বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লিখা : ইরাবতী (ভূতের পেত্নী)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X লিখা : ইরাবতী (ভূতের পেত্নী) মেয়েটি আজোও কেয়াকে ফলো করছিলো ছেলেটি ৷ কেয়া যে ব্যাপারগুলোকে বেশী এড়াতে চায় ততই বার বার সেইগুলোর সামনেই চলে যায় ৷ কেয়ার খুব টেনশান হচ্ছে বাসার কেউ এটা টের পেলে কেয়াকেই দোষ দিবে ৷ কেয়া ভেবে নিয়েছে ওই ছেলেটার সাথে এবার কথা বলবে সে ৷ --- এক্সকিউজ মী!! --- জ্বী আমাকে বলছেন?? --- দেখুন আপনিই যেই হোন আমি জানিনা ৷ গত কয়েকমাস ধরে আপনি আমাকে ফলো করছেন ৷ --- কই না তো ৷ আমার বাসাও ও দিকে ৷ --- তাই?? তাহলে আমি বাসায় ঢোকার পর আপনি আবার ব্যাক করে চলে যান কেনো?? --- তার মানে আপনিও আমাকে খেয়াল করেন?? --- লিসেন ৷ এত আনন্দিত হবার কিছু নেই ৷ আপনার মধ্যে এমন কিছুই আহামরি নেই যে আপনাকে খেয়াল করতে হবে ৷ --- আহামরি কিছু আছি কি না যাচাই করতেও কিন্তু তাকে খেয়াল করতে হয় ৷ --- চুপ করুন ৷ আমি বিবাহীত ৷ যে বাড়িতে রোজ ঢুকতে দেখেন সেটা আমার শ্বশুর বাড়ী ৷ --- হ্যাঁ জানি ৷ --- মানে?? জেনেও ফলো করেন?? আজব!! --- আপনাকে কি কোনদিন আমি ডিস্টার্ব করি?? --- না --- কোনদিন ডাক দিয়েছি বা কোনরকম ইশারা করেছি?? --- না ৷ --- তবে কেন অভিযোগ তুলছেন? রাস্তায় স্বাধীনভাবে হাটার অধিকার কি আমার নেই? আপনার পিছু পিছু যাই এটা আপনিই বা এত গুরুত্ব দিয়ে কেন দেখছেন?? এভোয়েড করে যান ৷ --- আমার গুরুত্ব দিতে হয় ৷ কারণ আমার শ্বশুর বাড়ীর লোকজন যদি দেখে রোজ আমার পিছনে কেউ আসে আমি আর পড়তে পারবোনা আমাকে কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দিবে আর আমাকেও ছেড়ে দিবে না যথেষ্ট শাস্তি দিবে ৷ --- আপনার হাজবেন্ড তো ডাক্তার ৷ এমন একজন মানুষ এভাবে পান চূন ব্যাপারে আপনার পড়াই বন্ধ করে দিবে?? --- হ্যাঁ দিবে ৷ প্লীজ আমি রিকুয়েস্ট করছি আমাকে আর ফলো করবেননা ৷ --- ভালো থাকবেন ৷ গত তিনদিন ছেলেটা আর আসছেনা ৷ কেয়া একটু অপেক্ষা করে বাড়ী আসে ৷ কিন্তু কেন এটা করে? সে তো নিজেই বাড়ন করেছে তাকে ৷ নাহ মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে এসব ৷ এসব পাপ ৷ কেয়া যথারিতী সংসার আর স্টাডি তে মন দেয়ার চেষ্টা করলো ৷ কেয়া! মধ্যবিত্য পরিবারের ছোট মেয়ে ৷ স্টুডেন্ট হিসেবে খুব ভালো সে ৷ এস এস সি তে গোল্ডেন ৷ এবছরই এইচএসসি দিবে ৷ বয়সের তুলনায় খুব তারাতারী এবং মামুনের সাথে বয়সের ডিফরেন্সটাও অনেক ৷ কিন্তু দেখতে ভালো হওয়ায় ডাক্তার