বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেন্টাল

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X -হাসিব অফিসে যাওয়ার পথে তোর বাইকে করে অরিনকে কলেজে ছেড়ে দিস তো! -মা তুমিও না প্রতিদিন এইটারে আমার ঘাড়ে চাপাইয়া দাও! -শুনা মাত্রই অরিন ছুটে এলো!কি বললি তুই আবার বলতো? -না কিছুনা! -আর শুন আমি তোর ঘাড়ে চড়ে যাই না,তোকে গিফট করা আমার বাবার বাইকে চড়ে যাই। -ইস বাবা কি তোর একার?আচ্ছা চল তোকে নিয়ে যাচ্ছি,বাসের ভাড়া তো মেরে দিস অথচ একদিনও তো আমার বাইকের জন্য তেল ক্রয়ের পার্সেন্টিজ দিস না!উল্টো আইসক্রিমের টাকা নিস,আজ যদি যাবার সময় আইসক্রিম আবদার করিস না তাহলে বাইক থেকেই তোকে ফেলে চলে যাবো। -ইস আমি আবদার করলেই দোষ আর রিক্তা আপু আবদার করলে তোর পকেট খালি হয় না,তাই না ভাইয়া? -রিক্তা কে রে? -না মা কেউ না, কেউ না।তোমার মেয়ে বালিশ যুদ্ধ করার জন্য এই মিথ্যাটা বললো! -এই খবরদার তোরা আমার আর একটাও বালিশ নষ্ট করবি না!এই অব্দি কটা বালিস নষ্ট করেছিস মনে আছে?এখন যা অরিনের কলেজ দেরি হয়ে যাচ্ছে।পাগল ছেলে একটা। -হুম মা ঠিক বলেছো ভাইয়া না একটা মেন্টাল! -তবেরে!কি বললি তুই? -মা,দেখোনা আমার কলেজ লেট হয়ে যাচ্ছে। -আহ বাবা!তোরা যাবি। -যাচ্ছি যাচ্ছি।আজ মায়ের জন্য বেঁচে গেলি,চল। -হিহিহিহি। . -অফিস শেষে সেই চিরচেনা নাম্বারটায় একটা ফোন দিলাম!হ্যালো,আজ একবার দেখা করতে পারবে? -কিন্তু হাসিব কেনো? -আসলে তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে রিক্তা! -আমি তো গতকাল মামার বাড়ী এসেছি,মামা চার বছর পর বাহিরে থেকে আসছে তাই আমরা পুরো পরিবার এখানে চলে এলাম মামাকে দেখতে! -আচ্ছা বাই রাখছি। -আচ্ছা। -পাড়ার খেলার মাঠটার পাশে জির্ণশীর্ণ চারফুট উঁচু দেয়ালটায় বসে ভাবছি রিক্তা কি আমায় ইগনোর করছে নাকি!আজ অরিনকে কলেজে ছেড়ে দেবার পথে তো স্পষ্ট দেখলাম অরিনের আব্বু- আম্মু ওদের বারান্দায় বসে চা খাচ্ছে!তাহলে কি রিক্তা....না না আমি এসব কি ভাবছি!রিক্তাতো তেমন মেয়ে হতেই পারে না,,দুই বছর ধরে ওকে ভালোবাসছি।কিন্তু ও কেমন যেনো একটু কেয়ারলেস হয়ে যাচ্ছে। . -বাসায় এসে দেখি নয়ন এসেছে আমায় দেখেই চলে গেলো আর যাবেই না বা কেনো!একদিন ভাইয়া না বলে তুই করে বলাতে দিয়েছিলাম একটা চড়! -মা নয়ন চলে গেলো কেনো? -তো কি করবে?তুই তো ওকে দেখতেই পারিস না। -তাই বলে নিজের ফুফুর বাড়ীতে একটু থাকবে না এটা কেমন কথা! -আচ্ছা ভাইয়া তুই নয়নের সাথে অন্ততপক্ষে ফ্রেন্ডশিপটা করলে কি হয়? - আমার ভালো লাগে না। -তাহলে রিক্তাকে ভেবে কষ্ট দিস কেনো নিজেকে?