বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৬

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৬ আহমদ মুসা ভ্যান ক্যালিস মিউজিয়াম থেকে বেরিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করে নেমে এল লেক ভ্যানের তীরে। তারপর লেক ড্রাইভে উঠে তার গাড়ি ছুটে চলল দক্ষিণে। লেক ড্রাইভ লেক ভ্যানের তীর বরাবর তৈরি মনোরম সড়ক। পর্যটকদের অত্যন্ত প্রিয় এই সড়ক। একদিকে পাহাড়ের শ্রেণী, তার পাদদেশে পরিকল্পিত বনায়নের সবুজ-সমারোহ। অন্যপাশে হ্রদের দিগন্ত প্রসারিত নীল-শান্ত জলরাশি। এই সুন্দর সড়ক লেক ড্রাইভ ধরেই এগিয়ে চলেছে আহমদ মুসার গাড়ি। ড. সাহাব নুরী, ড. আজদা ও সাহিবা সাবিতরাই আহমদ মুসাকে এনেছে এই লেক ড্রাইভ দেখার জন্যে। আহমদ মুসা এসেছিল ভ্যান ক্যালিস মিউজিয়াম দেখতে। আসলে আহমদ মুসা সরেজমিনে যাচাই করতে চেয়েছিল মাউন্ট আরারাতের মানচিত্র চুরির বিষয়টা। তার সাথে এসেছিল ড. সাহাব নুরী ও ড. আজদা। আর সাহিবা সাবিতকে ড. মাহজুন মাজহারই পাঠিয়েছিল গাইড হিসেবে। মিউজিয়ামে সাহিবা সাবিতই প্রস্তাব করেছিল লেক ড্রাইভে যাবার জন্যে। বলেছিল, এ সময় লেক ড্রাইভ ফাঁকা থাকে, বেড়িয়ে আরাম আছে। সকালে বিকালে তো গাড়ির হাট বসে যায়। ড. সাহাব নুরী ও ড. আজদা বিষয়টা আহমদ মুসার ওপর ছেড়ে দিয়েছিল। আহমদ মুসা প্রথমে সাহিবা সাবিতের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। কিন্তু শেষে নাছোড়বান্দা সাহিবা সাবিতের জেদে আহমদ মুসা বলে, ঠিক আছে, চল আগে মিউজিয়ামে যাই। মিউজিয়ামে এসে গাড়ি থেকে নেমেই সাহিবা সাবিত মিউজিয়ামের এক ড্রাইভারকে ডেকে তার হাতে টাকা দিয়ে বলেছিল, আমরা লেক ড্রাইভে যাব, আপনি গাড়িতে পেট্রল ভরে রাখুন। সকালে পেট্রল নেয়া হয়নি। এর মাধ্যমে লেক ড্রাইভে আসা পাকাপোক্ত হয়ে যায়। আহমদ মুসাকে আসতে হয় লেক ড্রাইভে। কিন্তু লেক ড্রাইভে যাত্রা করে কয়েক গজ যেতেই একটা মারাত্মক ঘটনার মুখোমুখি হয় তারা। গাড়ি ড্রাইভ করছিল আহমদ মুসা। ড্রাইভ করে কয়েক গজ যেতেই আহমদ মুসার জ্যাকেটের বুক পকেটে গুঁজে রাখা কলমের মাথা থেকে খুব ধীরলয়ে বিপ বিপ শব্দ বেরিয়ে আসে এবং একটা লাল সিগন্যাল আসতে শুরু করে। চমকে উঠেছিল আহমদ মুসা। একসাথেই তার সারা দেহের রক্ত কণিকায় একটা বিদ্যুৎ চমক খেলে যায়। চোখের পলকে আহমদ মুসা গাড়ি রাস্তার কিনারায় ঘুরিয়ে নেয়। রাস্তার কিনারায় গিয়ে একটা হার্ডব্রেক কষে আহমদ মুসা। দ্রুত কণ্ঠে আদেশের স্বরে বলে, সবাই তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে পড়ুন। আহমদ মুসার পাশে বসেছিল ড. সাহাব নুরী এবং পেছনের সীটে বসেছিল ড. আজদা ও সাহিবা সাবিত। আকস্মিকভাবে গাড়ি ঘুরিয়ে হার্ডব্রেক কষায় প্রায় সকলেই সীটের ওপর পড়ে গিয়েছিল। এই অবস্থায় আহমদ মুসার নির্দেশ পেয়ে তারা বিমূঢ়ভাবে আহমদ মুসার দিকে তাকিয়েছিল। কিন্তু আহমদ মুসার শক্ত হয়ে ‍উঠা গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে কোন কথা না বলে তারা দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে পড়ে। আহমদ মুসাও দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে গাড়ি ঘুরে বিমূঢ়ভাবে দাঁড়ানো ড. আজদাদের কাছে গিয়ে বলে, গাড়ির কোথাও বোমা বা কোন ধরনের বিস্ফোরক পাতা আছে। আপনাদের আরও সরে আসতে হবে গাড়ির কাছ থেকে। ‘বোমা? গাড়িতে বোমা পাতা আছে?’ আতংকিত কণ্ঠে বলল ড. সাহাব নুরী। আর ড. আজদা ও সাহিবা সাবিতের চোখ বিস্ফারিত। আকস্মিক আতংকে তারা প্রায় বাকরুদ্ধ। তারা ফুটপাতের ওপর উঠে আরও কিছুটা দূরে সরে গেল। গাড়ি তখন মিউজিয়ামের গেট থেকে খুব দূরে আসেনি। মিউজিয়ামের গেটের সামনে পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। আহমদ মুসা হাত তুলে তাদের ডাকে। গেটের পুলিশের সাথে আহমদ মুসাকে পরিচয় করে দিয়েছিল সাহিবা সাবিত। সাহিবা সাবিত আহমদ মুসার অলক্ষ্যে পুলিশ অফিসারকে এ কথাও বলেছিল যে, খোদ ডিজিপি মাহির হারুন এনাকে ‘স্যার’ বলে, বুঝলেন! আহমদ মুসার হাত ইশারা পেয়ে ছুটে আসে পুলিশের গাড়িটি। আহমদ মুসা ইশারা করে তাদের গাড়ি থেকে একটু দূরে পুলিশের গাড়ি দাঁড় করায়। দ্রুত পুলিশরা গাড়ি থেকে নেমে আসে। পুলিশ এসে স্যালুট দিয়ে আহমদ মুসাকে বলে, ‘কোন সমস্যা স্যার? গাড়ির কি কিছু হয়েছে স্যার?’ ‘গাড়িতে বোমা বা কোন ধরনের বিস্ফোরক পাতা আছে।’ বলল আহমদ মুসা। শুনেই তটস্থ হয়ে উঠে পুলিশ। পুলিশ অফিসার উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলে, ‘স্যার, তাহলে তো এখনি বোমা স্কোয়াডকে ডাকতে হয়।’ ‘সে অনেক সময়ের ব্যাপার। আপনারা একটু দাঁড়ান, আমি একটু দেখি, বোমা বা বিস্ফোরক বাইরে কোথাও পাতা আছে কিনা। বাইরে পাতা থাকলে খুব ঝামেলার বিষয় হবে না।’ বলে পা বাড়াল আহমদ মুসা তাদের গাড়ির দিকে। ছুটে এসে সাহিবা সাবিত আহমদ মুসার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আপনাকে কিছুতেই গাড়ির দিকে যেতে দেব না।’ বলেই সাহিবা সাবিত তাকাল পুলিশ অফিসারের দিকে। বলল, ‘অফিসার, আপনি বোমা স্কোয়াড ডাকুন।’ আহমদ মুসাও বলল, ‘ঠিক আছে, ডাকুন বোমা স্কোয়াডকে।’ পুলিশ অফিসার সংগে সংগেই ওয়্যারলেস করল পুলিশ হেডকোয়ার্টারে। ‘ঠিক আছে সাহিবা, বোমা স্কোয়াড আসছে। আমি একটু দেখি, বোমাটা তারা কোথায় পেতেছে।’ সাহিবা সাবিত তাকিয়েছিল আহমদ মুসার চোখের দিকে। অদ্ভুত এক সম্মোহন শক্তি সে চোখে। সে দৃষ্টির সামনে নিজেকে হারিয়ে ফেলল। মোমের মত গলে গেল যেন সে। আহমদ মুসাকে আর বাঁধা দিতে পারল না। আহমদ মুসা গাড়ির দিকে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল গাড়ির মাঝের গেট বরাবর। মুহূর্তের জন্যে ভাবে, বোমা যদি সত্যিই পাতা থাকে, তাহলে তা পাতা হয়েছে, ড. আজদা অথবা আমাকে মারার জন্যে। সুতরাং তারা চাইবে, বোমার প্রথম আঘাতেই যেন তাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়। সুতরাং গাড়ির মাঝখানে কোথাও তাদের বোমা পাতবে, এটাই যুক্তির দাবি। গাড়িটি জাপানের মিতসুবিশি কোম্পানীর ৬ সীটের হাইল্যান্ডার জীপ। নিচের বটমটা দেখা খুব কষ্টসাধ্য নয়। আহমদ মুসা গাড়ির প্রান্তে মুখ নিয়ে দেহটাকে মাটির সমান্তরালে এনে গাড়ির মধ্যাঞ্চলে একটু