বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ম্যানর হাউসের বিভীষিকা-02

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X কখন যে হাঁটা থেকে দৌঁড়নো শুরু করেছি খেয়াল নেই। মোটে তো অল্প খানিকটা বনপথ। সেটুকু হন্তদন্ত হয়ে পাড়ি দেয়ার কোনো মানে হয় না – আরাম করেই হেঁটে যাওয়া যায়। মনে হতেই আচমকা থেমে গিয়ে হাঁফাতে লাগলাম। অদূরেই জঙ্গলের সীমানা ছাড়িয়ে ফাঁকা একখানা জায়গা আবছামত দেখা যাচ্ছে। একটু আগের নিতান্ত ছেলেমানুষি ভীতির জন্য নিজেকে তিরস্কার করতে থাকলাম। অন্ধকার সরু পথ নিশ্চয়ই মনের মধ্যে একটা চাপ সৃষ্টি করে থাকবে। চট করে দাঁড়া করানো ব্যাখ্যাটা কিন্তু আত্মতুষ্টি উদযাপনের খুব বেশি সময় দিলো না। খুব ক্ষীণ কিন্তু তবুও পরিষ্কার মনে হলো আমার নিজ পায়ের শব্দটা বোধহয় একটা সঙ্গী পেয়েছে! পেছন পেছন ছোট ছোট পায়ের ধুপধাপ শব্দ। এবসার্ড, হতেই পারে না – এই বিশ্রী জায়গায় বাচ্চা আসবে কোথা হতে? কানে কি ভুল শুনছি? শিরদাঁড়া বরাবর একটা ভয়ের শিহরণ খেলে গেলেও আপনা হতেই মাথাটা যেন পাশ ফিরে চাইল। থোঁকা থোঁকা অন্ধকার সেই রকমই লেপ্টে আছে চারদিকে। শুধু একটা জায়গায় নিরবিচ্ছিন্নতা বিঘ্ন হয়েছে – সেখানে ঈষৎ সবুজাভ আভায় একটা বাচ্চা মেয়ের দুষ্টু দুষ্টু মুখ। সন্দেহ নেই – অস্বাভাবিক দৃশ্য! কিন্তু স্থান-কাল ভুলে অবাক আমি জিজ্ঞেস করেই ফেললাম, ‘এই মেয়ে, তুমি এখানে কী করছো?’ উত্তরে একটা পূর্ণবয়স্ক মহিলার চাপা আক্রোশের মত একটা অদ্ভুত জান্তব শব্দ খলখল করে উঠলো! আর দাঁড়িয়ে কাজ নেই। সমস্ত শক্তি এক করে চোঁচা দৌঁড়। ঝাড়া মিনিট দশেকের স্প্রিন্টের পর খেয়াল হলো একটা ফাঁকা মাঠের মধ্য দিয়ে চলেছি। আর পা চলছে না। থেমে গিয়ে চিত হয়ে শুয়ে পড়লাম। দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে সাথে হৃৎপিণ্ডটা যেন লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে। পুরো মাথা ফাঁকা লাগছে – বেশ কিছুক্ষণ কিছুই মনে করতে পারলাম না – কে আমি, কোথায় যাচ্ছি? কিচ্ছু না। কেবল ফ্যালফ্যাল করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। শীতের রাত। আকাশে একখানা কাস্তে আকৃতির চাঁদ উঠেছে – ডেফনিটলি অন ডায়েট! গম্ভীর মুখের নিম্বাস মেঘেদের তোড়-জোড়ে তার ক্ষীণ আলো ম্লাণ থেকে ম্লাণতর হয়ে গেছে। হঠাত ঝট করে মনে পড়ে যায় – দ্য সিকল মুন ম্যানশন – গন্তব্য – পোড়ামুখোটার (সৈকতের) ম্যানর হাউস। বেশ হিম পড়েছে। ওভারকোটটা থেকে ধূলো ঝেড়ে উঠে দাঁড়ালাম। পেছনে তাকিয়ে দেখি দূরে সেই জঙ্গলটা জবুথবু হয়ে পড়ে আছে। মোবাইলটা আর ছোট্ট হ্যান্ড-লাগেজখানা সেখানে খোয়া গেছে। সে যাক। খানিক আগের ঘটনার কথা মনে করে সেগুলো তাৎক্ষণিক উদ্ধারের আশা ত্যাগ করতে হলো। এখন কোন্ দিকে যাওয়া যায়? আমি আসলে একটা টিলার মত উচুঁ জায়গা দিয়ে দৌঁড়চ্ছিলাম। সেটার শেষ প্রান্তে এসে আবছা দেখতে পেলামঃ একটা খাঁড়া ঢালু পথ নেমে গেছে। দূরে কি একটা ইমারতের চূড়া দেখা যাচ্ছে না? হ্যাঁ, তাই তো। আশে পাশে আর কোনো বাড়ি-ঘর দেখা গেলো না। ওটাই তাহলে ‘সিকল মুন’ হবে। কী বিদ্ঘুটে নাম রে বাবা? খাঁড়া পথ দিয়ে নামতে নামতে