বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
---
-ভুলে গেছো আমায়?
-কিছু মানুষকে চাইলেও ভুলা যায়না।
-তুমি এখনো আমায় ভালবাসো?
-কমন ডায়লগ।
-তুমার কথার ধরণ সেই আগের মতই
আছে।
-হুম,শুধু মানুষটা বদলে গেছে।
-কারণটা হয়তো আমি!
-নাহ্,ভুলটা শুধু আমার।
-কি ভুল।
-বাদ দাও,পুরোনো দিনের কথা তুলে
আর কষ্ট পেতে চাইনা।
-নতুন কাওকে ভালবাসনি?
-তোমাদের মতন বড়লোকের কাছে
হয়তো ভালবাসা সস্তা,চাইলেই অন্য
কাউকে দিয়ে দিতে পারো।কিন্তু
আমাদের মতন মধ্যবিত্ত দের কাছে
ভালবাসা অমূল্য।একবার কাউকে
দিলে সেটা ফিরে অন্যকাউকে দিতে
পারিনা।
-জিজ্ঞাসা করবানা?কেনো ফোন
দিয়েছি!
-প্রয়োজন মনে করিনা।
-কিন্তু আমি জানানোটা প্রয়োজন
মনেকরি।
-হুম চাইলে বলতে পারো।
-আমি আবার তোমার জিবনে ফিরে
আসতে চাই।
-মধ্যবিত্তদের কাছে হারানো জিনিশ
ফিরে পাওয়ার উন্মাদনাটাই
অন্যরকম।
-আমায় আগের মতন করে ভালবাসবা?
-কাল লেক পাড়ে দেখা করো।
-তুমি ঢাকা থেকে এসেছো?
-বিকেল পাঁচটায় দেখা হবে।রাখি
বাই...
*
চোখে যখন হাজারো স্বপ্ন তখন
সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় "মধ্যবিত্ত"।
ইচ্ছে ছিলো প্রাইভেট কোনো
ভার্সিটিতে পড়ে জিবনিটা অন্য
ভাবে ইনজয় করবো।
কিন্তু আব্বুর স্বল্প স্যালারির কারণে
সেটা আর হয়ে উঠলোনা।
.
উপায়হীন হয়ে ফরিদপুর ন্যাশনাল
ভার্সিটিতে ভর্তি হই।
মধ্যবিত্তদের স্বপ্ন দেখার অধিকার
আছে,কিন্তু সেটা পূরণ হবার কথা
ভাবার অধিকার নেই।
তাই সব স্বপ্ন চাপা দিয়ে নিজের মতন
করে চলতে লাগলাম।
ভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর নিজের
লেভেলের কিছু বন্ধুও পেয়ে গেলাম।
সব মিলিয়ে ভালোই চলতে লাগলো।
কিন্তু শনি দোষে ভার্সিটি ভর্তি
দুইমাস পর এক মেয়ে বন্ধুত্বের হাত
বাড়ালো।
বড়লোক ঘরের কন্য,ডিমান্ড অবশ্যই বড়
বড়_ই হবে,সেই ভেবে এড়িয়ে চলে
গেলাম।
কিন্তু বালিকা পিছু ছাড়বার পাত্রী
নয়।
ছলেবলে-কৌশলে ঠিকি বন্ধুত্ব করে
ছাড়লো।
তখন থেকেই শুরু হলো ভার্সিটিতে
নিজের পকেট খরচ দ্বিগুণ নেওয়া।
রূপবতী কন্যা যদি আলাদা কেয়ার
করে তবে তার প্রেমে পড়ে যাওয়াটাই
স্বাভাবিক।
আমার বেলায়ো তার বিপরীত হলোনা।
মনের কথা "মিমকে" জানাবো
জানাবো করে সাহস করে একদিন
জানিয়েই দিলাম।
-মিম।
-হুম।
-একটা কথা বলার ছিলো।
-বল।
-ভার্সিটিতে আমার দেখা সবচেয়ে
সুন্দরী কে জানিস?
-কে?
-তুই।
-শুধু ভার্সিটির মধ্যেই?
-নাহ্,সাড়া পৃথিবীতে।
-হিহিহি...
