বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মায়া

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X আমার নাম মার্জিনা আক্তার (মায়া)। ডাকনাম মায়া। আমি মা বাবার একমাত্র নয়নের মনি। দাদি মা, মা-বাবা আর আমি সহ পাঁচ সদস্যের ছোট্ট সংসার আমাদের। আমার দাদিমা বলেন, "আমার চোখ জোড়া নাকি বেশ মায়াবী।" আমার কাছের মানুষগুলো বলেন, "যে কেউ আমার চোখের দিকে একবার তাকালে নাকি আমার মায়াবী চোখের মায়ায় পরে যায়।" তাইতো, সবাই আমার নাম দিয়েছে মায়াপরী। কাছের মানুষগুলো সবাই আমাকে মায়াপরী বলেই ডাকেন। আমার দাদি বলেন, "আমার নাকি রাজপুত্রের মত একটা বড় হবে।" . . শহরেই জন্মেছি। আর,শহরেই বড় হয়েছি। এখানেই আমার শিক্ষাজীবনের পুরোটা কেটেছে। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী আমি। বয়স আমার এবার ঊনিশে পদার্পণ করলো। প্রত্যহ কলেজ যাওয়া আসার পথে কতই না বিচিত্র ছেলেদের দেখা মিলে। কিন্তু, না! আজ অবধি দাদির কথা মত কোন রাজপুত্রের সন্ধান তো মিললো না! আমি বাকি পাঁচ'টা মেয়ের থেকে একটু আলাদা। ঘুরতে ভালো লাগে না। অন্য মেয়েদের মত স্টাইল করতে ভালো লাগে না। সাঁজগোজ আমার একেবারেই ভালো লাগে না। একা একা চুপচাপ থাকতে ভালো লাগে। দরকার ছাড়া খুব একটা কথা বলি না কারো সাথে। . . আমার বাবা সুপ্রীম কোর্টের একজন সরকারী আইনজীবী। মা, একটা সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। ঢাকা শহরে পাঁচ তলা বিশিষ্ট আমাদের একটা ফ্লাট বাসা আছে। তৃতীয় তলা ফ্লাটে আমরা পুরো পরিবার থাকি। বাকিগুলো ভাড়ায় দিয়েছি। এখন আমি বড় হয়েছি। দাদির সাথে বেশিক্ষন কাটালে খুব একটা বোরিং লাগে আমার। তাই, এখন বেশির ভাগ সময় একা একা কাটাই। টেলিভিষন নামক যন্ত্রটাও খুব একটা দেখতে ইচ্ছে হয় না। অবসর সময়ে আমার গল্প পড়তে আর গল্প লিখতে, ছবি আঁকতে আর স্ব_হস্তে বিভিন্ন শৈল্পিক কারুকাজ করতে ভালো লাগে। আর, যখন একেবারেই খারাপ লাগে তখন ছুটে যায় ছাদে। আমি প্রায় ছাদে যেতাম গোঁধূলি লগনের কিছুটা আগে। ছাদে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম।আর, দেখতাম ক্ষনে ক্ষনে সূর্যটা লাল আভা বরণ করেছে; ক্ষনে ক্ষনে আকাশটা আবছা রুপ ধারন করেছে; আকাশে তখন পাখিদের মেলা; পাখিগুলো সব ছুটে চলছে নিজ নীড়ের টানে; শহরের ক্লান্ত অবিশ্রান্ত মানুষগুলো ছুটছে নিজ গৃহ পানে প্রিয়জনের প্রিয় মুখটি দেখার নেশায়।এভাবে ক্ষনিকের দেখা প্রকৃতির সত্নান আর প্রকৃতির রুপ রহস্যে মন ভালো হয়ে যায় আমার। এরপর,আবার ছুটে যায় নিজ ঘর পানে। . . প্রতিবারের ন্যায় আবারো একদিন ছাদে গেলাম।