির সাথে কয়েকটা শর্ত জোড়া ছিল। "এইযে! ডায়েরিটাকে ফেলনা মনে করবেন না।এটা অনেক মূল্যবান। অন্তত আমার কাছে" অর্চিতার বলার ভঙ্গি দেখে দীপক ফিক করে হেসে দিয়েছিল। "আচ্ছা ম্যাম।যথাআজ্ঞা।আর কিছু?" "হ্যাঁ।আরো কিছু শর্ত আছে" "জী বলেন শুনি" " ডায়েরিটা খুলে দেখবেনা তুমি" "এ আবার কেমন শর্ত! কিছু লিখতে পারবোনা আমি? এমন গিফটের মানে কি শুনি" "তোমাকে কিছু লেখার জন্য এটা দিচ্ছি না" "তাহলে কেন দিচ্ছ? সুখকর স্মৃতি যদি লিপিবদ্ধ না করতে পারি তো ডায়েরির মূল্য কী?" "এই ডায়েরিটার নাম হচ্ছে 'অর্পক।প্রতিটা পৃষ্ঠায় কিছু না কিছু লেখা আছে।তাই তুমি চাইলেও কিছু লিখতে পারবেনা" অর্পক নামটা শুনে দীপকের আবার হাসি পেলো। সে নামের অর্থ জানতে চাইলো।অর্চিতা কপট রাগ দেখিয়ে বলল, "অর্চিতা+দীপক=অর্পক" এসব কথা ভাবতে ভাবতেই এসি গাড়িতে বসে এগুচ্ছে দীপক।ফার্মগেটের জ্যামে অস্বস্তিকর অবস্থা। আরো কয়েকবার অর্চিতাকে ফোনে ট্রাই করলো।রিং হয়।বেজে বেজে বন্ধ হয়ে যায়।দীপকের টেনশনটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।দীপকের হঠাৎ মনে পড়ল ডায়েরিটার সাথে অর্চিতা আরো একটা শর্ত জুড়ে দিয়েছিল। "যখন তুমি আমাকে নিয়ে খুব চিন্তা করবা,খুব মানে খুউব বেশি তখন ডায়েরির যেকোন একটা পাতা পড়তে পারবা।এর বেশি কিছু কিন্তু পড়বা না আমার দিব্যি " দীপক তাড়াহুড়া করে একটা পেজ উল্টালো যেন এখানে সবকিছুর সমাধান আছে।কিন্তু সে হতাশ হলো। রফিক আজাদের একটা কবিতা লেখা।কবিতাটা খুব মনোযোগ সহকারে পড়ল। ভালোবাসা মানে দুজনের পাগলামি, পরস্পরকে হৃদয়ের কাছে টানা; ভালোবাসা মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়া, বিরহ-বালুতে খালিপায়ে হাঁটাহাঁটি; ভালোবাসা মানে একে অপরের প্রতি খুব করে ঝুঁকে থাকা; ভালোবাসা মানে ব্যাপক বৃষ্টি, বৃষ্টির একটানা ভিতরে-বাহিরে দুজনের হেঁটে যাওয়া; ভালোবাসা মানে ঠাণ্ডা কফির পেয়ালা সামনে অবিরল কথা বলা; ভালোবাসা মানে শেষ হয়ে-যাওয়া কথার পরেও মুখোমুখি বসে থাকা। এ কবিতা দ্বারা অর্চিতা কি নির্দেশ করেছে?আজ এই সন্ধিক্ষণে এসে দীপক খুব করে অনুভব করলো অর্চিতার প্রতি তার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঠিকঠাকভাবে সে করতে পারেনি।সে অর্চিতার সাথে কতদিন হয়ে গেলো বৃষ্টিবিলাস করেনি,চাঁদ দেখেনি,সমুদ্রস্নান করেনি একসাথে।কতকিছু বাকি। একজীবনে কতকিছু বাকি ভাবতেই বুকটা চিনচিনে ব্যথায় ভরে গেল।অপরাধবোধ গলা সমান তার।মেয়েটা বরাবরি একটু অভিমানী। কিন্তু তার যে এমন আকাঙ্ক্ষা, ব্যাকুলতা থাকতে পারে দীপক তা টের পাইনি। এতক্ষণে জ্যাম ছেড়ে গেছে।সাঁইসাঁই করে গাড়ি হাকাচ্ছে সে।