তুই ভাবছিস আমি কিছু বুঝি না?আমার যথেষ্ট বুঝার বয়স হয়েছে। -আরেব্বাস আমার কিউটি বোনটা তো দেখি বড় হয়ে গেছে এবার তো একটা টোপর মাথায় দেওয়া রাজপুত্র আনতে হয়! -ভাইয়া!আমি এখনো স্টাডি করি আর তুই স্টাডি শেষ করে করে জব করছিস তুই আগে কিউট আর লক্ষ্মী দেখে একটা ভাবি এনে দেনা প্লিজ ভাইয়া! -ইস!শখ কতো।পারবো না। -পারিব না এ কথাটি বলিও না আর,কেনো পারিবো না তাহা ভাবো একবার......একবার না পারিলে দেখো শতবার.... -কি বললি??আমি শতবার বিয়ে করবো!! তবেরে তোরে,দেখাচ্ছি মজা! -আম্মুগো.......আসলে ভাইয়া আমি ওভাবে বলি নি। -কিরে কিরে কি হয়েছে তোদের? -দেখনা মা তোমার এই বাঁদরী মেয়েটা উল্টাপাল্টা কিসব বলে!এই বাঁদরীটাকে তুমি সামলাতে পারো না?না পারলে আমাকে বলো আমি আচ্ছা করে কয়টা দিয়ে বাঁদরামি ঠিক করে দিচ্ছি। -তোরা কি সব বাঁদরামি আরপাগলামি করিস!তা কেবল উপরওয়ালাই জানে -হাহাহাহা মেন্টালে ঠিক করবে বাঁদরী! -আচ্ছা,দেখাচ্ছি তবে কি করে ঠিক করতে হয়! . -ও ভাইয়া রে কানটা ছেড়ে দে প্লিজ!আর বলবো না,ভাইয়া লাগছেতো! -এখন বলবি না কেনো? বল বল! -না বলবো না,ভাইয়া কানটা ছাড়না লাগছে,বললামতো আর বলবো না। -যাহ ছেড়ে দিলাম। -মেন্টাল!বলেই চলে গেলো মায়ের কাছে! -আচ্ছা ঠিকাছে শোধ এর পরে তুলবো নে। . -আজ আবার রিক্তাকে ফোন দিলাম,হ্যালো রিক্তা,কি করছো? -আমার খুব ঘুম আসছে রাখছি। -ব্যাপার কি ওতো এতো তারাতারি ঘুমায় না!আর ওর কন্ঠে একটুও ঘুমের আভাস মাত্র পাইনি!ও আমার সাথে এমন করছে কেনো? -আচ্ছা যাই একটু নিকোটিনের ধোয়ায় একটা সুখটান দিয়ে আসি। . -ভাইয়া তুই রিক্তা নামের মেয়েটাকে ভেবে আর কতো সিগারেট টেনে যাবি? -কই আমি রিক্তাকে ভাবছি না তো। -ভাইয়া আমি তোর বোন তুই মুখে কিছু না বললেও আমি বুঝতে পারি। -থাক আর বুঝতে হবে না,এখন যা ঘুমাতে...কাল অফিসে যেতে তোকে কলেজে ছেড়ে দিবোনে। -আচ্ছা ভাইয়া। . -ভাইয়া দেখ রিক্তা আপু! -আরে নাহ ওটা রিক্তা হতেই পারে না।আর যাই হোক ও এভাবে অন্য কোনো ছেলের সাথে রিক্সায় ঘুরে বেড়াবে না। -না বেড়ালেই ভালো,কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখেছিলাম ওটা রিক্তা আপুই! -অরিনের কথায় এতো কনফিডেন্স দেখে একটু খটকা লাগলো রিক্তাকে একটু যাচাই করে নিতে হয়। -রিক্তাকে ফোন দিলাম।হ্যালো রিক্তা তোমাকে এই মাত্র দেখলাম তুমি একটা ছেলের সাথে রিক্সা করে ঘুরে বেড়াচ্ছো! -ওহ ওটা আমার মামাতো ভাই। -কিন্তু তোমারতো কোনো মামাতো ভাই নেই! তুমি মিথ্যা বলছো কি জন্য?আমার সাথে মিথ্যা বলে তোমারই বা লাভ টা কি? -আমি কার সাথে ঘুরে বেড়াবো কার সাথে রিক্সায় চড়বো তার রেফারেন্স আমি কাউকেই দিবো না। আমাকে আপনি আর বিরক্ত না করলেই খুশি হই! -কিরে ভাইয়া কি হলো!