বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মায়াবতী মেয়েটি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X -এই কই তুই ? -বাইরে বের হলাম ! -বাইরে বের হয়েছিস কেন ? তোর না শরীর খারাপ ! শুয়ে থাকতে বলেছি না তোকে ! -আরে বাবা খেতে যাচ্ছি ! খিদে লেগেছে । -হোটেলে খাবি ? -আর কোথায় খাবো ? এখন রান্না করতে মন চাইছে না ! -তুই আমাদের বাসায় আয় ! -কি ? ঢং করব না তো ! এখন তোদের বাসায় যাবো কেন ? -তোকে আসতে বলছি আয় ! একটা রিক্সা নে ! ১০/১৫ মিনিটের ভিতর চলে আসবি ! এখনই আসবি ! -নীলু ….. -কোন কথা শুনতে চাই না ! তুই এখনই আসবি ! না আসলে কিন্তু খবর আছে ! আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নীলু ফোন রেখে দিল ! আমি ফোন টা হাতে নিয়ে কিছু ক্ষন দারিয়ে রইলাম । কি করবো ঠিক বুঝতে পারছি না । এখন এই দুপুর বেলা নীলুদের বাসায় যাওয়া ঠিক হবে কি না বুঝতে পারছি না । যদিও ওদের বাসাটা খুব বেশি দুরে না । রিক্সা কেন হেটে গেলেও ১৫ মিনিটের ভিতরে পৌছে যাবো কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যাবো কি না ? আবার না গেলে নীলু চিৎকার চেঁচামিচি শুরু করে দিবে আবার যাবো যে সেই উপায়ও নেই । কি এক বিচিত্র কারনে নীলুর মা আমাকে ঠিক পছন্দ করে না । যদিও মুখ ফুটে কিছু বলে না তবে ওনার চোখের দিকে তাকালে সেটা ভাল ভাবেই বোঝা যায় ! শেষে যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিলাম । হোটেলে খাওয়ার চেয়ে নীলুর বাসায় গিয়ে খেয়ে আসি ! হোটেলে খেতে গেলে নিজেকে বড় বেশি অভাগা লাগে ! একবার কলিংবেল বাজানোর পরপরই নীলু দরজা খুলে দিল ! মনে হচ্ছিলো যেন আমার জন্যই অপেক্ষা করে ছিল ! ওর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখ টা একটু ফোলা ফোলা । মনে হল যেন একটু আগে কোন কারনে কান্না-কাটি করেছে । ওর মায়ের সাথে কোন কিছু হয়েছে ? এমন একটা সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না একেবারে ! আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম -আন্টি কোথায় ? -ঘুমুচ্ছে । -সত্যি ? -হুম ! -ওনাকে বলেছিস আমি আসছি ? এই কথা শোনার পরই দেখলাম নীলুর মুখটা একটু মলিন হয়ে গেল ! আমি মোটামুটি নিশ্চিত হলাম যে আমাকে নিয়েই ওর মায়ের সাথে ওর কিছু একটা হয়েছে । আমি কেন আসছি এখন এটা নিশ্চই ওর মায়ের খুব একাটা পছন্দ হয় নাই ! কিন্তু নীলুর জেদের কাছে শেষে পরাজিত হয়ে নিজে ঘর বন্দী হয়েছে । এই মেয়েটা মাঝে মাঝে এমন পাগলামী কেন করে বুঝি না ! নীলু আমার দিকে তাকিয়ে বলল -চল তোর খিদে লেগেছে । আগে খেতে দেই ! -হুম ! কি রান্না হয়েছে আজকে ? -খুব বেশি কিছু না ! আগে জানলে ভাল কিছু রান্না