বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
শহরের সবাই এখন ব্যস্ত, সবাই এখন নিজ নিজ ব্যস্ততায় ডুবে অাছে।
শহরের রাস্তা গুলোতেও এখন মানুষের কোলাহল, সবাই ছুটে চলেছে নিজ গন্তব্যে।
চারদিকে শতশত গাড়ির হর্ণ আর ধুলোয় ঢাকা কোলাহলময় রাস্তায় অানমনে হেটে চলছে অারিফ নামের ছেলেটি।
.
এই ছেলেটি অনেকটা যাযাবর পথিকের মত, সবার মত অারিফও ছুটে চলে কিন্তু তার কোনো নিজ গন্তব্য নেই।
অারিফের গায়ে একটি ময়লাযুক্ত নীল পাঞ্জাবী, সে নিজেকে হিমুর মত মনে করলেও হিমুর রং তার একদমই পছন্দ নয়।
.
সূর্যের তাপও এখন বেশ ভালো, চারদিক টা রোদে ঝলমল করছে।
সেই সকাল থেকেই অারিফ এই রাস্তাটা ধরে হাটছে, পানির পিপাসাও পেয়েছে খুব।
পেটও খা খা করছে, অারিফ এখন খুব ক্ষুদার্থ।
পকেট হাতিয়ে দেখে মাত্র দুইশত টাকা অাছে, নাহ্ পেটে কিছু এবার দিতে হবে।
.
পকেট হাতাতে হাতাতে রাস্তার পাশেরই একটি খাবার হোটেলে ঢুকে পরলো অারিফ।
অাজ সারাদিন হেটেই চলেছে, পানি পর্যন্ত পান করা হয়নি তার।
বেশ ক্ষুদার্থ সে, তাই পেট ভরে খাওয়া দরকার।
.
অারিফ হোটেলের একদম শেষে একটি টেবিলের সামনে বসে খাচ্ছে, পাশ থেকে দুজন লোক তার দিকে কৌতুহল দৃষ্টিতে তাকিয়ে অাছে, কিন্তু সেদিকে অারিফের কোনো কর্ণপাত নেই। সে খেয়ে যাচ্ছে তার মত করে।
.
হঠাৎ অারিফের চোখ গেলো হোটেলের সামনের একটি টেবিলে বসে থাকা একটি মেয়ের দিকে।
মেয়েটির চোখ দুটো ছলছল করছে, চোখের কোণে অাটকা পরে অাছে অশ্রুকণা।
দেখা যাচ্ছে মেয়েটি অস্পষ্ট ভাবে কাঁন্না করছে কিন্তু কেউ বুঝছে না, কাউকে বুঝতে দিচ্ছে না।
মেয়েটির বয়স অানুমানিক কত হবে, ১২? কিংবা ১৩
.
অারিফ তার খাবার শেষ না করেই প্লেটে পানি ঢেলে দিয়ে উঠে চলে গেলো মেয়েটির কাছে। মেয়েটি মাথা নিচু করে বসে অাছে, অারিফ মেয়েটির পাশের চেয়ারটিতে বসেই ওর মাথায় হাত দিলো।
মেয়েটি কারো হাতের ছোঁয়া পেয়ে মাথা উচু করে অারিফকে দেখেই ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো
.
মেয়েটি দেখতে খুব সুন্দর, চেহারায় এক অদ্ভুত মায়ার ছাপ অাছে। অারিফ মেয়েটিকে দেখেই মেয়েটির মায়ায় পরে গেলো।
কিন্তু মেয়েটার চোখ-মুখ চিৎকার করে বলতে চাচ্ছে সে খুব ক্ষুদার্থ, তার এখনই খাবার চাই।
অারিফের অদ্ভুত একটি গুন অাছে সেটা হলো চোখের ভাষা বুঝতে পারা, তাইতো মেয়েটির চোখের ভাষা সে খুব সহজেই বুঝে নিয়েছে।
.
মেয়েটি ছানাবড়া চোখে অারিফের দিকে তাকিয়ে অাছে কিন্তু কিছুই বলছেনা।
নিরাবতা কাটিয়ে অারিফ মেয়েটিকে প্রশ্ন করে
.
