বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মালতী

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মালতী . . সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল। গ্রামের আম গাছগুলো তখন পাকা আমে ভরপুর থাকে। আমাদের বাড়ির পেছনে ছোট্ট একটা আম বাগান। সেখানে পুকুর সংলগ্ন বাঁশের তৈরিকৃত ছোট একটা বেঞ্চ ছিল। আর সেই বেঞ্চিতে মাঝেমধ্যে আমি বসে বসে গল্প, উপন্যাস, নাটকের বই পড়তাম। . হাতে একটা বই নিয়ে একদিন বিকালবেলা আমি বাগানে যাই । গিয়ে দেখি একটা মেয়ে বেঞ্চিতে বসে বসে আম খাচ্ছে। আমি সামনে এগুতেই পাকা আমের ছোকলা আমার মুখ বরাবর নিক্ষেপ করলো ! সাথে সাথে অপ্রত্যাশিত একটা শব্দ আমার মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়। _ কি আশ্চর্য! আমার গাছের আম খাচ্ছে, আবার আমের ছোকলা, আমার মুখেই ছুঁড়ে মারছে! (অভি) _দুঃখিত! আমাকে ক্ষমা করুণ। আমি আপনাকে দেখি নাই। (মালতী) _দেখেননি বললেই হবে? সামনে এতো বড় পুকুর সেখানে ফেলতে পারলেন না, পেছনে ফেললেন কেন? _এই দেখেন, পুকুরে দুইটি হাঁস কি সুন্দর সাঁতার কাটছে। এখন আমি যদি ছোকলা পানিতে ফেলতাম এই দৃশ্যটা হয়তো আপনি দেখতে পারতেন না। _আমার দেখার ইচ্ছে নেই। _রাগ থামিয়ে এইটা হাতে নিন। ( পেপারে প্যাঁচানো কিছু) _কি এইটা? আর কেনই নিবো? _ আপনার জন্য আমি একটা বই এনেছি। আমি জানি আপনি বই পাগল। তাও আবার গল্পের বই। এই জন্য আপনার জন্য এই বইটা এনেছি। আপনার সাথে পরিচয়ের স্মৃতি হিসেবে এই বইটা এনেছি। _আপনি আমাকে চিনেন? নাকি আমি আপনাকে চিনি? _আপনি আমাকে চিনেন না। কিন্তু আমি আপনাকে খুব ভালো করেই চিনি। ঐযে কলা বাগান দেখছেন না? ঐ কলা বাগানের পেছনে আমার বাড়ি। আমার নাম মালতী। _মালতী! আপনার নাম মালতী? _জ্বী, আমার নাম মালতী। কেন আশ্চর্য হওয়ার কি আছে? _আমার চাচাতো ভাই আপনার কথা আমাকে বলেছিল। আপনি নাকি অনিন্দ্য সুন্দরী! কিন্তু আপনাকে কখনও দেখি নাই, শুধু নাম শুনেছি। _তো আমাকে কি সুন্দরী মনে হয় না? _দূর, আপনি কি সুন্দরী! তার থেকেও সুন্দরী আমি দেখেছি। _ও আচ্ছা, তার নাম কি বলা যাবে? (একটু নরম কন্ঠে মালতী জিজ্ঞেস করলো) _এই যে আমার দেশের নদীর ঢেউ, পাখিরডাক, প্রকৃতির বিভিন্ন নাম না জানা ফুল ইত্যাদির চেয়ে সুন্দর বা সুন্দরী আমার কাছে কিছুই মনে হয় না। . দীর্ঘদিন পড়ালেখার পর আজ আমি মেট্রিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাবার স্বপ্ন পূরণের আর বেশি দিন বাকি নেই। আর ৫ দিন পর আমার মেট্রিক পরীক্ষা। রাত ১২ টা কিংবা ১ টা পর্যন্ত আমি পড়ার টেবিলে। সাথে আমার বাবাও আমার পাশেই বসে থাকে। চার পা ওয়ালা একটা বেঞ্চে বাঁশের সাথে হেলান দিয়ে বসে বসে একটু ঘুমায়, আবার আমার পড়ার শব্দে জেগে যায় আমার বাবা। পাশের রুমে আমার মা এবং ছোট্ট বোন রাহিলা ঘুমিয়ে আছে। . পরীক্ষা শেষে আজ আমি রেজাল্টের অপেক্ষায়। আমার বাবা আমাকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন রেজাল্ট জানার জন্য। স্কুলের রিপন মাস্টার আমার বাবাকে দেখে ডাক দিলেন। আমি আর আমার বাবা রিপন মাস্টারের কাছে গেলাম। _অভি তোর রুল কতরে?