বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ল্যাপটপ অন করতে সুইচ টিপে সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট নিয়ে ঠোঁটে ঝুলিয়ে লাইটারের উদ্দেশ্যে এদিকওদিক হাতড়াচ্ছি,কিন্তু একি প্যাকেটের কাছেইতো আমি লাইটার রেখেছিলাম..
বেশ মনে পড়ছে ল্যাপটপ হাঁটুর উপর রাখার আগে পাশেই সিগারেট আর লাইটার একসাথে রেখেছি,হুট করে আবার কোথাই উধাও হলো...
টি টেবিলে ল্যাপটপ রেখে উঠে দাঁড়ালাম পুরো সোফা খুঁজতে,হতাশ হয়ে ঠোঁটে না ধরানো সিগারেট নিয়েই ল্যাপটপ টিপতে বসলাম..
-এই যে শুনছো?
-হ্যাঁ শুনছি,বলো..
অদূরে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে লাইটার হাতে একবার জ্বালাচ্ছে আর একবার নিভাচ্ছে মুনিয়া....
ঠোঁটে মুচকি হাসি..
-লাইটার খুঁজছিলে তাইনা?
-আরে হ্যাঁ গো...কই দাও সিগারেটটা ধরিয়ে দাও..
তোমার অস্থিরতা দেখছিলাম এতক্ষন,
জানো,ভাবছিলাম মানুষটা এত বেখেয়ালি কেন।
-আমি বেখেয়ালি! কি বলো?
তা নয়তো কি..?
আমি তোমার পাশে এসে তোমার কাছ লাইটার নিলাম চুলোয় আগুন ধরাতে আর তুমি বেমালুম ভুলে গেলে?
ওহ তাইতো..
আসলে আজকাল খুব আনমনা হয়ে গেছি জানোইতো,সারাদিন শেষে কাজের চাপ যখন রাতেও কাভার করতে পারিনা তখন আনমনা না হয়ে উপায় কি বলো।
-বাদ দাও এসব কথা,সিগারেটের আগুনটা ধরিয়ে দিয়ে যাও..
-নাহ দিবোনা..
-কেন?
-তার আগে একটা শর্ত আছে..
-এই রাত বিরেতে আবার কি শর্ত মনে আসলো তোমার?
-আগে বলো রাখবে?
-আচ্ছা তুমি বলেই দেখোনা..
-দেখেছো রাত দুপুরে কত তারা আকাশে ঝিলমিল করছে..
-আহা!তোমার শর্তের সাথে আকাশের তাঁরার কি সম্পর্ক বুঝতে পারলাম না।
চাঁদের আলো ঢাকা পড়েছে মেঘের আড়াঁলে,নিয়ন আলো দিয়ে,বারবার মিটিমিটি করে জ্বলছে গগনাঙ্গন..
-হুম দেখেছি!তো?
-উফ তুমি না....
-আমি আবার কি করলাম?
বুঝতে পারছি মুুনিয়া এখন সিগারেট খেতে দিবেনা তাই বাহানা করছে..মেয়েটা আমার সব কিছুই পছন্দ করে, শুধু সিগারেটেই যত আপত্তি,
উঠে গিয়ে হাত থেকে লাইটার নিয়ে আবার সোফায় এসে বসলাম।
-এবার বলো তোমার শর্ত কি?....
-সিগারেট ধরাতে যাবো এমন সময় এক ঝাটকায় ঠোঁট থেকে সিগারেট ছুঁ মেরে নিয়ে গেলো।
-হা করে তাকিয়ে আছি মুনিয়ার দিকে..
এটা কি হলো?
-কিছুনা,তোমাকে বলেছিনা আমার শর্ত মানার পর তোমায় সিগারেট ধরিয়ে দিবো।
আমি দাঁড়িয়ে গিয়ে মুনিয়াকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম,আমার হাত দুটি মুনিয়ার শাড়ির বিতরে ডুকিয়ে ওর মেধহীন পেটে স্পর্শ করতেই ও কেপে উঠলো।
-আচ্ছা বাবা বলবে তো তোমার শর্ত কি?
আমার শর্ত হলো এই তারাভরা রাতের সম্মুখীন হয়ে তোমার পায়ের উপর আমার পা তুলে আমাকে কিছুটা সময় হাঁটাবে,আমাদের চোখের কথাকোপন শব্দহীন অবিশ্রান্তভাবে চলবে...
এতক্ষনে মুনিয়ার মুচকি হাসির কারণ বুঝতে পারলাম,কে বলবে এই অজোপাড়াগায়ের মেয়েটার মাঝে এমন উদ্ভট রোমান্টিকতার ছোঁয়া আছে...
-কি শর্ত পুরন করবে তো?একটু অভিমানী হয়ে..
হ্যাঁ বলার আগেই ঘুরে দাঁড়ালো, খুব কাছে এসে মুনিয়া, দুপায়ের উপর ভর করে দু হাতে গলা পেঁচিয়ে ধরেছে মেয়েটা..
এতদিন জানতাম মেয়েরা লজ্জাবতী হয়,কিন্তু এই মুহুর্তে নিজেকে লজ্জিত লাগছে,অপ্রস্তুত আমি আড়ষ্টভাব কাটাতে তার কোমর পেঁচিয়ে ধরলাম...
এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মুুনিয়া, আমি কথা বলতে যাবো ঠিক সেই মুহুর্তে হাতের আঙ্গুল চেপে ধরলো ঠোঁটে..
আমি হাঁটছি,একটু একটু করে হাঁটছি,পায়ের পাতার উপর অংশে কোমল স্পর্শে আমি শিহরিত হচ্ছি,আহ্লাদ বেড়ে যাচ্ছে মনের,ভুলে যাচ্ছি নিকোটিনের মাদকতা,একটা ঘোর আমায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে দূরে কোথাও...
তার মায়া চাহনিতে একটা অদৃশ্য টান অনুভব করছি,টানা চোখের অন্তরালে উদ্দীপ্ত মৌনতা আমায় ঝেঁকে বসেছে খুব করে আজ...
চাঁদের মাতম জ্যােৎস্নায় শুভ্র তারাগুলো জ্বলছে সেই সাথে তাল মিলিয়ে নিশ্চুপ পা ফেলে হেঁটে যাচ্ছি আমি,নেশাধরা ঘোর আমায় টেনে নিচ্ছে....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now