বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মা,আসছি আমি

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মা,আসছি আমি -মোঃইফতেখারুল ইসলাম (শুভ্র) সাত বছরের ছেলে জিসান, খেলনা গাড়িটা নিয়ে দৌড় দিয়ে ঘর থেকে বের হলো। রান্নাঘর থেকে থালা হাতে বের হয়ে আসলেন জিসানের মা। ছেলে এই ভর দুপুরে খাওয়া বাদ দিয়ে গাড়ি হাতে ছুটেছে খেলতে... থালায় এক টুকরা ভাজা মাছ নিয়ে আঙ্গিনার কোনায় হাঁটা দিলেন তিনি। কারন তিনি জানেন তার ছেলে এখন ঠিক কোথায় খেলতে বসবে। ছেলে খেলবে মাটিতে আর তার কাজ হবে একটু পর পর ওর মুখে খাবার তুলে দেয়া! ছেলে মুখে ভোঁওওও...ভোঁওওও শব্দ করে খেলছে আর তিনি ভাতের সাথে মাছ মিশিয়ে ছেলের মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছেন। একটু পর হঠাৎ ছেলে খেলতে খেলতে বললো, "মা...আমি যখন বড় হবো তখন তোমায় একটা গাড়ি কিনে দিবো!" ছেলের মা খুশি গলায় বললেন, "ওরে আমার জানের টুকরা! তাই নাকি রে?" - হ্যা মা! তুমি সেই গাড়ি নিয়া খেলবে আর ভেঙ্গে ফেলবে...আমি তখন আরেকটা গাড়ি তোমায় কিনে দিবো... - ওরে দুষ্টু! আমি ভাবছিলাম আমাকে বড় গাড়ি কিনে দিবি! এখন দেখছি খেলনা গাড়ি! - তুমি কি গাড়ি নিবে মা? লাল নাকি হলুদ? জিসানের মা কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, "আমার কিচ্ছু চাইনা বাবা! শুধু তুই বড় হয়ে গেলে এখন যেভাবে আমায় ভক্তিভরে 'মা' বলে ডাকছিস তখনও সেভাবে আমায় 'মা' বলে ডাকিস তাহলে আর কিচ্ছু লাগবে না আমার..." - দাও ভাত দাও... জিসান হা করে থাকে, তার মা তাকে খাবার দিতে যায়....কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার তিনি জিসানের কাছে যেতে পারছেন না। জিসান অবাক হয়ে মা কে বললো, "কি হলো মা? দাও!" কিন্তু জিসান আর জিসানের মায়ের ভেতর কি জানি একটা লাল দাগের সৃষ্টি হয়েছে! সেই লাল দাগ অতিক্রম করে জিসানের মা তার কাছে যেতে পারছেন না। জিসান ডেকে যাচ্ছে..."মা... ও মা...আমাকে তোমার কাছে নাও...মা...মা গো... আমি তোমার কাছে যাবো... " ** দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙে জিসানের। সেই ছোট বেলার ঘটনা দেখে ফেলেছে সে। মা কে নিয়ে। কিন্তু লাল দাগ টা স্বপ্নে কোথায় থেকে আসলো কে জানে। জিসান হাই তুললো! ভাবলো ধুর...