বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
‘ফাও প্যাঁচাল বাদ
দাও,’ মুখ
বাঁকিয়ে বলে উঠলাম
আমি, ‘টেল মি দ্য
রুলস।’
‘শুভ,’ অনুযোগের
সুরে বলে উঠলো সারা,
‘ইউ আর সো রুড!
একটু
ভালোভাবে কথা বলতে পারো না?’
‘না, পারি না,’ দ্রুত
বলে উঠলাম আমি,
‘আমার
মতো সপ্তাহখানেক
রুমগুলোর ভেতর
পড়ে থেকে এভাবে একটার
পর একটা নাম্বার
নিয়ে কাজ
করতে থাকলে,
তারপর
এভাবে নিজের
চোখের
সামনে কাউকে খুন
হতে দেখলে, আবার
একটা ধোঁকায়
পড়ে একই কাজ
দুবার
করতে হলে বুঝতে কেমন
লাগে। তখন আর
এতো মধুর সুর বের
হতো না তোমার
কন্ঠ দিয়ে।’
‘তাই না?’ স্লেষের
সুরে বলে উঠলো ও,
‘তাহলে একটু
ভেবে দেখো, আমার
জায়গায়
তুমি হলে কি করতে?’
‘মানে?’ অবাক
হলাম আমি,
‘কি বলতে চাচ্ছো?’
‘মানে হচ্ছে এই,’
করুন
কন্ঠে ধীরে ধীরে বললো ও,
‘তুমি আসলে বাস্তব
জগতের
হিসেবে এই
জগতে আছো মাত্র
এগারো সেকেন্ড।
বাস্তব জগতের
এগারো সেকেন্ড,
কিন্তু এ
জগতে প্রায় এক
সপ্তাহ! নিজেই
একটু চিন্তা করো।
তুমি এই জগতের
মাত্র
একটা সপ্তাহ সহ্য
করতে পারছো না,
আর আমি তোমার
জগতের তিনবছর
ধরে এখানে আছি।
তিন বছর,
থ্রি ইয়ারস!
তাহলে বুঝে দেখো,
আমার কেমন
লাগে এখানে?’
কথাটা ভালোভাবে বুঝতে আমার
বেশ কিছুক্ষণ
সময় লাগলো। আর,
যখন
পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারলাম
ব্যপারটা,
চমকে উঠলাম।
ব্যপারটা আঁতকে উঠার
মতোই বটে!
এ
কি করেছি আমি?
সারা একটা আর্টিফিশিয়াল
প্রোগ্রাম হলেও
সাধারন একজন
মেয়ের সাথে ওর
কোন পার্থক্যই
নেই। একজন
সাধারন মেয়ের
মধ্যে যতোটুকু সুখ,
দুঃখ, আনন্দ,
ভালোবাসা, এক
কথায় যতো প্রকার
অনুভূতি থাকে,
তার সবই
আছে সারার মধ্যে।
প্রশংসা করলে ও
খুশী হয়, ধমক
দিলে কষ্ট পায়,
খারাপ ব্যবহার
করলে ভেঙ্গে পড়ে।
আমি সবসময়
ভেবে এসেছি,
সারাকে আমি তৈরী করেছি আমার
সহকারী হিসেবে।
ওর মধ্যে একজন
মানুষের
আবেগগুলো দিলেও
সেগুলো নিয়ে কখনো চিন্তা করিনি আমি।
আমি নিজেই এক
সপ্তাহ এই
জগতে কাটাতে পারছি না,
আর ও
কিভাবে এতোদিন
ধরে এখানে আছে,
কে জানে!
‘আমি দুঃখিত,’
মাথা নিচু
করে বললাম আমি,
‘আমি সত্যিই খুবই
দুঃখিত সারা।
আমি তোমাকে সবসময়
আমার
সৃষ্টি হিসেবে দেখেছি,
কখনো একজন
সাধারন মানুষ
হিসেবে বিবেচনা করিনি।
অথচ
এটা করা উচিৎ
ছিল। আই এম
রিয়েলি সরি।’
‘ইট’স ওকে,’ মৃদু
হাসির আভাষ
পাওয়া গেলো ওর
কন্ঠে, ‘এবার
ভালোভাবে নিয়মগুলো শোন।
যেভাবেই হোক, এই
লেভেলটা পাড়
হতে হবে তোমাকে।
তাহলেই আবার
তোমার
জগতে ফিরে যেতে পারবে তুমি।’
‘ওকে,’
মাথা নেড়ে বললাম
আমি, ‘দ্রুত
নিয়মগুলো বলো আমাকে।
আমার জেরক্স
কপির আগেই
কাজটা শেষ
করতে হবে আমাকে।’
‘ঠিক আছে,’
খুশী মনে বললো ও,
‘এখন
তুমি যে রুমটাতে আছো,
সেটা একটা পেন্টারেক্ট।
মানে, ৫-কিউব।
ফাইভ
ডাইমেনশনাল
কিউব আর কি।’
‘এক সেকেন্ড,’
ওকে বাঁধা দিয়ে বলে উঠলাম
আমি, ‘ফাইভ
ডাইমেনশনাল
কিউব, মানে, পাঁচ
মাত্রার ঘনবস্তু?’
