বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সেই তখন থেকেই
ছুটছি।
প্রচন্ডভাবে ঘেমে গেছি ছুটতে ছুটতে।
পিছনে পাচটা বিড়াল
প্রায় ঘন্টা খানেক
থেকে আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে আর
ম্যাও ম্যাও
করে চিতকার
করে ডাকছে। ক্রমশ
ডাকটি তীব্র
থেকে তীব্রতর
হচ্ছে। আমিও প্রানপন
দোড়াচ্ছি।
হঠাত
সামনে একটি ষাড় গরু
এসে হাজির
হল। আমিও
দিগ্বিদিক
হারিয়ে ফেললাম,
কারন সেটাও আমার
দিকে ছুটে আসছে।
আমার
পরনে লাল শার্ট।
হার্ট-বিট বেড়েই
চলেছে। কিছু
বুঝে উঠার আগেই
ষাড়টি এসে দিল এক
গুতা।
আমি চিতকার
করে লাফিয়ে উঠি।
ঘোর
লাগা চোখে চারদিকে তাকাই।
দুটি জিনিশ লক্ষ
করি।
এক, আমি বিছানার
নিচে পড়ে আছি।
দুই, বালিশের
নিচে রাখা সেলফোন
থেকে আমার
কানে বিশ্রীভাবে বিড়া ডাকার
শব্দটি ভেসে আসছে।
খুব
বোকা লাগে নিজেকে।
স্বপ্ন দেখছিলাম।
গভীর স্বপ্ন।
বিপজ্জনক স্বপ্ন।
বাবা!! আরেকটু হলেই
গিয়েছিলাম। এ
যাত্রায়
যে মানুষটি আমার
জীবন বাচালো তার
নাম
জানতে ফোনের
ডিসপ্লেতে তাকালাম।
মায়াবতি কলিং………
ও মাই গড।
লাফিয়ে উঠলাম।
মনে পড়ল আজ সকাল
নটা'য়
মায়াবতি মানে দজ্জালবতী অর্থাত
আমার মিথিলার
সঙ্গে দেখা করার
কথা।
গতকাল সন্ধ্যায়
মিথিলা ফোন
দিয়েছিল। রিসিভ
করতেই ওপাশ
থেকে হলিউডের
বন্ধুকের গুলি মত
ঝাঝালো গলা,
"ওই হারামি,
কী করিস??"
এমন
ধারালো আক্রমনে আমি ক্লিন
বোল্ড। থতমত গলায়
বললাম, "নিউ
মার্কেটে বন্ধুদের
সঙ্গে……………"
--হা করে মেয়েদের রুপ
গিলছিস। শালা, মুখ
বন্ধ কর্।
নাইলে মশা ঢুকবে।"
মেয়ে বলে কী??
মিথিলা আমার
ক্লাসমেট বান্ধবী।
বেস্ট ফ্রেন্ড এর
চেয়েও বেশি কিছু।
বেশ কিছুদিন হল
আমি ওর
প্রেমে পড়েছি। কিন্তু
বারবার বলতে গিয়েও
ওর দজ্জাল
মার্কা মুখটা দেখে ভয়ে ফিরে এসেছি।
জানি আমি বললে ও
কখনো না করতে পারবে না।
আজ বাদে কাল
যে আমার বউ হবে,
সে কিনা আমাকে শালা বলে ডাকছে।
আজিব তো। তাই
ধরা গলায় বললাম,
--"আচ্ছা মিথি, তুই
আমার সাথে এমন
করি কেন বলত??
একটা ফ্রেশ
মুডে আছি। মেজাজ
খারাপ করিস
না কিন্তু বলে দিলাম।
জরুরী কথা থাকলে বল।
নাইলে আমি রাখলাম।"
---জ্বি মিস্টার,
আপনার
সঙ্গে জরুরী কথা আছে।
দয়া করে আপনি কি কাল
সকাল
আটটায় আমার
সঙ্গে দেখা করতে পারবেন?"
--না, না, কাল সময়
নেই। পরশু আমার
টেষ্ট এক্সাম আছে।
পড়ার ঝামেলায় আছি।
--লাথি মারি তোর
ঝামেলার্ কপালে।
পড়াশুনার ঝামেলা!!
মেয়ে দেখার সময় কোন
ঝামেলায়
থাকেনা উনার্!!