-আমি সেই সুন্দরীর প্রেমে পড়ে
গেছি।
-কিইইইই[চোখ বড় বড় করে]
-হুম
-জানিস রফি আমিওনা একটা
পাগলের প্রেমে অনেক আগেই পড়ে
গেছি[উদাস মনে]
-ওওও,আগে বলবিনা[মুখে একমুঠো
মিথ্যে হাসি নিয়ে]
-হুম,কিন্তু সে আজ বললো তাঁর
ভালবাসার কথা।
-মানে।
-হিহিহি।
.
হাসির মানেটা হয়তো সেদিন
বুঝেছিলাম।
তারপর থেকেই শুরু হলো আমাদের
দুজনার পথ চলা।
রাত জেগে কথা বলা,এক সাথে ঘুরতে
যাও,পাশাপাশি বসে গল্প করা আর
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুজন দুজনের
এত্তগুলো কেয়ার করা সবি ছিলো
আমাদের মাঝে।
কিন্তু আমার মনে রাখা উচিৎ
ছিলো,আমি মধ্যবিত্ত সন্তান।
আব্বুর কষ্টের রোজগার এভাবে নষ্ট
করা ঠিক নয়।
কিন্তু মিমের প্রেমে আমি পুরোটাই
অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।
.
সব তো তাও ভালোই চলছিলো,কিন্তু
সব কিছুর মাঝে তুফান এলো যখন আমি
অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা না দিয়েই
আব্বুর অনুমতিতে ঢাকা কাকার
কোম্পানিতে চলে গেলাম।
ঢাকা যাবার কয়েক মাস পর থেকে
মিম কেমন বদলে গেলো।
আগের মতন আর রাতে কথা হতোনা।
"শুভো সকাল" মেসেজটাও হারিয়ে
গেলো।
না চাইতেও এক সন্দেহ সৃষ্টির কারণে
এক বন্ধুকে খোঁজ নিতে বললাম।
অভাগা এক আমি জানতে পারলাম
মিম অন্য কারো প্রেমে হাবুডুবু
খাচ্ছে।
নিজের রাগকে আর সামলাতে না
পেরে সরাসরি ফোন দিয়ে তাঁর
কার্যকলাপের কথা বললাম।
ভেবেছিলাম হয়তো সে সরি বলে
আবারো আগের মতন শুধু আমায়ি
ভালবাসবে।
কিন্তু আমার সব ভাবনাকে মিম ভুল
প্রমাণ করে আমায় হাজার ভাবে
অপমান করে ফোন রেখে দেয়।
সব কথার মাঝে একটা কথাই মনে
বেঁধে যায় "তুই আমার বাড়ির চাকরের
সমতুল্য,চাকরের জায়গা পায়ের
কাছে।সো নিজের স্থানে থাকতে
শিখ"
.
কথাটা ভাবতেই নিজের ভেতরে এক
জেদ তৈরী হয়।
এদিকে আমার কাজের মনোভাব
দেখে কাকা আরো ভালো একটা
কম্পানিতে চাকরী পাইয়ে দেয়।
তারপর নিজে থেকেই একটা কম্পানি
দেই।
আর আজ দীর্ঘ তিন বছর কষ্ট সাধ্যের
পর কিছুটা সফলতা পাই।
মিম হয়তো এর কিছু জানেনা।
.
ভেবেছিলাম মিমের বিয়ে হয়ে
গিয়েছে,কিন্তু এখনো কেনো যে
অবিবাহিতা সেই প্রশ্নটাই মাথায়
ঘুরপাক খাচ্ছে।
অবশেষে প্রশ্নের উত্তরের আশায়
বিকেলে লেক পাড়ের উদ্দেশ্যে রওনা
দিলাম।
গিয়েই দেখতে পেলাম বালিকা উদাস
হয়েভবসে আছে।
তিন বছর পর তাঁর দেখা পাবার পরেও
চিনতে ভুল হলোনা।
কিন্তু ভাবনা একটাই মিম কি আমায়
এই নতুন রূপে চিনতে পাবে?
-মিম...