মানুষ কত কিছুই তো স্বপ্নে দেখে! ঘড়িতে তাকালো! সাড়ে আটটা বাজে। ওর বাজে অভ্যেস হয়েছে! সন্ধ্যা বেলায় ঘুমায়, মাঝ রাতে জাগে। অভ্যেসটা ত্যাগ করা দরকার। ও খেয়াল করলো ওর হাত পা কাঁপছে, খিঁচুনি খিঁচুনি ভাব আসছে দেহের ভেতর। বুঝে গেলো নেশা করার সময় এসে গেছে। কিন্তু গাঁজার একটা পুরিয়াও ওর কাছে নাই। মেসের দোতালার রবিন কে ফোন দিলো জিসান। রবিন, জিসান আর সাগর তিন বন্ধু! বন্ধু বাছাইয়ে জিসানের মারাত্মক ভুল ছিল তাই আজ সে নেশাখোর। গাঁজা ছাড়া দিন চলে না। রবিন জানালো ওর কাছেও কিছু নাই। টাকা পয়সা হাতে একদম নাই! মাসের শেষ দিন। মধ্যবিত্তের ছেলেদের হাতে এসময়ে টাকা একদমই থাকেনা। জিসানের হাতেও নেই। একটু পর পাশের রুমের তাওফিক এসে বলে গেলো এমাসের মিলের (খাবারের) মিটিং বসবে এখন। তাড়াতাড়ি ডাইনিং এ যোগ দিতে বললো। এসব মিটিং টিটিং জিসানের একদমই ভাল লাগেনা, তবুও এটেন্ড করতে হয়। নিয়ম তাই। সারা মাস খাওয়া খরচের হিসেব দেয়া হয় এই দিনে। প্রতি মাসে একজন করে নতুন মিল-ম্যানেজার নির্বাচিত হয়! যে সারামাসের খাবার-দাবারের হিসেব রাখে, এবং মাস শেষে হিসেব দেয়। এটা বাধ্যতামূলক! সবাইকে একবার না একবার নিতেই হবে। মিটিং শেষ হলে সবাইকে মিষ্টি দেয়া হয়। জিসান মিষ্টি হাতে নিয়ে চলে আসে রুমে। ওর রুমমেট ওকে বললো, "এই পাঁচশ টাকার নোট টা মিল এ জমা দিয়ে আসো তো আমার হয়ে।" জিসান নতুন ম্যানেজারের রুমে যায়। গিয়ে দেখে ম্যানেজার নাই তবে ওর রুমমেট আছে, ভাত খাচ্ছে। জিসান মেসের পুরনো বর্ডার। নতুনরা ওকে সম্মান করে। এই ছেলেটাও নতুন এসেছে। জিসান কে দেখেই খাওয়া থামিয়ে বললো, - আরে! জিসান ভাই যে! টাকা জমা দিবেন? - হ্যা! আমার রুমমেটের হয়ে। - ওইতো! ওই ছোট কৌটাটায় রেখে দেন। ম্যানেজার আসলে বলে দিবো আপনার রুমমেটের নামে টাকা জমা দিতে। - আচ্ছা! এই যে পাঁচশ টাকা জমা দিয়ে গেলাম। - আচ্ছা ভাই! বলে ছেলেটা পেছন ফিরে খেতে লাগলো! টাকাটা রাখার জন্য জিসান ছোট কৌটাটা খুললো! কৌটা ভর্তি একশ আর পাঁচশ টাকার নোট! ইতোমধ্যে অনেক বর্ডার খাবারের তথা মিলের টাকা জমা দিয়ে গেছে বুঝা যাচ্ছে! জিসানের ভেতরের খিঁচুনি ভাবটা বেড়েই চলেছে! নেশাটা মাথাচাড়া দিচ্ছে! অথচ মাল নাই হাতের কাছে! কেনা লাগবে! টাকাও নাই! জিসান টাকাটা রেখে কৌটাটা ঢাকতে গিয়েও ঢাকলো না। ওর ভেতরে লোভ জেগে উঠেছে! নেশা এখন ওকে বিপথে চালানো শুরু করেছে! আড়চোখে ভাত খাওয়া রত ছেলেটাকে দেখে নিলো জিসান। ছেলেটা পেছন ফিরে আছে। জিসান আস্তে আস্তে কৌটার কোনায় পরে থাকা পাঁচশ টাকার একটা নোট তুলে নিলো। হাতের মুঠিতে লুকিয়ে নিয়ে প্যান্টের পকেটে চালান করে দিলো! ওর বিবেক লোপ পেয়েছে। ওর এখন পুরা শরীর একটা কথাই বলছে, 'নেশা...নেশা...