--প্লিজ মিথি, আমার
কথাটা………
--কোন কথাই
শুনবো না আমি। কাল
তুই আমার
সাথে দেখা করবি,
করবি, করবি।
নাইলে তিন
ঘন্টা ঠান্ডা পানিতে চুবিয়ে রাখবো।
(ঝাঝিয়ে উঠলো মিথিলা)
---
আচ্ছা পাজি মেয়ে তো তুই………
কথা শেষ করার আগেই
মিথিলার
কথা শুনা যায়। খুব
ঠান্ডা স্বর,
"তোকে খুব দেখার
ইচ্ছে করছে রে।"
আমার আর কিছুই
বলার থাকলো না।
মনে হল আমার
চারপাশে পানি পরছে।
টাপুর-টুপুর্, টাপুর-টুপুর্।
শেষ পর্যন্ত নটার
দিকে দেখা করার
সিদ্ধান্ত হল।
এই এখন,
ডিসপ্লেতে তাকিয়ে ওক
কথা মনে পড়তেই
আমার মনে হতে লাগল,
কেউ যেন
আমাকে ঠান্ডা পানিতে চুবিয়ে ধরে রেখেছে।
আমার হাত পার ক্রমশ
অবশ হয়ে যাচ্ছে।
বেশ কয়েকবার
রিং হওয়ার পর ফোন
ধরে হ্যালো বলি।
মিথিলা দুনিয়ার
সবচেয়ে নিষ্ঠুর
মহিলার মত
চেচিয়ে বলল, "ওই
হাদারাম, কোথায় তুই?"
---দোস্ত আমি, কলেজ
মোড়ে দাড়িয়ে আছি।
কোন
রিক্সা পাচ্ছিনা।
--সাত
সকালে মিথ্যা বলতে লজ্জা লাগেনা??
শালার বাচ্চা শালা।
আমি আবারো থতমত
খেলাম তার
উল্টাপাল্টা সম্পর্কের
ঘুরপেচে।
ওকে বিয়ে করলে পরে ও
আমার
বাবাকে যদি শালা বলে ডাকে তাহলে কী হবে??
ভাবতেই
শরীরটাশিহরে উঠল
আমার্।
--ওই শালা,
কথা বলছিস না কেন??
--আমি আসছি।
এইতো আর কিছুক্ষন।
প্লিজ রাগ করিস না।
--হুমম!!
তারাতারি আয়।
--ওক্কে আসছি।
হুড়মুড়
করে বাথরুমে গেলাম।
দাত ব্রাশ
করতে করতে ভাবলাম,
নাহ! আজই
মিথিলাকে প্রপোজ
করবো। আর
অপেক্ষা ভাল
লাগছে না।
যেই ভাবা সেই
সিদ্ধান্ত। আজই
করবো। ফাইনাল।
ভালমত
দাতগুলো পরিষ্কার
করতে হবে। কাল
বন্ধুদের
সাথে বেড়িয়ে সারাদিনে ছয়টা পান
খেয়েছি। দাতগুলোর
অবস্থা অনেকটা গাজরের
মত হয়ে গেছে। তারপর
তারাতারি ফ্রেশ
হয়ে বের হলাম।
আধা ঘন্টার মধ্যেই
মিথিলার
কাছে।
আজ অনেক সুন্দর
লাগছে মিথি পাগলিটাকে।
নীল রংয়ের ড্রেস
পরে ঠিক যেন
নীলপরি মনে হচ্ছে তাকে।
আজ
আমি মিথিকে আমার
মনের
লুকোনো সব
কথা গুলো বলব।
আমি যে তাকে কতটা ভালবাসি তাও
বলব। আর
এদিকে ভয়ে আমার
বুকটা দুরুদুরুও করছে।
বুঝতে পারছি, আজ
আমার কপালে দুখ
আছে। পাক্কা এক
ঘন্টা তের মিনিট
দেরি করে এসেছি আমি।
মিথিলার
সামনে গিয়ে একটা ক্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে কেমন
আছে জিজ্ঞাসা করলাম।
সে একবার ঘড়ির
দিকে তাকিয়ে আমার
দিকে তাকাল।
আমি বেশ অবাক
হয়ে গেলাম। তার
তাকানোর
স্টাইলে কোন রকমের
রিয়েকশন নাই।
রাগি কোন ভাবও তার
চেহারায় ফুটে উঠেনি।
যাক এবারে যাত্রায়
বেচে গেলাম।
মিথি কোন
কথা না বলে আমাকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে ঢুকল।
আমিও বাধ্য ছেলের
মত
তাকে অনুসরন
করলাম। দুকাপ কফির
অর্ডার করা হল। আজ
মিথির মধ্যে এক
পরিবর্তন লক্ষ
করলাম আমি। কিন্তু
যাই হোক আজ
মিথিকে আমার সব
কথা বলতেই হবে। তাই
বলতা শুরু করলাম,
--মিথি, আজ
আমি তোকে একটা কথা বলতে চাচ্ছি।
অনেক আগেই
বলা দরকার ছিল,
কিন্তু সাহস পাইনি।
আসলে আমি তোকে………।
---চুপ কর্।
আমাকে থামিয়ে দিল
মিথিলা। তারপর
সে শুরু করল,
--দেখ সিয়াম, আজ
আমি তো কথা শুনতে আসিনি।
আমার কিছু খুব
জরুরী কথা বলার
আছে। এর মধ্যে কোন
প্রশ্ন করবি না।
জাস্ট শুনে যাবি।
---কিন্তু মিথি আমার
কথাটাও যে খুব জরুরী।
--শুনবো, তোর কথাটাও
আমি শুনবো। কিন্তু
তার আগে আমার
গুলো শুন। প্লিজ।
--আচ্ছা বল………।
--
আমি কালকে সিঙ্গাপুর
চলে যাচ্ছি। এতদিন……
--সিঙ্গাপুর!!! কেন??
