বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
মেহেদী ভাইয়ের অনশন
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MAHIN (০ পয়েন্ট)
X
লেখকঃ ইফতেখার হাসান মাহিন।
মেহেদী ভাই এলাকার বিখ্যাত বেকার লোক। এলাকার সবাই তাকে মেহেদী ভাই নামে একনামে চিনে। বেকার হলেও যে তিনি অশিক্ষিত তেমন টা না।কোনোমতে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেছে। তখন থেকে তিনি ইন্টারভিউ দিয়ে আসছেন।তবে তিনি একটাতেও টিকেননি। তার বয়স বর্তমানে ৩০ বছর। আমি শুভ৷ মেহেতী ভাই আমার চাচতো ভাই। কিছুদিন আগে আমি ওনাদের বাসায় বেড়াতে এসেছি। তিনি যে এলাকায় থাকেন সে এলাকার অনেক সুন্দরী নুসরাত আপু। যেমন সুন্দরী তেমন রাগ এবং মেজাজ। একবার নুসরাত আপু কে একজন প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন,সাথে সাথে তার গালে রকেট গতিতে অনেক জোরে একটি থাপ্পড় মেরেছিলেন। ১০-১৫ দিন ধরে সেই ছেলেটির গালে নুসরাত আপুর ৫ আঙ্গুলের দাগ বসেছিল। মেহেদী ভাই ও নুসরাত আপুকে ভালোবাসে।নুসরাত আপুর পিছে পিছে ঘুরে মেহেদী ভাই। মেহেদী ভাইয়ের সঙ্গে থাকি বলেই আমার দিকেও কেমন যেন কড়া দৃষ্টিতে তাকায় নুসরাত আপু।
একদিন রাত ১০ টার দিকে আমাকে ডাকলেন মেহেদী ভাই।
মেহেদী ভাইঃযেভাবেই হোক না কেনো নুসরাতকে আমি আজকে প্রোপোজ করবো।তাকে অবশ্যই এক্সেপ্ট করতেই হবে।
আমিঃ আমার মনে হয়না তোমার মতো বেকারকে নুসরাত আপু ভালোবাসবে।
মেহেদী ভাইঃকী বললি তুই?দেখে নিবি আমার মতো হ্যান্ডসাম কে কোনো মেয়ে মিস করতে চাইবেনা।
আমিঃ এ্যা বলে কী। তোমার মতো ছেলেকে সব মেয়েরা ক্ষ্যাত ছাড়া আর কিছু বলবেনা।
মেহেদী ভাইঃ আমাকে তুই ক্ষ্যাত বললি। মুখ সামলে কথা বল নাহলে দেখবি তোর কপালে দুঃখ আছে।আর দেখে নিস তুই আমাকে প্রোপোজ এক্সেপ্ট করবেই।
আমিঃ যদি না করে। আর ঐ ছেলেটার মতো যদি তোমার গালেও থাপ্পড় মারে। তখন তুমি কী করবা?
