বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মাদকাসক্ত

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X 'বের হয়ে যা, এক্ষুনি এই বাসা থেকে বের হয়ে যা। তোর মতো ছেলের এই বাসায় জায়গা নাই,' চিৎকার করতে থাকেন আরেফিন সাহেব। 'আরেহ! কি হলো? এমন করতেছো কেনো? সেই কখন থেকে দেখছি চিৎকার করেই যাচ্ছো। কি হইছে সেটা বলবা তো?' ঝাঁঝের সাথে বলেন নিলূফার বেগম। স্ত্রীর দিকে লাল লাল চোখে তাকান আরেফিন সাহেব। 'এই, তুমি কোনো কথা বলবা না। তোমার জন্যে আজ আমার দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে কথা বলে মানুষ। তোমার ছেলে আজ মদ খায়, জুয়া খেলে। লোকে আমাকে দেখলে বলে আপনার ছেলেকে ঠিক করেন, তার জন্যে তো আমাদের ছেলে-মেয়েও খারাপ হয়ে যাবে।' 'কেউ একজন কিছু বলছে আর উনি বাসায় এসে চিৎকার চেঁচামেচি করতেছে, আরেহ মানুষ তো এমন কতো কিছুই বলবে? সব কথা কি বিশ্বাস করতে হয়? আমার দোষ দিচ্ছো কেনো? ছেলে কি আমার একার? তোমার ছেলে না?' 'মুখ সামলে কথা বলবা। একজন বললেই বিশ্বাস করতাম না, নিজের চোখে দেখছি বলেই বিশ্বাস করছি। আর তোমার ছেলে কি সাধু? এই যুগে সবাই এ প্লাস পায় আর তোমার ছেলে মেট্রিকে করে ফেল?' এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে হাঁপিয়ে উঠেন আরেফিন সাহেব। নিলূফার বেগম আর কিছু বলেন না। হঠাত করেই আরেফিন সাহেব ঝড়ের বেগে রুম থেকে বের হয়ে আসেন। স্ত্রী স্বামীর পিছে পিছে ছুটেন। 'তাই তো বলি ছেলে আমার চুপ করে আছে কেনো? দেখো দেখো তোমার সোনার টুকরো ছেলে পেট পুজো করছে' ব্যাঙ্গ করেন তিনি। ছেলের হাত থেকে ভাতের প্লেট নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেন বাবা। ছেলের হাত ধরে টানতে টানতে দরজা খুলে, 'বের হয়ে যা, তুই আর এই বাসায় আসবি না।' 'আরেহ! করো কি? এই রাত এগারোটায় ছেলে কোথায় যাবে?' 'চুপ। একটা কথাও বলবে না।' স্বামীর দিকে এক পলক তাকিয়ে আর কথা বলার সাহস পান না নিলুফার বেগম। চুপ করে ভাঙ্গা সোফায় বসে পড়েন। দুই ছেলে এক মেয়ে তার। বড় ছেলে পড়ালেখা শেষ করে এখন চাকরী করছে। এক বছর আগে বিয়ে করে ঘর-সংসারও করা শুরু করেছে, ছোটো টার অবস্থা যাচ্ছেতাই। পড়া লেখাও হলো না তার। ছোটো বেলা থেকেই পড়াশোনার উপর তার কোনো আগ্রহ নাই। এস এস সি তে করলো দুইবার ফেল, তিন বারের সময় টেনে টুনে পাশ। আর এখন তো পড়ালেখা ছেড়ে পুরো বখাটেই হয়ে গেছে। মেয়েটা বিয়ের বয়স হয়ে গেছে কিন্তু টানাটানির সংসারে কি করে যে বিয়ে দেবে মেয়ে টাকে, সেটা ভাবলেই মাথা চক্কর দিয়ে উঠে। বড় ছেলে টাকে নিয়ে যা একটু আশা ভরসা ছিলো তাও তার বিয়ের পর ফিকে হওয়া শুরু করেছে, অবশ্য তার নিজেরও তো জীবন আছে। আগের মতো ছেলেটা আর বাবা মা'র সাথে মিশছে না। কোনোদিন যে বলে তোমাদের সাথে আর থাকতে পারবো না ! এসব ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তেই চোখে জল আসে। কয়েকদিন ধরে নিলূফার বেগমের শরীর ভালো যাচ্ছে না। শরীরে পানি জমে যাচ্ছে। কোমরে ব্যথা বাড়তেছে। রাত হলেই ব্যথা যেনো সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ' ব্যাথায় তো আর থাকতে পারছি না। ডাক্তার-টাক্তার কিছু দেখাও না।' 