খোঁজাখুজি করতেই দেখতে পায়, গাড়ির লম্বালম্বি চেসিসের মধ্য বরাবর স্থানে আঠালো টেপ দিয়ে বোমাটি আটকানো। দ্রুত ভালো করে দেখার জন্যে আহমদ মুসা মাথাটি ভেতরে নিয়েছিল। দেখতে পেল, টাইমারযুক্ত বোমা। টাইমারের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আহমদ মুসা। এখনও দেড় মিনিট বাকি। আহমদ মুসা পকেট থেকে লেজার কাটার নিয়ে বাম হাতের বৃদ্ধা, তর্জনী ও মধ্যমা এই তিন আঙুল দিয়ে অতি সন্তর্পণে বোমাটি ধরে ডান হাত দিয়ে লেজার কাটারের সাহায্যে বোমাকে গাড়ির চেসিস থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল এবং বোমাটিকে ঐভাবে বাম হাতের তিন আঙুলে আলতোভাবে ধরে পেছনমুখী ক্রলিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি করে গাড়ির তল থেকে বের হয়ে এসেছিল। ঘামে ভিজে গিয়েছিল আহমদ মুসার দেহ। আহমদ মুসা বের হয়ে আসতেই পুলিশরা ছুটে এল। ‘স্যার, বোমা পাওয়া গেছে?’ বলল পুলিশ অফিসারটি। ‘হ্যাঁ অফিসার, এটা টাইম বোমা। আর মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময়। কোন নিরাপদ জায়গায় একে ফেলতে হবে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘স্যার, আমাদের ফুটপাতের ওপারেই একটা পরিত্যক্ত ভাঙা স্থাপনা আছে, সেখানেই ছুঁড়ে দিন স্যার।’ বলল পুলিশ অফিসার। ড. সাহাব নুরী, ড. আজদা ও সাহিবা সাবিত আহমদ মুসার হাতে বোমা দেখে ও মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় আছে জেনে আতংকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। আহমদ মুসা দ্রুত কয়েক পা হেঁটে ফুটপাতে উঠে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে বাম হাতের তিন আঙুলেই বোমাটি ছুঁড়ে দিল পরিত্যক্ত স্থাপনার দিকে। মাত্র কয়েক মুহূর্ত। বিকট শব্দে বোমার বিস্ফোরণ ঘটল। মুহূর্তেই পাথরের তৈরি পরিত্যক্ত স্থাপনা ধুলো হয়ে গেল। সকলের বিস্ময়-বিস্ফারিত চোখ সেদিকে। পুলিশের বোমা স্কোয়াডও এসে গেছে। ড. সাহাব নুরী, ড. আজদা ও সাহিবা সাবিত এল আহমদ মুসার কাছে। আহমদ মুসা ঘুরে ফিরে আসছিল। সাহিবা সাবিত আহমদ মুসার মুখোমুখি হয়ে বলল, ‘কি দরকার ছিল এই ঝুঁকি নেয়ার, স্যার? পুলিশের বোমা স্কোয়াড তো এসেই পড়ল।’ আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘তেমন বড় কোন দরকার ছিল না। তবে এটুকু হতো যে, বোমা স্কোয়াড এসে বোমা পেত না, আর তুমি গাড়ি পেতে না, আর আমি বোমাটা কোথাকার তৈরি তা জানতে পারতাম না।’ ‘অমন লাখো গাড়িও আপনার সমান নয়। তবে আমি বলতে পারব না বোমাটা কোথাকার তৈরি তা না জানলে কি এমন ক্ষতি হতো?’ বলল বিক্ষুব্ধ কণ্ঠে সাহিবা সাবিত। পুলিশ অফিসার সামনে এগিয়ে এল আহমদ মুসার। বলল, ‘স্যার, বোমাটি কোথাকার তৈরি তা কি আপনি জেনেছেন?’ ‘একটা ব্র্যান্ড চিহ্ন দেখেছি, নিশ্চিত করে কিছু বলার আগে আরও ভাবতে হবে অফিসার।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ধন্যবাদ স্যার। আর একটা কথা, আমাদের মনে হয় মিউজিয়ামের ড্রাইভার তেল ভরার জন্যে গাড়ি নিয়ে যাবার পর গাড়িতে বোমা পাতা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করলেই সব জানা যাবে।’ পুলিশ অফিসারটি বলল। ‘তাকে গ্রেফতার করুন, জিজ্ঞাসাবাদ করুন, কিন্তু আমার মনে হয়, সে কিছুই জানে না। গাড়িতে তেল ভরার সময় বোমা পাতার কাজটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ঐ সময়টায় কি কি হয়েছে, কে কি দেখেছে, তা জানা গেলেই সত্যটা জানা যাবে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘কিন্তু স্যার, ওখানে তো অনেক লোক থাকে। এত লোকের মধ্যে কেউ ঐ ধরনের কিছু করে ফেলল, সেটা কতটা সম্ভব!’ পুলিশ অফিসার বলল। আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘ওখানে শুধু তেল ভরাই হয় না, গাড়ির পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় অনেক কিছুই করা সম্ভব।’ অফিসার আহমদ মুসাকে একটা স্যালুট দিয়ে বলল, ‘ধন্যবাদ স্যার, ঠিক বলেছেন আপনি।’ একটু থেমেই পুলিশ অফিসারটি আবার বলে উঠল, ‘স্যার, বোমার এ কেসটা কি ম্যাডাম সাহিবা করবেন? গাড়িটা তো তার।’ ‘ওকে অফিসার, কেস আমিই করব। এখনি ফেরার পথে থানায় কেসটা রেকর্ড করে যাব।’ বলল সাহিবা সাবিত। ‘ওকে ম্যাডাম’ বলে অফিসারটি সবাইকে সালাম দিয়ে গাড়িতে গিয়ে উঠল। পুলিশ চলে যেতেই সাহিবা সাবিত আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে বলল, ‘চলুন স্যার, আমরা ফিরি। ফেরার পথে কেসটা দায়ের করে যাব।’ ‘কিন্তু সাহিবা সাবিত, আমি লেক ভ্যান দেখব বলে লেক ড্রাইভে যাবার জন্যে অলরেডি কিছুটা পথ এগিয়ে এসেছি। আমি লেক ড্রাইভটা ঘুরে আসি, তোমরা গাড়ি নিয়ে চলে যাও।’ বলল আহমদ মুসা। বিমর্ষতার একটা ছায়া খেলে গেল সাহিবা সাবিতের মুখে। ভাবল সে, এভাবে সরাসরি ফিরে যাবার কথা বলা তার ঠিক হয়নি। সাহিবা সাবিত তাকাল ড. আজদার দিকে। আবার ফিরে তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল, ‘স্যার, এতবড় ঘটনা ঘটল, আপনার পোশাক ধূলি-ধূসরিত হয়েছে, এজন্যেই বলছিলাম স্যার। কিন্তু আপনার সিদ্ধান্তের সাথে আমি আছি স্যার।’ আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘সাহিবা, তোমার প্রস্তাবে আমি কিছু মনে করিনি। তুমি যেটা বলেছ সেটাই স্বাভাবিক। আমার অনুরোধ, তোমরা মামলা দায়েরের কাজটা শেষ করে যাও। আমি পরে আসব, মনে হচ্ছে আমার কিছু কাজ আছে।’ ‘মনে হচ্ছে কিছু কাজ আছে, এর অর্থ কি ভাইয়া? আপনি লেক ড্রাইভে যাবেন, সেটাই কি কাজ?’ বলল ড. আজদা। ‘লেক ড্রাইভে যাওয়া কোন কাজ নয়। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, যে যাওয়াটা আমার বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে, সে যাওয়াটা আমার শেষ করা দরকার। এই ‘শেষ করা’টাকেই আমি কাজ বলছি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘তাহলে স্যার, আমাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন কেন?’ বলল সাহিবা সাবিত। ‘বড় একটা ঘটনা ঘটে গেছে। কেস দায়ের হওয়া জরুরি। এছাড়া তেমন আর কোন কারণ নেই।’ ‘তাহলে ঘুরে এসেই আমরা কেস দায়ের করব। আমরা এখন যাত্রা করতে পারি।’ সাহিবা সাবিত বলল। ‘ভাইয়া, চলুন আমরা যাত্রা করি।’ বলল ড. আজদা। সবাই গাড়িতে উঠল। আগের মতই আহমদ মুসা ড্রাইভিং সীটে। তার পাশে ড. সাহাব নুরী। পেছনের সীটে ড. আজদা ও সাহিবা সাবিত। গাড়ি স্টার্ট নিয়ে চলতে শুরু করল। এতক্ষণ একটি কথাও বলেনি ড. সাহাব নুরী। গাড়ি চলতে শুরু করলে সে বলল, ‘মি. আবু আহমদ আব্দুল্লাহ, মৃত্যু থেকে আমরা কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ছিলাম। গাড়ি ঐ কয়েক মিনিট চললে আমাদের সাক্ষাৎ মৃত্যু ঘটতো। আপনি আমাদের বাঁচিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আপনাকে বিব্রত করবো না। কারণ প্রশংসা আপনি পছন্দ করেন না।’ বলে থামল ড. সাহাব নুরী। একটু থেমেই বলল, ‘কিন্তু একটা বিস্ময় আমার মনে মি. আবু আহমদ। বোমার অস্তিত্ব আপনি টের পেলেন কি করে?’ আহমদ মুসা ডান হাত স্টিয়ারিং হুইলে রেখে বাঁ হাত দিয়ে পকেটের কলমটা বের করে বলল, ‘এই কলম আমাকে সিগন্যাল দিয়েছে।’ ‘ওটা কি এক্সক্লুসিভ ডিটেক্টর জনাব?’ জিজ্ঞাসা সাহিবা সাবিতের। ‘আরও অনেক কিছু।’ হাসির সাথে বলল আহমদ মুসা। কলমটি পকেটে রাখল আহমদ মুসা। গাড়ি চলছিল পশ্চিম দিকে লেক অভিমুখে। তীরের কাছাকাছি পৌঁছে লেক ড্রাইভে উঠল আহমদ মুসার গাড়ি। এবার গাড়ি চলতে শুরু করল তীর ঘেঁষে দক্ষিণ দিকে। গাড়িতে নীরবতা। নীরবতা ভাঙল সাহিবা সাবিত। বলল, ‘স্যার, পুলিশ সাহস করল না। বোমা স্কোয়াডকে ডেকে পাঠাল। কিন্তু আপনি বোমার সন্ধানে লাগলেন। বোমাটা বের করেও আনলেন। কিন্তু টাইম বোমার বার্স্ট হওয়ার সময় যদি ঐ সময়েই শেষ হয়ে যেত এবং বিস্ফোরণ ঘটত?’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘ঐ বোমায় আমার মৃত্যু লেখা থাকলে, সেটাই ঘটতো, কিন্তু মৃত্যু লেখা ছিল না বলে টাইম বোমার সময় তখন দেড় মিনিট ছিল।’ আহমদ মুসার নির্বিকার এই জবাবে সবার চোখে-মুখে বিস্ময় ফুটে উঠল। সাহিবা সাবিতের চোখে-মুখে তখন অপরিচিত এক বেদনার কালো ছায়া। বলল সে, ‘জীবনকে ভালোবাসা মানব ফিতরাতেরই একটা অংশ এবং এটা আল্লাহর দেয়া। আপনি এই ফিতরাতকে লংঘন করেছেন স্যার।’ গম্ভীর হয়ে উঠল আহমদ মুসার মুখ। বলল, ‘তুমি খুব ভারি কথা বলেছ সাহিবা সাবিত। আমার ওপর তোমার অভিযোগটাও মারাত্মক এবং এটা সত্য। কিন্তু সাহিবা সাবিত, জীবনের ঝুঁকি জীবন সংগ্রামেরই একটা অংশ। একে বাদ দিলে জীবনের চাকা পদে পদে অচল হয়ে পড়তে পারে।’ ‘জেনারেল রুল হিসেবে আপনার কথা সত্য। কিন্তু অনেক বিশেষ ক্ষেত্রে এটা সত্য নয়। যেমনঃ একটা গাড়ি রক্ষার জন্যে আপনি জীবনের ঝুঁকি নিতে পারেন না।’ গম্ভীর ও ভারি কণ্ঠ সাহিবা সাবিতের। ‘তোমার এ কথাও সত্য সাহিবা সাবিত। কিন্তু সাহিবা, এই ঘটনায় গাড়ি রক্ষা মূল বিষয় ছিল না। মূল বিষয়টা ছিল বিস্ফোরকের সন্ধান করা। পুলিশের বোমা স্কোয়াডও এটাই করতো। তারা যেটা করতো, আমিও সেটাই করেছি। গাড়ির বটমটা দেখতে দিয়ে গাড়ির চেসিসের সাথে বোমাটা দেখে ফেলি। একই সাথে দেখে ফেলি যে, বোমাটা টাইম বোমা এবং সময় দেড় মিনিট আছে। এই সময়ের মধ্যে বোমাটা বাইরে নিয়ে নিরাপদে বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব। আমি তাই করেছি। আল্লাহর দেয়া ফিতরাত আমি লংঘন করিনি সাহিবা।’ বলল আহমদ মুসা। সাহিবা সাবিতের মুখ থেকে বেদনার মেঘ অনেকখানি কেটে গেছে। চোখে তার মুগ্ধতার একটা ঔজ্জ্বল্য। ঠোঁটে প্রসন্নতার অপরিস্ফুট হাসি। বলল, ‘স্যার, কথার রাজা যদি কেউ হন, তাহলে যুক্তিও তার হাতের মুঠোয় চলে যায়। সুতরাং আমার কোন কথা নেই। তবে স্যার, আমার মতটা বলি। এ ধরনের ঝুঁকি আমি নিজের জন্যে পছন্দ করি না, অন্য কারও জন্যে করব কেন?’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘তোমার এই যুক্তিতে আমার সব ‍যুক্তি শেষ, সব কথা শেষ। তাহলে তোমাকে তো কথার সম্রাট বলতে হয়। কি বল তুমি আজদা?’ ‘ঠিক বলেছেন ভাইয়া। আসলেই সে কথার সম্রাট। ওর গোটা একাডেমিক ক্যারিয়ারে ডিবেটে প্রথম স্থান ওর জন্যে বরাদ্দ।’ ড. আজদা বলল। ড. আজদার কথাগুলো আহমদ মুসার কানে গেল না। তার চোখ তখন গাড়ির রিয়ারভিউ মিররে নিবদ্ধ। রিয়ারভিউতে দেখতে পাচ্ছে সে একটা গাড়িকে। অনেকক্ষণ ধরেই দেখছে গাড়িটাকে। আহমদ মুসাদের গাড়ির সমান গতিতে আসছে। গাড়ির গতি অতিসন্তর্পণে কম-বেশি করে কমিয়ে-বাড়িয়ে পরীক্ষা করে দেখেছে, গাড়িটির নিজস্ব কোন গতি নেই। তার মানে, গাড়িটি তাদের অনুসরণ করছে। নিশ্চয় ওরা উল্কিওয়ালারাই। ওরাই বোমা পেতে ছিল। বোমার ফাঁদ ওদের ব্যর্থ হয়ে গেছে। বোমার ফাঁদ ব্যর্থ হলে বিকল্প চিন্তাও তাদের ছিল! আহমদ মুসা স্বীকার করল, আসলেই গ্রুপটা দূরদর্শী ও নাছোড়বান্দা। কিন্তু গাড়িটা আমাদের অনুসরণ করছে কেন? কি তাদের মতলব? আহমদ মুসা ডুবে গিয়েছিল চিন্তায়। তার দু’হাত স্টিয়ারিং হুইলে এবং চোখ দু’টি সামনে প্রসারিত। কিন্তু তার মনটা পড়ে আছে দু’পাশের রিয়ারভিউ মিররে। মাঝে মাঝেই দু’চোখ চকিতে ফিরিয়ে এনে মনিটর করছে রিয়ারভিউয়ের দৃশ্য। হঠাৎ আহমদ মুসার নীরব হওয়ায় বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে ড. আজদাসহ সবার মধ্যে। পাশের সীটে বসা ড. সাহাব নুরী আহমদ মুসার চোখে-মুখের ভাবান্তর আরও কাছ থেকে লক্ষ্য করছে। তার বিস্ময় আরও বেশি। সে পেছন ফিরে ড. আজদাদের দিকে মুখ নেড়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল তাদের দিকে। তারাও প্রশ্ন ফিরিয়ে দিল। কথা বলল আহমদ মুসাই প্রথম। বলল, ‘মি. সাহাব নুরী, এই রাস্তা এভাবে কত দূর গেছে?’ ‘লেক হিল টানেল পর্যন্ত গেছে।’ বলল ড. সাহাব নুরী। ‘তারপর?’ আহমদ মুসা বলল। ‘তারপর রোড টানেলে ঢুকে গেছে। টানেল প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। টানেল শেষে রোড এভাবেই সামনে লেকের ও প্রান্তে গিয়ে পৌঁছেছে। তবে আমাদের সামনে যাওয়া শেষ হবে লেক হিল টানেলে গিয়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ পারমিশন ছাড়া টানেলে ঢোকা নিষিদ্ধ।’ বলল ড. সাহাব নুরী। ‘মাঝখানে রোড স্টেশন কিংবা এ জাতীয় কিছু আছে?’ আহমদ মুসার জিজ্ঞাসা। ‘সেরকম কিছু নেই। কেন এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছেন?’ বলল ড. সাহাব নুরী। ‘সামনে কি আছে আমি বুঝতে চেষ্টা করছি ড. সাহাব নুরী।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কেন? সামনে এগোলেই তো সব দেখা যাবে।’ বলল ড. সাহাব নুরী। ‘সামনে যাওয়াটা কতটা নিরাপদ সেটাই আমি ভাবছি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কেন এই ভাবনা, কিছু ঘটেছে?’ সাহাব নুরী বলল। তার কণ্ঠে দুশ্চিন্তার ছাপ। কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি ভাবনার ছায়া নেমেছে ড. আজদা ও সাহিবার চোখে-মুখে। ‘ঘটেছে নয়, ঘটছে মি. সাহাব নুরী। আমাদেরকে পেছন থেকে ফলো করা হচ্ছে। অনেকক্ষণ ধরে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ফলো করা হচ্ছে?’ বলল ড. সাহাব নুরী। তার কণ্ঠে উদ্বেগ। মুহূর্তে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ল ড. আজদাদের মুখেও। ড. সাহাব নুরীও গাড়ির রিয়ারভিউ মিররের দিকে তাকাল। দেখতে পেল গাড়িটাকে। রাস্তায় এখন গাড়ি নেই বললেই চলে। আসলে লেক ড্রাইভে এ সময় কেউ আসে না। লেক ড্রাইভ জমজমাট হয়ে ওঠে বেলা ৩টার পর। ‘গাড়িটা আমাদের ফলো করছে, এটা কি করে বোঝা গেল মি. আবু আহমদ আব্দুল্লাহ?’ জিজ্ঞেস করল ড. সাহাব নুরী। ‘এটা বোঝার জন্যে যা করা দরকার, তা করার পর আমি নিশ্চিত হয়েছি গাড়িটা আমাদের ফলো করছে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ওদের লক্ষ্য কি?’ বলল ড. সাহাব নুরী। তার কণ্ঠে উদ্বেগ। ‘আমি সেটাই বোঝার চেষ্টা করছি। সামনে ওদের লোকজন থাকতে পারে। কোথায় কিভাবে থাকতে পারে, সেটা আন্দাজ করার জন্যেই সামনে কি আছে তা জানতে চাচ্ছিলাম।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ঠিক বলেছেন মি. আবু আহমদ। ওরা আমাদের শুধুই ফলো করছে তার অর্থ সামনে ওদের লোক আছে কোন এক জায়গায় ওঁৎ পেতে।’ বলল ড. সাহাব নুরী। ড. সাহাব নুরী কথা বললেও তার উদ্বিগ্ন চোখ নিবদ্ধ ছিল গাড়ির রিয়ারভিউ মিররে। কথা শেষ করেই সে চিৎকার করে উঠল, ‘মি. আবু আহমদ আব্দুল্লাহ, গাড়িটা এবার দ্রুত এগিয়ে আসছে। আপনি গাড়ির গতি বাড়ান।’ আহমদ মুসাও দেখতে পেয়েছিল যে, গাড়িটা ডাবল স্পীডে এগিয়ে আসছে। আহমদ মুসা তার গাড়ির গতি না বাড়ালে দু’তিন মিনিটের মধ্যেই গাড়িটা আহমদ মুসাদের সমান্তরালে এসে যাবে। আহমদ মুসা তার গাড়ির গতি বাড়াল না। বলল, ‘বাড়িয়ে লাভ নেই। আমরা গতি বাড়াব, সেটা ঐ গাড়িটা জানে এবং গাড়ির গতি বাড়িয়ে লাভ হবে না, সেটাও জানে। জানে বলেই গাড়িটা তার গতি বাড়িয়েছে।’ আহমদ মুসা থামল। ‘তাহলে আমাদের এখন কি করণীয়?’ বলল সাহিবা সাবিত। তার কণ্ঠ শুষ্ক। চোখে-মুখে উদ্বেগ। ড. সাহাব নুরী ও ড. আজদারও উদ্বেগে মুষড়ে পড়া ভাব। হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘ওরা কি করছে তা দেখা ছাড়া আমাদের কিছু করণীয় দেখছি না। পেছন থেকে গাড়িটা আসছে, দেখা যাক গাড়িটার কি ভূমিকা হয়।’ কথা বলছিল সামনের দিকে তাকিয়ে। সামনে আর কোন গাড়ি সে দেখতে পাচ্ছে না। দেখতে পেল, ওপাশে ফেরার রাস্তা দিয়ে দু’টি মাইক্রো আসছে পাশাপাশি। ঐ দু’টি মাইক্রো ছাড়া ওপাশের ফেরার রাস্তাতেও কোন গাড়ি নেই। হঠাৎ আহমদ মুসার খেয়াল হলো, তাদের ফলোকারী গাড়ি এবং সামনের মাইক্রোবাস দু’টির গতি একই রকম। শুধু তাই নয়, পেছনের গাড়ি এবং সামনের দু’টি মাইক্রো আহমদ মুসাদের গাড়ি থেকে সমান দূরত্বে। ভাবতে ভাবতেই পেছনের গাড়ি এবং সামনের দু’টি মাইক্রো আহমদ মুসাদের গাড়ির আরও ক্লোজ হয়ে গেল। হঠাৎ আহমদ মুসার নজরে পড়ল, তার গাড়ি থেকে বিশ-পঁচিশ গজ সামনে দু’পাশের রাস্তার একটি লিংক চ্যানেল। লিংক চ্যানেলটা নজরে পড়তেই হঠাৎ যেন সব বিষয় আহমদ মুসার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। মাইক্রো দু’টির টার্গেট লিংক চ্যানেল দিয়ে এ রাস্তায় ঢুকে পড়া এবং আহমদ মুসার গাড়ির একেবারে মুখোমুখি দাঁড়ানো। আহমদ মুসার ভাবতে যতক্ষণ সময় লাগল, ততক্ষণে ঘটনা ঘটে গেছে। মাইক্রো দু’টি লিংক চ্যানেল দিয়ে এ রাস্তায় ঢুকে আহমদ মুসার গাড়ির দিকে ছুটে আসছিল সমান্তরালে গোটা রাস্তা কভার করে। ‘সবাই সাবধান!’ বলে হার্ডব্রেক করল আহমদ মুসা। সামনের দু’গাড়িও গজ চারেক এগিয়ে এসে আহমদ মুসার গাড়ির মতই হার্ডব্রেক কষল। অনুরূপভাবে পেছনের ফলো করে আসা গাড়িটাও আহমদ মুসার গাড়ি থেকে চার গজ মত দূরে এসে বিকট শব্দ তুলে হার্ডব্রেক কষল। সামনের দু’টি মাইক্রো থামার সংগে সংগেই দুই মাইক্রোর ছাদের একটা অংশ সামনে থেকে সরে গেল। সেখানে বেরিয়ে এল আহমদ মুসাদের গাড়ি তাক করা রকেট লাঞ্চার। আর দু’মাইক্রো থেকে নেমে এল আপাদমস্তক কালো পোশাকের আটজন মানুষ। ওদের সবার হাতে মিনি মেশিনগান। ওরা ‍ছুটে এল আহমদ মুসার গাড়ির সামনে। কি ঘটতে যাচ্ছে আহমদ মুসা সবই বুঝতে পারল। ওরা সামনে দাঁড়ানোর আগেই আহমদ মুসা তার এম-১০ রিভলভারের বাঁট দিয়ে তার সামনের উইন্ড স্ক্রীন ভেঙে ফেলল। একটা রিভলভার হাতেই ছিল আহমদ মুসার এবং জ্যাকেটের বাম পকেট থেকে আরেকটা বাম হতে তুলে নিল। তার দু’হাতে রিভলভার। তাক করা সামনের দিকে। ওরা এসে দাঁড়াল সামনে। ওদের হাতেও মিনি মেশিনগান উদ্যত। রিয়ারভিউয়ে আহমদ মুসা দেখতে পেল, পেছনের গাড়ি থেকেও দু’জন নেমেছে। তারা পজিশন নিয়েছে পেছনে। এই সময় সামনের গাড়ি থেকে একজন চিৎকার করে বলল, ‘আবু আহমদ আব্দুল্লাহ, তোমার খেলা শেষ। তোমাকে হয় আত্মসমর্পণ করতে হবে, নয়তো তোমাদের সকলকে ধ্বংস হতে হবে। তোমাদের সমেত গাড়িটাকে ছাতু বানিয়ে দিতে আমাদের দু’রকেট লাঞ্চারের একটিই যথেষ্ট। তবে আমরা চাই তোমাকে ও ড. আজদাকে জীবন্ত হাতে পেতে। তোমরা আমাদের লোক মেরেছ। তোমাদের মারার আগে সেই শোধ আমরা তুলতে চাই। এখন সিদ্ধান্ত তোমার। দু’মিনিটের মধ্যে তোমাকে জানাতে হবে, তুমি ও ড. আজদা আত্মসমর্পণ করছ কিনা।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৭ বাকি অংশ (শেষ)
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৭
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৬
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৫
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৪
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ৩
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ২
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ
→ মাউন্ট আরারাতের আড়ালে চ্যাপ্টার- ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now