বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ম্যাজিস্ট্রেটের বর

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X ম্যাজিস্ট্রেটের বর : লেখা-রাজত্ব ও রানীহীন এক থাজা : >> মে আই কাম ইন স্যার? >> ইয়েস কাম। >> স্যার আমি সঞ্জয় ,আপনি আমাকে আসতে বলেছিলেন আজ। >> ওহ ইয়েস তা তোমার জয়েনিং লেটার টা দেখি। >> এই যে স্যার। >> ওকে তুমি তাহলে হাসান বাবুর কাছে গিয়ে জয়েন করো। >> ওকে স্যার আমি তবে আসি। >> ইয়েস। দিয়ে এসে হাসান বাবুর কাছে জয়েন করলাম।আমি হলাম সঞ্জয়,গ্রামের ছেলে।শহরের একটা ভার্সিটি থেকে এমবিএ করে এখন একটা নামকরা মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানিতে জব পেয়েছি। এবার একটা বাসা ঠিক করে মা-বাবা কে শহরে নিয়ে এসে রাখব ভাবছি।এসব ভাবতে ভাবতে কাজ শেষ হল।মেসে ফিরে বাড়িতে কল দিলাম। >> হ্যালো মা আমি সঞ্জয়। >> হ্যাঁ বাপ বল। >> বলছিলাম যে আজ চাকরিতে জয়েন করলাম।এবার তোমাকে আর বাবাকে শহরে নিয়ে এসে রাখব।তোমাদের আর গ্রামে থাকতে হবে না। >> না রে বাপ আমরা গিয়ে কি করব? >> এখানে জমি আছে,বাড়ি আছে।সেগুলা ছেড়ে তোর বাবা যেতে চাইবে না। >> সে আমি দেখব।তুমি ওষুধ গুলা ঠিক সময়ে খাবে।আর শেষ হলে আমাকে বলবে কেমন। >> আচ্ছা হোক বাপ বলব।তুই নিজের খেয়াল রাখবি।ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করবি। >> হ্যাঁ করব।রাখি তাহলে। >> হ্যাঁ বাপ রাখ। দিয়ে এসে মেসে যা অখাদ্য ছিল খেয়ে শুয়ে পড়লাম।পরদিন থেকে যথারীতি অফিস করতে লাগলাম।এভাবে মাস দুয়েক গেল।হঠাৎ একদিন অফিসের পিয়ন এসে বলল, >> স্যার আপনাকে বড়ো সাহেব ডাকতাছেন। >> ওহ আচ্ছা,হ্যাঁ আমি যাচ্ছি। স্যারের কেবিনের সামনে গিয়ে, >> স্যার আসব?? >> কে সঞ্জয় এস এস। >> আমাকে ডাকছিলেন?? >> ডাকছিলাম মানে,তোমাকে দিন পনেরোর জন্য ইউকে যেতে হবে।কয়েকটা ইমপর্টেন্ট ডিল আছে। সেগুলো করতে হবে। >> আপনি যাবেন না?? >> না আমি যেতে পারব না।আমার এখানে অনেক কাজ আছে।তবে হাসান বাবু আর আমার মেয়ে রিমা যাবে।তবে রিমা একটু জেদি মেয়ে।কতবার বলি ব্যবসাটা একটু দেখ কিন্তু কোনো কথাই শোনে না। তার একটাই কথা বিসিএস ক্যাডার হবে।দেশসেবা করবে।হাসান বাবুকে বলা আছে।আর হ্যাঁ চার দিন পরেই তোমার ফ্লাইট।রেডি থেকো কেমন। >> ওকে স্যার, আমি তাহলে আসি। চারদিন পর,আমি আর স্যারের মেয়ে ফ্লাইটে বসে আছি।হাসান বাবুর স্ত্রী হঠাৎ করে অসুস্থ হওয়ার জন্য আসতে পারেনি।স্যারের মেয়ে রিমাকে আমি চিনি।আমাদের ভার্সিটিতে পড়ত।আমার থেকে এক বছরের জুনিয়র।তবে কলেজ টপ সুন্দরী ছিল।আর লেখাপড়ায় ও ছিল তেমনই।কিন্তু খুব রাজী ছিল বলে কোনো ছেলেই প্রেম করার সাহস পেত না।হঠাৎ করে কি ভেবে আমি বলেই ফেললাম, >> ম্যাডাম। >> হ্যাঁ বলুন। >> আমার তো এটা প্রথম ফরেন টুর।