বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(আমার ১ম লিখা কোনকিছু, মতামত জানাবেন অবশ্যই)
“মাহিনের ফেরা”
-এস.এম.আহমেদ নিলয়
...................................................................................................
‘তুমি কে?’
‘আমি? আমি জীবন’ ডান দিক থেকে বলল কেউ।
‘আর আমি মৃত্যু’... অপর পাশ থেকে আসলো।
মৃত্যু বলল ‘ জীবন অনেক রঙিন, তুমি সহ্য করতে পারবে না ওকে। তুমি আমার কাছে আসো, অন্ধকারে আসো’।
আমি মৃত্যুর কথা শুনি। “ভাবি, আসলেইতো, জীবনেরপথে গেলে এতো রং সহ্য করতে পারবো তো আমি? আমি তো রঙিন না, আমি ধুসর, আমি মধ্যবিত্ত”।
ওদিক দিয়ে জীবন বলে,
‘তুমি ওর কথা শুনোনা, তুমি আমার পথে আস, হাজার রঙের মাঝে হারিয়ে যাও, খুজে নাও তোমার অস্তিত্ত। তোমার ধূসর রঙকে রাঙিয়ে তুলো হাজার রঙে’।
“কিন্তু আমার যে ভয় হয়? ওখানে রঙের মাঝে যদি মিশতে না পারি?”।
জীবন বলে, ‘পারবে না কেনো? চেষ্টা করলে সবাই পারে’।
“কিন্তু সবাই তো পারে না”।
‘সবাই পারে না কারন তারা চেষ্টা করে না।। ওরা অন্ধকারে চলে যায় কারন আঁধারের পথ হয় মসৃণ কিন্তু আলোর পথ, জীবনের পথ হয় বন্ধুর, এখানে টিকে থাকতে হয়’।
ওদিকে আঁধার বলে, ‘ওর কথা কি শুনছ? ওখানে তুমি পারবে না, তোমার রাস্তা নয় ওটা। তুমি আমার দিকে আস, আমার রাস্তায় কোন বাধা নেই, নেই কোন কষ্ট। তোমার ধূসর জীবনে আমি এক নিমিষেই অন্ধকার করে দিব। ওটাই সহজ পথ, কি দরকার খালি খালি কষ্ট করার? তুমি এদিকে এগোও’।
আমি এটা শুনে আস্তে আস্তে এগুতে থাকি আঁধারের দিকে, আর তখনি জীবন গর্জে উঠে,
‘তুমি কি ভীতু, কাপুরুষ? কাপুরুষের রাস্তাই সহজ হয়, তারা বন্ধুর পথে হাটতে ভয় পায়। নাহ! তুমি তো এমন ছিলে নাহ! তোমার কতও স্বপ্ন ছিল, রঙিন স্বপ্ন। তুমি না দুনিয়াটা রাঙিয়ে দিতে চেয়েছিলে? কোথায় সে স্বপ্ন?’।
জীবনের কথা শুনে আমি থমকে দাড়াই, কোথায় যেন হারিয়ে যাই। হ্যা মনে পরে, আমি তখন ছোট,সামনে একটা খাতা, হাতে রং-পেন্সিল। আমি খাতার মধ্যে পৃথিবীটাকে রঙিন সাজে সাজাতে থাকি, কত রঙে রাঙাই পৃথিবীটাকে! সাথে আরও কয়েকটা নতুন রং ও কিভাবে যেন তৈরি হয়ে যায়। আমার ঠোটের কোনে এক চিলতে হাঁসি ফুটে উঠে, বহুদিন পরে।
আঁধারের কথায় আবার আমার চিন্তার ছেদ পরে, ‘বোকা নাকি? থামলে কেন? আস আমার দিকে, আর একটু, তাহলেই আলো তোমাকে আর ছুতে পারবে না। তুমি বোকাদের মতন আবার স্বপ্ন দেখছ? তুমি না মধ্যবিত্ত, তোমাকে না বলেছি মধ্যবিত্তের স্বপ্ন দেখা মানা?’।
আমি মাথা নিচু করে থাকি।
আঁধার আবার বলে, ‘ আরে বোকা আমি তো তোমার ভালোর জন্যই বলি। দেখ না, স্বপ্ন দেখে কত মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে? আমি তো তোমাকে মুক্তি দিতেই বলি যে এমন বোকাদের মত স্বপ্ন দেখো না। তুমি আসো আমার দিকে’।
আমি মনের অজান্তেই একপা দুপা করে এগোতে থাকি, মৃত্যু হাঁসে আর জীবন হুংকার দেয় আবার,
‘খামোশ... স্বপ্ন দেখার অধিকার সবার। স্বপ্নই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, তুমিও বাঁচবে স্বপ্নের মাঝে। আলোর পথে এসো, স্বপ্ন নিয়ে বাঁচো’।
আমি থমকে দাড়াই। জীবন আবার বলে,
‘তুমি যে বড় হবার স্বপ্ন দেখতে টা ভুলে গেছ? তোমার মায়ের সব দুঃখ দূর করে দিবে সেটা? আর ঐ মেয়েটা? যাকে তুমি ভালবেসেছিলে, যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলে তাকে তুমি ভুলে গেছ?’