আমি সত্যি বলেছিলাম তো? -হুম বোন! . -ভাইয়া তোকে মা ডাকছে,সেই কখন অফিস থেকে ফিরে রুমের দরজা আটকিয়ে রাখছিস। ফ্রেস হওয়া নাই,খাওয়া-দাওয়া নাই আসলে তোর কি হয়েছে ভাইয়া? বল না প্লিজ। -কিছুনা,আমার ভালো লাগছে না তুই যা। -ভাইয়া নয়ন এসেছে তোর সাথে অনেকদিন ধরেই রিক্তার ব্যাপারেই কিছু বলতে চাচ্ছিল কিন্তু তুই ওকে সহ্য করতে পারিস না বলে ও তোর কাছে আসে না।কিন্তু আজ তোর মন খারাপ বলে ও তোকে কি একটা সত্য বলতে নাকি এসেছে। -ওকে আমার রুমে আসতে বল। -আচ্ছা। . -কিরে কেমন আছিস নয়ন? -যেমন ছিলাম তেমনই আছি। -কি যেনো বলতে চেয়েছিলি? -আসলে ভাইয়া জানি তুই বিশ্বাস করবি না আর তোকে কথাটা বলা ঠিক হবে কিনা তাও জানিনা তবুও বলতে হয়। আসলে রিক্তা মেয়েটার না আরেকটা ছেলের রিলেশন আছে।ও তোকে ঠকাচ্ছিলো ভাইয়া।দুই বছর ও শুধু তোকে নিজের স্বার্থে ইউজ করেছে।তুই বিশ্বাস না করলেও আমার সত্যিটা বলতেই হবে মনে করে বললাম। -হুম বলে ঠিকই করছিস,তোর কথায় আমার একটুও অবিশ্বাস নাই,যদি নিজে না প্রমাণটা পেতাম তাহলে বিশ্বাস করতাম না। . -আচ্ছা ভাইয়া আমি যাই,ভালো থাকিস,আর ওই মেয়েটাকে ভেবে নিজেকে কষ্ট দিস না। একদম সিগারেটে হাত দিবি না। -আচ্ছা। . -বাবা,একটা কথা বলবো রাখবি? -মা তুমি আমাকে আদেশ করবে,অনুরোধ নয়।তুমি যা বলবে আমি শুনবো। -যাক শুনে মনে প্রশান্তি পেলাম।বাবা এবার তুই একটা বিয়ে কর।অন্তত তোর মা-বাবার কথা ভেবে বিয়েটা কর। -মা এসব বিয়ে-টিয়ে আমার আর বিশ্বাস নেই,তবুও তোমার আদেশ হিসেবে কথা দিলাম আমি করবো কিন্তু তোমার বৌমাকে বলে রাখবে আমার উপর অধিকার খাটাতে পারবে না আমার ইচ্ছে মতো আমি চলবো এতে সে কৈফিয়ত খুঁজতে পারবে না। -আচ্ছা আগে তো তুই বিয়েটা কর মেয়েটা তোকে খুব ভালোবাসতে পারবে,তোর সব কষ্ট দূর করে দিতে পারবে।খুব ভালো একটা মেয়ে। -মা শুনো এসব ভালোবাসা-টাসায় আমার আর বিশ্বাস নেই! -সে যাই হোক কিন্তু দেখবি না পাত্রিটা কে? -না মা দেখতে হবে না তুমি যাকে আমার জন্য ভালো মনে করো পরিবারের জন্য ভালো মনে করো সে যেমনই হোক আমি আমি মেনে নিবো।শুধু রেজিস্টারি বউ হিসেবে।আমার মন আর ভালোবাসা পাবে না,আর জোর করতেও পারবে না। -যাক বউ হিসেবে মেনে নিলেই চলবে! ভালোবাসা ও ঠিক জয় করে নিতে পারবে। -সে দেখা যাবে।তুমি এখন যাও তো মা,আমার ভালোলাগছে না। . -বিয়ে করতে গেলাম,কিন্তু কন্যার মাথায় ইয়া বড় এক ঘোমটা!ধুর বাবা পাত্রীর মুখটাই তো দেখলাম না। থাক আমার দেখে কাজ নেই মায়ের আদেশ মানতে বিয়ে করতে এসেছি বিয়ে করে যাই এতো মুখ দেখাদেখি লাগবে না।