বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

‘মামসিয় ন্যাড়া’ (৫)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X মামসিয়র কথা শুনে মা বললো: ঠিক আছে বাবা যেতেই যদি হবে তাহলে একটু শোনো। আমি প্রতিবেশি রাষ্ট্র কিংবা সেদেশের বাদশা সম্পর্কে কিছুই জানি না। তুমি নিজেই খোঁজখবর নিয়ে পথ বের করে নাও। মায়ের কথা শুনে ন্যাড়া খাবারের পুটলি কোমরে বেঁধে পা রাখলো ঘরের বাইরে। হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল, টিলাগুলো থেকে বন্যার মতো পানির ধারা নেমে এলো নীচে। এরকম ঝড়-ঝঞ্ঝার ভেতর দিয়ে সে গিয়ে পৌঁছলো সমুদ্রের তীরে। তার চোখে পড়লো কেউ যেন পানি খাবার জন্য তার মাথাটা নামিয়ে দিলো সমুদ্রের পানিতে। সে কি পানি খাওয়া রে বাবা! এক ঢোক পানি গিলতেই সমুদ্রের পানিস্তর এক হাত পরিমাণ নীচে নেমে যায়। মামসিয় ন্যাড়া এই কাণ্ড দেখে তো হতবাক। বলেই ফেললো: এটা কীরকম পানি খাওয়া! ওই লোকটার নাম ছিল অবে দারিঅ খোশ্ক্কুন মানে ‘সমুদ্রের পানি শুষ্ককারী’। সে বললো: চোখ নেই, দেখছো না কীভাবে পানি খাচ্ছি। কিন্তু চোখ তো দেখছি আছে। ওই চোখ দিয়ে কি মামসিয় ন্যাড়াকে দেখেছো? মামসিয় ন্যাড়া বললো: কোন মামসিয়র কথা বললো? লোকটা বললো: যে মামসিয় প্রথম শিকারে গিয়েই এমন এক প্রাণী শিকার করেছে যার একপাশে আলো জ্বলে অপরপাশে বাজে মিউজিক। ন্যাড়া বললো : কেন,কী দরকার তাকে দিয়ে? প্রাণীটা বললো: আমি তার কাছে যেতে চাই এবং সারাজীবন তার গোলাম হয়ে থাকতে চাই। মামসিয় এবার হেসে দিয়ে বললো: ওঠো! আমিই সেই মামসিয় ন্যাড়া। প্রাণীটা বললো: সত্যি বলছো? ন্যাড়া বললো: মিথ্যা বলার কী প্রয়োজন? এরপর থেকেই ওই প্রাণীটা মামসিয়র গোলামে পরিণত হলো এবং মামসিয়র সঙ্গে পথ চলতে শুরু করলো। যেতে যেতে এক জায়গায় গিয়ে দেখলো এক লোকের ঘাড়ের চারপাশে বেশ কটি যাঁতার পাথর। সেগুলোকে সে বৃত্তাকারে ঘুরাচ্ছিল এবং তার সামনে যাই পড়ছিল সবই পাউডারে পরিণত হচ্ছিল। ন্যাড়া বললো: এই আহাম্মককে দেখো! যাঁতামানব বললো: তুই নিজে আহাম্মক। তোর চোখ নেই, আমার গলায় পাথর দেখছিস না। কিন্তু মামসিয় ন্যাড়াকে দেখার চোখ তো তোর আছে। তাকে যদি দেখতে পেতাম তাহলে তার গোলাম হতাম। দারিঅ খোশ্ক্কুন বললো: এ-ই মামসিয় ন্যাড়া! যাঁতামানব বললো: সত্যি বলছো? দারিঅ খোশ্ক্কুন বললো: মিথ্যে বলবো কেন? যাঁতামানবও মামসিয়র গোলাম হয়ে যায়। দারিঅ খোশ্ক্কুন আর যাঁতামানবকে নিয়ে মামসিয় আবার যাত্রা শুরু করলো। যেতে যেতে পথে দেখলো একটি গুলতি শিকারী তার গুলতি দিয়ে পাথরের তক্তা বা স্ল্যাব একদিক থেকে অন্যদিকে ছুঁড়ে মারছে। মামসিয় চীৎকার করে উঠলো: এই পাগল! থামো! দেখি কী করছো তুমি। এটা কীরকম গুলতিবাজি। গুলতিবাজ থামলো এবং বললো: পাগল আমি নই, তুই। তোমার কি চোখ নেই? দেখছো না কী করছি? কিন্তু মামসিয়কে দেখার মতো চোখ তো তোমার আছে। যদি তার খোঁজ পেতাম, তাহলে তার গোলাম হয়ে থাকতাম সারাজীবন। দারিঅ খোশ্ক্কুন আর যাঁতামানব সমস্বরে বলে উঠলো: “তুমি যার সাথে