নেশা!' ** ম্যানেজারের রুম থেকে এসে নিজের ঘরে বসলো! রুমমেট কে বললো যে জমা দিয়ে এসেছে। একটু পর রবিন আসলো! ফিসফিসিয়ে বললো যে গাঁজার পুরিয়ার ব্যাবস্থা হয়ে গেছে! সাগর বাইরে থেকে আসার সময় কিনে এনেছে। এখনি মেসের ছয়তালায় ট্যাঙ্কির পেছনে যেতে হবে! সেখানে সাগর অপেক্ষা করছে। জিসান উঠে দাঁড়ালো। ঠিক সে সময়েই ওর ফোনে একটা কল আসলো! বের করে দেখলো ওর মায়ের ফোন। বিরক্তিতে ভুরু কুঁচকে গেলো ওর। এই মহিলার আর কোন কাজ নেই দিনে চৌদ্দবার করে ফোন দিবে। এত কেয়ার নেয়ার কি দরকার রে বাপ। এমনিতেই অসুস্থ শরীর। একবার স্ট্রোক করেছেন। তার নিজের দিকে খেয়াল নাই জিসানকে কল দিয়ে খোঁজ নেন যে সে খেয়েছে কিনা! মনে হয় জিসান এখনো সেই ছোট বাচ্চা আছে। রবিন কে ছাদে যেতে বলে জিসান কল রিসিভ করলো... জিসান- হ্যালো! কি হইছে? মা- খেয়েছিস বাবা? - না খেতে যাবো! - তোর গলা এমন কাঁপা কাঁপা শোনাচ্ছে কেন? তুই ঠিক আছিস? - হ্যা! খাবার উপরে আছে তো! যতক্ষণ না খাবো ততক্ষন গলা, হাত, পা কাঁপবেই! - এমন রেগে রেগে কথা বলছিস কেন? আচ্ছা যা খেয়ে নে! - আচ্ছা রাখলাম! - বাবা... - কি হলো আবার? - কতদিন তোর মুখে মা ডাক শুনিনা, মা ডাকটা কি ভুলে গেলি? - কি শুরু করেছো এসব বলো তো? তুমি না অসুস্থ? যাও রেস্ট নাও। রাখলাম। জিসানের পুরা শরীর থরথর করে কাঁপছে! পুরিয়া পাওয়া গেছে শুনে নেশা পুরোপুরি জেগে গেছে! এখন গাঁজায় না টান দিলে খিঁচুনি শুরু হবে! সে দ্রুত টলমলে পায়ে ছাদের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিলো। ** নিজের ঘরে শুয়ে আছে জিসান। পাঁচশ টাকার নোটটা উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখছে সে। নোটটার বাম সাইডে একটা লাল দাগ আছে। চিকন। দেখে মনে হয় লাল কলমের দাগ। হয়তো কোন বাচ্চা ছেলে বা মেয়ে দুষ্টামি করে বাবার নোটে এই দাগ টা দিয়ে ফেলেছিল। সে ভাবছে এবারের ম্যানেজার আর কিশোর ছেলেটার কথা। তারা একসময় ঠিকই ধরতে পারবে যে পাঁচশ টাকার গড়মিল হয়ে গেছে! তখন কি করবে তারা? ছেলেটা জিসানকে সন্দেহ করবে না তো? আরে ধুর! জিসানের একটা সুনাম আছে এই মেসে। ওর নামে অপবাদ দিলে কেউ বিশ্বাসই করবেনা। কিন্তু ম্যানেজার এই টাকাটা পুরাবে কি করে? যতদুর জানে ম্যানেজার আর তার রুমমেট দুজনেই মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। পাঁচশ টাকা তাদের কাছে লাখ টাকার সমান। জিসান খুব ভালোভাবেই জানে এই মাসের শেষে ছেলে দুইটাকে সেইরকম অপমান সহ্য করতে হবে বোর্ডারদের কাছে। জরিমানাও করা হতে পারে। মেইন ম্যানেজারের কানে গেলে সিটও ক্যানসেল হয়ে যেতে পারে। সে কি গিয়ে ফেরত দিয়ে আসবে টাকাটা? কি বলে ফেরত দিবে? না থাক! গেলে মান সম্মান সব যাবে। টাকাটা