বউকে তো আর ভালোবাসতে যাবোই না সেটা তো আগেই বলেছি পাত্রীও নিশ্চই এই শর্ত মেনেই রাজী হয়ে থাকবে।দেখা যাক শেষ অব্দি কি হয়! . -ভাইয়া ভাবীর মুখ দেখেছিস? -নারে অরিন! -দেখবি না? -ইচ্ছে নাই! -থাক একবারে বাসর ঘরেই দেখিস! -তবেরে তোরে! -ওমাগো!কিন্তু যাই বলিস ভাইয়া ভাবীকে যা লাগে না! পুরাই একটা কিউটের ডিব্বা! -তোরে হাতের নাগালে পেলে তোর খবর নিয়ে ছাড়বো দেখিস! -আচ্ছা আচ্ছা দেখা যাবে।কে কার খবর নেয়! . -বাসর ঘরে এলাম দেখলাম -বউ আমাকে দেখে সালাম দিয়ে ঘোমটা খুললে আমি তো অবাক! -কিরে নয়ন তুই! -কেনো হতে পারি না বুঝি! -না তা নয় কিন্তু এভাবেই আমি কখনো ভাবিনি! -আমি সেই তোমাকে নিয়ে ছোট বেলা থেকেই ভেবেছি এই মোমেন্টটা তাই তোমাকে কখনো ভাইয়া বলি নি।জানি তুমি আমাকে সহ্য করতে পারো না।তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসতে।কিন্তু বিশ্বাস করো আমি ওই রিক্তা মেয়েটার মতো আমি কখনো তোমাকে ঠকাবো না।তোমাকে সত্যিই খুব ভালোবাসি। সেই যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই।যদিও বুঝতাম না ভালোবাসা কি কিন্তু যখন তোমাকে নিয়ে ভাবতাম তখন অজানা এক অনুভূতিতে অদ্ভুত ভালোলাগা সৃষ্টি হতো সময়ের সাথে ভালোলাগাটা কিভাবে যে ভালোবাসায় রূপ নিলো বুঝতেই পারিনি। তোমাকে না জানিয়ে একতরফা ভালোবাসার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত হাসিব।কিন্তু বিশ্বাস করো আই লাভ ইউ। . -এখন ভাবছি!মেয়েটার কথায় সত্যিই যাদু আছে! অদ্ভুত মায়া কাজ করে!কিন্তু তুমি তো জানো আমি তোমাকে ভালোবাসতে পারবো না তুমি কেনো জেনেশুনেও নিজের জীবনটা নষ্ট করছো? -আমার বিশ্বাস আমি পারবো তোমার ভালোবাসা জয় করে নিতে।তা না পারলেও অন্ততপক্ষে খুব কাছে থেকে তোমাকে তো দেখতে পারবো!এটাই অনেক বড় পাওয়া। -ওহ শিট মেয়েটা এমন কেনো!শুধু শুধু মায়া বাড়িয়ে দিচ্ছে!তুমি বিছানায় শুয়ে পড়ো নয়ন,আমি ছোফায় ঘুমাবো! -কিন্তু আজতো আমাদের বাসর রাত! -এই শুনো এইসবে আমার বিশ্বাস নেই!যেটা বলছি চুপচাপ শুয়ে পড়ো না হলে আমি এই রুমেই থাকবো না! -না থাক,তোমার যেখানে ইচ্ছে ঘুমাও আমি বাধা দিবো না।শুধু এই রুমে থাকো প্লিজ। . -আমি শোফায় শুয়ে আছি জানি মেয়েটা বিছানায় শুয়ে কাঁদছে,কাঁদুক ও তো আমার এই চরম সত্যিটা জেনেই বিয়েতে রাজি হয়েছিলো।কিন্তু ওকে খুশি দেখার বিকল্প কোনো উপায় নেই! -ওহ আপনাদের নয়নের পরিচয়টাই তো দেই নি।ও আমার মামাতো বোন।নাম নয়না তাই সবাই ছোট করে নয়ন বলেই ডাকে।এবার অনার্স সেকেন্ড। মেয়ে হিসেবে খুব ভালো কিন্তু আমাকে কখনো ভাইয়া বলতো না।