বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মায়াবতী লিলি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X কলেজের প্রথম দিন যাবার সময় একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা লেগে যায় গেইট দিয়া ঢুকার সময়।মেয়েটির হাতে থাকা বইটি পরে যায়।যেহেতু আমার জন্যই বইটা পরে গেলো তাই আমি তুলে দিচ্ছিলাম আর সরি বলে দিলাম।ভাবলাম,কিনা কি বলবে আর আমাকে কত কথাই না শুনতে হবে।কিন্তু না,মেয়েটি কোনো কথাই বললো নাহ।চুপচাপ চলে গেলো। . . .মেয়েটি দেখতে ছিলো অসম্ভব সুন্দর।যে কেউ দেখলে প্রথম দেখায় প্রেমে পরে যাবে।সবথেকে সুন্দর ছিলো তার চোখ দুটো। . . . ওহ পরিচয় টাই দেওয়া হলো না,আমি আবির।ইন্টার ফাস্ট ইয়ার এ লেখাপড়া করতেছি,খুলনাতে। . . . সেদিনের মত ক্লাস করে বাসায় চলে আসলাম।ফ্রেশ হয়ে একটা বিশাল ঘুম দিলাম।বিকালে বারান্দায় দারিয়ে চা তে চুমুক দিচ্ছি আর সকালের সেই ঘটনার কথা ভাবছি।মেয়েটি কে,কোথায় থাকে,কিসে পড়ে হাজার রকমেরর প্রশ্ন মাথায়। . . . পরের দিন কলেজে একটা অনুষ্ঠান ছিলো।সবাইকে বাধ্য হয়ে যেতে হলো।যে যার মতো বসলো।পিছনে চোখ ফিরাতেই দেখি সেই মেয়েটা।আজকে আরো বেশি সুন্দর লাগছে।জানিনা ক্যানো।মাঝে মাঝে তাকাচ্ছিলাম ওর দিকে।চোখাচুখি হয়ে গেলেই চোখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে ফেলি যাতে বুঝতে না পারে আমি তাকেই লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছি।কি জানি,বুঝছে কিনা।অনুষ্ঠান শেষে যে যার মতো চলে গেলো। . . . পরেরদিন আমি কলেজে একটু আগে চলে গিয়েছিলাম।ক্লাসে বসে বসে গেইমস খেলছিলাম।প্রায় সবাই আসা শুরু করলো।আমি খেয়াল করলাম আমার এক ফ্রেন্ড এর সাথে সেই মেয়েটিও ক্লাসে আসছে।তারমানে,মেয়েটি আমাদের সাথেই পড়ে।ভালোই হলো। . . .ক্লাস শেষে আমি রিতু কে ডাক দিলাম।রিতুই আমার সেই ফ্রেন্ডটা যার সাথে মেয়েটি ক্লাসে ডুকল... . আমিঃদোস্ত,তোর সাথে আজকে একটা মেয়ে বসছিলো না ঐ মেয়েটা কে? রিতুঃতুই কার কথা বলছিস? আমিঃসুন্দর করে একটা মেয়ে,নাম জানিনা। রিতুঃওহ,তুই লিলি এর কথা বলতেছিস? আমিঃওর নাম লিলি? রিতুঃহ্যা।কিন্তু,তুই জিজ্ঞাস করলি ক্যানো?? আমিঃনা এমনি। রিতুঃসত্যি কথা বল তো কাহিনী কি? আমিঃআরে কিছুনা। তারপর ওর সাথে আরও কথা বলে লিলি এর ব্যাপারে অনেক কিছু জেনে নিলাম। . . . অনেক দিন কলেজ বন্ধ ছিলো। তাই কলেজে যাওয়া হয় নাই। এই কয়দিনে লিলি লিলি ভেবেই দিন চলে গেছে।মেয়েটি এতো সুন্দর ক্যান?? বলে রাখি,কলেজে আমার অনেক সুনাম আছে ভালো ছাত্র হিসাবে। . . .একদিন কলেজে অফ পিরিয়ড ছিলো তখন একা একা বসে ছিলাম আর ক্লাসে লিলি ও ছিলো যদি ওর সাথে ওর ফ্রেন্ড রা ছিলো। বই পরছিলাম এবং আড় চোখে লিলি কে দেখছিলাম।এইরকম করতে করতে অনেক দিন চলে গেলো।