সেদিন প্রকৃতি আমার মন কেড়েছিল ঠিকই কিন্তু প্রকৃতির কোন এক সত্নানের রহস্য আমাকে হতবাক করে দিয়েছিল। সেদিন আমাদের ফ্লাটের মুখোমুখি আর এক পাঁচ তলা ফ্লাটের ছাদে বসে থাকা এক ছেলে আমাকে চমকিয়ে দিয়েছিল। দেখলাম আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে গভীর মনযোগে। দেখলাম ও আমার মত গভীর মনযোগে প্রকৃতির এ বিচিত্র শোভা অবলোকন করছে। কে ও? আমার সাথে ওর পছন্দের এতোটা মিল কেন? ও কি তবে আমারই মত একা থাকতে পছন্দ করে? মন খারাপ থাকলে ও কি তবে আমার মত আকাশ পানে তাকিয়ে থাকে? তাকিয়ে দেখলাম, ওর চেহারাতেই একটা বিশেষ ছাঁদ আছে। পাঁচজনের মধ্যে ও যে-কোনো একজন মাত্র নয়, ও হল একেবারে আলাদা। অন্যকে বাদ দিয়ে চোখে পড়ে। খোচা খোচা দাড়ি,মাজা চিকন, ফর্সা পরিপুষ্ট মুখ, স্ফূর্তিভরা ভাবটা, চোখ জোড়া চঞ্চল, কি যে এক মায়া ওর চোখ জোড়ার মাঝে, দেখলাম ও একা একা হাসছে, চঞ্চল ওর হাসি, নড়াচড়া চলাফেরা একেবারেই স্থির। এক কথায় এ যাবৎ যত ছেলে দেখেছি ও সবার থেকে আলাদা। সবার থেকে সুন্দর। আমার ভালো লাগার সব চিহ্ন ওর মাঝে বিরাজমান। আমার এসব ভাবনার মত ও চলে গেল। ঢুকলো গিয়ে ঐ বাসার চিলেকোঠার ঘরে।একটা বার এদিক ওদিক তাকালও না?আমার দিকেও তাকালো না একটাবার? ও কি তবে ঐ চিলেকোঠার ঘরেই থাকে? এক পলকের দেখায় আমার মাঝে নানান ভাবনার উদয় হইলো। সেদিন থেকেই মনটা কেমন জানি একটু অন্য রকম হয়ে গেল। কোন দিন কোনো ছেলেকে নিয়ে এক মহূত্বের জন্যও ভাবিনি। অথচ আজ রাতে ঐ ছেলেটা আমাকে বড়ই ভাবুক করে তুলেছে। যেভাবেই হোক আমাকে জানতে হবে ঐ ছেলে সম্পর্কে। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নিজেও জানি না। . . পরের দিন আবারও ঐ একই সময়ে ছুটে গেলাম ছাদ পানে একটা পলক দেখবো বলে। অনেক্ষন ধরেই তো অপেক্ষা করলাম। সন্ধ্যা নেমে এলো এবার। কিন্তু, নাহ! ও তো এখনও এলো না। সেদিন ওকে না দেখে কেমন জানি মনে হলো কত সহস্র বছর থেকে যেন দেখি না ওকে? ও যেন আমার কত সহস্র বছরের চেনা প্রিয়জন? কি আর করার অপূর্ণতা নিয়েই ফিরে যেতে হলো। এভাবে পর পর আরো পাঁচ দিন আমাকে অপূর্ণতা নিয়ে ঘরে ফিরে যেতে হয়েছিল। ষষ্ঠ দিনে তবে তিনি ছাদে আসলেন। অনেকক্ষন ধরেই ওর দিকে তাকিয়ে আছি। ভাবছিলাম আজ ও আমার দিকে তাকাবে। কিন্তু, না আজও ওনি আমার দিকে তাকালেন না। আজও অপূর্ণতা নিয়ে ফিরে গেলাম। শেষ রাতটা কেটেছে আমার দূর্বিষহ যন্ত্রনায়। কেন বার বার ওর কথা মনে পড়ছে? নাহ!কালকে কোন একটা উপায় রের করতে হবেই।