-রফি?[অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে]
-হুম,আজ দেখা করার একটাই কারণ।
আমার কিছু অংক অমিল রয়ে গিয়েছে।
-হুম,বলো।এক এক করে শলভ করে দিই।
-আমার ভালবাসা কি তোমার কাছে
যথেষ্ট ছিলোনা?
-আসলে আমি তোমার ভালবাসা আগে
বুঝতেই পারিনি।
-হুম বুঝলাম,আমায় আবার ফিরে পেতে
চাওয়ার কারণ?
-এখন তোমার ভালবাসা বুঝতে
পেরেছি।
-সবচেয়ে মূল্যবান প্রশ্ন,এখনো বিয়ে
করনি কেনো?
-তোমার অপেক্ষায়।
-মানে!
-তুমি ঢাকা যাবার পর হিমু নামে এক
ছেলের সাথে রিলেশনে জড়াই।আড়াই
বছরের রিলেশন পর ছেলেটা বিদেশ
চলে যায়।আমার থেকে সম্পূর্ণ গোপন
করে।পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি
তাঁর বউ রয়েছে।নিজের প্রতি লজ্জা
আর ঘৃণা হয়।পরে তোমার অপেক্ষায়
থাকি।জানি তুমি ফিরিয়ে দিবেনা।
কিন্তু বয়স পেড়িয়ে যেতে থাকার
কারণে বাসা থেকে বিয়ের জন্য
অনেক চাপ দেয়।এমনকি ছেলেও ঠিক
করে ফেলে।উপায়হীন হয়ে অবশেষে
তোমায়_ই ফোন দিই।
-চলো তবে কাজী অফিসে।
-সত্যি।
-হুম।
.
বিয়ে করে মিমকে বাড়ি নিয়ে
যাচ্ছি।
জানি আব্বু-আম্মু দেখে মোটেও কষ্ট
পাবেনা।
কারণ তারা জানে তাদের ছেলে
অনেক বদলে গেছে।
এখন যেই সিদ্ধান্তই নেক না ক্যানো
অবশ্যই সেটা ভুল সিদ্ধান্ত হতে
পারেনা।
*
*
দুজনেই এখন বাসরঘরে বসে আছি।
যদিও ঘরটা খুব স্বল্প সময়ে সাজানো
হয়েছে,তবুও দেখতে খুব একটা খারাপ
হয়নি।
এখানেও হয়তো টাকার খেলা।
-মিম!
-হুম।
-৬মাস পর তোমায় ডিভোর্স দিবো।
-মানে![অবাক হয়ে তাকিয়ে]
-মানেটা খুব সোজা।আমাদের লেভেল
খাটেনা।
-কিন্তু সত্যি আমি আর আমার বাবার
টাকার বড়াই করবোনা।
[শুনে মুখের হাসিটা আটকাতে
পারলাম না]
-বাদ দাও,এর বিপরীত দ্বিতীয় শর্ত
আছে।
-কি!
-আমাদের মাঝে কোনো শারীরিক
সম্পর্ক থাকবেনা।আর আমার প্রতিটা
কথা মেনে চলতে হবে।যেদিন অমান্য
করবা সেদিন ডিভোর্স দিয়ে দিবো।
-হুম।
-বলো কোন শর্তে রাজী?
-আমি যেকোনো কিছুর মূল্যে শুধু
তোমার পাশে থাকতে চাই।আমায়
ডিভোর্স দিওনা প্লিজ।
-গুড চয়েস।এবার তবে পাঁচ মিনিটের
মধ্যে ঘুমিয়ে পরো।
-কিন্তু পাঁ......
[আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চোখ
গরম করে তাকালাম।
না চাওয়া সত্তেও চোখ বুজে ঘুমের
নাটক করতে বাধ্য হলো।
১০মিনিট পর আমি ছাদে গিয়ে
নিকোটিনের ধোঁয়াই ভেতরটাকে
পোড়াতে লাগলাম।
পরেরদিন মিমকে নিয়ে ঢাকা ফিরে
যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম।
আব্বু-আম্মু প্রথমে মানা করলেও এক
মাস পর ফিরে আসার কথা শুনে তারাও
রাজি হয়ে গেলো।
.
