বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মানিয়ে নেওয়া

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)

X বেশ কিছুদিন ধরে অরু হৃদয়ের পিছু ঘুরঘুর করছে। কিন্তু হৃদয় পাত্তা দিচ্ছে না। কারণ হৃদয় হল সাধারণ ছেলে। আর অরু ধনী বাবার দুলালী। হৃদয়ের লক্ষ্য হল একটা ভাল জব পাওয়া। যাতে ঘরের আর্থিক অবস্থা ভাল করতে পারে। বাবার কাধের চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে চায়। তাই ভালবাসাকে হৃদয় মরিচা মনে করে। যা একবার ধরলে শেষ করে দিতে পারে। . প্রায় সকালে অরু এই রাস্তার পথে হৃদয়ের পথ আটকায়। আজও আটকালো। - কি হল পথ আটকালেন যে? > আজও উত্তর পাই নি তাই। - দেখুন এসব আবেগ থেকে বের হয়ে যান। > আবেগও জীবনের একটা অংশ। - প্লিজ আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছি না। . হৃদয় চলে গেল। ~ অরু তোর কি মাথা খারাপ? এই ছেলে কি তোর যোগ্য? > আমি ওর যোগ্য না। তাই তো রাজি হচ্ছে না। . বিকালে চায়ের টংয়ে হৃদয় ও তার বন্ধুরা -- দোস্ত তুই সোনার হরিণ পেয়েও ছেড়ে দিচ্ছিস কেন? - কই আর পেলাম! বারবারই তো টাকার জন্য হচ্ছে না। (সরকারি চাকরি) -- আরে বেটা তুই চিনিস অরু কে? কোটিপতি বাপের একমাত্র মেয়ে। - তাতে আমার কি? -- তুই আসলেই একটা মাথা মোটা ছেলে। -- হয়তো। . কিছুদিন পর আবার সেই একই ঘটনা - আচ্ছা আপনার আর কোনো কাজ নেই? > এটাই তো মেইন কাজ। - এটা যাস্ট সময় নষ্ট করা। হৃদয় যেতে চাইলো কিন্তু অরু পথ আগলে দাড়ালো। > আজ আমাকে জবাব দিয়েই যেতে হবে। আমাকে আপনি একসেপ্ট করছেন না কেন? - আমিই আপনার যোগ্য নই। আপনি হলেন এই শহরের বিশিষ্ট ধনীর মেয়ে। আর আমি তো কিছুই না। > ভালবাসায় যোগ্যতা দেখতে নেই। ধনী গরীব এসব পরোয়া করতে নেই। . হৃদয় কিছুক্ষণ চুপ রইলো। > কি হল কিছু বলুন। - আপনার কাছে ৬ ঘন্টা সময় হবে? > কেন? - ৬ ঘন্টা আমার সাথে থাকতে পারবেন? > তারমানে আপনি রাজি? (হাসিমুখে) - সেটা না হয় ৬ ঘন্টা পর বলি? > ওকে ডান। - তাহলে এই ৬ ঘন্টা আমি যা বলব তাই করবেন। > ওকে। - চলুন একটু হাটি। . (১০টা থেকে ৪টা) . দুজন কিছুক্ষণ হাটলো। - নাস্তা করবেন? (১১টার দিকে) > না আমার ক্ষুধা নেই। - প্লিজ যাস্ট একটু। . অরু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। হৃদয় একটা চায়ের টংয়ে বসলো। টংয়ের আশেপাশের পরিবেশ হল অপরিষ্কার। হৃদয় একটা চা ও দুটা রুটির অর্ডার দিল। - স্যরি আমার কাছে তেমন টাকা নেই। > অসুবিধা নেই। . নাস্তা চলে এলো। অরু মনে মনে বুঝল যে হৃদয় তাকে পরীক্ষা করার জন্য এখানে এনেছে। এই পরীক্ষায় পাস হতেই হবে। হৃদয় একটা রুটির কিছু অংশ চায়ে ভিজিয়ে খাওয়া শুরু করলো। অরুও