-তুমি এখানে বসে বসে কাঁদছো কেন?
.
মেয়েটি তার দু হাত দিয়ে ছলছল চোখ দুটো কচলাতে কচলাতে বললো
.
-অাংকেল অামাকে ওই লোকটা খাবার দিচ্ছেনা, অামি বলেছি অামার কাছে টাকা অাছে তবুও দিচ্ছে না
.
অারিফের মনে হয়েছিলো মেয়েটি পথশিশুদের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু নাহ্ পথশিশুরা এত এতটা শুদ্ধ ভাষায় অার গুছিয়ে কথা বলতে পারেনা।
মেয়েটি মনে হয় কোনো এক শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে।
.
-টাকা অাছে তবুও খাবার দিচ্ছেনা কেন? কত অাছে তোমার কাছে?
.
-দশ টাকা
.
মেয়েটির কথা শুনে অারিফ অার কোনো কথা বলছে না, দশ টাকা দিয়ে এইসব হোটেলে খাবার? ফ্যানের বাতাসের মুল্যও দশ টাকার বেশি।
.
অারিফ মেয়েটিকে কিছু না বলে হোটেলের একজন লোকটে ডাক দিয়ে মেয়েটিকে খাবার দিতে বললো। মাছ মাংস অার ভাত মেয়েটির সামনে দিলো, মেয়েটি খাচ্ছে তার মত করে। মনে হয় কতদিন না খেয়ে অাছে সেটা তার খাওয়ার ধরন থেকেই বুঝা যায়।
.
অারিফ মেয়েটির পাশ থেকে উঠেই ক্যাশে বিল পরিশোধ করেই পাশের টং দোকান থেকে সিগারেট কিনে ধরালো।
টং দোকানের সামনের বেঞ্চে বসে নিজেকে নিকোটিনে মগ্ন রেখে ধোয়া উড়াচ্ছে অাকাশকে লক্ষ্য করে।
.
কিছুক্ষণ পর পাশ থেকেই অাংকেল বলে কেউ একজন অারিফকে ডাক দিলো, নিকোটিনের মগ্নতা কাটিয়ে অারিফ সেই ডাকে সারা দিতেই দেখে মেয়েটি।
যাক ভালোই হয়েছে, কিছু প্রশ্ন অামার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, উত্তর গুলো ওর কাছ থেকে জানা যাবে এটা ভেবেই মেয়েটিকে কাছে অাসতে বললো অারিফ
.
মেয়েটি অারিফের সামনে অাসতেই তার কাছে থাকা দশ টাকা অারিফের দিকে বাড়িয়ে দিলো
.
-অাপনি মোট ৯৮ টাকা খাবারের বিল দিয়েছেন, এই নিন দশ টাকা বাকি ৮৮টাকা অাপনাকে অামি দুই-তিন দিন পর দিয়ে দিব প্লিজ কিছু মনে করবেন না
.
মেয়েটির এমন কথা শুনে অারিফ থতমত খেয়ে গেলো
.
-মানে? তুমি অামাকে টাকা ফিরিয়ে দিবে? (অারিফ)
.
-হ্যা, কয়েকটা দিন সময় দিন অামি অাপনার সব টাকা দিয়ে দিব
.
-ধুর বোকা, অামি কি বলেছি অামার দেয়া মুল্যটা তোমাকে পরিশোধ করতে হবে?
.
-না
.
-তাহলে? কেউ যদি কোনো কিছু মন থেকে দিয়ে থাকে তাহলে সেটার মুল্য অর্থ দিয়ে দেয়া যায়না, যদি তোমার এতই হচ্ছে হয় অামার দেয়া টাকা টা তুমি পরিশোধ করবে তাহলে তোমার মুখে ভালোবাসা যুক্ত এক টুকরো হাসি ফুটানোর চেষ্টা করো তাতেই হবে।
.
অামার কথা শুনে মেয়েটির মুখ হাসির ছোঁয়া পেলো
.
-বাহ্ হাসি মুখে তোমাকে খুব সুন্দর লাগে, ও হ্যা তোমার নাম টাই তো জানা হলো না
.