‘হ্যাঁ,’
হেসে উঠলো ও।
‘কিন্তু,’
মাথা চুলকে বলে উঠলাম
আমি,
‘আমি তো চার
মাত্রার জগত
তৈরী করেছিলাম,
এখানে পাঁচ মাত্রার
কিউব
আসবে কোত্থেকে?’
‘এটা আমার নিজের
আবিষ্কার,’
রিনরিনে গলায়
হেসে উঠলো ও,
তারপর বললো,
‘এবার মন
দিয়ে শোন।
একটা ৫-
কিউবে থাকে ৩২টি ছেদচিহ্ন,
৮০টি প্রান্ত,
৮০টি চতুর্ভুজ,
৪০টি কিউবিক্যাল
সেল
এবং ১০টি টেসেরেক্ট
থাকতে পারে।
এগুলোকে বিভিন্নভাবে সাজানো যায়,
বিভিন্ন
প্যাটার্নে আনা যায়।
আমি এটাকে সাজিয়েছি ট্র্যাংকেটেড
৫-কিউব হিসেবে।
কার্তেসীয়
স্থানাঙ্ক
অনুসারে একে আমরা এভাবেও
প্রকাশ
করতে পারি।’
এই বলে থামলো ও।
আর সাথে সাথেই
আমার
সামনে একটা ছবি ফুটে উঠলো।
সেখানে লেখা, (x0,
x1, x2, x3, x4) with
-1 < xi < 1.
‘বুঝলে?’
ছবিটা মিলিয়ে যেতেই
বলে উঠলো ও,
‘এবার
তোমাকে কিভাবে খেলতে হবে,
সেটা বলে দিই।
এটাও আগেরটার
মতোই। এতোক্ষন
বের
করেছো প্রাইম
নাম্বার, এবার বের
করতে হবে ভ্যাম্পায়ার
নাম্বার।’
ভ্যাম্পায়ার
নাম্বার
সম্পর্কে জানি আমি।
ইংরেজিতে Vampire
শব্দটির
সুনির্দিষ্ট অর্থ
আছে। ভ্যাম্পায়ার
অর্থ রূপকথায়
বর্ণিত
রক্তচোষা ভূত।
আবার
যে ব্যক্তি মোসাহেবি করে কিংবা ভয়
দেখিয়ে ক্রমাগত
অন্যের কাছ
থেকে অর্থ আদায়
করে,
তাকে বলা হয়
ভ্যাম্পায়ার।
তাছাড়া যে নারী প্রেমের
অভিনয়
করে পুরুষের কাছ
থেকে অর্থ
বা সুবিধা আদায়
করে তারও পরিচয়
ভ্যাম্পায়ার নামে।
রক্তচোষা বাদুড়
বুঝাতেও
ভ্যাম্পায়ার
শব্দটির ব্যবহার
হয়। কিন্তু
Vampire Number
পুরোপুরিই এসব
থেকে ভিন্ন কিছু।
এটি সংখ্যা ছাড়া কিছুই
নয়,
তবে সংখ্যাটি বিশেষ
ধরনের।
১৯৯৪ সালে Clifford
A. Pickover নামক
একজন
আমেরিকান
বিজ্ঞানবিষয়ক
লেখক কলামিস্ট ও
গণিতজ্ঞ এই
ভ্যাম্পায়ার
নাম্বার গণিত
বিশ্বের
কাছে তুলে ধরেন।
যে সংখ্যার
রহস্যময়
বৈশিষ্টের
কারণে একে Vampire
Number
বলা হয়ে থাকে।
যেমন, 1260
একটি ভ্যাম্পায়ার
নাম্বার। 1260 এর
মধ্যে অংক
আছে চারটি, 1, 2,
6, 0। মজার ব্যপার
হলো, এই
চারটি অংককে একটা নির্দিষ্ট
প্যাটার্নে দুভাগ
করে দুটো সংখ্যা তৈরী করে সেই
সংখ্যা দুটো একটি অপরটির
সাথে গুণ
করলে ফলাফল
আসবে 1260। যেমন,
1260=21x60,
আবার,
1395=15x93, এরকম
হাজার হাজার
ভ্যাম্পায়ার
নাম্বার
আছে পৃথিবীতে।
‘শুভ,’
বলে উঠলো সারা,