ঢাকা ফিরে নিজের পার্সোনাল
গাড়ির ড্রাইভারকে ফোন দিলাম।
দশ মিনিটে ড্রাইভার বাস স্টান্ডে
গাড়ি নিয়ে হাজির।
গাড়িতে ওঠার পর মিম শুধু জিজ্ঞাসা
করেছিলো "কার গাড়ি"
উত্তরে যখ একটা হাসি পেয়েছিলো
তখন আর কিছু বলেনি।
গাড়ি থেকে নামার পর গেটম্যান
সালাম দিলো "মিম শুধু অবাক হয়ে
আমার দিকে তাকালো"।
ভেতরে যাবার পর মিম আর চুপ
রইলোনা।
-এই একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো!
-করো।
-এত্ত বড় বাড়ি কি তোমার?
-হুম।
-ওয়াও,তবে ভাড়া দাওনা কেনো?কত্ত
গুলা ফ্লাট খালি।
[কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না।হাসতে
হাসতে আমি শেষ।অবশ্য সবটা না
জেনে এমন প্রশ্ন কড়াটাই স্বাভাবিক]
রাতে একটা পার্টি ছিলো।
স্পেশাল ভাবে ইনভাইট কড়ায় না
গিয়ে পারলাম না।
-মিম রেডি হয়ে নাও।
-আচ্ছা,কোথায় যাবো?
-পরে জানতে পারবে।আমি কাপড় এনে
দিচ্ছি ওগুলো পড়ো।
-আচ্ছা।
[দেখে মনে হলো,মেয়েটা খুব খুশি
হয়েছে।
কিন্তু অবাক হলো যখন কমদামী একটা
শাড়ি এনে হাতে ধরিয়ে দিলাম।
.
দুজনে রেডি হয়ে বেড়িয়ে পরলাম।
আমার পাশে মিমকে কিছুটা বেমানাই
লাগছে।
পার্টিতে গিয়ে মিমকে কিছু
মেয়েদের মাঝে ছেড়ে দিয়ে দূর
থেকে শুধু দেখতে লাগলাম।
কিছুক্ষণ বাদে বালিকার মুখ দেখে
আর বুঝতে বাকি রইলোনা সে
অপমানিত হচ্ছে।
তারপর তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে
এলাম।
মিম একদম নির্বাক হয়ে গিয়েছে।
আমিওতো হয়েছিলাম যখন সে আমায়
অপমানিত করেছিলাম।
বাড়ি ফিরে অনেক ক্লান্ত লাগছে।
-মিম।
-হুম।
-আমার খুব ক্লান্ত লাগছে,পা-টা একটু
টিপে দাও।
-আচ্ছা।
[আমি পাশানের মতন শুয়ে আছি,আর
মিম আমার পা টিপে দিচ্ছে।
জানি আমার যতটা ক্লান্ত লাগছে
ততোটা ক্লান্ত মিমেরও লাগছে]
-এই একটা কথা বলবো?
-বলো।
-আব্বু-আম্মুকে এখানে নিয়ে আসোনা
ক্যানো?
-বলেছিলাম আসতে।কিন্তু তারা
সেখানেই থাকতে চায়।
-ও,আর একটা কথা জিজ্ঞাসা করি?
-হুম।
-তোমার এতকিছু কিকরে হলো?
-বলতেপারো এখানে তোমার
অবদানটাই সবচেয়ে বেশি।
-কিকরে!
-বাদ দাও,এখন তুমি চাইলে ঘুমাতে
পারো।
-আচ্ছা।
.
সকালে ফ্রেস হয়ে গাড়ি ছাড়াই
মিমকে নিয়ে ঘুরতে বেড় হলাম।
রোদের সাথে আমার ছোট বেলার
সম্পর্ক।
তাই তার থেকে আড়াল না হলেও চলে।
কিন্তু বালিকার,রোদ দেখলেই ছাতা
ফোটানোর অভ্যাস।
সেখানে আজ তার রোদের মুখোমুখি
হয়ে হাঁটতে হচ্ছে।
সাদা মুখটা তাপে লাল হয়ে গিয়েছে।
পুরো মুখ ঘিরে ঘাম বেয়ে পড়ছে।
হেঁটে যখন আমিও ক্লান্ত তখন একটা
রিক্সা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা
দিলাম।
বাড়ি ফিরে...