তাই একদিন রাগ করে চড় দিছিলাম সেই থেকে তিন মাস কথাই বলে নি।আমার মা বলে বলে ও নাকি খুব লক্ষ্মী মেয়ে ছেলের বউ হিসেবে এমন মেয়েকেই তার চাই।তাই বলে এই মেয়েকেই আনতে হলো কিন্তু ওকে তো আমি কষ্ট দিতে পারবো না আবার ভালোও বাসতে পারবো না!ধুর ছাই পড়েছিতো মহা ঝামেলায়!এখন কি করি! . [আরো কিছুদিন পর] -এই উঠো,আর এই নাও তোমার চা! -তুমি এখানে কেনো?আজ মা ডাকতে এলো না যে! -এখন থেকে আমিই তোমার এলার্ম মা আর ডাকতে আসবে না। -মানে! -কিছুনা!এই নাও চা। -তুমি এসব বানাতে গেলে কেনো? -ভালোবেসে! -বলেছি না আমাকে ভালোবাসা দেখাতে আসবে না!বলেই চায়ের কাপটা ছুড়ে ফেলেদিলাম আর ভেঙ্গেও গেলো। -নয়ন ভাঙ্গা কাপের টুকরোগুলো তুলে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো!আমি হয়তো একটু বেশিই রিয়েক্ট করে ফেলেছি কিন্তু কি করবো এই মনটাকে যে কিছুতেই বুঝাতে পারছি না! -মা আমার অফিস ড্রেসগুলা দিয়ে যাও তো। -এই নাও। -আমি মাকে আনতে বলেছিলাম তুমি এসেছো কেনো? -এখন থেকে আমিই আনবো!তুমি আমাকে যাই বলো না কেনো আমি স্বামী সেবা করবই যতই অপমানিত হই না কেনো আমি পিছু হাটবো না! -ধুর অফিসেই যাবো না!শার্ট-প্যান্ টগুলা ওখানেই রেখে বাহিরে চলে এলাম নিকোটিনের ছোঁয়া পেতে! . -এটা কি হলো!তুমি সিগারেটটা ফেললে কেনো? -তুমি কখনো সিগারেট খাবে না,আমার কষ্ট হয়! তোমার কিছু হলে আমি বাঁচবো না হাসিব! -এই ছাড়ো তো তোমার ন্যাকামি!বলেই আর একটা সিগারেট ধরালাম! -প্লিজ তুমি এমন করো না,আমি কথা দিচ্ছি রিক্তাকে আমি আবার তোমার কাছে ফিরিয়ে দিবো!প্লিজ তুমি এভাবে নিজেকে কষ্ট দিও না প্লিজ আমারও কষ্ট হয়। -এবার আমি নিজেই সিগারেটটা ফেলে দিলাম!তবে রিক্তার কথা শুনে নয়,কারো ভালোবাসায় মাখা আকুতি শুনে!মেয়েটার কষ্ট হয় বলেই হয়তো এতো অনুরোধ করছে!নিজের কথা না ভেবে আমার সুখের কথা ভেবে অন্য কারো জন্য নিজের অধিকারটাই ছেড়ে দিতে চাইছে!কিন্তু আমি কি পারবো এই ভালোবাসার দাম দিতে! . -সেই বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম আর ফিরলাম রাতে! -কিরে কোথায় ছিলি এতোক্ষন? -আসলে বাবা আমার এক বন্ধুর বাসায়! -তাই বলে ফোন করে নিজের বউয়ের সাথে একটু কথা বলে নিলেই পারতিস!জানিস মেয়েটা কতো কষ্ট পেয়েছে?তোর অপেক্ষায় সেই সকাল হতে কিছু খায়নি!এভাবে মেয়েটাকে না কাঁদালেই পারিস! -আচ্ছা বাবা তুমি তোমার রুমে যাও আমি দেখছি। -আচ্ছা ওকে কিন্তু একদম কাঁদাস না বাবা,মেয়েটা সত্যিই তোকে খুব ভালোবাসে! . -কি তুমি না খেয়েই শুয়ে আছো? -না এমনি আর কি। -এমনি মানে!শরীল অসুস্থ হয়ে গেলে কি হবে? তার দায়ভার কে নিবে?