বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
বাবা হঠাৎ একটা নাম্বার দিয়ে বললো,,,
-এই নাম্বারটা ফ্ল্যাক্সিলোডের দোখানে নিয়ে যা তো।
নাম্বারটা চেনা মনে হলো, হ্যাঁ এটা আমার কলেজ ফ্রেন্ড হাবীবার নাম্বার । কি ব্যপার বাবা হাবীবার নাম্বার পেলো কোথায় ? আর ওর নাম্বারে টাকা পাটাতে চাইছে নাকি,? এই বয়সে বাবার ভীমরতি হইছে নিশ্চিত,, দূর কি সব আজগুবি কথা বার্তা ভাবছি,, বিষয়টি পুরো বুঝার জন্য বললাম....
.
-বাবা এই নাম্বারে টাকা দিবো না কি ?
-ধ্যাত বেটা, এই নাম্বার থেকে একটা বজ্জাত মেয়ে আমায় কল দিয়ে আজেবাজে কথা শুনিয়েছে, নেটওয়ার্কে সমস্যা ছিলো তাই ফোন কেটে গেলো। আর এখন আমার ফোনেরও ইমারজেন্সি ব্যালেন্স শেষ, তাই মেয়েটা বেঁচে গেলো।
-বুঝলাম না বাবা
-আরে বাপ তুই নাম্বারটা নিয়ে দোখানে যা।দোখানিরে গিয়ে জিজ্ঞেস করে দেখ আশে পাশের কেউ কি এই নাম্বারে টাকা রিচার্জ করে ? জানতে পারলেই এই মেয়েটাকে খুঁজে বাহির করা সম্ভব।
বাহ্ বাবার মাথায় তো অনেক বুদ্ধি আছে। ঠিক আছে বাবা বলে আমি বেরিয়ে পরলাম। রাস্তায় এসেই ঐ নাম্বারে ফোন দিলাম।
.
-হ্যালো হাবিবা?
-হ্যাঁ বাবুই কই আছো তুমি,?,,
-আমি তাল গাছের ডগায় আছি!
-কেন বাবুই, কি হইছে তোমার? এই ভরদুপুরে তাল গাছের ডগায় কি করো ? পেত্নি ধরছে নাকি তোমারে ?
-না গো ময়না, আমায় একটা কাউয়া পিছন দিকে বাঁশ দিছে ।
-কাউয়া বাঁশ দেয় কি করে ? কেন দিলো ?
.
-হারামজাদি দেখো কতো নাটক করে, যেনো 'ভাজা কই মাছ উল্টিয়ে খেতে জানেনা ' সে যে পুরো মাগুর মাছ গিলে খাইছে সেটা তো আমি ছাড়া আর কেউ জানেনা ।
- ছি,, বাবুই এভাবে কেউ নিজের ক্রাশরে গালি দেয়? আর এই সাঁজসকাল কি হইছে তোমার ?
-এই আমি তোর ফ্রেন্ড, তোর বফ নই, এতো লুতুপুতু করবিনা বলে দিলাম। ইয়ার্কি ছেড়ে ঠিক করে কথা বল।
-আচ্ছারে বাব্লু কি হইছে আগে সেটা তো বল
- এই তুই একটু আগে কার নাম্বারে ফোন করছিলে ?
-অহ্ রাত্রে তোর এই ফোনের ব্যালেন্স শেষ হওয়ার পরে, যেই নাম্বার থেকে তুই কল দিয়েছিলে, সকালে তোর এই নাম্বারটা অফ দেখাচ্ছিল, তাই ঔই নাম্বারটায় কল দিছিলাম ।
.
-কি বলছিস তুই কল দিয়ে ?
-তুই- ই তো কল রিসিভড করে বার বার হ্যালো,, হ্যালো,,,কে আপনি? , বলছিলি । তাই বললাম,,,, কি রে হারামজাদা তোর চোখে টাডা পরছে না কি ? তুই আমার নাম্বার ছিনিস না ?আর কানে শুনিস না নাকি? হ্যালো হ্যালো করছিস কেন ? তর কানের গোড়ায় দুইটা দিলেই শুনবি শালা এলিয়েন। এর পরই ফোনের লাইন কেটে গেলো।
.