-মিম।
-হুম।
-রান্না করতে জানো?
-অল্প।
-ফ্রিজ থেকে মাংস বেড় করে রান্না
করে নিয়ে এসো।
-আচ্ছা।
-আর শোনো।
-কি।
-চুলায় রান্না করবা,গ্যাসে একদম হাত
দিবেনা।
-আচ্ছা[নরম শুরে]
১ঘন্টা পর রান্না করে নিয়ে এলো।
আমি এক টুকরো মাংস মুখে দিয়েই
পুরোটা মাটিতে ছুরে ফেলে দিলাম।
পরে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার অর্ডার
করে দুজনে ব্রেকফাস্ট সেরে নিলাম।
.
প্রায় মাঝরাত।
মিম ঘুমিয়ে আছে।
জাগানোর জন্য কয়েকবার ডাক
দিতেই জেগে গেলো।
-ডাকলে যে।
-শোফার রুমে দেখো সিগারেটের
প্যাকেট রাখ আছে নিয়ে এসো।
-আচ্ছা।
[কিছুক্ষণ পর চিল্লান দিয়ে উঠলো।
দৌড়ে গিয়ে দেখলাম মাটিতে পরে
আছে।
তারমানে কাজ হয়েছে।
তবে যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে
একটু বেশীই হয়ে গিছে।
শোফার ওপরে রাখা খেলনা সাপ আর
পুরো ঘর জুড়ে ভুতের পোষ্টার দেখে
জ্ঞান হারিয়েছে।
পরিস্থিতি সামলাতে বেডরুমে এনে
মুখে পানির ছিটা দিতেই চোখের
পাতা মেললো।
সারারাত জেগে বালিকাকে পাহারা
দিলাম।
*
পরেরদিন সকালে হতেই মিমকে নিয়ে
বেড় হলাম।
আমার কোম্পানিটা দেখানোর
উদ্দেশ্যে।
তবে সেটা মিমকে জানাইনি।
.
গাড়ি এসে এক বিশাল কোম্পানির
সামনে থামলো।
মিমকে নিয়ে ভেতরে যেতেই অবাক
হয়ে দেখতে লাগলো।
হঠাত মিম আমার ম্যানেজারকে দেখে
চমকে উঠলো।
চমকানোরি কথা,কারণ এটা আবিরের
বড় ভাই।
.
সেখান থেকে দুপুরে বেড়
হলাম,রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে।
রেস্টুরেন্টে গিয়ে শুধু একজনের
খাবার অর্ডার করলাম।
মিম আমার দিকে একবার তাকিয়ে মুখ
অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিলো।
কিছুক্ষণ বাদে ওয়েটার এসে খাবার
দিয়ে গেলো।
মিমকে আমার পাশে এসে বসতে
বললাম।
ও মাথা নিচু করে এসে আমার পাশে
বসলো।
যখন খাইয়ে দিতে গেলাম মেয়েটা
কান্না করে ফেললো।
আমি খাইয়ে দিচ্ছি আর বালিকা
বৃষ্টি ভেজা চোখ নিয়ে আমার দিকে
চেয়ে রইলো।
-আমায় খাইয়ে দিবেনা?
-হুম[চোখের পানি মুছে]
-একটা কথা বলবো?
-হুম।
-আমার প্রতি এখন থেকে বৌ হিসেবে
তোমার সব অধিকার খাটাবা।
-তোমার মোবাইলটা এখটু দাও।
[বালিকা মোবাইল হাতে নিয়ে
কিছুক্ষণ নেড়ে-চেড়ে আমায় জড়িয়ে
ধরলো।
কারণটা হয়তো গ্যালারি ভরপুর ওর
সবকয়টি ছবি।
তবে যাই হোক,অনেক কষ্ট দিয়ে
ফেলেছি।
এখন ভালবেসে কষ্টগুলো মুছে দেবার
সময়।]
:-তাকে কষ্ট দিয়েছি প্রতিশোধ নিতে
নয়,
আবারো ছেড়ে যাবে কি না যাচাই
করতে।
"ভালবাসায় কোনো প্রতিশোধ হয়না"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now