‘এই ঘরগুলোও চার
দেয়াল বিশিষ্ট,
মানে ছয় তলের।
ছয় তলের জন্য
ছয় অংকের
ছয়টি নাম্বার
দেয়া আছে।
তোমাকে খুঁজে বের
করতে হবে ভ্যাম্পায়ার
নাম্বারগুলো।
তাহলেই বের
হয়ে যেতে পারবে এই
রুম থেকে। তারপর
একইভাবে তোমাকে এগারোটা ঘর
পেরুতে হবে।
তাহলেই সেকেন্ড
লেভেল কমপ্লিট
হবে,
এবং তুমি ফিরে যেতে পারবে তোমার
জগতে। তো,
তুমি রেডি?’
‘রেডি,’ কালক্ষেপণ
না করে জবাব
দিলাম আমি।
‘গুড বয়,’
খুশী হয়ে উঠলো ও,
‘লাভ ইউ।’
মুচকি হেসে আমার
কাজ শুরু করলাম
আমি। পকেট
থেকে ডায়েরী আর
কলমটা বের
করে নিলাম।
তারপর ছয়
দেয়ালের
কাছে গিয়ে নাম্বারগুলো ডায়েরীতে টুকে
নিলাম।
তারপর লেগে গেলাম
কাজে।
108135, 129641,
939657, 794008,
815985, 498551.
প্রথম
সংখ্যাটা নিয়ে বসলাম
আমি। ছয় অংকের
সংখ্যা এটা,
তারমানে মোট
সাতশো বিশ
প্যাটার্নে সাজানো যাবে অংকগুলোকে।
কাম সারছে!
অন্য
কোনদিকে নজর
না দিয়ে সমস্ত
মনোযোগ এই
কাজে ঢেলে দিলাম
আমি।
108x135 = 14580
হলো না!
180x135 = 24300
বাদ!
108x153 = 16524
দুরররর!
801x153 = 122553
মেজাজ খারাপ!
801x135 = 108135
নিজের
চোখকে যেন
বিশ্বাস
করতে পারছি না আমি।
সত্যিই
এটা মিলে গেছে?
এতো দ্রুত!
আবারও গুণ করলাম
আমি। ফলাফল
একই।
ইয়েস, প্রথম ঘর
থেকে মুক্তি পেয়ে গেছি আমি।
দ্রুত
নাম্বারটা যে দেয়ালে ছিল,
সেদিকে তাকালাম
আমি। আমার ডান
সাইডে সেটা।
ডায়েরী আর কলম
নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম
আমি।
*******
আর মাত্র একবার।
পঞ্চম
নাম্বারটা মোট
সাতশো উনিশবার
বিভিন্ন
প্যাটার্নে সাজিয়ে গুণ
করে দেখেছি আমি।
ফলাফল শূন্য।
আগের
চারটা নাম্বারের
ক্ষেত্রেও তাই
করেছি। যদি এটাও
আমার কাঙ্ক্ষিত
ভ্যাম্পায়ার
নাম্বার না হয়,
তাহলে অবধারিতভাবে ষষ্ঠ
নাম্বারটিই
হবে সেই নাম্বার।
তাহলে আর
ওটা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না আমাকে।
274x384 = 105216
মিললো না।
তারমানে ষষ্ট
নাম্বারটিই আমার
কাঙ্ক্ষিত সেই
ভ্যাম্পায়ার
নাম্বার। আর,
নাম্বারটি ছিল
সিলিংয়ে।
এপর্যন্ত দ্বিতীয়
লেভেলের মোট
চারটা রুম পার
হতে পেরেছি আমি।
এটা পাঁচ নম্বর রুম।
এটা পার হলে ছয়
নম্বর রুমে প্রবেশ
করতে পারবো আমি।
দ্রুত ডায়েরী আর
কলমটা পকেটে ভরে উঠে দাঁড়ালাম
আমি। দেয়ালের