চলো খাবে চলো।আমি জানি তুমি আমার অপেক্ষাতেই খাওনি।আর শুনো ফিউচারে কেউ না খেয়ে থাকলে তার রেফারেন্স আমি নিবো না!বুঝেছো? -হুম।রিক্তাকে ফোন দিয়েছি কাল ও আসবে দেখা করতে,আজই তো সব শেষ!জীবনে প্রথম ও শেষ বারের জন্য নিজ হাতে আজ একবার খাইয়ে দিবেতো? -নয়নের এই মায়া চাহনির অনুরোধ আমি ফেলতে পারলাম না,চলো খাইয়ে দেই। -তোমার এই ভালোবাসাটুকু আমি সবসময় চেয়েছিলাম কিন্তু আমি জানি সে আশা অপূর্ণই রয়ে যাবে! -এই পাগলী কাঁদছো কেনো?ভাতের পাতে কেউ কাঁদে?একদম কাঁদবে না! -কই কাঁদছি নাতো! -হয়তো মেয়েটাকে একটু বেশিই কষ্ট দিয়েছি অথচ মেয়েটা আমাকে কতো বেশি ভালোবাসে। . -আজ সোফায় শুয়ে ভাবছি নাহ মেয়েটাকে আর কষ্ট দেয়া যায় না এবার ওর ভালোবাসার প্রতিদান দিতেই হবে। . [পরেরদিন সকালে] -চলো আজ রিক্তা মেয়েটা আসবে দেখা করতে। -বুঝতে পারলাম ওর চোখের অশ্রু টলমল করছে এই বুঝি টুপ করে পড়লো একফোটা!তবুও বললাম চলো। -ওর সাথে গেলাম রিক্তার কাছে। -কেমন আছো হাসিব? -ভালো।তুমি? -ভালো!তুমি এখনো আমায় ভালোবাসো? -বাসতাম। -বাসতাম মানে?এখন ভালোবাসো না? . -তাহলে তোমরা কথা বলো,আমি যাই। -যাই মানে কোথায় যাচ্ছো! -বাবার বাড়ি! -বাবার বাড়ি মানে!আমি মামাকে কি জবাব দিবো?আর তুমি আমাকে ছেড়ে তুমি কিভাবে থাকবে? -ও আমি ম্যানেজ করে নিবো তোমায় ভাবতে হবে না!আমি তোমার স্মৃতিটুকু নিয়েই কাটিয়ে দিবো!আর থেকেই বা কি হবে এখনতো রিক্তা এসে গেছে,আর তুমিও খুশি দেখতে পারছি এটাই অনেক। -ঠাসসসসস!আমার খুশির জন্য তুমি নিজের সুখ বিসর্জন দিচ্ছো!আরে যে আমাকে একবার ছেড়ে চলে গিয়েছিলো আমার চাইতে ভালো কাউকে পেলে সে দ্বিতীয়বার আমায় ছেড়ে যাবে না তার কি নিশ্চয়তা আছে?যে আমাকে নিজের স্বার্থের জন্য একবার ছেড়ে যেতে পারে তার কোনো অধিকার নেই দ্বিতীয়বার আমার লাইফে আসার আর আমি সেটা এক্সেপ্টও করবো না।এমন মেয়েকে তো আমি চাইনি!আমি তাকে চাইনি যে আমাকে নিজের স্বার্থের জন্য ভালোবাসবে আমি চেয়েছিলাম যে আমায় ভালোবেসে স্বার্থত্যাগ করতে পারবে,আমি চেয়েছি যে নিজের স্বার্থের জন্য নয় ভালোবাসার জন্য আমাকে ভালোবাসবে!আর আমি সেই মেয়েকে পেয়ে গেছি নয়ন!আর হ্যা আমার সেই কল্পনার রাজকুমারী তুমি নয়ন শুধু তুমি!যে আমার ভালোথাকার জন্য নিজের সবচাইতে দামী সম্পদ ত্যাগ করতে যাচ্ছিল নিজের ভালোবাসা আর অধিকারটাই বিসর্জন দিতে যাচ্ছিল তার চাইতে ভালো আমাকে আর কেউ বাসতেই পারে না। তুমি রূপে-গুনে ও ভালোবাসায় সব দিক দিয়েই ওর থেকে বেশি কিন্তু ও ভালোবেসেছিলো স্বার্থের জন্য আর তুমি ভালোবেসেছিলো ভালোবাসার জন্য।