যেন একটু সময়ের হেরফের হলেই বিরাট বড় ক্ষতি সাধিত হবে।অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় চলে এলো।কলিংবেল চাপলো।একবার।দু'বার।তিনবার।কোনো সাড়াশব্দ নেই।এক অজানা ভয়ে দীপক আবার কুঁকড়ে গেল।অন্যসময় হলে আর কলিংবেল চাপতো না।অর্চিতা তিনবারের বেশি বেল বাজানো পছন্দ করে না।তাও আবার ১ মি.পরপর তিনবার।আজ এলোপাথাড়ি কলিংবেল বাজালো।টু্ঁ শব্দ নেই ঘরের মধ্যে।উপায় না দেখে বাড়িওয়ালার ঘর থেকে ডুপ্লিকেট চাবি এনে রুমে প্রবেশ করলো। অর্চিতা মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।কতক্ষণ পড়ে আছে দীপক জানেনা।সে শকড খলো।চিৎকার দিতে গেলো।কিন্তু মনে হলো টুঁটি চেপে ধরেছে কেউ।ডাইনিং থেকে পানি নিয়ে অর্চিতার মুখে ঝাপটা দিল।জ্ঞান আসেনা দেখে ডাক্তার ডাকলো। "আপনার ওয়াইফ কি কোন কারণে অধিক চিন্তিত?খাওয়াদাওয়া সম্ভবত ঠিকঠাক করেনি।ভয়ের কারণ নেই।রক্তচাপ অনেক কম হয়ে গেছে।লো ব্লাড প্রেশার।এমন হলে মস্তিষ্কে রক্ত এবং অক্সিজেনের অভাবে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।এখন জ্ঞান ফিরেছে। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট এবং যে কোনও ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেশার বাড়াতে সাহায্য করে।সো হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেয়ে নেওওয়া উত্তম। আপনি এক কাপ কফি খাইয়ে দেন এখনি।আর নিয়মিত খাবার খাওয়ানোর ট্রাই করবেন" দীপক ডাক্তারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এগিয়ে দিতে গেলো।অর্চিতার ততক্ষণে জ্ঞান ফিরেছে।এক কাপ কফি হাতে নিয়ে দীপক ফিরল। "খেয়ে নাও।আর কি এত টেনশন তোমার বলোতো?" অর্চিতা নিঃশব্দে কফির কাপে চুমুক দিল।কোন কথা বলল না।তার কথা বলতে ভাল লাগছে না। সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে লাগলো।মানুষটা যদি তাকে না ভালোবাসে তাহলে কেন ছুটে চলে এলো? "আচ্ছা, তুমি কি আমার সাথে কথা বলবেনা বলে পণ করেছো? বেশ কথা বলতে হবেনা।তবে আমার দোষটা কি এটা জানার রাইট নিশ্চয় আমার আছে? আছে তো নাকি??" এবার অর্চিতা দীপকের দিকে মুখ তুলে তাকালো।ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ঝুলিয়ে ব্যাঙ্গ করে বললো, "দোষ কী? তা সত্যিই জানোনা? এ কথা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?" "ওকে ফাইন।বিশ্বাস করোনা।কিন্তু আমি সত্যিই বুঝতেছিনা আসলে আমি কী করেছি?" অর্চিতার এবার খানিকটা খটকা লাগলো।আসলেই কি দীপক জানে না? এর মধ্যে কি কোন গণ্ডগোল আছে?থাকুক। তারপরও সে নিজের মুখে কিছু বলবে না।দীপকের কথার উত্তর না দিয়ে সে তার রুমে চলে গেল।দীপক ঠাই বসে রইলো।একা।