-অামার নাম অারোহি
.
-বাহ্ খুব সুন্দর নাম তো, বাসা কোথায় তোমার?
.
-অামার অাম্মুর বাসা গুলশানে
.
-মানে? বাবার?
.
-জানিনা
.
মেয়েটার কথা শুনে অারিফ বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলো 'কেন জানোনা?'
প্রতিউত্তরে মেয়েটি কিছুই বলেনি শুধু একটি দ্বীর্ঘশাষ উড়িয়ে দিয়েছে। অারিফ এই দ্বীর্ঘশাষে তার প্রশ্নের উত্তর খুঁজার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়, কারন তার এই দ্বীর্ঘশাষের গভিরতা অনেক। এই গভিরতায় তার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা দুষ্কর
.
অারিফ মেয়েটিকে তার পাশে বসিয়েছে, মেয়েটির চোখ দুটো অাবারো ছলছল করছে এখনই হয়ত কেঁদে দিবে মেয়েটি। মনে হয় মেয়েটার মন অাকাশে মেঘেরা ভয়ানক ভাবে গর্জন দিয়ে যাচ্ছে।
অারিফ মৃধু কন্ঠে অাবারো প্রশ্ন করলো
.
-অামাকে কি সব কিছু খুলে বলা যাবে?
.
অারিফের এমন প্রশ্নে মেয়েটি এবার হাউমাউ করে কেঁদে দিলো, অারিফ কিছু বুঝে উঠতে না পেরেই মেয়েটির মাথা তার বুকের মাঝে লুকানোর চেষ্টা করলো।
বুকের হৃদপিন্ডের শব্দ শুনে মেয়েটার কান্না থেমে গেলো।
মেয়েটা অারিফের বুক থেকে মাথা সরিয়ে নিয়ে বললো "শুনে কি করবেন?"
.
অামি নিশ্চুপ হয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম, ওর প্রশ্নের উত্তর অামার চোখ পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছে "খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, বলবে অামায়?"
.
মেয়েটা অারেকটি দ্বীর্ঘশাষ নিয়ে বলতে লাগলো
.
-তাহলে শুনেন, অামার মা আত্মহত্যা করেছে, অামার বাবা কে অামি অাজও জানিনা কখনোও মায়ের কাছ থেকে জানতে পারিনি অামার জন্মদাতা পিতার কথা।
অামার মা শুধু একটি কথাই বলতেন কখনো জেন অামি অামার বাবার কথা না জানতে চাই।
একদিন গভির রাত, চোখ দুটো ঘুমে অাচ্ছন্ন। অামি অামার রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ পাশের রুম থেকে অাসা কান্নার শব্দে অামার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
অামি রুমের দরজার অাড়ালে দাড়িয়ে দেখলাম অামার অাম্মু তার এক বান্ধবির সাথে কেঁদে কেঁদে অাম্মুর সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা ফোনে বলছে, অার অামি নির্বাক স্মোতার মত সব শুনে যাচ্ছিলাম
.
এখানেই মেয়েটি থমকে গেলো, ওর চোখ দুটো জলে ছলছল করছে। অামার চোখ দুটোও এখন অশ্রুসিক্ত। মেয়েটার মায়ের সাথে যা হয়েছে জানতে খুব ইচ্ছে করছে, অনেক অাগ্রহ নিয়ে অারিফ অাবারও জানার চেষ্টা করলো
.
-কি হয়েছে তোমার মায়ের সাথে?
.
-খুব বড় একটি পরিবারে অামার মায়ের জন্ম হয়েছিলো, তার বাবার একমাত্র রাজকন্যা ছিলো অামার মা।
অামার মা যখন অনার্সে পড়ালেখা করে তখন একটি ছেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়, সেই ছেলেটিই অামার বাবা।
অামার মা খুব ভালোবাসতেন ছেলেটিকে অনেক বিশ্বাসও করতেন।
তাদের সম্পর্ক যখন ৩বছর হয় তখন অামার মায়ের সাথে বাবা রুমডেট করার কথা বলেছিলো, অামার মা তখন উত্তরে বলেছিলো "বিয়ের অাগে এইসব হবেনা, তাছাড়া অামার সব কিছুই তো তোমার জন্য। তাহলে এত তারা কিসের?