পাশে থাকা মইয়ের
কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।
তারপর
সেটা বাইতে শুরু
করলাম।
সিলিংয়ের
যেখানে নাম্বারটা ছিল,
তার পাশের
প্যানেলে হাত
দিলাম আমি।
সাথে সাথেই
সেখানে একটা দরজা সৃষ্টি হলো।
দ্রুত
সেটা দিয়ে উপরের
রুমে উঠে এলাম
আমি।
নতুন
রুমটাতে আসতেই
আবার
আগেরমতোই
অদৃশ্য
হয়ে গেলো দরজাটা।
বার দুই ঘাড়
মটকে উঠে দাঁড়ালাম
আমি।
ষষ্ঠ রুম এটা।
দ্রুত সামনের
দেয়ালটার
দিকে এগিয়ে গেলাম।
সেখানে থাকা নাম্বারটা ডায়েরীতে টুকে নিলাম
আমি।
নাম্বারটা হচ্ছে,
125431।
নাম্বারটা টুকে নিয়ে ঘুরে দাড়াতেই
একটা ধাক্কা খেলাম
আমি। কিসের
সাথে ধাক্কা খেলাম
দেখতে গিয়েই
আবারও
মেঝে থেকে পা দুটো উড়াল
দিলো যেন। পর পর
দুটো গড়ান
দিয়ে সোজা হলাম
আমি। তারপর
ভালোভাবে তাকালাম।
আমার
সামনে দাঁড়িয়ে আছে শুভ!
আমার সেই
জেরক্স কপি,
যে কি না আমাকে ফেলে প্রথম
লেভেল
থেকে চলে এসেছিল।
ওই
লাথিটা মেরেছে আমাকে।
‘এতো দ্রুত
এখানে চলে এলে কি করে?’
মৃদু
হেসে বলে উঠলো ও।
‘এলাম আর কি,’
তড়াক
করে উঠে দাঁড়ালাম
আমি, ‘কিন্তু
তুমি এখানে কি করছো?
এতোক্ষনে তো তোমার
শেষের দিকের
কোন রুমে থাকার
কথা।’
‘শেষ রুমটাতেই
তো আছি আমি,’
দুপাটি দাঁত বের
করে বলে উঠলো ও,
‘এটা আমার
এগারো নাম্বার
রুম।’
‘আর আমার ছয়
নাম্বার,’ দ্রুত
বলে উঠলাম আমি।
‘ভাল,’ সন্তুষ্ট
হলো যেন ও,
‘তাহলে আমার
মতো দ্রুত
আসতে পারনি।
আমি আরোও
ভাবলাম যে,
এতো দ্রুত
এগারো নাম্বারে পৌছলে কি রে!’
‘এভাবে,’ বলেই
দুপা এগুলাম আমি।
বা হাতের
পাশটা গিয়ে পড়লো ওর
কানের
দু’ইঞ্চি নিচে, সেই
সাথে ওর বা হাটুর
উপর
একটা লাথি ওর
ভারসাম্য
বিগড়ে দিলো। দ্রুত
পিছিয়ে এলাম
আমি, এবং সেই
সাথে কলমটা তুলে নিলাম।
‘শুভ,’ একটা গড়ান
দিয়ে সুস্থির
হলো ও, বললো,
‘এটা ঠিক নয়।
নিজের জেরক্স
কপিকে এভাবে কেউ
পেটায়?’
‘নিজের জেরক্স
কপিকে কেউ
এভাবে মেরে ফেলে?’
দ্রুত একই
ভঙ্গিতে বলে উঠলাম
আমি,
‘আমাকে ধাক্কা দিয়েছিলে তুমি,
সেটা ছিল তোমার
ক্যালকুলেটেড
রিস্ক
এবং সেটা কাজে লেগে গেছে।
আমার হাতে খুন
হয়েছে সেই শুভ।
তারপর আবার
আমাকে ধাক্কা দিয়ে প্রথম
লেভেলের
এগারো নাম্বার
রুমে ফেলে চলে এসেছিলে তুমি।
সেটা কি ঠিক
ছিল?’
‘কাম অন,’
উঠে বসলো ও,
‘আফটার অল,
ইট’স জাষ্ট এ
গেইম!
