বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ম্যানর হাউসের বিভীষিকা-03

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X আর্চট ( বাঁকানো) জানালাটায় ফিনফিনে পাতলা পর্দা তিরতির উড়ছে। সেখানে একটা লম্বা ছায়ামূর্তি দণ্ডায়মান – সেটি আর যাই হোক, আমার গাট্টগোট্টা বেঁটে বন্ধু সৈকতের নয়। তাছাড়া ছায়ামূর্তিটি সম্ভবত একজন নারীর – অন্তত ঢেউ খেলানো রেখাগুলি তাই বলছে। সৈকত বিয়ে-থা করে নি। তাহলে ওটি কে? ওহ, বুঝতে পেরেছি। হুম, মেয়ে-বন্ধু নিয়ে ভালোই...... মেজাজটা খাপ্পা হয়ে গেলো। ভদ্রতা আর ধরে রাখা গেলো না। বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়ে চেঁচিয়ে উঠলাম, - এই হারামজাদা সৈকত, ফুর্তি রেখে নীচে নেমে আয় ব্যাটা। আর কত ভয় দেখাবি? নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে আমার হঠাত চিৎকার আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরতে থাকলো। আমায় প্রায় ঘিরে থাকা দালানের প্রতিটি পাথরের চাঙ্গর থেকে যেন শত-সহস্র মুখে একটা কথাই বলা-বলি চলছে। সেটা ধীরে ধীরে থিতিয়ে গিয়ে একটা চাপা গুঞ্জন হয়ে গোঙ্গানিতে এসে স্থির হয়ে গেলো এবং শেষে একটা সমস্বরে পিলে চমকানো হাসি! অ্যাঁ, আমি তো হাসিনি, তাহলে হাসলোটা কে? কিছুই ভালোলাগছে না। বৃষ্টিটা আরো খানিকটা জেঁকে বসল। কাছে কোথাও একটা নিশাচর পাখীর পাখা ঝাপ্টানোর ঝটাপট শব্দ। বেশ ঠাণ্ডা লাগছে। আর বাইরে থাকা সমীচীন মনে হলো না। আলো যখন দেখেছি তখন কেউ না কেউ আছে ভেতরে। একটু সাহস সঞ্চয় করে ওক কাঠের ভারী দরজাটা ঠেলে দিলাম। ভাবি নি সামান্য ঠেলাতেই খুলে যাবে। তবে বিনা প্রতিবাদে নয়; মরচে ধরা কব্জাগুলো ভুলে যাওয়া কাজের ধকল সামলাতে ক্যাঁচক্যাঁচ করে উঠলো। ভেতরে ঢুকেই হকচকিয়ে যেতে হলো। বিশাল একটা হলরুম। বাতাসে পুরোনো বইয়ের ভাঁজের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। মধ্যিখানে প্রকাণ্ড গোলাকৃতি টেবলে রাখা একটা মোটাসোটা ক্যাণ্ডল – অলসভাবে চর্বি পুড়িয়ে নিতান্ত কিঞ্চিতকর আলো বিলোচ্ছে। ঘরে আর কোনো আসবাব নেই; শুধু ওকের বিশাল দেয়ালে পেল্লায় সাইজের কিছু অদ্ভুত তেল-চিত্র শোভা পাচ্ছে – কোনাটাই চিনতে পারলাম না! শুধু একটাতে চোখ আটকে গেলো। কাছে গিয়ে ভালো করে দেখার চেষ্টা করলাম। খুবই জীবন্ত ডিটেইলস। বনভূমির ব্যাকগ্রাউণ্ডে একটা বেশ সুশ্রী মহিলার কোলে বছর পাঁচেকের একটা ছোট মেয়ে-শিশু। শিশুটিকে যেন কোথায় দেখেছি...