বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মাদুলি

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মাদুলি ------- সবেমাত্র টেবিলে বসে অমলেটটার এক-তৃতীয়াংশ শেষ করেছি, বিকট শব্দে ফোনটা বেজে উঠল। হাতে নিয়ে দেখি অাজিজের কল। অাজিজ অামার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, গত একমাস ওর কোনো পাত্তা ছিল না। হঠাৎ করে এতদিন পর কী মনে ফোন করল কে জানে। রিসিভ করতেই অামুদে গলায় বলে উঠল, " কীরে নাসের, কী অবস্থা?" -"অবস্থা তো ভালোই কিন্তু তোর কোন খোঁজখবর নাই কেন? কোথায় ছিলি?" -"একটু গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম অাম্মাকে দেখতে। কিন্তু একটু বেশিই দেরি হয়ে গেল।" -"ভালোই করেছিস। কিন্তু যাবি ভালো কথা একটা ফোন তো করতে পারতি! কথা নাই বার্তা নাই একটা মানুষ একমাস ধরে লাপাত্তা!" -"কী করব বল ওইখানে একদমই নেটওয়ার্ক পাই না! এই অবস্থায় কীভাবে ফোন দিব?" -"অাচ্ছা বুঝলাম। কিন্তু এখন কী মনে করে ফোন করলি?" -"তুই অামার বাসায় অায়, ওইখানে বলি।" সাথে সাথে ফোন কেটে দিল অাজিজ। ওর বাসায় কথা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকলেও যাব যাব করে তিন চার দিন কেটে গেল। চারদিনের মাথায় অাবার অাজিজের ফোন, "নাসের তুই তাড়াতাড়ি বাসায় অায়। খুব দরকার।" এটুকু বলে হুট করে লাইনটা কেটে দিল। অামি অার দেরি করলাম না। ফোনে কথা বলার সময় ওর গলা যেন কেঁপে কেঁপে উঠছিল! ওটাই অামার চিন্তার কারণ। ওর গলার অাওয়াজ শুনে মনে হচ্ছিল বিপদে পড়েছে সে। অার সে বিপদটাও নেহাতই ছোট নয়! . . . অামার বাসা থেকে রিকশায় অাজিজের বাসায় যেতে অাধাঘণ্টা লাগে। অাধঘণ্টা পর অাজিজের দরজায় টোকা দিলাম। বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেল তারপরও কেউ দরজা খুলল না। অামি অধৈর্য্য হয়ে দরজায় জোরে ধাক্কা দিতেই দরজায় চাপা শব্দ করে ফাঁক হয়ে গেল! অামি ভেতরে ঢুকতেই যেন হালকা বাতাস বয়ে গেল বাসার মধ্যে! অাজিজকে ডাকতে ডাকতে অামি ওর শোবার ঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম। ঘরে ঢুকে দেখি ও মেঝেতে উপুর হয়ে শুয়ে অাছে! এ অবস্থা দেখে একটা অজানা অাশংকা মাথার ভিতর ঘুরপাক খেতে লাগল।ও বেঁচে অাছে তো! পরীক্ষা করে দেখলাম হৃদস্পন্দন ঠিকই হচ্ছে। ও বেঁচে অাছে দেখে নিশ্চিন্ত হলাম। কিছুক্ষণ চেষ্টাচরিত্র করে ওর জ্ঞান ফেরালাম। তারপর ও তোতলাতে তোতলাতে অামাকে যা বলল তার সারমর্ম মোটামুটি এই- ও গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পর অাবদুস সালাম নামে এক অদ্ভুত লোকের সাথে ওর দেখা হয়। উনি কী করেন সেটা কেউ পরিষ্কার করে জানে না। তবে তাঁর বাড়িতে তন্ত্রমন্ত্র অার জাদুটোনার উপকরণ দেখে অনেকেই তাঁকে ভয় পায়। সেই অাবদুস সালামের সাথে কীভাবে কীভাবে যেন ওর ভালোই খাতির হয়ে গেল। প্রায়ই ও সেই বাড়িতে গিয়ে বসে থাকত অার তাঁর সাথে গল্প করত। সেই লোক নাকি তাঁর ছোটবেলার কথা বলতেন, কীভাবে তার বাপ দাদারা ভারত থেকে পালিয়ে এলেন, তারপর এই দেশে বসতি গড়ে তুললেন, এইসব। অাজিজ প্রায়ই সে বাড়িতে অদ্ভুত তন্ত্রমন্ত্র টাঙানো দেখে এগুলোর কথা