বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মাঝির আত্ম কাহিনী। । প্রথম পর্ব।৷

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মাঝির আত্ম কাহিনী। । প্রথম পর্ব। । হঠাৎ করেই ফোন এলো নানার বাড়ি থেকে। নানার মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠান ও দোয়ার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। মামারা সবাই কল দিয়ে বলতেছে আসতেই হবে। তারপর আবার নানার মৃত্যু বার্ষিকির অনুষ্ঠান। না গেলেও কেমন দেখাই। নানা মারা গিয়েছে চোদ্দ বছর আগে। তখন আমার বয়স ছিল দশ বছর নানীও গত হয়েছেন নানার আগেই। আমার নাম শাহিন আর এখন আমার বয়সও চব্বিশ পেরিয়ে যাচ্ছে। নানা মারা যাওয়ার পর মামা মামীর সংসার আর তাদের ছেলে মেয়েদের বড় একটা দায়িত্ব পড়ে যায় তাদের ওপর। এরপর আর বেশি খোজ খবর নেওয়াও হয়না কয়েকবছর আসা যাওয়া ছিল। নানার বাড়ির দুই /তিন গ্রাম পরেই আমাদের গ্রামের বাড়ি। অবশ্য এখন ঢাকাতেই থাকি। এখানেই পড়শোনা করছি প্রায় শেষের দিকে। দশ বছর আগেই বাবার চাকরির সুুবাদে এখানে আসা। তারপর আর কখনো নিজের গ্রামেই যায়নি। আর নানার বাড়ি তো অনেক দূরের কথা। মা বাবাও যেতে রাজি। কিন্তু আমার এসাইনমেন্ট নিয়ে কিছু সমস্যা থাকায় জানিয়ে দিলাম আমি দুইদিন পর আসব। মা বাবা চলে যায় চার দিন আগেই। বারবার কল দিচ্ছে আমাকে যাওয়ার জন্য। পরে আর কি আমিও রওনা দিলাম অনুষ্ঠানের আগের দিন 12 টার সময়। ঢাকার বাস আবার আমাদের গ্রাম পর্যন্ত যেত এরপর নানাদের বাড়িতে যেতে সামনে একটা নদী পড়ত। সেই নদী পেরিয়েই যেতে হয়। ছোট বেলায় তো অনেক গিয়েছি। কিন্তু গত দশ বছরে গ্রামের অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। কেমন জানি অচেনা অচেনা লাগছে নিজের গ্রাম টাকেই। আমাদের গ্রাম পেরিয়ে আরো দুইটা গ্রাম হেটে হেটে পার হলাম তখন রাত দশটা। নদীর দিকেই এগুচ্ছিলাম কিন্তু কোথাও কোন মানুষের অস্তিত্ব নেই। গ্রামের লোকেরা এমনই এশার নামাজের পর বাইরে বের হইনা কেউ। খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ে। আর একারনেই নিরিবিলি চারপাশটা। নদীর কাছে যেতে যেতে রাত প্রায় সাড়ে দশটা। মাঝিও আছে কিনা সন্দেহ। ভাবতে ভাবতে নদীর পারে গিয়ে দাড়ালাম। নদীটা মোটামুটি বড়ই। আধাঘন্টার মত লাগে পার হতে। কিন্তু পার হওয়া তো পরের ব্যাপার এখানে তো নৌকায় দেখতে পাচ্ছি না। না আছে মাঝি না আছে তার নৌকা। এভাবে বসে থাকতেও খারাপ লাগছেনা। চাঁদনী রাত সাথে ঠান্ডা কিছু হাওয়া নদী থেকে উঠে আসছে নদীর ছোট ছোট ঢেউ গুলোও সুন্দর লাগছে চাদনীর আলোতে। কিন্তু যতই ভাল লাগুক এত রাতে নদীর পারে তো বসে থাকার জন্য আসিনি। ওপারে কিভাবে যাব একটা সেই ব্যাবস্থাও করতে হবে। আমি আবার ভৌতিক ব্যাপার -ট্যাপার বিশ্বাস করতামনা। তাই নির্জনে দাড়িয়ে থাকতেও ভয় লাগছেনা।