খুব একা সে। সেদিন রাতে খুব করে বৃষ্টি নামলো।আকাশ ভেঙে পড়ার মতো বজ্রপাত। হিমশীতল আবহাওয়া।অনেকে বলে রোমান্টিক আবহাওয়া।ইলেক্ট্রিসিটি নাই।দূরে কোথাও আবার বজ্রপাত হলো।অর্চিতা কেঁপেকেঁপে উঠলো।তার কেমন ভয় ভয় লাগছে।অন্ধকারে সে খুব ভয় পায়।তবুও সে দীপককে ডাকলো না।অভিমান কিংবা অভিমানের থেকে বেশি কিছু।দুইরুমে দু'জন মানুষ নিজেদের সাথে কথোপকথনরত রইল।ঘুম নেই চারচোখের একটাতেও।ঘোরলাগা চোখ।গোলকধাধাঁ। আবার স্নিগ্ধ সকাল শুরু হলো।দীপক অফিসের জন্য রেডি হয়ে বাইরে এসে দেখে অর্চিতার রুম খোলা।সে উঠেছে।একবার ভাবলো উঁকি দিবে।কিন্তু দিল না।রাতে খেয়েছে অর্চিতা।দীপক রান্না করেছিল।সে মনেমনে ভাবলো সকালে যদি অভিমানীটাকে খাওয়াদাওয়া করিয়ে অফিস যাওয়া যেত তাহলে একটু স্বস্তি পেতো।কিন্তু হীতে বিপরীত হতে পারে বলে কিছু বলল না।মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে চার্জ নেই একদম।টেনশনে আর ফোনটা চার্জে লাগানো হয়নি।শুভঙ্করের দেওয়া ৫ মিসকল লাল হয়ে ঝুলছে।অফিসে গিয়ে একবারে কথা বলবে ভেবে আর কল দিলনা।ওয়াশরুম থেকে খুটখুট আওয়াজ আসছে।দীপক নাস্তা করে অফিসের পথে পা বাড়ালো।অর্চিতাকে কিছু সময় দিতে হবে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য,তার ভুল ভাঙার জন্য এই ভাবলো দীপক। অর্চিতা আর শুভঙ্কর সামনাসামনি বসে আছে।শুভঙ্করকে অর্চিতা চিনে।খুব ভালো ভাবেই চিনে।দীপক যেদিন প্রথম শুভঙ্করের সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় সেদিন সে ভুত দেখার মতো ভয় পেয়েছিল।শুভঙ্করের অনুভূতি সে বুঝতে পারেনি সেদিন।দিন যায়,মাস যায়।শুভঙ্করের আসাযাওয়া চলতে থাকে। দু'জন কফি হাতে বসে আছে।পুরোনো দু'জন।খুব পুরোনো।কেমন গুমোট ভাব বিরাজমান।এ ভাবটা অর্চিতায় দূর করলো। "বিয়ে করবা না, শুভঙ্কর?" অর্চিতার এমন প্রশ্নে শুভঙ্কর মোটেও বিরক্ত বা চমকিত হলো না।মুখের হাসিটা আগের তুলনার প্রশস্ত করে উত্তর দিল, "বেশ আছি।ছলনাময়ী নারীসঙ্গ ছাড়া যদি দিন কাটে তা মন্দ কী?" দীপকের জবাব শুনে অর্চিতা নেতানো পাতার মতো চুপসে গেলো।তারপরও কনভারসেশন চালানোর জন্য বললো, "দীপকের সাথে এ ব্যাপারে কিছু বলনি?" "কী বলবো? কিছু অবশিষ্ট আছে? কী বলতাম? এই যে,আমি তোমার ওয়াইফকে" এ পর্যন্ত বলতেই অর্চিতা শুভঙ্করকে থামিয়ে দিল। "পুরোনো কথা শুনতে ভালো লাগছে না।" শুভঙ্কর হাসলো।ঠিক একই সময় শুভঙ্করের ফোনে দীপকের ফোন আসলো আর অর্চিতার কলিংবেল বেজে উঠলো। দু'জন খুব চেনা মানুষ মুহূর্তেই অচেনা মানুষে পরিণত হলো। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মেরুন রঙের অভিমান-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now