ওর সাথে কথা বলতেই হবে। দূর্বিষহ যন্ত্রনা নিয়ে অমনি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম সেদিন রাতেও। . . ও যে বাড়িতে থাকে ঐ বাসার মালিকের একটা মেয়ে ছিল। নিপা ওর নাম। ও আমার ছোট। আমাকে বড় আপু করে ডাকে। বেশ ক'দিন কথাও হয়েছে ওর সাথে। কালকে ওর দেখা করে ওর থেকে জানতে হবে সবকিছু। ভাবনামত পরের দিন গেলাম ওদের বাসা। দেখা হলো ওর সাথে। কথা হলো। ওর কাছ থেকে জানতে পারলাম এ মাসে ওরা নাকি ওদের বাসা ভাড়া নিয়েছে। ওরা একসাথে ৩ বন্ধু থাকে। ওর বাকি দু'বন্ধুর সাথে প্রায় নাকি দেখা হতো নিপার। কথাও হতো। কিন্তু, ওর সাথে প্রথম দিনই দেখা হয়েছিল শুধু। এরপর আর কোন দিনও ও কে দেখেনি নিপা। ওর বন্ধুরা বলে, ও নাকি একেবারেই আলাদা। ওর পছন্দ নাকি একেবারেই আলাদা। একাই থাকে সব সময়। ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগ থেকে খুব ভালো রেজাল্ট করে নাকি অনার্স শেষ করলো এবার। ও নাকি রেজাল্টের দিক থেকে সারা কলেজের সেরা। সামনে মাষ্টার্স এ এডমিশন নিবে। কলেজ নেই তাই এখন কোথাও যায় না। আরও, শুনেছি ও নাকি কলেজে গিয়ে একা একাই থাকে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কারো সাথে কথা বলে না। ওর বন্ধুরা বলে, পরিচিত মেয়েদের সঙ্গেও নাকি ওর ব্যবহার দেখে তাদের মনে ঈর্ষার উদয় হয়। মেয়েদের প্রতি ওর নাকি একটুও ঔদাসীন্য নেই, বিশেষ ভাবে কারো প্রতি আসক্তিও দেখা যায় না। এক কথায় মেয়েদের প্রতি ওর নাকি একেবারেই আগ্রহ নেই। _-আচ্ছা আপু ওর সাথে দেখা করিয়ে দিতে পারবে একবার? (বললো মায়া) __আচ্ছা দেখা করিয়ে দিবো একদিন।(নিপা) __ঠিক আছে আপু। আজ আসি তবে। __আচ্ছা আপু। . . কথামত,দু'জনে ছাদে গেল রাজনের সাথে কথা বলতে। ছাদে যাবার পর.... __রাজন, ভাইয়া একটু বাহিরে আসবা?(নিপা) __জ্বি আসছি।(রাজন) __ও নিপা! কেমন আছো, আপু? __ভালো। তুমি? __এইতো ভালো। __ভাইয়া, তোমাকে কোন দিনও বাহিরে যেতে দেখলাম না যে? __বাহিরে যেতে আমার ভালো লাগে না। __ওহ! দেখো, কাকে নিয়ে এসেছি। আপু, তোমার সাথে দেখা করতে এসেছে। __ওহ আচ্ছা! কেমন আছেন?(রাজন) __জ্বি ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। আপনি?(মায়া) __আলহামদুলিল্লাহ ভালো। __আপনি আজ বিকালে ছাদে আসতে পারবেন? __কেন? __প্লিজ আসবেন। __আচ্ছা। __এখন তবে আসি। আল্লাহ হাফেজ। __আল্লাহ হাফেজ। . . পরের দিন দু'জনে আবারো বিকালে ছাদে আসলো। এরপর.... __কেমন আছেন? (একটা চিরকুটে লিখা ছিল যা রাজনের সামনে এসে পড়লো। রাজন আশেপাশে সব দিকে তাকিয়ে দেখলো কিন্তু কাউকে দেখতে পেলো না) __এভাবে তাকালে না আপনাকে বেশ বোকার মত দেখায়। হা হা হা!(চিরকটের এ লিখা আবারো রাজনের সামনে এসে পড়লো। এবার সব দিকে খুঁজে কাউকে দেখতে পেল না) __কালকে আবার ছাদে আসবেন। কথা হবে। ভালো থাকবেন।