-হায় আল্লাহ্ তুমি আমায় এই দুনিয়া থেকে উঠাওনা কেন ?
-কেন রে বাব্লু কি হইছে তোর ?
.
-অরে হাব্লিরে,, তুই তো আস্তো একটা হাব্লি ।
-আমার কিন্তু কান্না পাচ্ছে বাব্লু কি হইছে? সেটা বল,!
-আরে বেটি তুই যেই নাম্বারে কল দিছিস সেটা আমার বাপের নাম্বার, আর তুই যার সাথে কথা বলছিস সে আমি ছিলাম না, সে ছিলো আমার বাপ, তুই এত্ত বড় একটা গাধী! কোনটা আমার কন্ঠ আর কোনটা আমার বাপের কন্ঠ সেটাও বুঝিস না!
.
-আরে বেটা আমার কি দোষ ? ফোনে তো তোর ভয়েজ সব সময় বয়স্ক লোকদের মতোই শুনা যায় । কি করে বুঝবো কোনটা তোর ভয়েজ আর কোনটা তোর বাপের ?
-হায় খোদা এই বয়সে আমায় এই কথা শুনতে হইলো ?
.
তখন ইচ্ছে করছিল, কচু গাছের সাথে ফাঁস দিয়া মরি। আমি ২২+ আর আমার বাপ ৬২+ যদি কন্ঠ এক হয়, তাহলে বয়সের এতো ব্যবধান কেন ? সেটা আল্লাহ্ মালুম
.
-বাব্লু তর বাপরে কল দিয়ে সরি বলি ?
-এই না না, তুই কি আমার সর্বনাশ করতে চাস?
-না বাব্লু !
.
তাইলে তোর দুইটা ঠ্যাঙে পরি মা, কিছু সময়ের জন্য ফোনটা অফ করে রাখ। যদি বাবা কল দিতে পারে তাহলে তর বাপ দাদা চৌদ্দ গোষ্টীর ষষ্ঠী করে ছাড়বে। আর বাবা যদি একবার জানতে পারে তোর মত হাব্লি আমার বান্ধুপি(বান্ধবী) , তাহলে নিশ্চিত আমায় ঘর ছাড়া করবে ।
যাইহোক ২ ঘন্টা পর ফিরে এসে বললাম।,,,,
.
-বাবা এই নাম্বারটা আশে পাশের এলাকার কারো না , অন্য জায়গার হবে হয়তো, ছেড়ে দাও পরে আমি ইচ্ছে মতো ঝেড়ে দিবো মেয়েটারে।
-বাবা এবার রেগেমেগে বলে উঠলেন, ,,
তোর যা ইচ্ছে কর গিয়ে, তবে আমার ইচ্ছে করছে মেয়েটারে না,, মেয়েটার মার গালে দুইটা চর দিতে,এই রকম মেয়ে পেটে ধরার দায়। এই কথা বলে বাবা চলে হন হন ছুটে ফণ ফণ করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন ।
.
আমি এবার মাকে ডেকে বলতে লাগলাম,,,,,মা ও মা,,,,, , মা.. গো,,
.
-কি- রে বাব্লু এমন করে ডাকছিস কেন বাবা ?
-তুমি চুলায় আগুন দিছো মা ?
-না তবে এখন রান্না করতে হবে, এখন দিবো কেন বাব্লু?
-মা তোমার হাড়ি পাতিল যা আছে আমার মাথায় বসাও, আজ আমার মাথায় তুমি রান্না করো মা
-তুই পাগল হয়ে গেছিস বাব্লু,, দাঁড়া তর বাপেরে ডেকে আনি।
-না মা, সোনা মা আমার, বাপরে ডাকতে যেওনা!
-তাহলে কি হইছে তোর ?
-মাথা গরম হয়ে আছে মা, আগে তোমার আইস ব্যাগটা নিয়ে আসো, মাথাটা একটু ঠান্ডা করি, তার পর না হয় সব বলবো তোমায়,।
-আচ্ছা বাব্লু তুই বস এখানে আমি নিয়ে আসছি ।
.
জীবনে কিছু মুহুর্ত আছে যেগুলা অনেক প্যারাময় হয়, তবে এই গল্পের আনন্দ রস সেই প্যারা থেকেই নেওয়া ।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now