ছেলের প্রস্তাব আসায় কেয়ার বাবা মা এক প্রকার ধরে বেধেই বিয়ে দেয় কেয়াকে ৷ মামুনের পরিবার বলেছিল ভাল কলেজে পরাবে ৷ কিন্তু এনে ভর্তি করেছে মফস্বলের একটা নরমাল কলেজে ৷ মামুন শহরেই থাকে সপ্তাহে দুদিন নিজ এলাকার চেম্বারে সে বসে ৷ কেয়া এতদিনে এটা বুঝেছে যে তার কপালে ভাল কোথাও পড়া লেখা নেই ৷ এখানেও ভর্তি করতো না কিন্তু এতভালো ফ্যামিলি তার উপর মামুন ডাক্তার তার বউ এত ভাল রেসাল্ট করেও পড়ছেনা জানলে খারাপ ব্যাপার হয়ে যাবে তাই নামে মাত্র ভর্তি করা ৷ আর এই কলেজ পথেই ফলো করতো ওই আগন্তুক ৷ কেয়াকে শ্বশুড় শাশুড়ী মোটামোটি ভালবাসলেও মামুন একটু কেমন জানি বিয়ের এতদিন হলেও মামুন শুধু স্বামীর কর্তব্য ছাড়া আর কোন সম্পর্কই রাখেনা কেয়ার সাথে ৷ কেয়া কয়েকবার জিগেস ও করেছে আপনি কি আমাকে পছন্দ করেননা? কিন্তু মামুন উত্তর দেয়না ৷ মামুন কম কথা বলে একটু মুড আছে তার ৷ হয়তো এত বড় ডাক্তার বলেই ৷ এই তো সেদিন কেয়ার ফুপাতো বোনের বিয়েতে মামুন যাবেই না কেয়া অনেক জোড়াজুড়ি করে নিয়ে গেল কিন্তু মামুন কেয়ার বাবা মার সাথেও কেমন আছেন ছাড়া আর কোন কথা বললো না অন্য আত্মীয়রা তো বাদ ই ৷ কেয়া খুব খারাপ অবস্থায় পরেছিল সেদিন ৷ সবাই আড়ালে এটা নিয়ে কথা বলছিলো কেয়া খুব ভালোই বুঝতে পারছিলো ৷ বাসায় এসেছে অনেক কেঁদেছে সেদিন কেয়া ৷ মামুন এমন কেন? কি হয় একটু সবার সাথে কথা বললে?? কিন্তু কোন লাভ হয় না ৷ কেয়া হাজার বলেও মামুন কে স্বাভাবিক করতে পারে না ৷ এই এস সি তে কেয়ার প্রচেষ্টা সার্থক হল এ প্লাস আসলো রেসাল্ট ৷ এবার কেয়ার বাসা থেকে মামুনদের প্রেসার দেয়া হলো কলেজে শহরে ভর্তির কথা ছিলো কিন্তু করা হয় নি কিন্তু এবার শহরে ভালো কোথাও পড়াতে হবে ৷ তারা বলেছে পরাবে কিন্তু ফাকি দিলে চলবেনা ৷ এছাড়া আত্মীয় স্বজন সবার কথায় মামুন কথাটা ফেলতে পারলো না ৷ শহরে একটা মোটামুটি ভালো ভার্সিটিতে ভর্তি করানো হলো কেয়া কে ৷ কেয়া আর মামুন এখন শহরেই থাকে ৷ কিন্তু মামুন যা তাই থেকে গেলো প্রয়োজন ছাড়া একটা কথাও সে বলে না ৷ কেয়া ক্লাসে যেতো একাই বাসায় ফিরতো ও একাই ৷ মামুন ইচ্ছে করলেই কেয়াকে প্রতিদিন ক্লাসে দিয়ে আসতে পারতো কারণ ওর চেম্বার কেয়ার ভার্সিটির দিকেই কিন্তু মামুন কখনোই তা করতো না ৷ কেয়া কিছুদিন ক্লাস করার পর হঠাৎ ওর ক্যাম্পাসে ওই ছেলেটাকে দেখলো যে কেয়াকে ফলো করতো ৷ কিন্তু ভাবলো ভুল হয়তো ও কোথা থেকে আসবে? কিন্তু না পর পর তিনদিন এই ভুল তো হতে পারেনা ৷ ওই ছেলেটাই ৷ কিন্তু ও কেনো এখানে?? কেয়ার