কিন্তু এখনো কথাই বলা হয়নি ওর সাথে। . . .মেয়েটিকে আমার অনেক ভালোলাগে কিন্তু কোথা থেকে কি?লিলি হয়তো আমায় চেহারায় চিনে এমনিতে বেশি কিছু জানেনা।যাই হোক,ঠিক করলাম লিলি এর সাথে সামনা সামনি কথা বলবো।যেই ভাবা সেই কাজ। . . . ক্লাস ছুটির পর..... এইযে,শুনছো আমিঃহাই,আমি আবির। লিলিঃআমি লিলি।কি চাই?? আমিঃআজব তো।কি চাই মানে? লিলিঃমানে,কি জন্য ডাক দিছো? আমিঃপরিচিত হতে। লিলিঃতার আর দরকার হবেনা।আমি তোমাকে চিনি। আমিঃকিভাবে?? লিলিঃআমাকে ধাক্কা দিয়েছিললে মনে নাই?? আর তাছাড়া তুমি রিতু এর বন্ধু। আমিঃওহ সরি সরি।আসলে আমি ইচ্ছা করে দেই নি। লিলিঃআচ্ছা ঠিক আছে।আর সরি বলতে হবেনা। আমিঃওকে,বললাম না। লিলিঃআচ্ছা আমি এখন যাবো।আর কিছু বলবা?? আমিঃহ্যা।যদি কিছু মনে না করো। লিলিঃকি বলবে তারাতারি বলো।সময় নাই হাতে। আমিঃতোমার ফেবু আইডির নাম কি? লিলিঃনীলাদ্রী নীল আমিঃএইটা কে? লিলিঃএটাই আমি। আমিঃআচ্ছা।রিকুয়েস্ট দিলে একসেপ্ট করবা তো?? লিলিঃনা তোমায় ঝুলিয়ে রাখবো। আমিঃআচ্ছা দেখা যাবে। লিলিঃআচ্ছা যাবো এখন। আমিঃওকে . . . বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে ফোন নিয়া বসে পড়লাম।ফেসবুকে সার্চ দিয়ে রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে অপেক্ষায় আছি কখন ফেসবুকে আসবে আর একসেপ্ট করবে। . . . লিলি আসলো সন্ধ্যায়।রিকুয়েস্ট একসেপ্ট হলো।কথাও হলো।অনেক্ষন কথা বললাম আমরা।আমরা ভালো বন্ধু হলাম।প্রতিদিন কথা হতো আমাদের।একসময় ফোন নাম্বার দেওয়া নেওয়া হলো।দেখতে দেখতে একটি বছর চলে গেছে আর আমাদের বন্ধুত্ব্ব টা গভীর হয়েছে আগের থেকে।এখন খুব ভালো বন্ধু আমরা। . . .হুমায়ুন আহমেদ স্যার বলেছিলেন,ছেলে আর মেয়ে কখনোই ভালো বন্ধু হয়ে থাকতে পারবেনা।একদিন নানা একদিন তারা একে অপরের প্রেমে পড়বেই।আমার বেলায় ও ব্যাতিক্রম নয়।যদিও এতো দিনে আমি লিলি কে বন্ধুর থেকেও বেশি ভেবে ফেলছি যদিও তা প্রকাশ করতে পারিনি এখনো। . . .মেয়েটা আমার অনেক কেয়ার করে,খেয়েছি কিনা,ঠিক মতো ঘুমাই কিনা,ইত্যাদি ইত্যাদি।আর এইসব আমাকে দিন দিন পাগল করে দিচ্ছিলো।তাও বলিনি ওর ভয়ে,যদি না করে দেয়?? অনেক ভালোবাসি লিলিকে। মাঝে মাঝে মনে হয় লিলিও আমাকে ভালোবাসে কিন্তু মুখে বলে না।অনেক শাসন করে আমাকে।বড্ড ভয়ও পাই ওকে। . . . সামনের ১১ইই মার্চ লিলির জন্মদিন।প্লান করলাম ওইদিন লিলিকে আমার মনের কথা বলেই দিবো।সন্ধ্যায় ওর বাসায় জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিলো।আমি কিছু লাল গোলাপ নিয়ে গেলাম আর ওর জন্য কিছু গিফট।যখন চলে আসবো,তখন লিলি কে একপাশে ডেকে নিয়ে এলাম।ভয়ে হাটু কাপতেছিলো।লিলি এটা লক্ষ্য করে হাসতেছিলো আর বললো কি আবির কি জন্য আনলি আমাকে এখানে?? আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। . . . প্রায় অনেক্ষন পর বুক সাহস এনে ফুল গুলো নিয়ে হাটু গেরে বসে বলেই দিলাম আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি লিলি।