করতাম ! খাবার টেবিলের আয়োজন একেবারে খারাপ না ! বিশেষ করে রুই মাছের ঝোল টা বেশ দেখা যাচ্ছে । আমি ভাত মাখাতে মাখাতে নীলুকে বললাম -আন্টির সাথে ঝগড়া করেছিস ? নীলু কিছু না বলে কেবল মাথা ঝাকালো ! -আমার জন্য ? -হুম ! -কেন ? -এমনি ! ইচ্ছা হয়েছে তাই করেছি ! তুই মুখ বন্ধ করে খা তো ! বাইরে কি ছাতার মাথা খাস কে জানে ! এমনিতেও পেট খারাপ আরও খারাপ হবে ! আমি হাসি মুখে ভাত মুখে দেই ! ভাত মুখে নিয়ে নীলুর দিকে তাকিয়ে দেখি ও আমার দিকে অদ্ভুদ চোখে তাকিয়ে আছে । আমাকে সামনে বসিয়ে এর আগেও ও যতবার খাইয়েছে ততবারই ওর চোখে এমন একটা চাপা আনন্দ দেখেছি ! অদ্ভুদ মায়া নিয়ে মেয়েটা আমার খাওয়া দেখছে ! হঠাৎ চোখে পানি চলে আসতে চাইলো । তাড়াতাড়ি করে পানি মুখে দিলাম ! নীলু ব্যস্ত হয়ে বলল -কি হল ? -এতো ঝাল কেন ? -ঝাল ? কই দেখি ? নীলু খানিকটা অবাক হয়ে আমার প্লেট থেকে মাছের কিছু অংশ মুখ নিল ! -কই ঝাল ? -ঝাল না ? দেখ ঝালের জ্বালায় আমার চোখে পানি চলে এসেছে ! -তাই না ! ঢং ! পানি খা ! আমি আবার খাওয়া শুরু করলে নীলু বলল -ডাল নে ! এটা ভাল হয়েছে ! -নিচ্ছি ! তুই খেয়েছিস তো ? -আমার খাওয়া নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না ! আপনি খান ! আমি চুপ করে খেতে লাগলাম ! মাঝে মাঝে নীলু দিকে তাকিয়ে দেখি ও আবার সেই অদ্ভুদ মায়ার চোখে আমার খাওয়া দেখছে ! আমার মন টা কেন জানি ভাল হয়ে যায় ! যখন খাওয়া শেষ করলাম তখন দেখি নীলু তোয়ালে নিয়ে এসে হাজির ! ঢাকায় এসে এই জিনিস টা আমি খুব বেশি মিস করি ! আমার মতে এই পৃথিবীতে দুই প্রকার মানুষ আছে । এক, যাদের খাওয়ার সময় তাদের প্রিয় মানুষ তাদের পাশে থাকে । দুই, যাদের কে একা একা খেতে হয় । পৃথিবীতে একা একা ভাত খাওয়ার মত দুর্ভাগা লোক আর কেউ নেই ! হাত মুছতে মুছতে বললাম -আমি এখন যাই ! নীলু চোখ কপালে তুলে বলল -তুই বিহারীদের মত হলি কবে থেকে ? -মানে কি ? -মানে জানিস না ! বিহারীরা খাওয়ার পরে কোথাও আর এক মিনিট বসতে চায় না ! -আমি তো পারলে থেকেই যাই কিন্তু তোর মা…..। -তোকে সেটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না ! তুই বসার ঘরে গিয়ে আরাম কর ! ঘরে দই আছে । নিয়ে আসছি ! আমি বসার ঘরের বসতে বসতেই নীলুর মা বেরিয়ে এল ঘর থেকে ! আমি উঠে সালাম দিলাম ! তিনি এমন একটা ভাব করলেন যেন আমাকে ঠিক দেখতে পারেন নি এবং আমার সালাম টাও শুনতে পারেন নি ! টেবিল থেকে পানি নিয়ে আবার নিজের ঘরে চলে গেলেন আমার সামনে দিয়ে ! ভাগ্য ভাল নীলু সামনে ছিল না । থাকলে হয়তো আবার ওর মায়ের সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিতো ! নীলু আসলো আরও কিছু সময় পরে । এরই ভিতরই