এক ধরণের অস্বস্তিতে পেয়ে বসল। কী যেন একটা ঠিক নেই; কিন্তু সেটা যে কী তা ঠাহর হচ্ছে না। এ কোথায় এসে পড়া গেলো? সময়ের অনুমান ধীরে ধীরে যেন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। চারপাশে কি একটা সূক্ষ পরিবর্তন খুব আলগোছে ঘটে চলেছে। এতক্ষণে অন্ধকারটা চোখে একটু সয়ে গেছে। পথটা যেখানে শেষ হলো সেখানে জিরোতে গিয়ে বিস্মিত হয়ে গেলাম। মিডিভাল টাইমে চলে এলাম নাকি? তাকিয়ে দেখি মাথার উপর টিমটিম করে জ্বলছে একটা তেলের স্ট্রীট ল্যাম্প – কারুকার্যখচিত পেতলের চিমনী বেয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামছে মেটে সোনালী আলো। তাতে জমাট অন্ধকার তো কমছেই না, বরং জায়গাটা আলো-ছায়ার বাড়াবাড়ি লুকোচুরিতে মেতেছে। অবাক কাণ্ড হলোঃ রাস্তায় ঐটিই একমাত্র তেলের প্রদীপ! আরে, এই একবিংশ শতাব্দীতে তেলের পথ-আলো আসবে কী করে? ভাবলাম – সৈকতের বাড়িটাই তো মধ্যযুগীয়। সৌখিন মানুষ – হয়তো ঘষে মেজে চালু করেছে। কিন্তু ঐ একলাটি কেন? অন্যগুলি কোথায় গেলো? প্রবল অস্বস্তি আর যুক্তি-তক্কে যেতে চাইল না। সামনে পা বাড়ালাম। আঁধার হাতড়ে সামনে চলতে গিয়ে মনে হলো যেন একটা সোজা রাস্তা বরাবর চলছি। একটা কনকনে শীতল হাওয়া কোত্থেকে এসে হাড় পর্যন্ত কাপিয়ে দিলো। হাওয়াটার সাথে কীসের যেন একটা মিল আছে। উত্তরটা সাথে সাথেই মিলে গেলো। এ কী! এ যে নদী। না, নদী নয়, লেক হবে হয়তো। এ তো আরেক যন্ত্রণা হলো। উহ্, কোন্ কুক্ষণে যে এখানে আসতে গেছিলাম? পার হব কী করে? ভাবনাটার সাথে সাথেই একটা চাপা ভারী শব্দ রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে খানখান করে দিতে আরম্ভ করলো। যেন কেউ দূর থেকে আমার ভাবনাটা স্রেফ পড়ে ফেলেছে। রশি আর পুলির একটা ঘ্যাঁসঘ্যাঁসে শব্দ জানান দিলো একটা ড্র-ব্রীজ ধীরে ধীরে নামছে। আশ্চর্য! কে নামাচ্ছে? সৈকত কি তবে দেখে ফেললো? এই ঘুরঘুট্টি অন্ধকারের ভেতরেও? ধুর, চমকে দেয়া আর গেলো না দেখছি। উল্টো নিজেই বারবার চমকে যাচ্ছি। ব্রীজটা পেরিয়ে কাউকে দেখতে পেলাম না! একটা সরল রেখার মত সোজা রাস্তা হেঁটে গিয়ে অদ্ভুত আকৃতির একটা প্রাসাদের মত বাড়ির সমুখে গিয়ে মিশেছে। দু’পাশের বাগানে বহুকালের অযত্নের ছাপ। হঠাত আচমকা শব্দে পিছু ফিরে দেখি – ড্র-বীজ টা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বুকের ভেতরটা অজানা শংকায় ধ্বক করে উঠলো। যেন অচেনা এক প্রাচীন জগতে এসে পড়েছি। যতই এগুচ্ছি বাড়িটার দুই প্রান্ত যেন আমায় ঘিরে ফেলছে! যখন প্রকাণ্ড দুই থামের সামনে এসে দাঁড়ালাম, ঝট করে উপলব্ধি হলো – হ্যাঁ, কাস্তেই বটে! বাড়িটার আকৃতি ঠিক যেন একখানা বিরাট কাস্তের চ্যাপ্টা ব্লেডের মত। হু, এটাই তাহলে ‘সিকল মুন’? ঠিক তখনই নিম্বাস মেঘেরা ক্ষয়াটে চাঁদখানাকে পরাজিত করে ফেললো। বড় বড় ফোঁটায় হিম শীতল বর্ষণ শুরু হলো – শীতের কুৎসিত বৃষ্টি। ভিজতে ভিজতেই তাকিয়ে দেখলাম – উপরের একখানা ঘরে একটা মরা আলো যেন বৃষ্টির তালে তালে দুলে দুলে উঠছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ম্যানর হাউসের বিভীষিকা-02

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now