(রিপন মাস্টার) _স্যার আমার রুল নং ০০০০০ (অভি) _ কিরে তোর তো রেজাল্ট আশাহত হয় নাই। _কি বলেন মাস্টার সাহেব? অভি কি পাশ করে নাই?(খুব কষ্ট নিয়ে প্রশ্ন করলেন অভির বাবা) _পাশ তো করেছে। তাও আবার প্রথম ক্লাশ পেয়েছে! আমিতো ভেবেছি অভি সেকেন্ড ক্লাশ পাবে। কিন্তু আমাকে অবাক করে প্রথম ক্লাশটাই অর্জন করেছে। . রেজাল্ট পেয়ে অভির বাবার খুশীতে বন্যা বয়ে যাচ্ছে। মনে হয় ঈদের চাঁদ হাতে পেয়েছে। . প্রায় দুই বছর পর অভির বাবা-মা অভির বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতেছে। মেয়েও পছন্দ হয়েছে। পছন্দ হবেই না কেন? মেয়েটা যে অনিন্দ্য সুন্দরী! সে যে আম বাগানে দেখা পাওয়া সেই মালতী। দুই পরিবারের ইচ্ছেতে তাদের বিয়ে হয়। . বিয়ের ৩ বছর পর, অর্থাৎ ২৫ শে মার্চ রাতে, পূর্ব পাকিস্তানে, নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালীর উপর এক অমানবিক নরহত্যা সংঘটিত হয়। ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা হয়। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলে দলে মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে থাকে। তাদের একটাই লক্ষ দেশ থেকে পাকবাহিনীকে নির্মূল করতেই হবে। যুদ্ধ দুইমাস অতিক্রম হয়ে গেছে, অভি তখনও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। অনেকবার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিল কিন্তু মালতী এবং তার ছোট্ট মেয়ে মরিয়ম-র কারণে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। মেয়েটা যেন অভির কাছে সবকিছু। সে যা বলবে তাই করতে সদা প্রস্তুত। মরিয়ম অবশ্য প্রতিবন্ধী! জন্মের পর থেকেই সে কথা বলতে পারে না। কিন্তু তার অভিনয় গুলো যে কোনো মানুষকে মুহূর্তেই মুগ্ধ করে দিতে পারে। . জুন মাসের ১৭ তারিখ, অভিদের এলাকায় পাকবাহিনীর আক্রমণ শুরু হয়। প্রত্যেক ঘরে ঘরে যত যুবক ছিল, সবাইকে ধরে ধরে গুলি করে হত্যা করে নির্মম ও নিষ্ঠুর পাকবাহিনী। বাড়িতে যত যুবক ছিল সবাই অন্য অঞ্চলে লুকিয়ে যায়। অভিও সেদিন নিজের জীবন রক্ষা করার জন্য তার পাশের এলাকায় লুকিয়ে ছিল। . পাকবাহিনী আম বাগান দিয়ে অভিদের বাড়িতে প্রবেশ করে। ঘরের দরজা,জানালা সব বন্ধ করে মালতী, মরিয়ম এবং অভির মা ঘুমিয়ে আছে। হটাৎ তিনটা গুলির শব্দ হয়। . গুলির শব্দে, মালতীর বুকটা কেঁপে থরথর হয়ে যায়! দুপুরবেলা খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই ঘুমিয়ে ছিল। কিন্তু গুলির শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। গুলির শব্দগুলো এমনভাবে কানে আঘাত করেছিল, মনে হয় যেন তার কান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দরজায় বিকট আঘাত শুরু হয়ে যায়, এমনকি কেউ একজন দরজা খোলার জন্য ধমক দেওয়া শুরু করে