সাথে সাথে আমার মনে পরে আমার স্বপ্ন গুলার কথা আর ওর কথা। আমার রঙিন দিনগুলোর কথা।
আর তখনই আঁধার বলে, ‘তুমি আবার ঐ মেয়েটার কথা চিন্তা করছ? বলেছিলাম না ভালবাসা মানে কষ্ট?
ওসব ভালবাসা মধ্যবিত্তদের জন্য না’
আমি এসব শুনে আবার একটু এগোতে থাকি।
তখন জীবন বলে, ‘থামো!!! তুমি ওকে কি থামানোর চেষ্টা করেছ? কল দিয়েছ ওকে একবারও? চেষ্টা না করেই কিভাবে বললে যে ও তোমাকে ভালবাসত না? এমনকি ও যখন চলে যাচ্ছিল তখনও একবার ডাক দাউনি ওকে তুমি। আঁধার তোমাকে বোকা বানাতে চাচ্ছে, তুমি ফিরে এসো, স্বপ্ন দেখ আবারও, আবার ভালবাস, এগিয়ে যাও, এসো জীবনের পথে, তোমার জীবনকে রাঙিয়ে দাও শত রঙে, ভেঙ্গে ফেল মধ্যবিত্তের দেয়াল’।
আমি আবার আশা পাই, “আমি পারব, অবশ্যই পারব, আমি বেঁচে থাকবো। আমি জানি আমাকে মরতে হবে, সবাইকে হবে। এটা ধ্রুব সত্য। তাই বলে কি বাঁচার আশা থাকবে না? আমি সেই মৃত্যু চাইনা যেখানে আমার শুধুই মরণ হবে, আমি চাই মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে আমি অমর হব”।
এই বলে মাহিন দৌড়াতে থাকে আলোর দিকে, জীবনের দিকে আর তার ধূসর বর্ন রঙিন হতে থাকে।
...........................................................................................................................
ঘুম ভেঙ্গে যায় মাহিনের। কিছুক্ষণ বুঝতে পারেনা কোথায় সে। পরে আবিষ্কার করে যে সে তার অন্ধকার রুমের কোণায়। ধোঁয়ায় ভর্তি সারা ঘর। দেখে পাশের ছাইদানি সিগেরেটের ফিল্টার আর ছাইয়ে ভর্তি। স্বপ্নটার কথা ভাবে সে, শেষের লাইন গুলো খুব মনে পরে- “আমি পারব, অবশ্যই পারব, আমি বেঁচে থাকবো। আমি জানি আমাকে মরতে হবে, সবাইকে হবে। এটা ধ্রুব সত্য। তাই বলে কি বাঁচার আশা থাকবে না? আমি সেই মৃত্যু চাইনা যেখানে আমার শুধুই মরণ হবে, আমি চাই মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে আমি অমর হব”।
সে বদলাবে, সে আলোর পথে যাবে এখন থেকে, অন্ধকারে আর না।
উঠে পর্দা সরিয়ে জানালাটা খুলে দেয়, আলোময় হয়ে পরে ঘরটা, ভাল্লাগে তার বহুদিন পরে। টেবিলের উপর থেকে স্মার্টফোন টা নেয় সে। মনে পরে যায় তার, মা তাকে কিনে দিয়েছিল গতবছর, তার জন্মদিনে। সে জানে তার মা কি কষ্ট করে নিজের দরকারি জিনিস না কিনে তার জন্য টাকা জমিয়ে এটা কিনেছিল তার জন্য। মার নাম্বার টা বের করে কল দেয় ...
“ হ্যালো মা...” আর কিছু বলতে পারে না সে।
“বাবা তুই, হঠাৎ ফোন দিলি যে?” মাহিনের মনে পরে যে গত ৭ দিনে তার মার সাথে কোনও যোগাযোগ হয় নি তার।
“মা?... সরি মা, আমাকে মাফ করে দিও। আমি আবার তোমার আগের মাহিন হয়ে থাকবো মা”। এই বলে কেঁদে দেয় মাহিন।
“ধুর বোকা, মা কি কখনো রাগ করে থাকে?”
“মা এখন ছাড়ছি ফোন, পরে আবার আমি ফোন দিব”
“ভাল থাকিস বাবা, খেয়ে নিস”
এই বলে মাহিন রেখে দেয় , তার অনেক দিন পর ভাল লাগে, অনেক ভাল।
আর ফোনের অপর পাশে মাহিনের মার দু গাল বেয়ে অশ্রু ঝিরে কিছুটা কিন্তু তাও সে খুশি আজকে।
কিছক্ষন পরে মাহিন আরেকটা নম্বর বের করে কল দেয়। কয়েকবার রিং একটা সুমিষ্ট মেয়ের কণ্ঠ শোনা যায়-
“হ্যালো”
চুপ করে থাকে মাহিন। কি বলবে খুঁজে পায় না।
“আচ্ছা রাখলাম” –বলল মেয়েটি।
“না, শোনো... আই অ্যাম সরি”।
“এটা বলতে ৮ মাস লাগল!!!”- বলে কাঁদতে শুরু করল মেয়েটি।
মাহিনের গানের গলা বেশি ভাল না হলেও তেমন খারাপ না। অনেক দিন পর আবার সুরে সুরে আহির কে বলল-
“তুমি কি আমায়, আগের মতো বাস-ভাল”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now