(চিরকুটে লিখা শব্দ) . . রাজন কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। তবে কেউ একজন তাকে ফলো করছে সেটা বুঝতে বাকি থাকলো না রাজনের। কিছুটা ভাবনাও হচ্ছে রাজনের মনে। কালকে মেয়েটা তাকে বললো ছাদে আসতে। সেই মেয়েটা আবার হবে নাতো? নাহ! সে কিভাবে হবে? সে কি আমার বাসার পাশে থাকে নাকি? হতেও তো পারে? তা না হলে সে আবার কি করে জানে আমি প্রায়ই ছাদে আসি। যাহোক এসব ভাবতে ভাবতে রাজন ঘুমিয়ে পড়লো। রাতটা কেটে গেল। কেটে গেল সকাল,দুপুর। অবশেষে বিকাল হলো। রাজ আজকেও ছাদে গেল। এরপর..... __কেমন আছেন? কিছুটা ভাবুক মনে হচ্ছে আজ? সামনের দিকে তাকান! (চিরকুটে লিখা শব্দ) __আপনি? (সামনের দিকে চোখ তুলে তাকাতেই) __ক্ষমা করবেন। আপনাকে আমার সম্পর্কে কিছুটা ভাবুক করে তোলার জন্য এটা করেছি। এজন্যই আমার সম্পর্কে ভাববেন যে, আমি আপনাকে ছাদে আসার কথা বলেছিলাম।(চিরকুটে লিখা শব্দ) __একটা কথা রাখবেন? __হুম। (রাজন মায়ার দিকে তাকিয়ে মাথা নেরে জানিয়ে দিল) __আমাকে একটা দিন দিবেন? __হুম। (মায়ার দিকে তাকিয়ে মাথা নেরে) __খোদা হাফেজ। __খোদা হাফেজ।(মাথা নেরে ইশারায়) . . এভাবে প্রায়ই ওদের মধ্যে কথা হতে লাগলো। জানিনা তাদের কথা বলার এ ভাষাকে কি নাম দিবো? তবে একটা মধুর সম্পর্কের ভাষা এমনিই হয়। . . কথামত,আজ ওরা ঘুরতে যাবে। যদিও দু'জনেরই ঘুরতে ভালো লাগে না তবুও। দু'জনেই আজ একটুও সাঁজগোজ করেনি। কলেজে গেলে যেরকম সিম্পল পোশাক পরিধান করে আজ দু'জনে সেরকম পোশাক পড়েই বেরিয়েছে। প্রথমে মায়ার পরিকল্পনা মত ওরা একটা নৌকা ঘাটে গিয়ে পৌঁছালো। মায়ার প্লান আজ ওরা সারাবেলা নৌকা ভ্রমন করবে। মায়া ব্যাগে করে দু'টো খেলার উপকরন নিয়ে এসেছে। দু'জনের অবসর এ সময়টুকু ভালো করে কাটাবে বলে! মায়া নৌকায় উঠে প্রথম কথা শুরু করলো, __এই যে, কথা রাখবেন একটা? __জ্বি বলুন। __ঐ দিকে না থেকে আমার পাশে এসে বসুন। __আচ্ছা। __আচ্ছা! আপনি দাবা খেলতে পারেন? __হুম কিছুটা। এখানে দাবার উপকরন নিয়ে আসবেন বুঝি? __হুম। আপনার সাথে এক গেইম দাবা আর এক গেইম লুডু খেলব। তবে বাজিতে খেলবো। __হুম। কিরকম বাজী শুনি? __আমাদের মধ্যে যে দুইটা গেইম হবে। যে এ দু'টো গেইম এ জিততে পারবে সে যা চাইবে তাই দিতে হবে। আর এক এক বা ড্র হলে কেউ কারো কাছে কিছু চাবে না। আপনি রাজী? __হুম রাজী।(আজ পর্যন্ত কোন দাবারু আমাকে হারাতে পারেনি আর ওনি হারাবেন মনে মনে ভাবলো রাজন) . . অবশেষে, মায়া দু'টো খেলায় জয়ী হলো। শর্তমত ও রাজনের কাছে প্রতি সপ্তাহে এমন একটা করে দিন চাইলো আর প্রতিদিন বিকালে ছাদে আসতে হবে এরকম শর্ত দিল।