আর হাসান। বাবুও নেই।তাই আপনি যদি একটু গাইড করতেন। >> দেখুন,আপনাকে একটা কথা বলি,বাবা আপনাকে বলেছে কিনা জানি না তবে আমি বলছি যে,আমি কমার্সের স্টুডেন্ট না।আমি ব্যবসার কিছুই বুঝি না আর বুঝতে চাইও না।সব ব্যাপার আপনিই সামলাবেন।আমি কিছু জানি না।কিছু ভুল হলে সেটা বাবার সাথে ডিসকাস করে নেবেন। >> ওকে ম্যাডাম। যাই হোক কোনোরকমে পড়াশুনা করে অনেক কষ্টে ডিলগুলো হ্যান্ডেল করলাম।আর ম্যাডাম তো কিছুই বুঝতেন না।শুধু সইগুলো করে দিতেন ব্যাস আর সারাদিন বিসিএস নিয়েই পড়ে থাকতেন।কেউ কয়েকদিনের বিদেশ সফরে গেলে ঘুরাঘুরি করে জানতাম কিন্তু ম্যাডামকে দেখে শিখলাম যে,পড়াশুনাও করে।এভাবে দেখতে দেখতে দুবছর কেটে গেল।আমি স্যারের ব্যবসায় আরও বেশি করে ঢুকে পড়লাম।বাসায় আবার বিয়ের চাপ দিতে লাগল কিন্তু সেটা কোনোরকমে ঠেকিয়ে রেখেছি।আর এদিকে স্যারের মেয়ে বিসিএস পেয়ে সরকারি দপ্তরে খুব বড়ো পোষ্টে চাকরি করছে।হঠাৎ একদিন স্যার আমাকে তাঁর কেবিনে ডেকে পাঠালেন। >> স্যার ,ডাকছিলেন?? >> কে সঞ্জয়,এসেছ। >> হ্যাঁ স্যার। >> বলছিলাম,রিমাতো অনেক বড়ো হল।এবার তার বিয়েটা দিয়েই দেব ভাবছি। >> ওহ আচ্ছা। >> পাত্র ঠিক হয়েছে।আমার এক বন্ধুর ছেলে। >> আর দিন কুড়ি পর বিয়ে।সমস্ত দায়িত্ব কিন্তু তোমার।যাও কাজ শুরু করে দাও। >> ওকে স্যার। কেবিনে এসে বসলাম।ভাবছি সব মেয়েরই তো বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।এবার আমাকে করতে হবে।সব কাজ গুছিয়ে বিয়ের কাজকর্ম শুরু করলাম।সবথেকে ভোগান্তি ছিল স্যারের মেয়েকে নিয়ে শপিং করার সময়।সব কাজ হল।বিয়ের দিন এল।আমি একটু দেরি করেই গেলাম।সব তোড়জোড় চলছে।কিন্তু বর আসাতে দেরি হচ্ছে।কিছুক্ষণ পর খবর এল যে বর পালিয়েছে তার ভালবাসার সাথে নিউজিল্যাণ্ড।স্যারের তো অবস্থা পুরাই খারাপ।আন্টি মানে মেয়ের মা এমন কান্নাকাটি করছেন যেন বিরাট প্রিয়জন কেউ চলে গেছে।এদিকে মেয়ের বক্তব্য,সে আর কোনোদিন বিয়েই করবে না।সব মিলে পুরো মাথা খারাপ হবার জোগাড়।স্যার হঠাৎ বলে বসলেন,আজই তিনি তাঁর মেয়েকে বিয়ে দিবেন।যেখান থেকে খুশি পাত্র যোগাড় হোক।হঠাৎ দেখি হাসান বাবু স্যারের কানে কানে কি একটা বললেন।স্যার প্রথমে চমকে উঠলেন।কিন্তু তারপর আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলেন।আমার একটা চোরা টেনশান আরম্ভ হল। >> সঞ্জয়,আমার সঙ্গে একটু এস। >> হ্যাঁ ,স্যার চলুন। হঠাৎ একটা বদ্ধ রুমে আমাকে নিয়ে গিয়ে, >> আমাকে বাঁচাও বাবা। >> বাবায় নেমে এল কেন??(মনে মনে)।কি বলছেন স্যার?? >> আমার মেয়েটাকে তুমি গ্রহণ কর বাবা।(দিয়ে আমার হাত ধরে ফেললেন।) >> এত বিরাট ঝামেলায় পড়া গেল।(মনে মনে)।স্যার শান্ত হন।