দিল। . মালতীর শাশুড়ি দরজা খুলে দিতে দরজার কাছে যেতে চাইলেন, এমন সময় মরিয়ম তার দাদুর কাপড়ের আঁচলে আঁকরে ধরল। ছোট্ট মেয়ে, কিছুই বলতে পারে না, অথচ দরজা যেন না খুলে সেজন্য দাদুর কাপড়ের আঁচলে আঁকরে ধরে রেখেছে। দরজা খুললে যে বিপদগ্রস্ত হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে তা যেন অবুঝ শিশু মরিয়মের কানে ছোট্ট করে কেউ বলে দিয়েছিল। . দরজায় আবার আঘাতের শব্দ হলো। এবার মালতীর শাশুড়ি দরজা খুলে দিলেন। দরজা খোলার পর মতিন নামক একজনকে দেখলেন এবং মতিনকে দেখে কিছুটা ভয় মুক্ত হলেন। কারণ, মতিন ছিলেন তাদের এলাকার চেনাজানা মানুষ। অভি তাকে কাকু বলে ডাকে। . এলাকায় যাদের ঘরে যুবক ছেলে আছে তাদের বাড়িতে পাকসেনাদের নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বটা স্বেচ্ছায় নিয়েছেন মতিন কাকু। . কাঁচাপাকা দাড়ি নিয়ে কিভাবে যে একটা মানুষ তার নিজের দেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে তা ভাবতেই ঘৃণার অগ্নিকুণ্ড দাউদাউ করে জ্বলে উঠে। . দরজা খুলে মতিনকে দেখে মালতীর শাশুড়ি-মা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার পেছনে পাকসেনাদের দেখে বুকটা কেঁপে উঠে। কারণ ঘরে যে অনিন্দ্য সুন্দরী একটা বউ আছে, তাদের নজর যে মালতীর উপর পরবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। . দরজা খোলার সাথে সাথে মতিন মিয়া ঘরে প্রবেশ করে, সবাইকে ঘর থেকে বের করে অভির খোঁজ করে। কিন্তু অভিকে খুঁজে পায় না। পাকসেনাদের থেকে একজন উর্দুতে কি যেন জিজ্ঞেস করে মতিন মিয়াকে। মতিন মিয়া কি যেন উত্তর দেয়। তারপর পাকসেনাদের থেকে একজন সিগারেট জ্বালায়। সিগারেট জ্বালানোর পর, দিয়াশলাইয়ের কাঠি মালতীদের ঘরে নিক্ষেপ করে এবং হা করে মালতীর দিকে তাকিয়ে থাকে। মালতী নিজেকে তাকিয়ে থাকা সেনা থেকে আড়াল করতে শাশুড়ির পেছন চলে যায়। . এমন সময়, আকাশ কালো হয়ে যায়, পছন্ড বাতাসে ধুলাবালি এবং শুকনো পাতা উড়তে থাকে, এমনকি বৃষ্টি আরম্ভ হয়ে যায়। পাকসেনারা সবাই মালতীদের ঘরে দৌড়ে প্রবেশ করে। বৃষ্টিতে মালতী ও মালতীর শাশুড়ি এবং তার ছোট্ট মেয়ে মরিয়ম ভিজছে। মালতীর কোল থেকে মরিয়ম তার দাদুর কোলে চলে গেলো। অসহায় মানুষের মতো দাড়িয়ে দাড়িয়ে তারা বৃষ্টিতে অনবরত ভিজেই যাচ্ছে। . বৃষ্টি শুরু হয়েছে প্রায় ৫/৭ মিনিট। পাকসেনাদের একজন বাহিরে তাকায়। সেই পাকসেনা, অনিন্দ্য সুন্দরী মালতীর ভেজা শরীরের উপর শকুনের মতো তাকিয়ে থাকে। হাটাৎ মতিন কাকুকে পাকসেনা তার নিজের কামুকতার কথা জানালেন এবং মতিন কাকু মুচকি হাসি দিয়ে সম্মিত দিলেন। দরজায় গিয়ে মতিন কাকু মালতীকে ঘরে ডাক দিলেন। কিন্তু মালতী ঘরে প্রবেশ না করে দৌড়ে চলে গেলেন কলা বাগানের দিকে। মালতীকে দৌড়ে যেতে দেখে পাকসেনা চেঁচিয়ে উঠেন এবং মতিন কাকুকে আদেশ দেন, মালতীকে যেভাবেই হোক ধরে নিয়ে আসতে। . মতিন কাকু বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে মালতীর পেছনে দৌড়াতে লাগলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর একটা মাঝারি সাইজের কদম গাছ বাতাসের প্রভাবে উপড়ে পরে। আর ভাগ্যের লিখন কদম গাছটা মতিন কাকুর মাথা বরাবর উপড়ে পরেছিল। সাথে সাথে মতিন কাকু চিরতরে শেষ হয়ে যায়। . বৃষ্টি কমে যায়, পাকসেনারা ঘর থেকে বের হয়। মতিন কাকুর কোনো পাত্তা না পেয়ে তারা ক্যাম্পে ফিরে যাবে, কিন্তু মালতীকে না পেয়ে পাকসেনার মাথা গরম হয়ে গেলো। সে মালতীর শাশুড়িকে উর্দুতে কি যেন জিজ্ঞেস করে এবং রাগে ক্ষোভে মালতীর শাশুড়িকে গুলি করে নিজের রাগ কমিয়ে নেয়। সেদিন, কোলে থাকা ছোট্ট শিশু মরিয়মও তার নিষ্ঠুরতা থেকে রক্ষা পায়নি। . কিছুক্ষণ পর অভি বাড়িতে আসলো। বাড়ির উঠোনের সামনে মানুষের ভীর দেখতে পেয়ে দৌড়ে এগিয়ে গেলো। একি! মা! মা! করে চিৎকার করতে চাইলো, কিন্তু কেন যেন চিৎকার করতে পারেনি। পাশেই অভির ছোট্ট মেয়ে মরিয়মের মৃত দেহ পরে আছে। মরিয়মকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মতো হাউ-মাউ করতে থাকে। . সেদিন, গুলিবিদ্ধ মা আর মেয়েকে দেখে চিৎকার করে কাঁদতে চেয়েও কাঁদতে পারেনি। কেন যেন নীরব হয়ে যায়, সমস্ত শরীর পাথর হয়ে যায়। হটাৎ তার মালতীর কথা মনে পরে, কিন্তু মালতীর কোন পাত্তা নেই! অভি ভাবতে লাগলো, 'মালতীকে তাহলে কি পাকসেনারা নিয়ে গেলো??? ' . না, 'মালতীকে' পাকসেনারা ধরে নিয়ে যায়নি। কলাবাগানের পেছনে মালতীর বাবার বাড়িতে ছিল। সেইদিন পাকসেনার হাত থেকে নিজের ইজ্জত রক্ষা করতে, বৃষ্টি দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল অনিন্দ্য সুন্দরী মালতী। . বৃষ্টি থামার পর, মালতী এবং সাথে তার মা'কে নিয়ে তার শাশুড়ি এবং নিজের মেয়ে মরিয়মকে দেখতে আসে। কিন্তু নিজের মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে মালতী অজ্ঞান হয়ে যায় এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর তাকে ঘরে নিয়ে রাখা হয়েছিল। যার কারণে অভি এসে মালতীকে দেখতে পায়নি। . একসময় যখন অভি মালতীকে ডাক দেয়, তখন ঘর থেকে মালতীর মা বাহির হলেন এবং মালতীর অবস্থা অভিকে খুলে বলেন। . একদিন পর.... মাথায় শুধু প্রতিশোধের অগ্নিশিখা বয়ে যাচ্ছে। না, আর বসে থাকলে হবে না, আর লুকিয়ে থাকলে হবে না। যুদ্ধ করতে হবে, যুদ্ধ। অবশেষে মা এবং অবুঝ মেয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ এবং দেশ থেকে নির্মম পাশবিক, বর্বর, জানোয়ার রূপী পাকবাহিনীকে নিঃশেষ করার লক্ষে আজ তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন মালতীর স্বামী অভি। মালতীকে তার বাবার বাড়িতে রেখেছিল। যুদ্ধে চলে যাওয়ার সময়, অভি মালতীকে বলেছিল, "তুমি কোনো চিন্তা কর না, আমি বিজয়ী পতাকা হাতে নিয়েই বাড়ি ফিরবো।" সেসময় মালতী অভিকে কিছুই বলেনি, শুধু তার দু'চোখের জল ঝরেছিল। . যুদ্ধে তার সাথে যোগ দেয় আরও ১৪ জন। প্রতিনিয়ত মুক্তিযোদ্ধার মৃত সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। ১৪ জনের মধ্যে ৪ জন অভির ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কাশেম, জসিম, রহমত আলী এবং জমিদার বাড়ির দক্ষিণ পাশের খায়ের চাচা। . ১৯তম দিন তার এক বন্ধু রহমত আলী শহীদ হয়ে যায়। অনেক লড়েছিল রহমত আলী, সব থেকে বয়সে ছোট রহমত আলীই ছিল। রহমত আলীর মৃত্যুতে অভি এবং অন্যান্য সবার খুব কষ্ট হয়েছিল। কত মানুষ চোখের সামনে শহীদ হয়েছে, একটু কষ্টও অনুভব হয়নি কারও। অথচ আজ রহমত আলীর মৃত্যুতে কেমন যেন সবার কাছে খুব কষ্ট লাগছে। . রহমত আলীর মৃত্যুর কিছুদিন পর একদিনেই শহীদ হয় কাশেম এবং জসিম। তাদের মৃত্যুতে অভি খুব ভেঙ্গে পরেছিল। কিন্তু খায়ের চাচা তাকে শান্তনা এবং সাহস দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা করেছিলেন। . ভাগ্যের লিখন কিছুদিন যেতে না যেতেই খায়ের চাচা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। হাঁটা চলা সব বন্ধ হয়ে একদম অচল হয়ে যায় খায়ের চাচা। . যুদ্ধ চলছে তার নিজ গতিতে, সবার স্বপ্ন দেশ থেকে এই নরপশুদের শেষ করতেই হবে। ধীরে ধীরে জয়ের পথে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। . যুদ্ধ প্রায় শেষ পর্যায় চলে এসেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করতেছে। অবশেষে বাঙালীদের বিজয় ঘোষণা হয়। বাঙালীরা স্বাধীনতার পতাকা আর জয়ের স্লোগান "জয় বাংলা" বলতে বলতে গলা ফাটিয়ে দিচ্ছে। . আজ প্রত্যেকটা মুক্তিযোদ্ধার মনে যে কি আনন্দ তা বহিঃপ্রকাশ করা যাবে না। খায়ের চাচা সহ হাজার মুক্তিযোদ্ধা আনন্দে কান্না করছে। অভিও কাঁদছে, খুব কেঁদেছে। তবে এই কান্নার ভিতরে যে কি সুখ ছিল, তা একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া আর কেউ অনুভব করতে পারবে না। আজ অভি বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে, সাথে বিজয়ের পতাকা। তার সাথে আরও অনেেকই যারযার বাড়ি ফিরছে। . অভি মালতীদের কলাবাগানের শেষ পর্যায় চলে এসেছে, এমন সময় মালতীকে পুকুরপাড়ে একটা কাঠের বেঞ্চিতে বসে থাকতে দেখতে পায়, সে পেছন থেকে মালতীকে জড়িয়ে ধরে। মালতী কিছুটা ভয় পায় এবং চিৎকার দেয়। পেছনে তাকিয়ে সে অবাক হয়ে যায় এবং অভিকে জড়িয়ে ধরে। মালতীর চিৎকারের শব্দ শুনে অভির শাশুড়ি মা দৌড়ে ঘর থেকে বাহিরে আসে। শাশুড়িকে দেখে, একজন অপর জনকে ছেড়ে দেয়। শাশুড়ি মা আবার ঘরে চলে গেলেন। তারা আবার একে অপরকে জড়িয়ে ধরে। . মালতী অভিকে জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিল, অভিও কেঁদেছিল। ঘরে বসে তার শাশুড়িও কেঁদেছিলেন। এই কান্না ছিল এক আনন্দের কান্না, ভালোবাসার কান্না, আপন জনকে কাছে ফিরে পাওয়ার কান্না, স্বাধীনতার কান্না, আসলে এই কান্না ছিল বীজয়ের কান্না . ✎ ✍_অভি(পাগলির পঁচা)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সন্ধ্যামালতী গাছটা
→ মালতী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now