'বয়স বাড়তেছে, এমন একটু আধটু ব্যথা হবেই তো। এখন ঘুমাও, সকালে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো।' কোনো কথা না বলে দাঁতে দাঁত চেপে নিলুফার বেগম ব্যথা সহ্য করার চেষ্টা করেন। সারাদিন আরেফিন সাহেবের কোনো খবর থাকে না। রিটায়ার্ড করার পর থেকে যেনো তিনি কৈশোরে ফিরে গেছেন। নিজের মতো কিছু রিটায়ার্ড বৃদ্ধ সঙ্গী হিসেবে জুটেছে তার, আর কিছু লাগে? সারাদিন তাদের সাথেই গল্প গুজবেই কাটে তার। দুপুরে বাসায় খেয়ে আবার বেড়িয়ে পরেন। ফিরেন মাগরিবের আজানের পর। স্বামী বাড়ি আসতেই স্ত্রীর জিজ্ঞাসা, "ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবার কথা ছিলো আজ? কই ছিলা তুমি?" 'কি হয়েছে তাতে? দাঁড়াও এখুনি ঔষুধ নিয়ে আসছি?" বলেই আবার বাইরে বেড়িয়ে পড়েন তিনি। 'দেখো কান্ড? রোগী বাসায় আর উনি চলে গেছেন ডাক্তারের কাছে? সারাদিন কোনো কাজ-কাম নাই। টো টো অরে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া তো কোনো কাজ-ই নাই। কিছু তো করতে পারে তাতে সংসারের কিছু আয় রোজগার হয়', রাগে গজগজ করতে থাকেন তিনি। পরদিন সকালে আরেফিন সাহেব যথারীতি বের হয়ে যান। দুপুরের দিকে বাড়ী এসে দেখেন স্ত্রীর অবস্থা ভয়াবহ। মেয়ে মায়ের মাথায় পানি ঢালছে। 'কি হয়েছে?' 'বাবা, মায়ের অবস্থা ভালো না। সকালে একবার মাথা ঘুরে পড়ে গেছে তারপর থেকেই জ্ঞান আসে আর যায়। দেখেন না, শরীরে পানি জমে কেমন ফুলে গেছে?' মেয়ের কথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তাড়াতাড়ি করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। ডাক্তার কিছুক্ষণ দেখেই বুঝলেন অবস্থা ভালো না। তিনি রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। আরেফিন সাহেব তার বড় ছেলের কাছে ফোন দিলেন, 'বাবা, তোমার মায়ের অবস্থা ভালো না। তুমি একটু জলদি ঢাকা মেডিকেলে চলে আয়। কিন্তু শোভনের আর খবর নেই, আরেফিন সাহেব নিজেই ডাক্তারের কাছে ছুটে যান ডাক্তার কিছুক্ষণ দেখে বললেন, 'শিউরলি কিছু বলা যাচ্ছে না, আপনারা কিছু টেস্ট করে নিয়ে আসেন। তারপর বুঝতে পারবো আসলে কি হয়েছে? কিন্তু লক্ষণ বিশেষ সুবিধার লাগছে না। দেরি করবেন না, তাড়াতাড়ি টেস্ট করানোর ব্যাবস্থা করেন। যথারীতি টেস্ট করানো হলো, ডাক্তার টেস্ট দেখে বললেন, আপনারা শিক্ষিত মানুষ হয়েও যে কেনো এমন বোকামি করেন বুঝি না। অনেক দেরি হয়ে গেছে, উনার দুইটা কিডনী-ই বিকল হয়ে গেছে, যত দ্রুত সম্ভব