জিজ্ঞেস করত, কিন্তু তিনি এসব কথা নাকি এড়িয়ে যেতেন। তিনি কী করেন সে কথাও কিছু বলেননি। বিয়ে করেননি, তিনকূলে কেউ নেই। গ্রামে একা মানুষ অার কী করে খাবে, নিশ্চয়ই অন্যদের কাছে হাত পাতেন, যৎসামান্য যা পান ওটা দিয়েই দিন চলে যায়। এটা ভেবেই অার ওনাকে ঘাটায় নি। একদিন ওনার বাড়িতে গিয়ে নাকি ও খাম্বার সাথে ঝোলানো মাদুলির মত কিছু একটা দেখতে পায়। কৌতুহলী হয়ে ও জিনিসটা হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখছিল। কিছুক্ষণ পর অাবদুস সালাম ঘরে ঢুকে ওর কাণ্ড দেখে তৎক্ষণাৎ ওটা ছিনিয়ে নেন। খানিক বকাঝকাও করেন। তারপর ওকে বলেন এরপর থেকে একটু সাবধান হতে। অাজিজ রাগ করে বাড়ি চলে যায় অার সেই রাতেই ও স্বপ্নে ভয়ংকর কিছু একটা দেখে। পরদিন সকালেই ও চলে অাসে। কিন্তু ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন ওর পিছু ছাড়ে না। ও নাকি সে রাতেও স্বপ্নে দেখে একটা লালমুখো লোক ছোরা নিয়ে ওকে তাড়া করছে। ও নিজের দুঃস্বপ্ন নিয়ে অামার সাথে কথা বলতে চাইছিল। মাঝের দুইদিন ও এসব ভুলে গিয়েছিল। কিন্তু কালকে রাতে শুতে যাবার অাগে ও নাকি দেখতে পায় ওর ঘরের দরজাদদ সামনে থেকে কেউ একজন সরে গেল। ও একাই বাসায় থাকে। তাই একটু সতর্ক হয়ে ও বসবার ঘরের দিকে অাস্তে অাস্তে এগোল। বসার ঘরে ঢুকে ও লাইট জালিয়ে কিছুই দেখতে পেল না। কিছুক্ষণ কিচেন অার ডাইনিং রুমে খোঁজাখুঁজি করে শোবার ঘরে ঢুকতেই ভয়ে একেবারে জমে গেল। স্বপ্নে দেখা সেই লালমুখো লোক! কালো একটা অালখেল্লা গায়ে! হাতে হুবহু স্বপ্নে দেখা সেই ছোরাটা! মনে হচ্ছে যেন স্বপ্ন থেকে জিনিসটা বের হয় এসেছে ওকে মারার জন্য। চিৎকার করে উঠে ও। পরমূহুর্তেই ওটা উধাও হয়ে গেল। মনে হল যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল! মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে চার্জ শেষ। বাকি রাতটা ও না ঘুমিয়ে দোয়াদরুদ পড়ে কাটিয়ে দিল। সকালে একটু সাহস পেয়ে মোবাইল চার্জে ঢুকিয়েই অামাকে ফোন দেয়। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে অামাকে অাসতে বলেই কেটে দেয় ও। একটু পরেই অাবারও দেখে সেই লালমুখো লোকটাকে! একহাত দূরে দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বের করে হাসছে। নিঃশব্দ সেই হাসি যেন পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত হাসি! অাজিজ চিৎকার করে সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে গেল। জ্ঞান ফিরতে অামাকে দেখে যেন কিছুটা স্বস্তি পেল ও। একটু পর হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল ও! অামার মায়াই হলো ওকে দেখে। ওসব তন্ত্রমন্ত্রের মতো গাঁজাখুরিতে অামার বিশ্বাস নেই। ও গ্রামে গিয়ে অাবদুস সালামের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। তাই লোকটার সতর্ক করা কথা শুনে ও কিছুটা হলেও প্রভাবিত হয়। স্বপ্নে ওরকম কিছু একটা দেখে ও ভয় পেয়ে যায়। তীব্র ভয় ওর মনে হ্যালুসিনেশনের জন্ম দেয়। অামি বললাম," অাজকেই তোকে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যাব।" ও রাজি হয়ে গেল। এক নামকরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গেলাম। উনি ঘসঘস করে একগাদা ওষুধ লিখে দিলেন। অার ওকে একা রাখতে নিষেধ করলেন। অাজিজ ওর চাকরি থেকে লম্বা ছুটি নিয়ে নিল। অামি অাজিজের বাসায় ওর সাথে থাকা শুরু করলাম। ধীরে ধীরে ওর অবস্থার উন্নতি হতে লাগল। ওর ভয়টা অাস্তে অাস্তে কেটে গেল। ডাক্তারের দেয়া ওষুধ খেয়ে ওর রাতে গাঢ় ঘুম হত। স্বপ্নেও ও অার কোনো লালমুখোর তাড়া খায় নি। দেড়মাস পর ও সুস্থ হয়ে উঠল। অফিসেও অাবার যাওয়া শুরু করল। অামি অামার বাসায় চলে অাসলাম। তারপরও প্রতিদিনই ওর সাথে যোগাযোগ করতাম। প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার অাগে ওকে মোবাইলে একটা মেসেজ করে দিতে বললাম। ও বাধ্য ছেলের মত প্রতিরাতেই ছোট করে একটা মেসেজ পাঠাতো। কয়েকদিন পর সন্ধ্যাবেলায়ই ওর একটা মেসেজ পেলাম।বিচ্ছিন্ন কয়েকটা শব্দ লেখা তাতে- শয়তান,মাদুলি, রক্ত, বাঁচা - এরকম কিছু শব্দ। এক মূহুর্ত সময় নষ্ট করলাম না। যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি ওর বাসায় পৌছুতে চেষ্টা করলাম। শেষপর্যন্ত ওর বাসায় পৌঁছে দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দিতে লাগলাম। কেউ খুলছে না দেখে চিন্তায় পড়ে গেলাম। ওর নাম ধরে ডাকতেও কেউ সাড়া দিল না। অাজিজ বেশ নির্জন এলাকায় থাকে। কাছাকাছি কোন বাসা নেই যে লোক ডাকবো। শেষে রাস্তা মেরামতের কাজ করতে থাকা কিছু ষণ্ডামার্কা লোক ডেকে দরজা ভাঙার ব্যবস্হা করলাম। ওর বাসায় ঢুকেই মেঝেতে ওর মৃতদেহটা অাবিষ্কার করলাম। . . . পোস্টমর্টেমে জানা গেল হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে অাজিজ। নিশ্চয়ই অাবার কোনো কারণে ও প্রচ্ণ্ড ভয় পেয়েছিল। পুলিশও খুব একটা ঘাটাঘাটি করল ন। লাশ ওর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতেই ওর মা সহ বাড়ির অন্যান্যদের বিলাপে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠল। ওর বাবার কবরের পাশেই ওকে দাফন করা হল। বন্ধুর জন্য খুবই অাফসোস হল। কবর দেয়া হয়ে গেলে অাশেপাশের বাড়ির লোকজনকে অাবদুস সালামের কথা জিজ্ঞেস করতেই বলল সে নাকি দেড়-দুইমাস অাগে হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছে। এ নিয়ে লোকে নাকি নানান কথা বলে। গ্রাম্য কুসংস্কার অার কী। রাতে অাজিজদের বাড়িতেই থেকে গেলাম। ও বাড়ি অাসলে যে ঘরে ঘুমাত সে ঘরেই অামার জন্য বিছানা পাতা হল। সারারাত কেমন যেন অস্বস্তি লাগছিল। শেষরাতে অাধোঘুমের মাঝে কে যেন ভারী গলায় বলল," লুসিফারের মাদুলিতে যে হাত দেয় লুসিফারের ছায়া তার পিছু ছাড়ে না!" অামি ধড়মড় করে জেগে উঠলাম। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম ওটা স্বপ্ন ছিল। সকালে উঠে সব গোছগাছ করে চলে যাচ্ছি এমন সময় দেখলাম মাটিতে একটা মাদুলি পড়ে রয়েছে। ওটাই কি সেই মাদুলি যেটার কথা অাজিজ বলেছিল? এটা এখানে অাসল কেমন করে? মাদুলিটা তুলে হাতে নিয়ে দেখতে যাব তখনই লাল একটা মুখ যেন জানালায় উকি দিয়ে অাবার গায়েব হয়ে গেল........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মাদুলি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now