কালই খরচ করে ফেলতে হবে! অনেক পুরিয়া গাঁজা কেনা যাবে। নেশার রাজ্যে ঢুকে জিসান একদম নষ্ট হয়ে গেছে। ** মাসের শেষ! মিটিং এ সবাইকে ডাকা হয়েছে। বুদ্ধি করে মিল ম্যানেজার প্রতিদিনের খরচে পাঁচ দশ টাকা বাড়িয়ে পাঁচশ টাকা পুরিয়ে দিছে। কিন্তু মেসে অনেক সচেতন চতুর বোর্ডার আছে। যারা প্রতিদিনের বাজার লিস্টের সাথে ম্যানেজারের খাতার হিসেব মিলিয়ে দেখে। আজ দেখলেই নিশ্চিত ধরা পরে যাবে। এবং যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। দুইজন বোর্ডার ক্যালকুলেটর নিয়ে এসে হিসেব শুরু করলো বাজার লিস্টের। জিসান ম্যানেজার আর তার রুমমেটের দিকে তাকালো! তাদের মুখ পুরা কালো হয়ে গেছে। অবশেষে ধরা পরে গেলো এবারকার ম্যানেজার। সবাই জান শান্তি করে অপমান করা শুরু করলো তাকে। তার চোখ ছলছল করছে, ওদিকে ওর কিশোর রুমমেটটা কেঁদেই ফেলেছে। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে! একটু পর ছেলেটা কান্না থামিয়ে কি জানি বললো সব বোর্ডারদের। আর সবাই ঘুরে তাকালো জিসানের দিকে। একে একে সবাই জিসানের দিকে আসতে লাগলো। নিশ্চিত ছেলেটা জিসান কে ধরে ফেলেছে...জিসানের আজ খবর আছে। হঠাৎ করে লাল কি জানি জিসানের দিকে ছুটে আসতে লাগলো! জিসানের নাক মুখ ভেদ করে লাল জিনিসটা ছিটকে বের হয়ে গেলো বাইরে.... ________ ধড়ফড় করে জিসান জেগে উঠলো! আবার দুঃস্বপ্ন দেখেছে! সকাল অনেক হয়ে গেছে। প্রায় দশটা। ফোন টা হাতে নিলো! সাথে সাথেই একটা কল আসলো! চমকে উঠলো জিসান। এ যে বাবার ফোন। বাবা তো ওকে তেমন ফোন দেয় না। আজ কেন এই সময়ে ফোন দিলো? রিসিভ করলো সে...ভারী কন্ঠ! বাবা- জিসান! তোমার আম্মু ভীষন অসুস্থ! অবস্থা খুবই খারাপ। তুমি এখুনি বাসায় চলে আসো। জিসানের হাত থেকে ফোন টা পড়ে গেলো। সে জানে এইভাবে কথা বলার মানে। কেউ মারা গেলে সরাসরি মৃত্যুর কথা না বলে এভাবে বলা হয়। তার মানে জিসানের মা আর নেই! ** বানেশ্বরে বাস স্ট্যান্ডে বাস থামলো! এখান থেকে আরেকটা বাস নিয়ে বাসায় যেতে হবে। খুচরা যা ছিল সব শেষ! বাকি রাস্তা যেতে সেই পাঁচশ টাকার নোট খরচ করতে হবে। ওটাই শেষ সম্বল। বাসে অনেক ভিড়। এই ভিড়ে নেমে যাওয়ার সময় প্যান্টের পেছনের কিছু যেন উঠে যাওয়ার অনুভুতি পেলো জিসান। তাৎক্ষনিক পেছনে তাকালো। দেখলো একটা প্যান্ট শার্ট পরা লোক দাড়িয়ে আছে! জিসান ওর প্যান্টের পেছনে হাত দিয়ে দেখে মানিব্যাগ টা নাই। লোকটার দিকে তাকালো! লোকটা সাথে সাথে মুখ ঘুরিয়ে নিলো! জিসান এবার কলার চেপে ধরলো লোকটার! বললো, "নাম! শালা বাস থেকে নাম!" বাস থেকে নামিয়ে লোকটার পকেটের ভেতর থেকে নিজের মানিব্যাগ টা বের করলো জিসান! বললো, "শালা! পকেটমারিং করিস! ওই সবাই মিলে দেন শালারে!" কিন্তু এটা বলার আগেই পকেট মার বলে উঠলো.."