আমি কিভাবে বিয়ে করব বলুন। >> কেন পারবে না কেন?? >> মানে আমার ফ্যামিলি স্ট্যাটাস কি আর আপনার সঙ্গে মেলে। >> ফালতু কথা বন্ধ কর।তোমাকে আমি অর্ডার দিচ্ছি।আর বলো আমার মেয়ে কি দেখতে খারাপ??নাকি আর কোনো ডিসপুট আছে?? >> না না তা না কিন্তু মা-বাবার মত না নিয়ে বিয়ে করতে পারব না।আর আপনার মেয়েরও মতামত আছে। >> তোমার মা-বাবার ব্যাপারটা আমি দেখব।আর রিমার ব্যাপারটা ভাবার দরকার নেই তোমার। তারপর শুনলাম আমার মা-বাবা রাজি।আর বিয়েটাও কেমন হয়ে গেল।কিন্তু বিয়ের পর স্যার বলল,সবাই মিলে আমার গ্রামের বাড়িতে যাবে।আমার কথার তো আর কোনো গুরুত্ব নেই।তাই চলেই গেলাম।আমাকে আর রিমাকে গাড়িতে বসিয়ে স্যার ভেতরে গেলেন।দেখি বাবা আর স্যার হাসতে হাসতে বেরাচ্ছেন।মা দেখি নতুন বউ বরণ করে চলে গেলেন।সবাই নতুন বউ নিয়ে ব্যস্ত।আমাকে কেউ চিনে না।পরে শুনলাম,আমার বাবা আর স্যার একই কলেজে পড়েছেন।তবে তাঁরা হয়তো খুব ভাল বন্ধু ছিলেন না।কিন্তু পরস্পরকে চিনতেন।তাই বিয়েটাও শুষ্ঠুভাবে হয়ে গেছে।রাতে,নিজের গৃহে খুব ভস্ক্রে ঢুকলাম,কারণ স্যারের মেয়ে যা রাগী। ঢুকে দেখি,ফুলসজ্জার খাট ছুব ভাল করে সাজানো।আমার ঘর বলেই মনে হচ্ছে না।হচ্ছে না।হঠাৎ, >> এই যে মিস্টার,আপনি বিয়ে করলেন কেন? >> আমি তো না বলেছিলাম।আপনার বাবা জোর করলেন। >> তাই বলে বিয়ে করতে হবে। >> ওকে,নো টেনশান আপনি কি চান ডিভোর্স। মনে হয় ,আমাকে খেয়ে ফেলবে। >> কেনরে ডিভোর্সের চিন্তা কেন জিএফ আছে তোর? >> জ্বি। >> কি কি তোর জিএফ।এবার আমাকে ছেড়ে তাকে বিয়া করবি।তোকে জেলে দিব।তোকে জেলে পচতে হবে।আমি ম্যাজিস্ট্রেট।আমার ক্ষমতা জানস্ তুই।তুর কাল কি হয় দেখ। >> বরের সাথে এভাবে কথা বলতে নাই। >> কে বর তুই? >> না মানে আমার সাথেই তো বিয়ে হল তাই বলছিলাম। >> তুই বর নামের কলঙ্ক। দিয়ে কান্না আরম্ভ করে দিল।আমি কান্না মুছাতে গেলেও প্রথম প্রথম পাত্তা না দিলেও জোর করে আদায় করলাম চোখের জল মুছানোর অধিকার।তারপর হঠাৎ, >> আমি রান্না জানি না।শিখার চেষ্টা করব। >> ওকে নো প্রবলেম। >> বাবার ব্যবসাটা তুমি ভালো করে দেখবে।কথা দাও। >> সেটা তো আমার ডিউটি। >> তুমি তো জান আমি ম্যাজেস্ট্রেট।যদি অন্য মেয়ের দিকে তাকাও সোজা জেলে দিয়ে দিব বলে দিলাম। >> থ্রেট দিচ্ছ?? >> কি দেখেছ থ্রেটের??আই লাভ ইউ বল নাহলে দেখবা কি হয়?? >> আচ্ছা হোক বাবা আই লাভ ইউ শান্তি। >> আই লাভ ইউ টু। এবার কি হল সেটা পারসোনাল বলতে নেই।তবে একটা কথা ,আমাকে কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের হুমকি সবসময় খেতে হয় কারণ ম্যাজিস্ট্রেটের বর তো??সবাই তো আর হয় না।।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ম্যাজিস্ট্রেটের বর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now