তাই আমার ভালোবাসার প্রতিদান তুমি ষোল আনাই পাবে,I Love You!আবার যদি কখনো নিজের ভালোবাসা নিজের অধিকার অন্য কাউকে দিয়েছো তাহলে আমার চাইতে খারাপ কেউ হবে না।চলো এখান থেকে। আমি তোমার মতো একটা মেয়ের ভালোবাসা চেয়েছিলাম আর আমি তা পেয়েও গেছি,আর কখনো কাঁদাবো না তোমায়,খুব ভালোবাসবো খুব! -নয়ন কাঁদছে জানি এটা কষ্টের না,সুখের অশ্রু,আনন্দের কান্না!কাঁদুক,কেঁদে মনটা হালকা করে নিক তারপরতো মেয়েটাকে আর কাঁদতে হবে না,আর কাঁদাবো না,অনেক ভালোবাসবো! . -ভাইয়া তোর গিফট! -ওমা কি সুন্দর ম্যানিকন লাভ কাপল!তোভকিসের গিফট এটা? -তোর আর ভাবীর মিলন তিথির! -হুম বুঝলাম!কিন্তু এটাতো অনেক টাকা!তুই কোথায় পেলি? -তুই তো বলতিস গাড়ী ভাড়া মেরে দেই সেই ভাড়া বাঁচিয়ে তোর বাইকে চড়ে কলেজে গিয়ে তোর টাকায় আইস্ক্রীম খেয়ে টাকা জমিয়ে এই গিফট দিলাম! -ওরে আমার বাঁদরী বোনরে! -ওরে আমার মেন্টাল ভাইয়ারে!ভাইয়া তোর পাগলীটা কোথায় রে? -ওই খবরদার!আমার ছেলেটা পাগল হতেই পারে আমার কিন্তু আমার বৌমাটা খুব লক্ষ্মী,একদম পাগলী বলবি না! -মা তুমিও বৌকে পেয়ে না,ছেলে-মেয়ের সাপোর্ট করো না! -করবো নাই বা কেনো এতো লক্ষ্মী একটা বউ।বলেছিলাম না ঠিক তোর মন জয় করে নিবে? এটা স্ত্রীদের বিশেষ একটা গুন খুব সহজেই স্বামীর মন জয় করে নিতে পারে। -হুম!আমিও মানি মা আমার বউটা খুব লক্ষ্মী,খুব ভালোবাসতে জানে! -অতঃপর পাগলীটা আমার বুকে মুখ লুকালো! -আমিও মা-বাবা আর বোনের সামনে নয়নকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললাম দেখলে আমিও ভালোবাসতে জানি খুব জানি! -আমিও দেখে ফেলছি! -শুধু দেখেছিস? কিছু শিখিস নি? -হ্যা!না মানে.... -এতো মানে মানে করতে হবে না পরের এল্যাউন্স তোর হ্যাপি এন্ডিং নিয়েই হবে! -হাহাহাহা পুরো পরিবারে খুশির আমেজ পড়ে গেলো! -ধ্যাত!ভাইয়া তুইও সবসময় আমার পিছু না লাগলে বোধ হয় তোর পেটের ভাত হজম হয় না! -হাহাহাহা! . -একটা কথা বলবো তোমায়? -কি? -আসলে আমিতো এখনো বিয়ের পর বাবার বাড়ী যাই নি যদি.... -ওহ তাহলে যাও কয়েকদিন বেড়িয়ে এসো। -নাহ মানে মেয়েদের তো বিয়ের পরে প্রথমবার তার স্বামীকে সাথে নিয়ে বাপের বাড়ী যেতে হয় তাই... -ওহ বুঝেছি আমায়ও যেতে হবে! -হুম! -কি আর করা চলো মামার বাড়ী থুক্কু শশুড় বাড়ী ঘুরে আসি! . হ্যাপি এন্ডিং।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভিউ অব বেঙ্গলিস মেন্টালিটি
→ মেন্টাল
→ সেন্টিমেন্টাল
→ " হ্যারে পাগোল আমি তোমার মনের মেন্টালে সারা জীবন থাকতে চাই, আমায় ছেরে দূরে যেয়ো না কিন্তু"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now