কেন জানি খুব ইচ্ছে হলো জানার ও কেন এখানে ৷ ও কি জানে কেয়াও এখানে পড়ে ৷ কেয়া মোটামুটি এর ওর থেকে জানতে পারলো ছেলেটা লাস্ট সেমিস্টারে আছে কিছুদিন পরেই ওর ভার্সিটি শেষ ৷ --- শুনছেন?? --- কি খবর? আপনি এখানে? --- জ্বী ভর্তি হয়েছি ৷ আপনি? --- আমার তো একানে পড়া শেষ বললেই চলে আর দু মাস আছি ৷ --- ওহ ৷ তো আপনি ওখানে কি করতেন? --- আমার বাসা ওখানেই ৷ বাড়ীতে গিয়ে আপনাকে দেখি একদিন এরপর তো জানেনই ৷ তারপর আপনি নিষেধ করার পর আবার এসে ক্লাস শুরু করেছি ৷ --- তার মানে আপনি শুধু আমাকে দেখতে ক্লাস বাদ দিয়ে বাসায় থাকতেন? --- এক সেমিস্টার ড্রপ গিয়েছে৷ --- মানে?? আমার জন্য আপনি ড্রপ ও দিয়েছেন? শুধু পলো করার জন্য? --- আপনি সাহস দিলে আরো অনেক কিছুই পারতাম ৷ নাহ কথা অন্য দিকে চলে যাচ্ছে ৷ তাই কেয়া আর কথা বাড়ালো না আসি বলে চলে এলো ৷ কেয়া কেনই বা সেধে কথা বলতে গেলো? ভেবেই রাগ হচ্ছে নিজের ওপর ওর ৷ মামুন আজ কেমন যেন বিস্ফোরিতো চোখ মুখ নিয়ে বাসায় ফিরলো ৷ --- কি হয়েছে আপনার? এমন লাগছে কেনো? --- কেয়া কথা বলোনা ভালো লাগছে না ৷ নাহ মামুন রাতে খেলোও না ৷ সিরিয়াস কিছু হয়েছে নিশ্চই ৷ নাহলে এমন তো করেনা মামুন ৷ --- দেখেন আর যাই হোক আমি আপনার ওয়াইফ ৷ সেই অধীকার কখনো দেখাইনি কিন্তু আজ সেটার জোড়েই জানতে চাইছি কি হয়েছে এবং আপনাকে বলতে হবে ৷ --- --- চুপ করে আছেন কেনো? এদিকে দেখুন ৷ কি-কি ব্যাপার আ-আপনি কাদছেন কেনো?? --- কেয়া আমি জানি আমি অনেক খারাপ মানুষ ৷ তোমাকে কখনো ভালো রাখিনি ৷ কিন্তু এসবের পেছনে একটা কারণ ছিলো কেয়া ৷ --- কি কারণ?? --- হ্যাঁ আজ বলবো তোমাকে সব ৷ --- বলুন! --- কেয়া আমি তোমাকে বিয়ে করার আগে বিহাহিত ছিলাম ৷ আমি পছন্দ করে বিয়ে করেছিলাম ৷ কিন্তু আমার পরিবারে ব্যাপারটি মানেনি তাই আমি নীলা কে নিয়ে বাইরেই থাকতাম ৷ নীলা আমাকে খুব ভালোবাসতো ৷ আমরা এত সুখী ছিলাম বলেই হয়তো কারো নজর লেগে গিয়েছিলো ৷ নীলা ধীরে ধীরে আমার থেকে দুরে যেতে লাগলো ৷ আমি ভাবতাম সারাদিন বাসায় একা থাকে তাই হয়তো মন খারাপ ৷ আমি ওকে বললাম বেবী নেবার কথা কিন্তু ও বললো এখনি না আর একটু লেট করে নেই ৷ আমিও রাজী হলাম ৷ নীলা আমাকে কখনো কিছু বলা বা খারাপ ব্যাবহার করা তা করতো না কিন্তু ভালোবাসার মানুষটা একটু অন্যরকম হলেই কিন্তু বোঝা যায় ৷ নীলা আমার কাছে আসলেও আমি ফিল করতাম আমি ওর হাত ধরলেও ওর কাটার মত লাগে সেটা কিন্তু কখনোই তা বলতো না ৷ আমি বুঝতে পারলাম ওর কোন প্রবলেম হচ্ছে কিন্তু হাজার বলেও ওর থেকে বের