পরনের সেলোয়ার কামিজ বদলেছে । মুখে পানি দিয়েছে । চুল গুলো সমান করে আচড়ানো ! আবার একটু কাজলও দিয়েছে চোখে ! আমার দিকে দইয়ের বাটি দিতে দিতে বলল -এখন কেমন লাগছে তোর ! শরীরের অবস্থা কেমন ? -এতোক্ষন পরে জানতে চাইলি ? -আসলে তখন মন মেজাজ ভাল ছিল না তাই জানতে চাই নি ! আমি বাটি হাতে নিতে নিতে বললাম -এই ঝামেলাটা টা না করলেও পারতি ! কি হত আমি বাইরে খেলে ! কত বেলাই তো খাই তাই না ? এই কথা বলেই মনে হল ঠিক হল না ! নীলুর দিকে তাকিয়ে দেখি ওর কাজল দেওয়া চোখে ততক্ষনে পানি জমতে শুরু করেছে । আমি ওকে থামানোর চেষ্টা করলাম না । এই মেয়েটা অকারন কাদে যখন তখন । আমি বাইরে খাই এই কথার কান্নার কি হল ? কিছু না ! আমি এভাবেই আছি এই শহরে ! এখানে সেখানে খেয়েই এই ইট কাঠের শহরে বেঁচে আছি । আমার মত একজন কে নিয়ে এটো চিন্তা করার কি আছে ? আমি বললাম -খাবি একটু ? -না ! তুই খা ! খেয়ে বিদায় হ ! -নে একটু ! বলে চামচটা ওর দিকে এগিয়ে দিলাম ! ও মুখ বাড়িয়ে সেটা মখে নিল ! ভাগ্য ভাল যে নীলু মা এখন এখানে নেই । থাকলে এই দৃশ্য দেখলে আমাকে আস্ত চিবিয়ে খেত ! -আরেকটু দে ! -বাহ ! মেহমান কে খেতে দিয়ে তুই ই সব খেয়ে নিবি ! -কে মেহমান ? আহ ! আমার মেহমান রে … নীলু খানিকটা হেসে ওঠে ! আমি আশ্রু চোখে হাসতে পারা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকি ! আমার প্রতি কি এক মায়া মেয়েটা অনুভব করে আমি জানি না ! কেন করে তাও জানি না ! কিন্তু মনে হয় এই মায়া টুকু ছাড়া যেন আমার জীবন টুকু অসম্পূর্ন থেকে যেত ! —— বাস্তবে মেয়ে গুলো এমন মায়াবতী হয় না ! এমন মায়াতী মেয়ে কেবল হুমায়ুন আহমেদের বইতে পাওয়া যায়, যারা তাদের কাছের মানুষ গুলোর জন্য অদ্ভুদ মায়া মায়া অনুভব করে । সেই মায়া জন্ম এই পৃথিবীতে না ! অন্য কোথাও ! আমি সারা জীবন সেই মায়াবতী সন্ধান করে গেছি ! যাকে প্রাণ দিয়ে ভালবেসেছি সেও আমার প্রতি এমন মায়া অনুভব করে কি না জানি না ! আমি জানতে চাইও না ! কেবল কল্পনা করে নিতে চাই যে, নাহ, এটা সত্য না । এমন একজন আছে আছে । অবশ্যই আছে যে আমার জন্য এমন মায়া অনুভব করে ! আমি বাইরে খেতে গেল সে জোর করে আমাকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে আসবে । বাবা মায়ের চোখ রাঙ্গানী উপেক্ষা করে আমাকে ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে গরম ভাত খাওয়াবে ! রুই মাছের ঝোল আর ডাল ! কখন কি লাগবে সেটার জন্য আমার সামনেই বসে থাকবে ! খাওয়া শেষ হতেই সাবান আর তোয়ালে নিয়ে সামনে এসে হাজির হবে !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মায়াবতী মেয়েটি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now