মেহেদী ভাইঃ যেভাবেই হোক করতেই হবে। আজকে নুসরাত ভার্সিটি থেকে যখন ফিরবে তখন রাস্তায় প্রপোজ করবো।
আমিঃ আচ্ছা দেখা যাক। আমার মনে হচ্ছে তুমি অনেক জোরে সোরে বাঁশ খাবা।
মেহেদী ভাইঃ কীসের ভাই হলি তুই একটু উৎসাহ দিবে তা না উল্টা আবার ভয় দেখাস ।দেখবি আমি সফল হবই। আর তোকে আমার সাথে যেতে হবে।
আমিঃ আচ্ছা যাও যাবো।
নুসরাত আপুর ভার্সিটি ফেরার সেই টাইমে আমি আর মেহেদী ভাই জায়গামতো পৌছে গেলাম। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর নুসরাত আপু আসতে লাগলো। মেহেদী ভাই রাস্তায় হাটু গেড়ে বসে তাকে বলেতে লাগলো "নুসরাত তোমাকে আমি ভালোবাসি "। সাথে সাথে
মেহেদী ভাই একটা লাথি মরে চলে গেলেন নুসরাত আপু। তখন আমি বললাম, আমিঃ ব্যাথা পাইছো মেহেদী ভাই।
মেহেদী ভাইঃ মার্দ ক কাভি দার্দ নেহে হতা।
বড়সড় একটা কথা বললেন মেহেদী ভাই। বাসায় গিয়ে দেখি মেহেদী ভাই নিজের পা নিজেই মালিশ করতাছে।
আমিঃ তখন ত বড়সড় একটা ডায়লগ মারছিলা ব্যাথা পাওনাই এখন ঠিকই মালিশ করতাছ।
মেহেদী ভাইঃ বেশি মুখ বড় হইছে তোর কথা কম বলবি। আর শোন আমি একটা সিদ্বান্ত নিয়েছি।
আমিঃ কীসের সিন্ধান্ত??
মেহেদী ভাইঃ নুসরাতকে ভালোবাসার দাবিতে অনশন করবো।
আমিঃ ভালোই তো করো। ভালোবাসার জন্য মানুষ কত কিছু করে এ তো সাধারণ।
মেহেদী ভাইঃ তুই এটাকে সাধারণ বলছ।যতক্ষণ পর্যন্ত নুসরাত আমাকে বলবেনা ভালোবাসি তোমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত না খেয়ে থাকবো।আর হ্যা আমি গতকাল নুসরাতের বাসার গেইটের সামনে কোনো কাপড় টাপড় বিছায়া শুরু করবো অনশন। তুই এতক্ষণে ব্যানার টানিয়ে ফেলবি। আমি শুনেছি নুসরাতের মা-বাবা নাই বাসায় নেই। নুসরাত আর তার ভাই আছে। এটাই গ্রেট টাইম।আর আমার আব্বু-আম্মুকে এসব ব্যাপারে কিছু বলবিনা
আমিঃআচ্ছা
সময়মতো অনশন শুরু করে দিল মেহেদী ভাই। এদিকে নুসরাত আপু গেইট থেকে বের হওয়ার সময় মেহেদী কর্মকান্ড দেখলেন। কিন্তু কিছু না বলে চলে গেলেন। ঠিক আসার সময় ও একই প্রতিক্রিয়া দেখালো নুসরাত আপু। সকাল থেকে না খেয়ে আছেন মেহেদী ভাই। তবে নুসরাত আপুর নাই কোনো সারাশব্দ।বিল্ডিং এর দারোয়ান বলে উঠলেন " কিছু খাইলে খান। আপনারে এখান থেকে কিছুক্ষণ পরে ধাক্কা মেরে নালায় ফেলাবো।মেহেদী ভাইয়ের কর্মকান্ড দেখে অনেক লোক হাসে, আবার অনেক লোক তাকে পাগল-ছাগল উপাধি দিচ্ছে। ঠিক সে সময় লাঠি নিয়ে হাজির মেহেদী ভাইয়ের বাবা অর্থাত আমাার চাচা। আমার কাছে ছিলো
একটা স্পাইট। আমার থেকে সেটা কেড়ে নিয়ে মেহেদী ভাই অসম্ভব জোরো দৌড়াতে লাগলে। আর দৌড়াতে দৌড়াতে একটা গান গাচ্ছিলো
"জীবনে আর করতে যামুনা প্রেম,
প্রেম করতে হইলে খাটাইতে হইব ব্রেইন"।
সেই সাথে একটা অনশন কর্মসূচির মৃত্যু ঘটলো।
[প্রথম নিজের লিখা গল্প দিলাম তাই ভুল-ত্রুটি গুলো ক্ষমাস্বরূপ দৃষ্টিতে দেখবেন।]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now