করতে পারতাম না কি প্রবলেম ৷ শুধু বলতো এমনি শরীরটা ভালো না মাথা ধরে থাকে তাই ৷ আমি এস এ ডক্টর তাকে কিছু টেস্ট করাতে বললাম তাতেও সে রাজী না তার কথা সে এমনিই ঠিক হয়ে যাবে ৷ দিন যাচ্ছে কিন্তু নীলা ঠিক হয়না ৷ আমি ভালাম আমাদের কোথাও থেকে ঘুরে আসা উচিত হয়তো একা একা সারাদিন তাই ওর সমস্যা গুলো হচ্ছে ৷ কিন্তু না নীলাকে কোনভাবেই রাজী করাতে পারলাম না ৷ সে যাবেনা বাইরে ৷ আমি কিছুই বুঝতে পারছিলামনা নীলা কেনো এমন করছে ৷ একদিন আমি চেম্বারে ছিলাম নীলা ফোন করে বললো একটু শপিং করবে টাকা লাগবে ৷ আমি বললাম আলমারীতে আছে তো নাও ৷ ও বললো চাবিটা খুজে পাচ্ছেনা হয়তো কোথাও রেখে ভুলে গেছে ৷ আমি বললাম ঠিক আছে কত লাগবে বলো ৷ ও বললো সিওর না তবে আজ অনেক কিছু কিনতে ইচ্ছে করছে আজ ৷ আমি মনে মনে খুশি হলাম যাক আজ নীলা স্বাভাবিকভাবে কথা বলছে এটা নস্ট করা যাবেনা ৷ তাই আমার এসিস্টেন্টকে দিয়ে ব্ল্যাঙ্ক চেক সই করে পাঠালাম ৷ যা লাগে তুলে নিবে সেভাবে ৷ ও অনেক খুশি হলো ৷ বললো তোমার জন্য আজ অনেক কিছু কিনবো ৷ ১ ঘন্টা পর ফোনে ম্যাসেজ আসলো আমার একাউন্টে ৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ছিলো ৷ ৭ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে বাকী আছে ৩০ হাজার টাকা ৷ আমি অবাক হলাম এটা কেনো হবে? আমি এতটাই অন্ধ ছিলাম তখনো ভাবছি ভুল ম্যাসেজ হয়তো ৷ তখনো মাথায়ই আসেনি আমি ব্ল্যাঙ্ক চেক সই করেছিলাম সো যে কোন এমাউন্ট তোলা সম্ভব ওটা দিয়ে ৷ ব্যাঙ্কে ফোন দিলাম ৷ ওরা বললো জ্বী স্যার টাকা তোলা হয়েছে ৷ নীলা ফোন দিলো, বললো মামুন অনেক শপিং করেছি আজ ৷ তখন নীলাকে বললাম কত টাকা তুলেছো ও বললো ১০ হাজার ৷ আমি আর হিসাব মোলাতে পারছিনা তাহলে কি হলো? কে তুললো এত টাকা ৷ চেক নীলাকে দিয়েছি ১০ হাজার টাকা তুললে তো সেই ম্যাসেজ আসবে তা তো এলো না ৷ বাসায় গেলাম ৷ দেখলাম নীলা আসেনি এখনো ৷ ২ ঘন্টা হয়ে গেল তাও নীলা নেই ফোন দিচ্ছি বন্ধ ৷ সেই থেকে আর নীলা কে পাইনি কেয়া ৷ ও কেন এতবড় ছলনা করলো জানিনা আমি ৷ এরপর সবার সাথে কথা বন্ধ করে দেই ৷ বাবা মা জানতে পেরে আমার এখানে এলো বুঝালো ৷ তারপর তারা বিয়ে দিতে চাইলো,আমার ৷ আমি নিজের ভুলে তাদের কষ্ট দিয়েছি তাই আর না করলাম না ৷ এরপর তোমার সাথে বিয়ে হলেও কখনো তোমাকে ভালোবাসতে পারিনি বিশ্বাষ করতে পারিনি ৷ কারণ যাকে এত বছর ভালবেসে বিয়ে করেছিলাম সেই তো মর্যাদা রাখলোনা আর তোমাকে তো চিনিই না ৷ --- আপনার এত কষ্ট এতদিন কেন খুলে বলেননি আমাকে? আর আমি তো বিয়ের ব্যাপারটাও জানিনা ৷ --- আসলে বাবা মা ওই কলঙ্কটা আমার জীবনে রাখতে চায়নি তাই জানায়নি ৷ --- যে গেছে তার জন্য আপনি এত কষ্ট কেনো পান? আর এতদিন পরেই বা কেন বললেন আমাকে? --- কারণ, আজ আমার চেম্বারে নীলা এসেছিলো ৷ ওর বাচ্চাকে নিয়ে ৷ ওর বাচ্চার এক চোখ অন্ধ আরেকটাতেও ইফেক্ট পরেছে তাই যার কাছে দেখাতো সে আমার কাছে আসতে বলে ৷ ও হয়তো বোঝেনি এটা আমি কারণ মামুন আহমেদ নামে তো কত ডাক্তারই আছে ৷ আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম কেয়া ৷ নীলা কে চেনা যাচ্ছে না ৷ এত সৌখিন মেয়েটার চোখের নিচে কালী পরে গেছে ৷ পোশাক আশাকে তে চিটচিটে ভাব ৷ তার ওপর বাচ্চার এই অবস্থা ৷ --- তার মানে সে যার সাথে গিয়েছিলো তার অবস্থা ভালো ছিলো না? --- জানিনা কেয়া ৷ আমি জানিনা ৷ কেয়ার নিজেকে খুব অপরাধী লাগছে ৷ অজান্তে হলেও কেয়াও মনে মনে ওই আগন্তুককে খুজতো তার সাথে দুবার কথাও বলেছে ৷ মামুন এত দুঃখী একটা চেলে ভেতরে এত কষ্ট রেখেছিলো আর কেয়া ভেবেছে মামুন ভালো না ৷ নীলার মত কেয়া র একটা ভুল চাওয়া শেষ করে দিতো মামুনকে আবার ৷ এত কষ্ট পেয়েছে মামুন যে তার ভেতর থেকে বিশ্বাষ জিনিসটাও চলে গেছে ৷ --- শুনছেন? --- বলো ৷ --- আমাকে একটা ছেলে ফলো করতো ৷ সে আমার ভার্সিটিতেই পরে আমি দুবার তার সাথে কথাও বলেছি ৷ কিন্তু আমি কখনোই তাকে প্রশ্রয় দেইনি ৷ --- হ্যাঁ কেয়া আমি জানি ৷ --- কিভাবে? --- কারণ আমি দেখেছি ব্যাপারটা ৷ তোমার ভার্সিটির পাশেই আমার চেম্বার সেই সুবাদে কথা বলতে দেখেছিলাম একদিন ৷ --- বলেননি কেন?? --- কারণ চেয়েছিলাম তুমি বলো ৷ আর বলবে আশাও করিনি কারণ যে ধোকা য় পরেছি তুমি ও দিতেই পারো ৷ কেয়ার খুব খারাপ লাগছে না জানি মামুন কি ভেবে নিয়েছে ৷ নাহ ওকে স্বাভাবিক করতেই হবে ৷ --- আচ্ছা একটা কথা বলি? --- বলুন ৷ --- আমি কিন্তু নীলাকে এখনো ভালোবাসি ৷ --- হুম --- যদি ও ফিরে আসতে চায় আমি ওকে মেনে নিলে তুমি কি করবে?? --- আপনি অন্য কারো কাছে যান ৷ আমাকে ডিভোর্স দিন আমি সব মানবো কিন্তু ওর কাছে ফিরবেননা প্লীজ ৷ --- কেন? অন্য কারো কাছে গেলে ওর কাছে কেন না? --- যে এতবড় ঠকিয়েছে আপনাকে সে আবার যে ঠকাবেনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই ৷ ছোট ভুল ক্ষমা করা যায় কিন্তু এতবড় ভুল মেনে আরেকটা ভুলের জন্ম আপনি দিবেননা প্লীজ ৷ কারণ আবার আঘাত পেলে আপনি সহ্য করতে পারবেননা ৷ আজ নীলার আসার ডেট ৷ এই দিন আবার চেকাপের জন্য প্রেসক্রিপসানে লিখে দিয়েছে মামুন ৷ হ্যাঁ নিলা এলো তবে একা ৷ --- পেসেন্ট কোথায়?? --- মামুন