এখানে নিজে জিততে হলে আরেকজনকে
লড়কে দিতেই
হবে। আর সেটাই
করেছি আমি।
এখানে আমার কোন
দোষ
দিতে পারো না তুমি।’
‘তাই না?,’
ধীরে ধীরে হাসি ফুটে উঠলো আমার
মুখে,
‘তাহলে তো একই
কাজ আমিও
করতে পারি,
কি বলো?’
‘মানে কি?’ ভ্রু
কুঁচকে বলে উঠলো শুভ,
‘কি বলতে চাইছো?’
‘আফটার অল,’
হাসিটা বিস্তৃত
হয়ে উঠছে আমার
মুখে, ‘ইট’স জাষ্ট
এ গেইম।
এখানে নিজে জিততে হলে আরেকজনকে
লড়কে দিতেই
হবে।
কেননা এখানে আমি তোমাকেই
লড়কে দিই?’
বিষয়টা অনুধাবন
করতে পেরে দ্রুত
উঠে দাঁড়াল ও। এক
পা সামনে এগিয়ে এসে বললো,
‘আমিই
লড়কে দিচ্ছি।’
বলেই একটা হাত
চালিয়ে দিল আমার
ঘাড় বরাবর,
বা হাতে সেটাকে ফিরিয়ে দিয়ে ডান
হাতে ওর
তলপেটে হালকা একটা ঘুসি বসিয়ে দিলাম
আমি। তারপর এক
পা বাড়িয়ে দিয়ে ওর
কোমরের
নিচে একটা লাথি বসিয়ে দিলাম।
ফলশ্রুতিতে আবারও
মেঝেতে পড়ে গেলো ও।
আর দেরি করার
কোন মানেই হয়না!
এক লাফে ওর
বুকের উপর
উঠে বসলাম আমি।
ডান হাতে ওর
মাথাটা চেপে ধরে বা হাতে কলমটা বসিয়ে দিলাম
ওর গলার একপাশে,
তারপর
একটানে একপাশ
থেকে আরেকপাশে নিয়ে এলাম
সেটা।
সাথে সাথেই
একরাশ রক্ত যেন
নতুন একটা পথ
খুঁজে পেলো।
চিরাচরিত
পথে চলতে চলতে সম্ভবত
বোর ফিল করছিল
তারা, তাই নতুন
পথের
দেখা পেয়ে আর
দেরি না করে সেই
পথে ছুটলো।
ধীরে ধীরে ওর বুক
থেকে উঠে দাঁড়ালাম
আমি।
হাপাচ্ছি সমানে।
মুখ
থেকে একদলা থুতু
বের করে দিলাম
মেঝেতে। তারপর
ওর দিকে ঝুঁকে ওর
পকেট
থেকে কলমটা বের
করে নিলাম, কারন
আমারটা ওর গলায়
এখনো লটকে আছে।
সিলিংয়ের
দিকে তাকিয়ে ডাকলাম,
‘সারা?’
‘বলো,’ সারার
সুন্দর
কন্ঠটা ভেসে এলো সাথে সাথেই।
‘একটা জিনিস
একটু কনফার্ম
করা দরকার,’ দ্রুত
বলে উঠলাম আমি,
‘এটা আমার ছয়
নাম্বার রুম ছিল,
আর ওর জন্য ছিল
এগারো নাম্বার।
এখন আমার
জানা প্রয়োজন,
আসলে আমি কয়
নাম্বার রুমে আছি।
আর, এই লেভেল
পার
হতে হলে আমার
আর কয়টা রুম
পাড়ি দিতে হবে?’
