বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্লিজ আবির, ফরগিভ মি.. আমি আর
পারছি না.. তুমি কেন
আমার কথা শোন না ? কতবার
তোমাকে বলছি যে
একই শার্ট পড়ে আসবে না..
-- বললাম তো আমার মাত্র দুইটা শার্ট..
আমার পক্ষে
প্রতিদিন নতুন নতুন শার্ট পড়া সম্ভব না..
- তাহলে আমার পক্ষেও আর তোমার
সাথে
রিলেশন কন্টিনিউ করা সম্ভব না..!!
.
কথাটা বলেই উঠে চলে গেল
সঙ্গীতা.. ফিরে
তাকাতে চাইলেও তাকাচ্ছে না
আবির.. তাকালে
কেবল কষ্টই বাড়বে.. আরেকবার
প্রমানিত হলো
ভালবাসা মধ্যবিত্তের জন্য নয়..
সঙ্গীতাদের
কাছে এই ভালবাসার দাম নেই..
বোঝাপড়াটা ভালো
হচ্ছিলো না.. আজ তাই
পারমান্যান্টলি ব্রেক আপ..!!
.
- কিরে এ্যাট লাস্ট ব্রেক আপ ?
-- হ্যাঁ রে, আর পারছিলাম না এই থার্ড
ক্লাসটার সাথে..
- প্রেম করতে গেলি কেন ?
-- তখন তো ভেবেছিলাম মানিয়ে
নেবো.. বাট
সম্ভব না..
- যাক ব্রেক আপ হয়েছে এইটাই মেইন
ফ্যাক্ট..
.
অদূরে দাড়িয়ে কথাগুলো শুনছিলো
তানিয়া..
মেয়েগুলোর কথা শুনে তানিয়ার মনে
হচ্ছিলো
এরা আদৌ মেয়ে তো !! আবির
ছেলেটা বেশ
মেধাবী.. কলেজের প্রথম দিকে টুকটাক
জিজ্ঞেস করতো তানিয়া.. সেটা
অবশ্য পড়ালেখার
বিষয়ে.. ছেলেটা কথা একটু কম বলে
বোধহয়..
সেই প্রথম থেকেই দেখে আসছে
তানিয়া..
আজ কেন যেন আবিরের সাথে কথা
বলতে
ইচ্ছে করছে.. হঠাৎ-ই তানিয়া পাগলের
মতো
ছুটতে লাগলো আবিরকে খুঁজতে..
হাটতে
হাটতে ছেলেটাকে ক্যান্টিনে
আবিষ্কার করলো
তানিয়া.. কোণার দিকের একটা
টেবিলে বসে
আছে.. সামনে এক গ্লাস জল..
টেবিলের দিকে
এগোতে থাকলো তানিয়া..!!
.
- বসতে পারি ?
-- হ্যাঁ, অবশ্যই..
- সকালে কিছু খাননি বুঝি ?
-- খেয়েছি তো.. একটু হালকা টিফিন
করতে এলাম..
- মিথ্যে বলা শিখলেন কবে থেকে ?
.
আবির চুপ হয়ে গেলো.. লজ্জা লাগছে
খুব তবে
খানিকটা অবাকও লাগছে.. কারন গত
এক বছরের
রিলেশনে সঙ্গীতা একদিনও ধরতে
পারেনি, আবির
প্রায় প্রতিদিন সকালে না খেয়ে
থাকে !! কিন্তু এই
মেয়েটি কত সহজে ধরে ফেললো
ব্যাপারটা !!
কিছু সময় বাদে বয় এসে একটা প্লেটে
একটা
সিঙাড়া দিয়ে গেলো..!!
.
- ব্যাস, এইটুকুই ?
-- কি ?
- স্রেফ একটা সিঙাড়া দিয়েই সকাল
পার করবেন ?
-- কিছু করার নাই.. পকেটে টাকা নেই..
এর বেশি
কিছু খেতে পারবো না.. তবে এখন
সেটা একটা
নেই.. আধা হয়ে গেছে !!
- মানে ?
-- আপনি সামনে আছেন একা একা তো
খাওয়া যাবে
না..
- ওকে! তাহলে আমি উঠি..
-- প্লিজ যাবেন না..
- কেন ?
-- চলে গেলে পুরোটা খেয়েও তৃপ্তি
পাবো
না..!!
.
কথাটা শুনে আর যেতে পারলো না
তানিয়া.. উঠে
গিয়ে দুকাপ চা নিয়ে এলো.. তবে
দুকাপ সমান চা
নয়.. এক কাপ চা কে দুকাপে ভাগ করে
নিয়ে
এলো..!!
.
- নিন হাফ কাপ চা.. আমার কাছেও
যাতায়াত ভাড়া ছাড়া পাঁচ
টাকার বেশি ছিলো না..
-- আমি কি আপনাকে আনতে বলেছি ?
- আমিও কি আপনাকে সিঙাড়ার ভাগ
দিতে বলেছি ?
.
মেয়েটার মাথায় এত বুদ্ধি কেন ?
বারবার ওর যুক্তির
কাছে হার মানছে আবির.. কথা আর
বাড়াতে পারলো
না.. এক টুকরো সিঙারার সাথে আধো
চায়ে চুমুক
দিচ্ছে দুজন.. চুপচাপ চলছে সব.. তবে
দুজনেরই
যে মনে হাসির ঝরণা বয়ে যাচ্ছে
একমাত্র
উপরওয়ালা ছাড়া কেউ দেখতে
পাচ্ছে না.. মনে
মনে ভাবছে এইতো সেই মেয়ে যাকে
আবির
খুঁজছিলো.. যার সাথে ছোট ছোট আশা
গুলো
শেয়ার করা যাবে.. আর তানিয়া
ভাবছে কোথায়
ছিলো এই ছেলেটা যার সাথে
শেয়ার করা যাবে
ভালবাসা আর টুকরো গল্পগুলো..
মধ্যবিত্তের
ভালোবাসা আবার ফিরে এসেছে..!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now