একই রকম করলো। যে মেয়ে কখনোই কফি ছাড়া চা মুখেও দেয়নি। আজ হঠাৎ চা মুখে দেয়ার সাথেসাথেই পেট মোচড় দিয়ে উঠলো। বমি আসার উপক্রম হল। কিন্তু অরু নিজেকে কোনো রকম সামলে নিল। চোখ দুটা লাল হয়ে গেছে। হৃদয় দেখেছে। . - এনি প্রব্লেম? > নো নো নো প্রব্লেম। বহু কষ্ট করে অরু রুটির অর্ধেকটা খেল। - কি হল বাকিটা খান। > পেট ভরে গেছে। - আমি খেয়ে নেই? > জ্বি অবশ্যই। . হৃদয় খেয়ে নিল। - খাওয়ার জিনিস ফেলতে নেই। > হুম। - চলুন। কোথাও বসি। . অরু ও হৃদয় পার্কের বাইরে একটা অংশে বসলো। - ভেতরে ঢুকার মত টাকা নেই তো তাই এখানে বসতে হল। > অসুবিধা নেই। এটাও ভাল প্লেস। - বাদাম খাবেন? > না থাক। - আচ্ছা। হৃদয় ও অরু টুকিটাকি কথা বলল। অরুই শুরুটা করেছে। . সময় ১টা। - সামনেই আমাদের বাসা। > আমাদের? (হাসিমুখে) - আমাদের অর্থ্যাৎ আমার বাবার। > হুহ। (ভেংচি) - চলুন আজকের লান্সটা আমাদের বাসায় করবেন। আসলে বাইরে লান্স করার মত টাকা নেই। > এই যে শুনুন টাকা নেই টাকা নেই এটা বারবার বলার মানে কি? খোচা মারছেন? - আরে না। যা সত্য তাই বলছি। > চলুন লান্স করব। (রাগ দেখিয়ে) . হৃদয় অরুকে নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় অরু মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিল হৃদয় ধরে ফেলেছে। - এসিতে থাকা মানুষ হঠাৎ রোদে হাটলে এমনই হয়। অরু কিছু না বলে একটু বসে আবার দাড়াল। > চলুন। . অতঃপর বাসায়। - আখি ভাত রান্না হইছে? = হ্যাঁ ভাইয়া। কিন্তু উনি কে? - আমার ফ্রেন্ড। লান্সটা এখানেই করবে। . আখি তার ভাইয়ের কাছে এসে কানে কানে বলল = একবার বললেই তো পারতি। ভাল কিছু রান্না করতাম। > এই তিনজনের মাঝে কানে কানে কথা বলতে নেই। - ও বলল যে ভাল কোনো তরকারি নেই। > যা আছে তাতেই হবে। তুমি ভাত দাও। (আখিকে বলল) . আখি হৃদয়কে রাগ দেখিয়ে ভেতরে চলে গেল। - ওকে(অরুকে) একটু ওয়াশ রুমটা দেখিয়ে দে। . অরু ওয়াশ রুমে গেল। চারপাশ খুব নোংরা। আসলে নোংরা অরুর জন্য। কারণ যেয়ে মেয়েটা হাই ফাই স্ট্যাটাসে থাকে। যার ওয়াশ রুমটাতে এক বিন্দু ময়লাও থাকে না। তার কাছে এমন লো স্ট্যাটাসের ওয়াশ রুম নোংরাই মনে হবে। . অরু ফ্রেশ হয়ে বের হল। - মা কই রে? = রাতে আসবে। আপু বসেন। অরু চেয়ারে বসল। চেয়ারটা অনেক পুরানো। কটকট করে। আখি দুজনকেই ভাত বেড়ে দিল। > তুমিও বস। = আপনারা খেয়ে নিন। আমি পরে খাব। > আরে বস তো। = না না থাক। - ও কেন বসতে চাইছে না জান? = ভাইয়া খা তো। - ঘরে দুজনেরই ভাত রান্না ছিল। তাই ও বসতে চাচ্ছে না। . আখি ভেতরে চলে গেল। চোখে অশ্রুর ভাব ছিল। > আচ্ছা আপনার সমস্যা কোথায়? সরাসরি কেউ এসব বলে? ওর খারাপ লেগেছে না? - সত্য কথায় খারাপ লাগলে কিছু করার নেই। . অরু উঠে গেল। ভেতরে যেয়ে আখিকে নিয়ে এলো। তারপর পাশে বসিয়ে দিল। নিজের ভাতের অর্ধেক আখিকে দিল। জোর করেই দিল। অতঃপর লান্স শেষ। - রেস্ট নিবেন নাকি এখনই বের হবেন? আখি হৃদয়ের কানে কানে বলল = ভাইয়া তুই উনাকে আপনি আপনি করে বলছিস কেন? > আবার কানাকানি? (রেগে) - ও বলল আমি আপনাকে আপনি করে কেন বলছি। > শুন আমি তোমার হবু ভাবি। ঘুরতে এসেছি। = কি! . আখি তো আকাশ থেকে পড়ল। কারণ অরু দেখেই বুঝা যায় খুব ধনী ঘরের মেয়ে। - ভবিষ্যৎ কেউ জানে না। > হইছে আর বলতে হবে না। কিছুক্ষণ রেস্ট নাও। . অরু আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসেছে। হৃদয় খাটে শুয়ে পড়ল। অরু আখির সাথে পাশের রুমে যেয়ে বসলো। . কিছুক্ষণ পর হৃদয় বলল - এখন যাওয়া উচিত। > আসছি। . তারা সেই স্থানেই আসলো যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। - সময় শেষ। এবার বল আমার লাইফ আর তোমার লাইফের মধ্যে কোনো মিল আছে কি? > এক সপ্তাহ পর ঠিক এখানেই আবার দেখা করব। তারপর উত্তরটা দিব। . অরু চলে গেল। ঠিক এক সপ্তাহ পর অরু আবার হৃদয়ের সাথে সেই স্থানেই দেখা করল। > ৬ ঘন্টা আমার সাথে থাকবা। - কিন্তু কেন? > কোনো প্রশ্ন নয়। যাস্ট আমি যা বলব তুমি তাই করবা। - আচ্ছা। . অরু হৃদয়কে নিয়ে সেই চায়ের টংয়ে এলো। - এখানে কেন? > No question. . অরু একটা চা ও দুটা রুটি অর্ডার করল। > এক চায়ে খেয়ে ভালবাসা বাড়ে। হৃদয় বোকার মত বসে আছে। বেশ অবাক হল কারণ অরু রুটিটা বেশ আনন্দ নিয়েই খেল। আগের মত কোনো কষ্টের ছাপ দেখা যায়নি। > চলো কোথাও বসি। দুজনে খোলা মাঠের এক পাশে বসলো। কিছুক্ষণ বসে আলাপ করে বলল। > চলো হাটাহাটি করি। . অরু হৃদয়কে নিয়ে রোদের মধ্যে বেশ হাটাহাটি করল। হৃদয় বেশ অবাক হল। এক সপ্তাহে মেয়েটার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। > চলো লান্সটা আমাদের বাসায় করবে। - তোমাদের? > স্বামীর বাসাই তো মেয়েদের আসল বাসা। (মাথা নিচু করে বলল। লজ্জার ভাব) . হৃদয় চুপ করে বাসার দিকে হাটা দিল। বাসায় এসে। = আরে ভাবি আপনি? হৃদয় কিছু না বলে ভেতরে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর বের হয়ে দেখল অরু ও আখি গল্প করছে। - কিরে ভাত দিবি না? আখি উঠতে গেল। অরু বসিয়ে দিল। > খিদে বেশি লাগলে নিজেই নিয়ে খেয়ে নাও। - বেশি লাগেনি। . হৃদয় খাটে বসে পড়ল। আসলে খিদে তো লেগেছে। কিন্তু অরুর সামনে প্রকাশ করতে পারছে না। মেয়েটাও তো সেই রুটি ছাড়া আর কিছুই খায়নি। কিছুক্ষণ পর - গল্প শেষ হয়েছে আপনাদের? > কেন? তোমার খিদে লেগেছে? - না। . শুয়ে পড়ল। অরু ও আখি মিটিমিটি করে হাসল। কিছুক্ষণ পর > খাবে না? - গল্প শেষ হয়েছে? > গল্প রান্না সবই শেষ হয়েছে। - রান্না? > no question. . তিনজন মিলেই লান্স করছে। - তোকে এবার বিয়ে দেয়া যাবে। এতদিনে রান্না শিখেছিস। (আখিকে বলল) = আগে খারাপ রানতাম বুঝি? - শুধু খারাপ না। খুব খারাপ। = তো পেটে ফেলতি কেন? - অন্য উপায় ছিল না তাই। = আজকের রান্না ভাবি রেধেছে। . হৃদয় সাইলেন্ট হয়ে গেল। আর কোনো কথা বলেনি। আসলে গতবার হৃদয়ের ঘর থেকে যাওয়ার আগে অরু আখির নাম্বার নিয়েছিল। তাই আজকে সকালে আগেই বলে দিয়েছে যাতে রান্না না করে। অরু এসে তারপর রান্ন করেছে। তাই লান্সে লেইট হয়েছে। . লান্স করে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে অরু আখির থেকে বিদায় নিয়ে হৃদয়ের সাথে বেরিয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর সেই স্থানে এলো। যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। . > সময় শেষ। এবার বল। আমাদের চলাফেরার মধ্যে অমিল কোথায়? . হৃদয় কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বলল - কতটুকু ভালবাস? > ভালবাসা মাপার জন্য কোনো যন্ত্র নেই। তবে এটা বলতে পারি যে তোমাকে ছাড়া সব শূণ্য মনে হয়। - আমি জানি তুমি গত এক সপ্তাহ ধরে নিজেকে আমার পরিবেশে থাকার মত করে তৈরি করেছ। কিন্তু এটা তোমার আসল পরিবেশ না। > স্বামীর পরিবেশই মেয়েদের আসল পরিবেশ। - আচ্ছা তুমি কি আমাকে ৫টা বছর সময় দিতে পারবে? > দেখ এক সপ্তাহ আর ৫ বছরের মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। (রেগে) - আমি একটা পরিবেশ তৈরি করতে চাই। যেখানে তুমি সুখে শান্তিতে থাকতে পারবে। > আমি তোমার সাথেই সুখে থাকব। - আমার যা বলার বলেছি। আমাকে ৫বছর সময় দাও। নিজেকে কিছুটা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করব। > এতদিনে আমি মরেই যাব। - যোগাযোগ হবে তবে বন্ধু হিসেবে। . নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল। তাই অরু রাজি হল। তবে অরুকে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। দেড় বছরেই হৃদয় মোটামুটি ভাল পজিশনে চলে এসেছে। . অরুর বাবা সবই জানতেন। হৃদয়ের কর্মঠ মনোভাব দেখে তিনি কোনো আপত্তি করলেন না। অতঃপর হৃদয় ভাল ছেলে দেখে আখির বিয়ে দিল। আর কিছু মাস পরেই হৃদয় ও অরু বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবে। . ভালবাসাকে ভাল রাখার জন্য চেষ্টা করা উচিত। ভালবাসার সাথে মানিয়ে চলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করাও উচিত।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ (মানিয়ে নেওয়া)
→ মানিয়ে নেওয়া

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now