বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার বয়স যখন চার , তখন আমার বাবা মারা যান । মারা যাওয়ার পূর্বে আমার বাবা তেমন কোন সম্পত্তি রেখে যাননি আমাদের চলার জন্য । বাবাকে হারিয়ে আমি আর মা অসহায়ার মতো দিন কাটাচ্ছি ।
আমার মা খুব সুন্দরী , ইনার সৌন্দর্য ব্যাখা করার মত নয় । আমার মামা বাড়ি ছিল খুব ধনী পরিবার ।কিন্তু আমার বাবার আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল বলে মা-বাবার সম্পর্ক মেনে নেয়নি তারা । বাধ্য হয়ে মা- বাবা পালিয়ে বিয়ে করেছে ।
আজ পাঁচ বছর পর মামারা আসলেন মার কাছে। মাকে তারা অনেক বুঝাতে লাগলেন যে, মাকে আমেরিকার এক ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিবেন । আর আমাকে এক কোন এতিম খানায় রেখে দেবেন । কিন্তু মা নাছোড়বান্দা তিনি বিয়ে করবেননা আর আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবেননা । সেদিন মামারা মায়ের সাথে ঝগড়া করে চলে গেলেন। শুরু হয় মায়ের জীবন যুদ্ধ । মা সেলাইয়ের কাজ শিখে দিন-রাত পরিশ্রম করতে থাকে । আমাকে শহরের নামিদামী সরকারী স্কুলে ভর্তি করে দেন । আমার পোশাক, চলাফেরা ব্যয়বহুল ছিল । তাই কেউ বুঝতে পারতনা আমার আর্থিক অবস্থা ।
মা আমাকে একটি কথা সবসময় বলতেন, নিজের দূর্বলতাকে অন্যের নিকট না প্রকাশ করতে । ধীরে ধীরে আমি বড় হতে থাকি । ভাল একটা পাবলিক ভার্সিটিতে পড়াশোনা করছি। আমার জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু হল ।আমার সহপাঠী মিথিলার সাথে আমার ভালো বন্ধুত্ব হয় ।
মনের অজান্তে প্রেমে পড়ে যাই আমরা ।মিথিলা এই শহরের এক ধনী পরিবারের মেয়ে । এদিকে আমার পড়াশোনার যাতে কোন সমস্যায় না হয়, সেজন্য আমাকে কোন প্রকার টিউশনি করতে দিতেননা মা । পড়াশোনা শেষ করে ভালো একটা চাকরী পাই আমি । বেতন মোটামুটি ভাল পাই । মাকে মিথিলার কথা বলতে তিনি রাজি হয়ে যান ।
আমাদের বিয়ের পর থেকে মিথিলা অন্যরকম হয়ে থাকে । সে আমাকে অনেক চাপ দিতে লাগল যে,আমরা প্ল্যাটে থাকি এখানে তার বিরক্ত লাগছে । মা বুঝতে পেরে আমাকে প্ল্যাটে যাওয়ার কথা বলেছেন । মিথিলার কথামত ভাল একটা প্ল্যাট নিলাম আমরা ।কাজের চাপে মাকে সময় দিতে পারিনা আমি,কিন্তু মিথিলা মাকে তেমন সময় দেয়না ।
এখানে এসে মা একা অনুভব করছে । মিথিলাকে নিয়ে আমি শুক্র বারে ঘুরতে যাই,কিন্তু মা বাসায়থাকে । মাকে নিয়ে গেলে যে আমাদের রোমন্টিকতা নষ্ট হয়ে যাবে ।
একদিন মাকে কাঁদতে দেখেছি, বাবা মারা যাওয়ার পর আর দেখিনি ইনাকে কাঁদতে । তিনি আমাকে বলল, আবির আমাকে একটু সময় দিবি?
আমি বড় একা থাকিরে । আমি মাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছি, সময় করে তোমাকেনিয়ে যাব অনেক দূর ।মাকে সময় দেয়না বলে মিথিলার সাথে আমার প্রায় ঝগড়া হয় । কিন্তু মা আমাকে দিব্যি দিয়েছে যে মিথিলার সাথে আমি ঝগড়া না করি । আমার আর মিথিলার ভার্সিটির জীবনের বন্ধুরা এসে বাসায় পার্টি করে । কিন্তুআমাদের পাড়ার মানুষ আসলে মিথিলা আনস্মার্ট মনে করে । আগামীকাল মাকে নিয়ে ঘুরতে যাব,অনেক দূরে । মা খুশিতে ব্যাগ গোছাচ্ছে। রাতে বাসায় আসার পথে আমার দূর্ঘটনায় হয় ।
ঞ্জান আসার পর শুনতে পাই আমার দুটো চোখ নষ্ট হয়ে গেছে । মিথিলা আমাকে রাফ ড্রাইভিং এর জন্য দোষারোপ করছে । কিন্তু মায়ের কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি ।
আমি মাকে বললাম, মা আমি তো অন্ধ হয়ে গেলাম । তোমাকে নিয়ে যেতে পারলামনা ঘুরতে । তারপর আমি কিছু বলতে পারবনা । মা আমাকে তার দুটো চোখ দান করেছে । মায়ের শরীরের অবস্থা তেমন ভাল ছিলনা, চোখ দেওয়াতে আরো খারাপ অবস্থার রূপ নিল । কিছুদিন পর মা মারা গেল । আজ আমি চিত্কার করে কাঁদতে চাই । কি ফেল মা আমার কাছে ?
সামান্য একটা সময় তো দিতে পারলামনা । জেমসের এই গানটা শুনলে আমি চিত্কার করে আজও কাঁদি ।
"দশ মাস দশ দিন ধরে গর্ভে ধারণ কষ্টের তীব্রতা করেছে আমায় লালন । হঠাত্ কোথায় না বলে হারিয়ে গেল জন্মান্তরের বাধন কথা হারালো । সবাই বলে ওই আকাশে লুকিয়ে আছে খুঁজে দেখ পাবে দূর নক্ষত্র মাঝে। রাতের তারা আমায় কি তুই বলতে পারিস কোথায় আছে কেমন আছে মা ?"
ভোরের তারা রাতের তারা মাকে জানিয়ে দিস অনেক কেঁদেছি আর কাঁদতে পারিনা ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now