--বলেছিনা কোন
প্রশ্ন করবি না?
আমার
কথা গুলা শুনে যা। তোর
সব প্রশ্নের উত্তর
পেয়ে যাবি।
--আচ্ছা বল।
--আমার শরীর
অনেকদিন থেকেই এক
দুরারোগ্য
ব্যাধি আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।
আমি কাউকে বলিনি।
কারন
আমি জানি এসব
বললে তারা আমাকে করুনা করা শুরু
করবে। আর
আমি চাইনা কারো করুনার
পাত্রী হয়ে থাকি।
তাই তোকেও বলিনি।
অনেক
চিকিতসা করিয়েছি।
কিন্তু কোন লাভ
হয়নি। তাই শেষ
চিকিতসার জন্য
সেখানে যাওয়া।
--কিন্তু
মিথি কী হয়েছে তোর্।
--ক্যান্সার্।
_কথাটি বলেই
একেবারেই চুপ
করে গেল মিথিলা।
আমার মাথায় কেউ
যেন
পুরো আকাশটা ছুড়ে মেড়ে গুড়িয়ে দিল
সবকিছু।
চারিদিকে অন্ধকার
হতে লাগল আমার।
মিথিলা আবার
বলতে আরাম্ভ করল,
--আমি জানি সিয়াম,
তুই
আমাকে কী বলতে চাচ্ছিস।
আমাকে ভালবাসিস
তাই তো??
--হুম।
--ভুলে যা। আমার
চেয়ে আরো অনেক
ভাল
মেয়ে আসবে তোর
লাইফে। আর আমিও
আর বাচবো না,
সেটা আমি খুব ভাল
করে জানি।
--কী বলছিস এসব!!
মাথা কি নষ্ট
হয়ে গেছে নাকি??
---আমি ঠিকই
বলছি রে। আর শোন,
আমিও
তোকে ভালবাসি।
কিন্তু শুধুমাত্র
আমার রোগটির জন্যই
তোকে বলতে পারিনি।
--প্লিজ মিথিলা চুপ
কর্। তোর কিছু
হবে না। তুই শুধু আমার
হবি।
--
আমাকে একটা রিক্সা ডেকে দিবি??
খারাপ লাগছে বাসায়
যাব।
আমি একটা রিক্সা ঠিক
করে দিলাম।
মিথিলা রিক্সা হুডটা তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে আর
আমি পিছন
থেকে দাড়িয়ে দাড়িয়ে তা দেখছি।
চোখ গুলো ক্রমশ
ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে আমার্।
এরপর থেকেই
মিথিলার ফোন বন্ধ।
কোনভাবেই তার
সাথে যোগাযোগ
করাতে পারছি না আমি।
প্রায়
জ্ঞান শুন্য
অবস্থা আমারও। প্রায়
দুদিন পর
একটা আননোন
নাম্বার থেকে কল
আসলো আমার
মোবাইলে। রিসিভ
করতেই ওপাস
থেকে কান্না জড়ানো কন্ঠে শুনতে পেলাম,
---
বাবা তুমি কি সিয়াম??
--হ্যা। আপনি কে??
---আমি মিথিলার
বাবা।
মিথিলা আমাকে তোমার
কথা বলেছিল।
বাবা আমার
মিথিলা মা যে আজ
আমাদের
ছেড়ে চলে গেল।
তুমি আসবে না বাবা আমার
মাকে শেষ
দেখা দেখতে??
আমার তখন
কী করা উচিত ছিল
আমি জানতাম না। তাই
ফোনের
লাইনটা না কেটেই
অজ্ঞান
হয়ে পড়েছিলাম আমি।
দুদিন পড় আমার
জ্ঞান ফিরে।
মিথিলাকে শেষ
দেখা আমি দেখতে পারিনি।
তাই জ্ঞান ফিরার পর
তার কবর জিয়ারত
করে এসেছিলাম।
তারপর অনেক
গুলো দিন কেটে গেছে।
ভাল
একটি মেয়েকে বউ
হিসেবে পেয়েছি।
সে সারাক্ষন
আমার কেয়ার করে।
কিন্তু
মিথিলাকে আমি আজও
ভুলতে পারিনি। আমার
বর্তমার স্ত্রীর
নামও মিথিলা।
তাকে আমি মিথিলার
ব্যাপারে সব বলেছি।
সে সব সময়
চেষ্টা করে আমার
আগের মিথিলার মত
চলতে।
মিথিলা হয়ে আমাকে শাষন
করতে।
বাস্তবে মিথিলা, তুই
ঠিক কথায় বলেছিলি।
সত্যিই খুব ভাল
একটা বউ
জুটেছে আমার ভাগ্যে।
লক্ষী একটা বউ
পেয়েছি, যেমনটি তুই
বলেছিলি?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now