রাত বারটা হয়ে গেল হঠাৎই লক্ষ্য করলাম একটা নৌকা গান গাইতে গাইতে নদীর পার দিয়ে আসতেছে! তাই আর সুযোগ হাতছাড়া করলামনা। -ও মাঝি ভাই। - কে শাহিন নাকি। ( অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি চাদনি রাত হলেও কিছুটা দুরে বিধায় তাকে চিনতে পারলামনা। অবাক ব্যাপার হল এটা যে আমি শাহিন ওনি জানলেন কিভাবে। একটু কৌতুহল হয়েই জিজ্ঞেস করলাম। -আপনি আমাকে চিনেন নাকি? -কি কস তুই তোরে চিনতামনা? ( কাছে আসতে আসতে বলল লোকটা। কিছুটা কাছে আসতেই লক্ষ্য করলাম এটাতো লুৎফর নানা। আমার নানার বন্ধু ছিলেন। আমার জন্মের পর থেকে যতবার নানাবাড়ি গিয়েছি ওনার নৌকা দিয়েই। কিন্তু এই ব্যাপারটা ভুলেই গিয়েছিলাম। কত হাসি তামাশা করতাম ছোটবেলা। একবার আমি পানিতে পড়ে গিয়েছিলাম তখন আমার বয়স ছিল আট বছর। সাতার জানতামনা । কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে এই লুৎফর নানাই আমাকে বাচিয়ে ছিলেন নদীতে ঝাপ দিয়ে। যাইহোক নানাকে দেখে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেলাম।কিছুক্ষণের জন্য অতীতে হারিয়ে গিয়েছিলাম নানার ডাকে আবার বাস্তবে ফিরে এলাম, -কি রে শাহিন কতদিন পরে আইলি। দেশের একটা খোজ খবরও লইইলিনা। তা আছস কেমন? -হ্যা নানা ভালই আছি তোমার শরীর কেমন? -এই আছি আর কি কোনরকম। ( কাছে আসতেই উঠে পড়লাম নৌকায়। একটা ব্যাপার সবচেয়ে আশ্চর্য লাগল নানার চেহারা দশ বছর আগে যেমন ছিল ঠিক তেমনটাই আছে। কিন্তু বড় আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল উনিতো আমাকে শেষ দেখেছে প্রায় দশ বছর আগে তাহলে আমাকে চিনলেন কিভাবে? এতকিছু আর চিন্তা করলামনা। জিজ্ঞেস করলাম, -নানা আমাকে কিভাবে চিনলেন আপনি? -তোর কথা শুনছিলাম বাড়িতে তুই আসবি তাই এদিকটাতেই ঘুরাফেরা করছিলাম৷ আর এত রাতে গ্রামের কেউ এই রাস্তা দিয়া চলাফেরা করেনা । সবাই ভয় পাই এইখানে নাকি ভূত প্রেত আছে। ( আমি একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করলাম, -তাহলে আপনি একা একা নৌকা চালান কেন? -কি আর করমু কত মানুষ রাইতের বেলায় বিপদ আপদে পড়ে আমি না থাকলে কেডা পার করব ক? -তাও ঠিক! আচ্ছা নানা আপনি কখনো দেখেছেন ভূত প্রেত? -জীবনে বহুত দেখেছি! কত ভুতেরে নৌকা দিয়া পার করলাম রাইতের বেলা। -হা হা হা ( আমি একটা হাসি দিলাম সাথে নানাও হাসছে) -তারপর একটা কাহিনী শুনান না শুনি। -কি কাহিনী আর হুনবি? -বলেন শুনি।