বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মাঝির আত্মকাহিনী।
।
দ্বিতীয় পর্ব।
।
লেখক : আতিফ রাসেল।
।
( নানা ভয় পেয়ে বলতে লাগল,
-দেখেন আমারে মাফ কইরা দেন আমি আর গান গাইতামনা।
-হা হা হা গান না গাইলে যে তোমাকে মেরে ফেলব।
( নানা পরীর কাছে মাফ চাইতে লাগল পরী বলল,
-একটা শর্তে তোমাকে মাপ করতে পারি।
-কি কন আপনি?
-আজ সারারাত তুমি আমাকে গান শুনাবে তোমার কন্ঠে যদি তোমার গান ফজরের আযানের আগে থেমে যায় তাহলে তোমার মৃত্যু অবধারিত।
( নানা তাতেই রাজি হল। আর শুরু করল গান গাওয়া রাত বারটা থেকে ভোর পাচটা পর্যন্ত গান গাইতে গাইতে নানার মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে তবুও কোনোরকমে জানের ভয়ে নানা গান চালিয়ে যায়। আর পরীটা এক ধ্যানে নানার গান শুনতে থাকে। তারপর হঠাৎই ফজরের আযান পড়ে। আর পরীটা তখনই কোথায় যেন মিশে যায়। এরপর নানা নাকি মাস খানেক অসুস্থ ছিলেন তারপর সব ঠিক হয়ে যায়।
ঘুরের মাঝে চলে গেছিলাম আমি নানার কথা শুনে! কিছুটা ভয় ভয়ও লাগছিল হঠাৎই নানার জোরালো সেই গানের টানে ফিরে পেলাম নিজেকে!
( ও মাঝি বাইয়া যাও রে ..... অকুল দরিয়া মাঝি বাইয়া যাও রে ....।
-পরে আর কোনদিন দেখা হয়নি পরীরটার সাথে?
-না আর দেখছিনা।
-আপনার ভয় করেনা এখনো এখানে রাতের বেলায় নৌকা চালান?আবার গানটাও ছাড়েননি?
-ভয় দিয়া কি হইব? পেট তো চালাইতে হইব। 35 বছর যাবৎ এই নৌকা চালাইতাছি। নদীটার প্রতি একটা মায়া জন্মাইয়া গেছে। আমি ছাইড়া দিতে চাইলেও নদীটা আমারে ছাড়েনা।আর গানটাতো আমার আত্মার লগে আটকাইয়া গেছে। বৈঠার সাথে সাথে গানটা না টান দিলে নৌকাটাইই যেন চলতে চাইনা।
-(, হা হা হা নানার কথা শুনে আমি হাসলাম)
-আর কোনদিন ভূত দেখেননি?
( নানা দেখলাম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল আবার একবার গানটা টান দিয়ে শুরু করল।)
-আমার আব্বাও এই নদীর মাঝি ছিল আমার দাদাও ছিল। ছোট্ট বেলায় যখন আব্বা রাইতের বেলা একলা একলা নৌকা চালাইত আমি বায়না করতাম আব্বার লগে যাওয়ার লাইইগ্যা । বাবাই কইতো,
-দেখ বাপ এই নদী আমার বাপেরে কাইড়া নিছে। এই নদীতে তুই কোনদিন নামবিনা।
আমি কইতাম,
-আব্বা আমার কিচ্ছু হইতনা আমারে নিয়া চল তোমার লগে।আমিও তোমার মতন মাঝি হমু।
( কোনদিনই আব্বা রাজি হইতনা। আমি রাইতে কান্না করতাছিলাম আব্বায় একদিনও আমারে সাথে নেয়না। এইয়া দেইখ্যা আমার আম্মায় আমারে আমার দাদার একটা কাহিনী শুনাইছিল। এরপরে আর কোনদিন আব্বার লগে যাইতে চাই নাই।
( আমি নানার কথায় কিছুটা অবাক জিজ্ঞেস করলাম,
-কি হয়েছিল আপনার দাদার?
( নানা আবার বলতে শুরু করল,
-আমার দাদাও সারা জীবন এই নদীতে নৌকা বাইছে। দাদা যখন নৌকা বাইত দাদারো আমার মতন গানের অভ্যাস ছিল। প্রতিদিন গান গাইতে গাইতে মানুষ পারাপার করত। হঠাৎ একদিন রাইতের বেলায় একটা লাশ ওইপার থাইক্যা আসছিল।
-মাঝি ওওও মাঝি ....! ( লোক)
-আইতাছি দাড়ান ( দাদা)
-আমরা ওইপারে যামু।
( লাশ দেইখ্যা দাদা ভয় পাইয়া যাই জিজ্ঞেস করে,
-এইটা কার লাশ?
-পাশের গ্রামেরই লাশ এইটা।
-এত রাইতে লাশ লইয়া কই যাইবেন?
-কবরস্থানে।
-এই গেরামে কি কবরস্থান নাই?
-আছে তয় এই ব্যাক্তি মরার আগে কইয়া গেছে যাতে ওই গেরামে দাফন দেয় তার লাশ।
-এত রাইতে আমি লাশ পার করবার পারুমনা।
-এইখানে তো আর কোন মাঝি নাই তুমি ছাড়া?