সারাজীবন তোমার সাথে থাকতে চাই,হাতে হাত রেখে পাশাপাশি হাটতে চাই।আর কিছু বলতে পারিনি। . . . লিলি কিছু না বলেই চলে গিয়েছিলো সেদিন। আমি ওর চোখে পানি দেখতে পেয়েছিলাম সেদিন।ভীষন কষ্ট হচ্ছিলো আমার।ইচ্ছে হচ্ছিলো মরে যাই।বাসায় চলে আসলাম বুক ভরা কষ্ট নিয়ে।সেদিন থেকে কিছুই ভালো লাগছিলো না। . . . লিলি আর ফেসবুকে আসে না,আমাকে আর ফোন করে না,মেসেজ দেয়,আমি মেসেজ দিলেও ও রিপ্লাই দেয় না।তার মানে কি,লিলি আমাকে ভালোবাসে না?? . . . কখনো সিগারেট খাই নাই।কিন্তু,আজ সিগারেটই আমার একমাত্র বন্ধু হয়ে দাড়িয়েছে।অনেক দিন কলেজে যাইনি।লিলি কে দেখলে হয়তো থাকতে পারবোনা। ৪ দিন যাবত কিছুই মুখে দেইনি আমি।৫ম দিনের শেষে আমি বাড়ি ফিরছিলাম,কানে হেডফোন লাগিয়ে আনমনে হাটছিলাম,কোথা থেকে একটি গাড়ি এসে লাগিয়ে দিলো আমার সাথে।তারপর আর কিছুই মনে নেই। . . .যখন জ্ঞান ফিরল তখন নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতালের বেডে।আম্মু কে জিজ্ঞাস করলাম আমি এখানে ক্যানো??আম্মু বললো তুই(আমি)এক্সিডে ন্ট করে রাস্তায় পড়ে ছিলাম আর রাস্তার মানুষজন এই হাসপাতালে ভর্তি করে রেখে যায়।আর হাসপাতালের লোকজন কললিষ্টের প্রথম নাম্বারেই কল করে আর ঐ মেয়েটিই প্রথম এখানে আসে।আর ওই মেয়েটিই তোকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছ। . . .তখন,মনে পড়ল কললিষ্টে লিলি এর নাম্বারই ছিলো প্রথম।আম্মুকে জিজ্ঞাস করলাম লিলি কই?? বললো,বাইরে দাড়িয়ে কান্না করতেছে। আমি দৌড়ে গেলাম ওর কাছে।দেখি,সত্যি সত্যি মেয়েটা কান্না করে। . .জিজ্ঞাস করলাম,ক্যানো করলা আমার জন্য এতো কিছু?? লিলিঃইচ্ছা হইছে তাই করছি।তোমার কি?? আমিঃআচ্ছা আমার কিছুনা। বাঁচালে কেনো আমায়?? লিলিঃতুমি না বাঁচলে যে আমি বাঁচতে পারতাম না। আমিঃআমি আবার কি করলাম? লিলিঃঅনেক কিছু করছো। তুমি জানো,এই কয়দিন আমি ঠিক মতো খেতে পারিনাই,ঘুমাতে পারিনাই,পড়ালেখাও মন বসাতে পারি নাই।অনেক অনেক মিস করছি তোমাকে। আমিঃতাহলে, সেদিন চলে গিয়েছিলে ক্যানো? আমার মেসেজ এর উত্তর দিতে না কেনো? লিলিঃবুঝতে পারিনাই তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো। এইটাও বুঝিনাই,আমিও তোমাকে ভালোবাসি। আমিঃসত্যি ভালোবাসো?? লিলিঃহ্যা হ্যা হ্যা ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি। আমিঃসরি লিলিঃকেনো?অন্য কাউকে ভালোবাসো? আমিঃহ্যা বাসিতো। লিলিঃকাকে? আমিঃলিলি নামক এক পাগলি কে। লিলিঃহ্যা তোমার পাগলি।কখনো ছেড়ে যাবে না তো? আমিঃমরে গেলেও না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মায়াবতী লিলি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now