.
ছেলেটি (মেয়েটার বাবা) কিছুতেই মানতেন না, তিনি রিলেশন নষ্ট করার হুমকি দিতেন প্রতিনিয়ত।
অামার মা সম্পর্কটা বাচিয়ে রাখার জন্য ভুল করে ছেলেটার সাথে সারি*** সম্পর্কে জরিয়ে পরে ছেলেটাকে বিশ্বাস করে,
যার মাসুল হিসেবে মায়ের গর্ভে অামার যায়গা হয়।
এরপর থেকেই ছেলেটি অামার অাম্মুকে এড়িয়ে চলা শুরু করে, এদিকে ধিরে ধিরে মায়ের গর্ভে অামি বড় হতে থাকি।
.
একদিন ছেলেটা শহর ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যায়, অাম্মু অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার অার দেখা মিলেনি।
অাম্মুর পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে তার পরিবার ছেড়ে চলে অাসে এখানে।
অামি যখন দুনিয়ার মুখ দেখি তখন অামার মায়ের মুখে হাসি ছিলো না, ছিলো এক রাস কষ্ট।
তবুও মা অামাকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিয়েছিলো।
.
অাম্মু একটি জব খুঁজে পেয়েছিলো, খুব ভালো ভাবে চলে যেত অামাদের সময়। সময়ের সাথে অামিও বড় হতে লাগলাম, অামাকে যখন স্কুলে ভর্তি করা হয় তখন ক্লাসে সবাই অামার বাবার কথা জিজ্ঞাস করতো কিন্তু উত্তর দিতে পারতাম না। শুধু দ্বীর্ঘশাষ ছিলো।
.
একদিন অামার মায়ের চাকরি টা চলে যায় কোনো এক কারনে।
অাম্মু ফোনে বলেছিলো, যে অফিসে অাম্মু জব করতে সেই অফিসের বস অাম্মুকে খারাপ প্রস্তাব দিয়েছিলো। অাম্মু রাজি না হওয়ায় তার চাকরিটা চলে যায়।
এরপর থেকে অাম্মু নতুন করে জব খুঁজা শুরু করেন, একদিন জব খুঁজতে গিয়ে রাতে বাসায় ফিরে নি।
অামি সারারাত দরজা খুলে দিয়ে রুমে বসে অপেক্ষা করছিলাম অাম্মু কখন অাসবে।
হঠাৎ চোখ দুটো ঘুমের ঘোরে হারিয়ে গিয়েছিলো, সকালে ঘুম থেকে উঠে যা দেখলাম যার জন্য অামি তৈরি ছিলাম না।
.
রুমের ফ্যানের সাথে ঝুলে অাছে একটি ক্ষতবিক্ষত দেহ, কিছু মানুষ রুপি পশুরা ছিড়ে খেয়েছে এই দেহ'টাকে।
ঝুলতে থাকা মানুষটি অামার মা ছিলো, অামি সাথে সাথে পাশের বাড়ির অনেকজনকে খবর দেই। তারা দেহটাকে নামিয়ে বলেছেন কারা যেন রাতভর অামার অাম্মুকে ধর্ষন করেছে, যার জন্য অাম্মু আত্মহত্যা করেছে।
.
থমকে গেলো অাবারও, মেয়েটা এখন খুব কাঁদছে কাঁদার জন্য কিছুই বলতে পারছেনা।
অামার চোখ দিয়েও ক্রমাগতভাবে অশ্রুকণা গড়িয়ে পরে অামার পাঞ্জাবী টা ভিজে গেছে।
.
নাহ্ অার পারছিনা গল্পটা লিখতে, সত্যিই অামি কেঁদে দিয়েছি। চোখ দিয়ে গর-গর করে জল গড়িয়ে পরছে, হাট দুটো থরথর করে কাঁপছে।
নাহ্ অার লিখবো না, গল্পটা এখানেই সমাপ্ত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now