( একটু মজা করেই বললাম সাথে একটা হাসি। নানাও দেখলাম মুচকি একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে জোর গলায় গান ধরেছে! মাঝি বাইয়া যাও..রে...! ও মাঝি বাইয়া যাও রে...! গানটা থামিয়ে বলতে লাগল নানা,) -সেদিনও ছিল আজকের মতই চাঁদনী আজ থেকে প্রায় নয় বছর আগের কথা ঠিক মনে নাই। রাত বারটার কাছাকাছি আনুমানিক! নদীর এই দিক দিয়েই গান গেয়ে গেয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎই দেখি একটা মেয়ে হাসছে অপরূপ তার হাসির আওয়াজ! আহ কি মজার কি মধুর যে ছিল সেই আওয়াজ! নদীর পারে চেয়ে দেখলাম একটা সুন্দরী রমনী! এতটাই সুন্দর ছিল সেই নারী, আর এতটাই সুন্দর ছিল হাসি মুখ থেকে যেন মুক্ত ঝরছিল। যে কোন যুবক প্রথম বার দেখেই প্রেমে পড়ে যাইব সেই নারীর। ( নানার কথায় আমি আর হাসি ধরে রাখতে পারলামনা! হা হা হা হহা করে কিছুক্ষণ হাসলাম নানাও আমার সাথে হাসলো কিছুক্ষণ মজা করে বললাম, -তাহলে এই বয়সে কি আপনি ওই নারীর প্রেমে পড়ছিলেন নাকি? -( নানা একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে আবারো গান ধরল,! মাঝি বাইয়া যাওওও রে ....অকুল দড়িয়া রে মাঝি বাইয়া যাও রে) -নানা তারপর বলেন! ( ভৌতিক ব্যাপার বিশ্বাস না করলেও এই মুহুর্তে কেন জানি ভালই লাগছিল! শুনতেও ইচ্ছা করছিল নানার ভৌতিক গল্পটা! তাই আমি নানাকে আবার বললাম, -নানা তারপর,? -তারপর আর কি আমিও নৌকা পারে নিলাম আর বললাম কই যাইবেন? -কই আর যামু আপনি কি নিয়া যাইবেন আমাকে? ( মেয়েটা) -হ আপনি বলেন কই যাইবেন? আমার কাজই মানুষেরে পার কইরা দেওয়া। -কিন্তু আমার কাছেতো কোন টাকা পয়সা নাই কেমনে নিবেন! -নারীজাতি আপনি রাতের বেলায় বিপদে পড়লেন একটা উপকার করতেই পারি! টাকা লাগবনা টাকা পরে একদিন দিয়া দিয়েন! বলেন কই যাইবেন? ( মেয়েটা নৌকায় উঠল হাসি দিয়ে, নানা বারবার মেয়েটার দিকেই তাকাচ্ছিল! মেয়েটাকে নাকি অসম্ভব সুন্দরী লাগছিল! মেয়েটাকে নানা আবার জিজ্ঞেস করল -কই যাইবেন কইলেননাতো? -আপনি যেখানে নিয়া যান! ( মজা করেই বলল আর সাথে সেই মুক্তঝড়া হাসি। আহ নানা যেন পাগল হয়ে যাবে মেয়েটার জন্য এমন অবস্থা।) -না কই যাইবেন কন নাইলে কেমনে লইইয়া যামু? -আমি পরীর দেশে যাব। ( নানা হাসলো) -আমার নৌকা তো পরীর দেশে যাইনা। -তাহলে কোথায় যাই? -নদীর এইপার থেকে ওইপার আর ওইপার থেকে এই পার। -তাহলে জিজ্ঞেস করার কি আছে এইপার থেকে যেহেতু উঠেছি তাহলে ওই পারেই যাব। ( মুচকি মুচকি হাসি) -ওওও আইচ্ছা। ( নানার সেই গান ধরল আবার মাঝি বাইয়া যাও রে....! মেয়েটা অপরূপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নানার দিকে। নানা মুচকি মুচকি হাসছে আর গান গাইছে। গাইতে গাইতে ওইপারে চলে আসলো। মেয়েটাকে নামিয়ে