-লাশ সকালে নিয়া আইসেন। রাইতের বেলায় কোন লাশ টাশ পার করবার পারুমনা।
( চার পাচজন লোক ছিল। তারপর লোকগুলো দাদাকে অনেক টাকার লোভ দেখাইয়া নৌকায় উঠে। সবকিছু ঠিকই চলতাছিল প্রায় ঘন্টা খানেক নৌকা চলাচল করার পরেও দাদা পারের ধারেকাছে পৌছাতে পারতাছেনা। লোকগুলোও কোন কথা কইতাছেনা। চুপচাপ বইসা আছে। যতই দাদা নৌকা চালইতেছে ততই যেন ভয় বাড়তেছে। লাশের শরীর থেকে পচা পচা গন্ধ বাইর হইতাছে। উল্টা বাতাসে সব গন্ধ দাদার নাকে গিয়া লাগতাছে। আস্তে আস্তে ঘন্টা দেড়েক পর দাদার ভয় বাড়তে লাগল দাদা ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো,
-ভাই নৌকাতো চলতাছেনা।
-(লোকগুলো চুপ করে রইল)
ভয়ে ভয়ে দাদা আবার কইলো,
-কি হইলো কথা কন না আপনারা?
-ওই ব্যাটা চুপচাপ নৌকা চালা নৌকা ঠিকভাবেইই চলতাছে।
( দাদা ভয় পাইয়া নৌকা চালাইতে থাকে। চালাইতাছে তো চালাইতাছে কোনভাবেই পারের কোন কিনারা দেখা যাইতাছেনা। অন্ধকারও মোটামুটি ভাল। দাদা তখনই বুঝে গেছিল এইগুলা মানুষ না। এদের কথার বাইরে কিছু করলে দাদারে মাইইরা ফালাইব। তাই দাদা চুপচাপ নৌকা চালাইতেছে আর দোয়া দরুদ পড়তাছে। হঠাৎই দাদা লক্ষ্য করল পাচজন লোক থেকে তিনজন লোক নৌকায় আছে আর দুইজন কোথায় যেন উদাও হয়ে গেছে। নৌকায় তিনজন সাথে লাশ। দাদা দোয়া দরুদ পড়তে থাকল ফজরের আযানের কাছাকাছি হয়ে গেল নৌকায় এখন একটা লোক আর লাশটা আছে। ফজরের আযানের আধা ঘন্টা আগে দাদা দেখল লাশটা ছাড়া নৌকায় আর কিছুই নাই। দাদা ভয়ে ভয়ে সাদা কাপর দিয়ে মোড়ানো লাশটার কাছে গেল লাশের মুখটা খুলে দেখার জন্য। দাদা যখনই লাশের মাথা থেকে কাপড় সড়ালো দেখে দাদা ভয়াবহ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল লাশটার দিকে ভয়ে দাদার বুকের বাম পাশটা ধপাস ধপাস করতে লাগল। সেখানেই জ্ঞান হারাই দাদা।
গ্রামের লোকেরা সকাল বেলা দাদাকে নদীর পারে অজ্ঞান অবস্থায় পাই। ধরে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে দাদাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে কি হয়েছে? দাদার গলা ভয়ে শুকিয়ে এসেছিল! দাদা সব ঘটনায় খুলে বলল! দাদা যখন লাশের মুখের থেকে কাপড়টা সড়িয়ে দিল তখন দাদা দেখছিল সেই লাশের লোকটা আর কেউ দাদা নিজেই সেই সাদা কাপড় মোরানো লাশটা। লাশটার দিকে দাদা ভয়ে আতংকিত হয়ে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল! লাশটা তখনই দাদার দিকে তাকিয়ে আওয়াজ বিহীন একটা ভয়ঙ্কর মুচকি হাসি দেয়। দাদা নিজের চোখের সামনে নিজের জ্যান্ত লাশ দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি! তখনই দাদা সেন্সলেস হয়ে যায়। ঘটনা এখানেই শেষ নয়! এরপর দাদাকে গরম পানি দিয়ে গোসল করানো হয়! পরে দাদার শরীরে প্রচন্ড জ্বর আসে! রাতের বেলায় দাদা নাকি চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠতো আর ভয়ে জোরে জোরে কান্না করত! দাদা যখনই ঘুমিয়ে পড়ত লাশের ভয়ঙ্কর হাসিটা প্রতিদিনই দাদার স্বপ্নে চলে আসতো! এর কিছুদিন পর দাদা মারা যায়।
( আমি কাহিনী শুনে কিছুক্ষণ চুপ করেই রইলাম। তারপর নানাকে জিজ্ঞেস করলাম,
-তাহলে আপনি এখনো কেন নৌকা চালান?
-এইটাতো আরো এক ডরের কথা
-মানে?
-মানে আমার দাদা মারা যাওয়ার পরে আমার বাবাও এই মাঝির রাস্তায় বেছে নিয়েছিল! কারন নৌকা ছাড়া রোজগার করার মতন কোন সম্পত্তিইই আছিলনা!
-ওওওও আচ্ছা তারপর?
আপনার সাথেও কি?
-হ্যাঁ আমার বাবার সাথেও হয়েছে এরকম ঘটনা!
(বলতে বলতে নদীর ওইপার থেকে এইপারে চলে এসেছি। তাই মাঝি নানা বলল,
-আজ আর না পরে একদিন আইয়া হুইন্যা যাইস!
ততক্ষণে আমি আমার নিজেকে মাঝি নানার ভৌতিক কাহিনীর মাঝে হারিয়ে ফেলেছি! রাত সাড়ে বারটার উপরে! কিন্তু কেন জানি আমি নানার গল্পের প্রতি আসক্তি হয়ে যায়! আর নানাকে বলি,
-না আজই বলেন! আপনার বাবার কি হয়েছিল সেটা শুনে তবেই আমি যাব! ( নানা মুচকি হাসলো, ও মাঝি বাইয়া যাও রে ........গানটা শেষ করেই শুরু করল আবার তার বাবার আত্মকাহিনী!.......!
।
চলবে ....
বিদ্র :ভাল লাগলে জানাবেন তৃতীয় পর্ব শেয়ার করব।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now