এটা আমার মানিব্যাগ! এই শালা চুরি করতে লাগছিল! ধরে ফেলেছি, আমি ভদ্র লোক বলে আমাকে কলার ধরে বাস থেকে নামানোর পরেও কিছু বলিনি একে! একে আমি চিনি! শালা হেরোইন খায়! দেখেন দেখেন...আপনারাই বলেন কাকে পকেটমার মনে হয় দেখে? একে না আমাকে?" গাঁজা খেয়ে খেয়ে জিসানের চেহারা প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে..চুল বড় বড়...অনেক দিনের না কাটা দাঁড়ি। ওকেই আসলে দেখতে গুন্ডা পকেটমারের মত লাগছে। আর এসব কাজে পাকা পকেটমারের কথাই সবাই বিশ্বাস করলো। লোকজন তখন আসলো জিসান কে ধরতে। জিসান বার বার বলতে লাগলো যে ওর ভার্সিটির আইডি কার্ড আছে যেটাতে ওর ছবি আছে কিন্তু কেউ সেকথা কানেই নিচ্ছে না। আইডি কার্ড আদৌ আছে কিনা জিসান জানেনা! তাড়াহুড়া করে আসতে গিয়ে সেটা যথাসম্ভব ফেলে আসছে টেবিলে। একটুপর ভিড় ঠেলে পুলিশ আসলো। পকেটমার টা কানে কানে কিজানি বললো পুলিশের! পুলিশ জিসান কে নিয়ে চললো পুলিশের একটা গাড়ি দাড় করানো আছে সেদিকে। জিসান বুঝে গেলো পকেটমার টাকে পুলিশ ভালোভাবেই চিনে! নিশ্চিত কোন লিংক আছে। জিসান বার বার বলতে লাগলো ওর মা মারা গেছেন বাসায় যেতে হবে, কিন্তু পুলিশ কানে নিলো না! বরং বললো, "ক্রিমিনালরা এসব বলেই বাঁচতে চায়...এই সব হাট, ঘাট, অজুহাত সব চেনা আছে...." জিসানের হাত থেকে মানিব্যাগ টা কেড়ে নেয় পুলিশ! পাঁচশ টাকার নোট টা বের করে। নোট টা কিছুক্ষন উল্টিয়ে পাল্টিয়ে কিজানি দেখে। তারপর অন্য একটা পুলিশ কে ডেকে নোটটা দেয়। পুলিশটা নোট টা নিয়ে রাস্তার ওপাশে কোথায় জানি যায়। একটু পর সেই পুলিশ টা ফিরে এসে নোট টা এই পুলিশ কে ফেরত দেয়! আর কানে কানে কিজানি বলে। পুলিশ সেটা শুনেই ক্ষেপে যায়। অন্য একটা পুলিশ কে বলে জিসান কে গাড়িতে উঠাতে। জিসান অবাক হয়ে যায়। মরিয়া হয়ে বলে "আমার কি দোষ? কিজন্যে আমাকে ধরছেন? আমি পকেটমার না!...." পুলিশ টা রাগত স্বরে বলে, "তুইই পকেটমার! আর সব চেয়ে বড় কথা হলো তুই জাল টাকা নিয়ে ঘুরিস! এই পাঁচশ টাকার নোট টা জাল! ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে দেখিয়ে আনাইলাম সন্দেহ হওয়া মাত্রই! সেই বললো এটা জালনোট!" জিসান এত অবাক হয় যে মুখ দিয়ে ওর কোন কথা বের হয়না! ওকে টানতে টানতে পুলিশের গাড়ির পেছনে তুলা হয়। এদিকে এই পুলিশ টা পাঁচশ টাকার নোট টাকে দুমড়িয়ে মুচড়িয়ে রাস্তার মাঝখানে ছুড়ে মারে। আজ তার বনিটাই বাজে