কিডনী ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করেন। আমি নিজেও কয়েক জায়গায় নক করেছি কিন্তু উনার রক্তের গ্রুপ বি-নেগেটিভ, উনার জন্যে কাঙ্খিত ডোনার পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে, আল্লাহ এর কাছে দোয়া করেন আর ডোনারের ব্যবস্থা করেন। ডাক্তারের কথা শুনে সবার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। কেউ কোনো কথা বলে না, একদম ভৌতিক নিরবতা নেমে আসে যেনো। কিছুক্ষণ পরে শোভন আসে। সব শুনে শোভন-ই বলে, “বাবা, ডাক্তারের কথা তো শুনলেন। এখন কিছু কি ভেবেছেন? মা-র জন্যে তো ডোনার পাওয়া যেমন টাফ তেমন-ই অনেক টাকা পয়সার ব্যাপার। এখন তো এতো টাকা ম্যানেজ করা সম্ভব না, তো………………………।” কিছুক্ষণ চুপ থেকে মৃদু স্বরে আবার বলে, “আমি বলি কি যেহেতু কিছু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না, আবার মা-র তো অনেক বয়সও হয়ে গেছে, আমরা বরং বাসাতে-ই চলে যাই, কিছু ঔষুধ খেয়ে দেখা যাক কি হয় সামনে!” ছেলের কথা শুনে নির্বাক হয়ে যায় বাবা। “দাদা, এই কথা তুই বলতে পারলি? বাবা শুনছো দাদা কি বলছে?” আরেফিন সাহেব কিছু না বলে মাথা নিচু করে বেরিয়ে যান রুম থেকে। এক ঘন্টা পর ছোটো ছেলে হাসান হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালে ছুটে আসে, বোনের কাছে সব শুনে ডাক্তারের সাথে কথা বলে সে। ডাক্তারের সাথে কথা বলে দু’জন ল্যাবে চলে যান, হাসানের কিছু টেস্ট করানো হয়। হাসান ল্যাব থেকে বের হয়ে আসে, চোখ লাল হয়ে আছে। মায়ের পাশে মেঝেতে বসে থাকে, কিছুক্ষণ পর একজন নার্স এসে হাসানকে ডেকে নিয়ে যায়। ডক্টর তাকে দেখেই বলতে শুরু করেন, “আপনার ব্লাড গ্রুপ ম্যাচ করেছিলো কিন্তু আপনি তো ডোনার হিসেবে পারফেক্ট নন। আপনার পরিবার দেখে তো বেশ ভদ্র আর শিক্ষিত মনে হলো। কিন্তু আপনি এমন হলেন কেনো? আপনি তো পুরো-ই ড্রাগ এডিক্টেড, আপনার কিডনী ট্রান্সফার পসিবল নয়।” “তোমাদের জীবন তোমাদের কাছে, নিজেকে নিয়ে নিজেই ভাববে, কোনো কিছু করার আগে চিন্তা করবে তোমার পরিবার আর সমাজের কথা। এমন কিছু করবে না যাতে তোমার পরিবার তাতে কষ্ট পায়। যাবতীয় খারাপ আসক্তি থেকে দূরে থাকো, মাদকের দিকে কখনো-ই পা বাড়াবে না। একবার মাদসাক্ত হয়ে পড়লে তার থেকে মুক্তি পাওয়া অনেক কঠিন, দেখবে শুধু মাদকের জন্যেই তুমি তোমার পরিবারের মৃত্যুপথ যাত্রী কোনো সদস্যকে শেষ চিকিৎসাটুকু দিতে পারছো না..................... ষাট বছর বয়সে এসেও এতো কথা বলতে একটুকুও ক্লান্ত হোন না হাজীগঞ্জ পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাসিবুল হাসান সাহেব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মাদকাসক্তি
→ সন্তানের মাদকাসক্তে বাবা-মায়ের ভুল!
→ মাদকাসক্ত

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now