কিছু কথা ছিলো ৷ --- বলুন ৷ --- মামুন আমার পাপের শাস্তি আমি পাচ্ছি ৷ আমি ক্ষমার অযোগ্য ভুল করেছি ৷ আমার কথা বলারও মুখ নেই ৷ তবুও ক্ষমা করো মামুন ৷ আমি তোমাকে অনেক খুজেছি বাসা নম্বর সব চেন্জ করেছো ৷ আমি তোমার কাছে ফিরতে চাই মামুন ৷ আমার সব পাপের অবসান করতে চাই ৷ --- ঠিক আছে বাসায় চলো ৷ কেয়া এটা নীলা ৷ --- ভেতরে আসুন আপু ৷ বসুন আমি চা নিয়ে আসছি ৷ মামুন তুমি আবার বিয়ে করেছো?? আমাকে ভুলে বিয়ে করতে পারলে? তাহলে কেন আনলে আমাকে? --- একটু ওয়েট করো নীলা বলছি ৷ কেয়া এদিকে এসো ৷ --- আসছি ৷ --- এখনি এসো ৷ --- হ্যাঁ বলুন ৷ --- নীলা ৷ ও কেয়া ৷ আমাগের বিয়ের সময় ও কিছুই জানতোনা তোমার ব্যাপারে৷ আমি ওকে অনেক অবহেলা করেছি ও কোনদিন আমাকে গলা উচিয়ে একটা কথাও বলেনি ৷ ওর জীবনেও অনেক হ্যান্ডসাম ছেলেকে ও আনতে পারতো কিন্তু আমি এত অবহেলা করার পরেও ও প্রশ্রয় দেয়নি ৷ কিউরিসিটি ছিলো হয়তো সেটা স্বাভাবিক কিন্তু ও সেখানেই থামিয়ে দেয় সব ৷ ও তো পারতো আমাকে ছেড়ে দিতে সেই অপশান ওর ছিলো ৷ তোমার কথা জেনেও ও আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে ৷ আমাকে বলেছে তোমার কাছে ব্যাক না করতে কারণ আবার ঠকলে মানতে পারবোনা ৷ কিন্তু সেটা ওর নিজের জন্য বলেনি ও কিন্তু বলেছে দরকার হলে আমাকে ডিভোর্স দিন ৷ তবুও আপনি কষ্ট পান আমি চাইনা ৷ আর তুমি??? আগের কথা বাদই দিলাম আমাকে দেখা মাত্র বাচ্চাটাকেও রেখে চলে এলে ৷ আমাকে নাকি খুজেছো ৷ তোমার কাছে আমার পুরো পরিবারের নম্বর ছিলো ৷ আমি না হয় নম্বর পাল্টেছি আমার বাবা মা তো পাল্টায়নি ৷ আমার গ্রামের বাড়ীর ঠিকানা জানতে তুমি ৷ যদি সত্যি ভুল বুঝতে পেরে আসতে চাইতে আমাকে পাবার এনাফ ইনফো ছিলো তোমার কাছে ৷ কিন্তু তুমি কখনো চাওই নি এতদিন পর আমাকে দেখলে এখন নাটক সাজিয়ে এসেছো ৷ আর বিয়ে করেছি শুনে যেভাবে নাক সিটকালে এটা দেখে বলাই যায় চোরের মার বড় গলা ৷ gj এই যে কেয়া আমার ওয়াইফ ৷ কোনদিন বলিনি আজ বলছি আমি কেয়া কে পেয়ে ধন্য ৷ এতদিন যা যা থেকে ও বঞ্চিত হয়েছে সব পাবে সাথে আমার ভালোবাসাও ৷ কেয়া আমাকে বুঝিয়েছে সবাই নীলা নয় ৷ কেয়ারাও আছে আর তাই ভালোবাসা আছে ৷ আমি কেয়ার জন্য আমার সব উৎসর্গ করতে পারি ৷ নীলা আর কিছু বলতে চাও?? না নীলা আর কিছু বলেনি ৷ মাথা নিচু করে চলে গিয়েছিলো ৷ বেঁচে থাকুক কেয়া আর মামুনের ভালোবাসা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ লিখা : ইরাবতী (ভূতের পেত্নী)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now