গেলো। জিসান ছুড়ে মারা নোট টার দিকে তাকালো! ওটা ছাড়া আজ সে বাসায় যেতে পারবেনা! জাল নোট কেও সে চালাতে পারবে কোন ভাবে! কিন্তু সে ভুলেই গেছে সে পুলিশের হাতে বন্দি। খেয়াল হওয়া মাত্রই ডান হাতের কনুই দিয়ে ধাম করে মারলো ওর ডানে বসা পুলিশের চাপা বরাবর! সামনের পুলিশ কিছু বুঝে উঠার আগেই ওর হাটু বরাবর কষে দিলো এক লাত্থি! তারপর সাঁই করে নেমে রাস্তার মাঝ বরাবর দৌড় দিলো জিসান। দুমড়ানো মুচড়ানো নোটটা হাতে তুলে নিলো সে! কিন্তু সামনে তাকাতেই দেখলো বিশাল শ্যামলী বাস ওর দিকে ছুটে আসছে। লাফ দিয়ে সরে যাবার আগেই ওর গায়ে আঘাত হানলো বাস টা! ছিটকে দূরে পড়ে গেলো জিসান। নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হলো। কাঁপা কাঁপা হাতে জিসান দুমড়ানো নোটটার ভাঁজ খুললো! এই জাল টাকাই ওকে ওর মার কাছে নিয়ে যেতে পারে..... কিন্তু না...ওর চোখে নোটটার লাল দাগ ভেসে উঠলো...চোখের চারপাশ কেমন জানি অন্ধকার হয়ে যেতে শুরু করলো...আস্তে আস্তে দিনের আলো যেন কমে যাচ্ছে ওর সামনে থেকে.... ওর ছোটবেলার কিছু কথা মনে পরছে...মায়ের সেই কথাটা ওর মনে পরে গেলো, "আমার কিচ্ছু চাইনা বাবা! শুধু তুই বড় হয়ে গেলে এখন যেভাবে আমায় ভক্তিভরে 'মা' বলে ডাকছিস তখনও সেভাবে আমায় 'মা' বলে ডাকিস তাহলে আর কিচ্ছু লাগবে না আমার..." ওর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরা শুরু হলো! আসলেই কতদিন মা বলে ডাকা হয়নি! মা সেদিন শুনতে চেয়েছিলেন কিন্তু সে বলেনি! নাজানি মা কত কষ্ট পেয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন... জিসানের চোখের আলো কমে যাচ্ছে! কালকে দেখা সেই স্বপ্নের শেষ কথা গুলা মনে পরে গেলো জিসানের.... "মা মা...আমাকে তোমার কাছে নাও...আমি তোমার কাছে আসবো... " স্বপ্নে একটা লাল দাগের জন্য সে তার মায়ের কাছে যেতে পারেনি...এটা মনে পরাতেই সে সাথে সাথে নোটটার দিকে তাকালো! নোটটার সেই অভিশপ্ত লাল দাগ আবছা আবছা এখনো চোখে পরছে জিসানের। গায়ের সর্বশক্তি হাতে নিয়ে টান দিয়ে নোটটা ছিঁড়ে ফেললো সে। ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করলো। এবার আকাশের দিকে তাকালো সে...আলো কমে গিয়ে...আবছা নীলচে অন্ধকার যায়গা নিয়েছে চারপাশে...কিসের জানি হাতছানি দিয়ে ডাকছে জিসানকে, নিজের অজান্তেই শান্ত স্বরে সেই ছোটবেলার মত ভক্তি সহকারে বলে উঠলো জিসান, ".....মা..মা গো....আমি আসছি তোমার কাছে...."।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মা,আসছি আমি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now