দিয়ে বলল, -পরে মনে করে ভাড়া দিয়া যাইবেন। -জি আচ্ছা ( মুক্তঝরা সেই হাসিটা দিয়ে চলে গেল মেয়েটা) পরদিন আবার একই সময়ে একই জায়গায় গান গাইতে গাইতে নদীর পা দিয়ে যাচ্ছিলাম। আবারো সেই মুক্তোঝরা হাসি। পারে তাকিয়েই দেখে সেই রূপসী। আহহা কি যেন একটা মায়া আছে মেয়েটার মুখে। -কি আজ নিবেননা আমাকে? -হ্যা নিব টাকা এনেছেন টাকাতো এনেছিলাম কিন্তু হারিয়ে গেছে। -হা হা হা নানা হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলো আপনাকে তো ওইপারে গতকাল নামাইইয়া দিয়া আইছিলাম এইপারে আবার কেমনে আইলেন? এখানে তো আমি ছাড়া কেউ নদী পার হইতে পারেনা? -উরে এসেছি ( হি হি হি) ( নানাও এবার একটা হাসি দিল আবার গানের সেই সুর মাঝি বাইয়া যাও রে ... মেয়েটা এবারো নানার দিকে রহস্যময়ী ভাবে তাকিয়ে আছে আর খুব মনুযোগে গান শুনছে। নানাও মেয়েটার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে আর গান গাইছে। সবকিছু প্রথম দিনের মতই হল। তৃতীয় দিন আবারো সেইম জায়গা সেইম সময় সেইম হাসি। নানা এবার কিছুটা অবাকই হলো। জিজ্ঞেস করল, -প্রতিদিন আপনি এত রাতে কোথায় থেকে আসেন? -পরীর দেশ থেকে ( হি হি হি) ( এবার নানা কিছুটা অসস্থী ফিল করল আর বলল, -সত্যি করে কন আপনি কেমনে নদী পার হইয়া প্রতিদিন এইপার আসেন? সারাদিন সারারাত তো আমি এখানেই থাকি। আপনি কেমনে পার হইয়া আসেন কন? -বল্লামনা পরীর দেশ থেকে আসি। -আমি আপনারে পার করবনা! ( বলেই নানা নৌকা পিছেয়ে ওইপারের দিকে চলল হঠাৎ করেই নানা লক্ষ্য করল তার উপর দিয়ে উরে যাচ্ছে কিছু। দেখে একটা পাখি। পাখিটা নানার নৌকায় এসে বসল আর বলল, -বললাম না উরে আসি। ( বলেই আবার পাখিটা মেয়েটার রুপ ধারন করলো আর সাথে সেই হাসি তবে এবারের হাসিটা মুক্তঝরা নয় যেন কোন ভয়ংকর রকমের হাসি। যেন কোন রাক্ষসী হাসছে। নানা ভয় পেয়ে গেল! গলা শুকিয়ে গেল নানার কিছুটা ঘামছে নানার কপাল। ভয়ে ভয়েই জিজ্ঞেস করলো, -কে আপনি আপনি আমার মতন মাঝির কাছেই বা কি চান? -আমি তোমাকেই চাই. ( কিন্তু এবার সেই রাক্ষসী হাসিটা নেই। আবারো পাগল করা সেই হাসি মুচকি মুচকি হাসছে মেয়েটা।) -কিন্তু কেন? -আমি তোমার গানের পাগল! আমি তোমাকে আমার সাথে নিয়ে যেতে চাই। আমি পরী ওই আকাশেই আমার ঘর আমি এখানে এসেছিলাম চাদনি রাতটা উপভোগ করতে। কিন্তু এখানে এসে আমি তোমার গানের প্রেমে পড়ে যায়। তাই এখন আমি তোমাকে আমার সাথে নিয়ে যেতে চাই। । চলবে। বিদ্র : ভাল লাগলে বলবেন দ্বিতীয় পার্ট শেয়ার করব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মাঝির আত্ম কাহিনী। । প্রথম পর্ব।৷

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now