কথা বলছো সে-ই মামসিয়”। গুলতি শিকারীও এভাবে মামসিয়র গোলাম হয়ে গেল। সবাই মিলে রওনা হলো সামনের দিকে। পথে পড়লো আরেক অদ্ভুত লোক যে কিনা এক কান দস্তরখানের নীচে দিয়ে আরেক কান দস্তরখানের ওপরে রেখে ঘুমচ্ছিল। সে ওই কান দিয়ে অনেক দূরের শব্দও শুনতে পেত। লম্বা কানের অধিকারীও শেষ পর্যন্ত মামসিয়র গোলামে পরিণত হলো। সেও মামসিয়র সফরসঙ্গী হলো। সবাই একত্রে যাত্র করলো প্রতিবেশী দেশের উদ্দেশে এবং একসময় পৌঁছে গেল মূল ফটকে। সেখানে বহু সেনা পায়চারি করছে,টহল দিচ্ছে। তাদের অনুমতি ছাড়া ওই গেইট খোলা অসম্ভব। গুলতিবাজ বললো: কারা এরা? মামসিয় বললো: প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বাদশার প্রহরী সেনাদল। অপরিচিত কেউ তাদের ডিঙিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা অসম্ভব। গুলতিবাজ বললো: “আমাদেরকে যেতে না দিয়ে পারবে”? এই বলেই সে তার লম্বা হাত বাড়িয়ে প্রহরীদের ধরে ধরে গুলতিতে পুরলো এবং মাথার চারদিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ছুঁড়ে মারলো। বাদশাহ এ সময় প্রাসাদে বসে দরবারের অভিজাতদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছিলেন। হঠাৎ তাঁর নজরে পড়লো সৈন্যরা উড়ন্ত কিংবা ঝুলন্ত অবস্থায় তার দিকে এগিয়ে আসছে। বিশ্বাস হচ্ছিল না বাদশার।এরিমাঝে কেউ এসে বললো: হে বাদশাহ! আপনি বসে আছেন? এদিকে পাঁচজন লোক-দেখতে অন্যরকম-গেইটে দাঁড়িয়ে আছে, তারা নাকি আপনার মেয়েকে নিয়ে যেতে এসেছে। বাদশাহ বললো: যাও,তাদেরকে নিয়ে আসো। দেখি এতো বড় সাহস তাদের হলো কী করে! যাঁতামানব সামনে এগিয়ে গেল এবং চাকা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব ভেঙে ফেলছিল। অন্যরাও তাকে অনুসরণ করলো। এভাবে ভেঙেচুরে যেতে যেতে গিয়ে পৌঁছলো প্রাসাদে। বাদশা তাদেরকে দেখতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যাবার উপক্রম হলো। তাড়াতাড়ি বললো: আজ যাও বিশ্রাম নাও। কাল মেয়েকে তোমাদের হাতে তুলে দেব। বাদশার কথায় তারা চলে গেল। এই ফাঁকে বাদশা তার উজিরকে ডেকে পাঠালো। বললো: এই অদ্ভুত প্রাণীদের সঙ্গে পেরে ওঠা মুশকিল হবে। তাড়াতাড়ি ভাবো কীভাবে মেয়েকে এদের হাতে তুলে না দিয়ে পারা যায়। উজির বললো: এদের সাথে কিছুতেই সংঘর্ষে যাওয়া যাবে না। তারচে বরং একটা ফন্দি আঁটতে হবে। বাদশাহ বললো: কী ফন্দি! উজির বললো: তাড়াতাড়ি ঘোষকদের খবর দিন। তারা বাজারের অলিগলিতে ছোটো বড় তরুণ-যুবক নারী-বৃদ্ধ যাকেই পাবে তাকেই আপনার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানাবে, তারা যেন অবশ্যই দাওয়াতে আসে। এদিকে বাবুর্চিকে খবর দিয়ে বলবো তারা যেন চল্লিশটি বিশাল বিশাল ডেকচিতে রান্না করে। চল্লিশতম ডেকচির খাবারে বিষ মিশিয়ে রাখবে। ওই পাঁচজনকেও দাওয়াত করা হবে। তাদেরকে বিষযুক্ত খাবার দিয়ে মেরে ফেলা হবে।#


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ‘মামসিয় ন্যাড়া’ (৫)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now