রাজন বাধ্য হয়ে শর্ত মিনে নিল। . . এভাবে প্রতিদিন বিকালে চিরকুটে ওদের মধ্যে বিনিময় হতো। আর, সপ্তাহের একটা দিন কাটাত নানান পরিকল্পনায়। অনেক সম্পর্ক দেখেছি কিন্তু এ সম্পর্কের রহস্যটায় যেন ভিন্নরকম। যে কেউ ওদের এ সম্পর্ক দেখলে হিংসা করবে। . . যাহোক, একদিন ছাদে আসলো না রাজন। অনেকক্ষন অপেক্ষায় থেকেও রাজনকে না দেখতে পেয়ে মায়া ছুটে গেল নিপাদের বাসায়। নিপাসহ রাজনের রুমে গেলে দেখতে পেল রাজন প্রচন্ড জ্বরে কাতরাচ্ছে। মায়া এসব দেখে নিজ হাতে রাজনের সেবা শশ্রুষা করলো। নিজে হাতে ওর কপালে পানির পট্টি দিয়ে দিল। ওর হাতে পায়ে সরিষার তেল দিয়ে মালিশ করে দিল নিজ হাতে। এরপর ট্যাবলেট খাইয়ে দিয়ে কাথা গায়ে জরিয়ে দিয়ে সেদিনের মত চলে গেল। . রাতে অবশ্য জ্বরটা অনেক হাল্কা হয়ে গেল। রাতের বেলা শুয়ে শুয়ে মায়ার কথা মনে পড়তে লাগলো ওর। মায়া যখন নিজ হাতে ওর সেবা করছিল তখন তাকিয়ে দেখেছিলাম ওর চোখে কি এক মায়া! নাহ! মিথ্যা না এতদিন যাহোক এবার সত্যিই ওর প্রেমে পড়ে গিয়েছি। ওর মায়াবী চোখের মায়ায়। কালকে আমার না বলা সব কথা বলে দিবো ওকে। . পরেরদিন,জরের মাত্রা দেখতে মায়া এসে আবার যখন আমার কপালে হাত রাখলো আমার পুরো শরীর শিহরিত করে উঠলো। ওর ভেজা চুলের সুমিষ্ঠ ঘ্রান মাতিয়ে তুললো আমায়। অবশেষে, বলেই দিলাম সারাজীবন জ্বরের মাত্রা মাপার দায়িত্বটুকু নিতে পারবেন? আমি কি মায়াপরীর স্বপ্নে দেখা রাজকুমার হতে পারি? মায়া বললো, " শর্ত আছে। প্রথম দিনের মত আবারো আমার সাথে নৌকা ভ্রমনে যেতে হবে। প্রথম দিন আমরা যে খেলা দু'টি খেলছিলাম আবারও ঐ খেলা দু'টি খেলতে হবে। আমার মত তোমাকে ও উভয় খেলায় জিততে হবে। অবশেষে, আবার একদিন দু'জনে ভ্রমনে গেল। নৌকায় উঠে দাবা আর লুডু খেললো। অনেকক্ষন, খাটিয়ে মায়া নিজে থেকে হার মানলো। কারন, ও যে রাজন কে হারাতে পারে না। ও যে সেই প্রথম দিন থেকেই রাজনকে অনেক ভালবাসে ফেলেছে। অবশেষে, প্রেমটা বুঝি হয়েই গেল এবার। কেননা, দু'জন দু'জন কে এমন শক্ত করে জরিয়ে ধরলো যেন পৃথিবীর কোন শক্তি তাদের আলাদা করতে পারবে না। সম্পর্কগুলো যেন এমনই শক্ত আর জোরালো হয়। টিকে থাকুক সম্পর্কগুলো। বেঁচে থাকুক সম্পর্ক হওয়া মানুষগুলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মায়ার ব্যাঙ্ক লিমিটেড
→ মায়াবতীর মায়া
→ মায়াবতীর মায়া
→ মায়ার মা আর বাবা
→ সূরা হুমাযাহ বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ।
→ বাংলা ভাষার মায়াবী টানে - ১
→ মায়ায় পড়েছি
→ "ভালোবাসা" নাকি "মায়াজাল"
→ আমারর মায়াবতী বান্ধবী(পর্ব ১১)
→ আমার মায়াবতী বান্ধবী(পর্ব১০)
→ আমার মায়াবতী বান্ধবী(পর্ব৯)
→ আমার মায়াবতী বান্ধবী(পর্ব৮)
→ ***মায়াবি মুখটা***
→ আমার মায়াবতী বান্ধবী (পর্ব৭)
→ আমার মায়াবতী বান্ধবী(পর্ব৬)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now