‘যে নাম্বারগুলো দেখছো দেয়ালগুলোতে,’
শান্তভঙ্গিতে বলে উঠলো ও,
‘সেগুলো হচ্ছে এগারো নাম্বার
রুমের নাম্বার। সেই
হিসেবে তুমি এখন
এই লেভেলের শেষ
রুমটাতেই আছো।
আমি ভেবেছিলাম
যে, তোমার
মাল্টিপল
ক্যারেক্টার
তোমাকে আবারও
ধোঁকা দিয়ে এই
লেভেলটাও পার
হয়ে যাবে, তারপর
আবার
আমি নাম্বার
চেঞ্জ করে দেবো।
কিন্তু তা হয়নি।
সেই
হিসেবে তুমি এখন
দ্বিতীয় লেভেলের
শেষ রুমটাতেই
অবস্থান করছো।
এটা পার
হতে পারলেই এই
লেভেল কমপ্লিট
হবে। তুমিও
ফিরে যেতে পারবে তোমার
জগতে।’
‘গুড,’ দ্রুত
ডায়েরী আর কলম
নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম
আমি।
এক দেয়ালের
নাম্বার আগেই
টুকে নিয়েছি,
বাকিগুলো টুকে নিতেও
বেশী সময়
লাগলো না। একবার
শুভ’র মৃতদেহের
দিকে তাকিয়ে আবার
ডায়েরীতে মন
দিলাম আমি।
মুক্তি অপেক্ষা করছে আমার
সামনে।
*******
হাতটা প্যানেলে ছোঁয়াতেই
আগেরমতোই
একটা দরজা সৃষ্টি হলো এখানে।
দরজা দিয়ে উঁকি দিলাম
আমি।
সেখানে সারা দাঁড়িয়ে আছে।
দ্রুত নতুন
রুমটাতে পদার্পণ
করলাম আমি।
সাথে সাথেই
পেছনের
দরজাটা মিলিয়ে গেলো দেয়ালের
সাথে।
‘অবশেষে,’
একটা দীর্ঘ
নিঃশ্বাস ত্যাগ
করলাম আমি,
‘অবশেষে তোমাকে খুঁজে পেলাম
আমি।’
‘হুম,’
মুচকি হাসি ওর
মুখে, ‘খুঁজে পেলে।’
আমার ডান
হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে ওর
বা হাত স্পর্শ
করলাম আমি।
হ্যাচকে টানে কাছে আনলাম
ওকে। বললাম,
‘এরপর?’
‘এরপর আর কি,’
মৃদুস্বরে বললো ও,
‘তুমি চলে যাবে তোমার
জগতে,
আমি পড়ে থাকবো এখানে।
আবার সবকিছু
আগেরমতোই
হয়ে যাবে।
তুমি হয়তো কোন
নতুন কাজে ব্যস্ত
হয়ে পড়বে, আর
আমি তোমার হুকুম
তামিল করবো।
এটাই তো নিয়ম।’
‘নিয়মের
গুষ্টি কিলাই,’
দ্রুত বলে উঠলাম
আমি,
‘ফিরে যেতে চাই
না আমি বাস্তব
জগতে। এখান
থেকে বাস্তব
জগতটাকে যা মনে হয়,
আসলে তা সেরকম
নয়। বাস্তব
জীবনে মানুষের
অনেক কষ্ট।
এখানে বলতে গেলে তার
ছিটে-ফোঁটাও নেই।
এখানে নেই কোন
গ্যাঞ্জাম, নেই
কারো প্যানপ্যানানি,
নেই কাজের চাপ।
পেটপুজোর
চিন্তা নেই,
চিন্তা নেই
ভবিষ্যত
গোছানোরও।
কারো ধার
ধারতে হবে না,
কাউকে গোনার
টাইমও নাই।
এখানে শুধু
তুমি আর আমি।
আর কেউ নেই।’
‘মানে কি?’ ওর
চোখে তির্যক
দৃষ্টি,
‘প্রেমে পড়ে গেছো মনে হচ্ছে?
তুমি আর আমি,
আর কেউ নেই!
হঠাত আরিয়ান
শুভ’র মুখে কোন
কথা শুনছি আমি?’
‘ঠিকই শুনছো,’ মৃদু
কন্ঠে বলে উঠলাম
আমি, ‘সত্যিই
প্রেমে পড়ে গেছি আমি।’
‘তাই না?’
হেসে ফেললো ও,
‘তাহলে তোমার
চিরকুমার থাকার
ব্রতের কি হবে?’
‘উমমম,’ ওর
ডায়লগটাই
ঝেড়ে দিলাম
ওকে আমি,
‘সেটা তো পৃথিবীর
মেয়েদের জন্য,
বাস্তব মেয়েদের
ক্ষেত্রে ঐটা প্রযোজ্য।
ভার্চুয়াল
কারো জন্য
তো নয়।’
‘তাইইইই?’
অনুযোগের সুর
ফুটলো ওর মুখে।
সাথে একটা দুষ্টুমীমাখা হাসি।
‘জ্বী অয়,’ চোখ
টিপ দিলাম আমি।
ওকে আরো কাছে টেনে নিলাম
আমি।
হাসি ফুটে উঠেছে আমার
মুখেও।
দুষ্টুমীমাখা হাসি।
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now