এতই জীবন্ত যে মনে হলো টোকা দিলে ত্বকের মসৃণতাটুকু উপলব্ধি করা যাবে। আরো অবাক করা ব্যাপার হলো গিয়েঃ মনে হচ্ছে ছবিটায় একটা ডেপথ আছে। অজান্তেই ছুঁয়ে দেবার জন্য হাতটা বাড়িয়েছি কি বাড়াই নি অমনি কোত্থেকে একটা নড়া-চড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে একলাফে ছিটকে সরে গেলাম। কিন্তু শব্দটা ছবি থেকে নয়, এসেছে হাউসের অন্য একটা অংশ হতে – কী যেন নাম ওটার? ও, হ্যাঁ ‘সোলার’। সোলারে ম্যানরের লর্ড এবং তাঁর পরিবার ঘুমাতেন। আরো থাকতো ব্যক্তিগত বসার ঘর ইত্যাদি হাবিজাবি। সামনের একখানা পেঁচানো সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই সোলার। সেখানে কে যেন দরজাটা সামান্য ফাঁক করেছে। একটা সরু আলোর ফালি এসে পড়েছে ব্যালকনিতে। ভাবলাম, সৈকত হয়তো বাড়ি নেই। এভাবে ঢুকে পড়াটা আসলে ঠিক হয় নি। গলাটা কেশে পরিষ্কার করে বললাম, - মাফ করবেন। আমার হয়তো অন্যায় হয়ে গেছে। পরিচয় না দিয়ে ঢুকে পড়েছি। আমি সেজান কবির - সৈকতের বাল্যবন্ধু। হয়তো শুনে থাকবেন আমার কথা। এইমাত্র আসছি। ভেবেছিলাম সারপ্রাইজ দেব। তা নয় নিজেই একের পর এক সারপ্রাইজড হয়ে যাচ্ছি। হা হা হা। এনিওয়ে, ওকে কি একটু ডেকে দেয়া যাবে? বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলো - কোনো উত্তর পেলাম না! স্ট্রেইঞ্জ! এবার মনে হলো এটা চিরকালের নাটুকে সৈকতের কোনো বিটলামি নয় তো? কে জানে, হতেও পারে। ভাবনাটা দৃঢ় হলে সিঁড়ি ভাঙ্গতে থাকলাম। মনে মনে তার একটা কান আমার হাতের চেটোতে নিগৃহীত হতে থাকার দৃশ্যটা বেশ উপভোগ্য ঠেকলো। সোলারের দরজাটাও সুন্দর কারুকার্যখচিত। ঈষৎ ফাঁক হয়ে থাকা দরজাটায় নক করতে যাবো এমন সময় কে যেন খুব কাছে ঘাড়ের উপর একটা নিঃশ্বাস ফেললো। তাড়াতাড়ি পেছন ফিরে চেঁচিয়ে উঠলাম – কে, কে ওখানে? একটু পিছিয়ে গিয়ে দেখলাম কেউ নেই! ওদিকে তাকিয়ে থেকে দরজার কাছে ফিরছি...হঠাত প্রায় হুমড়ি খেয়ে পড়লাম। সামনেই যেনো মাটি ফুঁড়ে এইমাত্র বেড়িয়েছে লম্বা এক রমণী। পরণে অদ্ভুত সেকেলে ধরণের পোশাক যেন শেইক্সপীয়রের ‘ দ্য টেইম্পেস্ট ’ নাটকে মিরাণ্ডার পার্ট করছে। বয়স আনুমানিক আর’লি তিরিশ কিন্তু ঠিকমত না দেখলে বিশ/বাইশ মনে হবে। দরজা দিয়ে এক চিলতে আলোটা গাঢ় রক্তবর্ণের আঁটোসাটো উলেন গাউনে পড়েছে। চমৎকার দেহবল্লরী – লিনেনের একফালি কাপড় চূড়ো করে বাঁধা খোঁপা থেকে ঝুলছে। চূর্ণ ঘন বাদামী চুলের গোছা ডিম্বাকৃতির মুখটিতে অসামান্য সৌন্দর্য বসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সমস্যা একটাই – ওঁর ত্বকটা অস্বাভাবিক রকমের ফ্যাকাসে যেন পরনের গাউনখানা সমস্ত রক্ত শুষে নিয়েছে! মুখে এক চিলতে হাসি – যে হাসিতে কোনোরকম অনুতাপ ছাড়াই ‘ হেলেন’ কে অপহরণ করা যায়... আমি তো কোন ছার! বাঁ হাতের অনামিকায় বিয়ের আংটিটা ঘঁষতে ঘঁষতে আমার অভিমানী বউ লুবনার কথা মনে করতে চাইলাম, কিন্তু পারছি না। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। কোনোরকমে তোতলাতে তোতলাতে বললাম, - কে, কে আপনি? হাস্যকর, পরিচয়টা তো আমারই দেয়ার কথা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ম্যানর হাউসের বিভীষিকা-03

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now