বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিশ্চয় ম্যানেজারবাবু। তড়িঘড়ি গাড়ি সাইড করে পকেট থেকে মোবাইল বের করে বাটন টিপেই কানের কাছে ধরল।
অতি আগ্রহে মোবাইলে কলিং নম্বর লক্ষ করেনি। হ্যালো বলতেই ওদিক থেকে পরিচিত সেই নাকি সুর‚ ‘হ্যাঁল্লো বাঁবু। তুঁমি বডি নিয়ে এসেছিলে নাকি?’
টেলিফোনের ওদিকে আর কেউ নয়।
খোদ গুড হোমের মালিক জোসেফ।
‘হ্যাঁ‚ গিয়েছিলাম তো।’ হতাশ গলায় গোবিন্দ বলল।
‘এঁই ঝঁড়জলের রাতে বডি নিয়ে কোথায় যাবে! চঁলে এস এখানে। কুঁইক।’ ওদিক থেকে জোসেফের উত্তর।
‘তবে‚ তবে যে টমাস বলল‚ জায়গা নেই!’ অবাক হল গোবিন্দ।
‘আঁরে ছাড়ো ওর কথা। বাঁবার এত দিনের কারবার‚ গুড উইল‚ দু’দিনে লাটে তুলবে ছোঁড়া! তুঁমি চলে এসো বাবু।’
কথা শেষ করে লাইন ছেড়ে দিল জোসেফ। গোবিন্দও আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। গাড়ি ঘুরিয়ে ফের ছুটল গুড হোমের দিকে।
দরজা খুলে জোসেফ ওর অপেক্ষায় বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিল। গোবিন্দ গাড়ি থামাতেই সেই আগের মতোই দু’সারি দাঁত বের করে নিঃশব্দে হাসল। তারপর সেই পরিচিত স্বরে বলল‚ ‘তুঁমি বসো বাবু। আঁমি বডি নিয়ে আসছি।’
রাতে এখানে এলে ইদানীং আর ভিতরে যায় না গোবিন্দ। বডির সঙ্গে কাগজপত্রগুলোও বুড়োর হাতে ধরিয়ে দিয়ে গাড়িতেই বসে থাকে। কাজ সারা হলে সই-
সাবুদ করে জোসেফই পৌঁছে দিয়ে যায়।
কিন্তু আজ ঝড়জলের রাতে এই নির্জন পথে একা গাড়িতে থাকতে ভরসা হল না।
ইতিমধ্যে গাড়ির পিছনের দরজা খুলে বডি তুলে ফেলেছে জোসেফ। ও কাগজপত্র হাতে তার পিছনে পায়ে পায়ে ঢুকে পড়ল ভিতরে।
বুড়ো ভিতরে ঢুকে মস্ত টেবিলের উপর বডি নামিয়ে রাখতেই গোবিন্দ নরম গলায় বলল‚ ‘একটু তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিলে ভাল হয় স্যার। বাইরে ঝড়জলের যা…।’
কিন্তু ওর কথা শেষ হবার আগেই বুড়ো প্রায় আঁতকে উঠল‚ ‘এঁ যেঁ প্রায় রটন বডি নিয়ে এসেছ বাবু!’
কড়া ওষুধ দেওয়া বডির অবস্থা যে ভাল নয় জানাই ছিল। গোবিন্দ কথা না বলে হাতের কাগজগুলো এগিয়ে দিল। সামান্য উলটে দেখে জোসেফ হতাশ গলায় বলল
‚ ‘চাঁরদিন আগের বডি। রাঁখতে হবে আরও সাতদিন! এঁখুনি ব্যবস্থা না নিলে সাত দিন পরে লাশ নয় বাবু। পাঁওয়া যাবে স্কেলিটনটা। গুঁড হোমের বদনাম হয়ে যাবে!’
বুড়ো ফের কী বলে ওঠে। গোবিন্দ তাড়াতাড়ি বলল‚ ‘এ ব্যাপারে গুড হোমের সুনাম রয়েছে বলেই তো ছুটে আসি স্যার।
যা করতে হয় করুন।’
জোসেফ অবশ্য গোবিন্দর উত্তরের জন্য অপেক্ষা করেনি। ততক্ষণে ওষুধপত্রের ঢাউস একটা বাক্স টেবিলে নামিয়ে খুলে ফেলেছে। বড় একটা সিরিঞ্জ রেডি করে বোতল থেকে অনেকটা ফর্মালিন নিয়ে একটু পরেই জোসেফ বডির বিভিন্ন স্থানে পুশ করতে শুরু করল। খালি করে ফেলল পুরো বোতলটাই। তারপর কী একটা ওষুধ বডির উপর স্প্রে করে শুরু করল ম্যাসেজ। ওষুধের গন্ধ তো ছিলই। এবার লাশের উপর জোসেফের সরু দুটো হাত দ্রুত চলতে শুরু করতেই গা গুলিয়ে উঠল গোবিন্দর। বেশ বুঝতে পারছিল
‚ বুড়ো যা খুঁতখুঁতে মানুষ‚ লাশের ব্যবস্থা না করে আর কাগজপত্রে হাত দেবে না। বুড়োর কাজ শেষ হতে কতক্ষণ লাগবে জানা নেই।
ও কী করবে ভাবছে। মুশকিল আসান করে দিল জোসেফ নিজেই। টেবিলে লাশের উপর হাত চালাতে চালাতেই বলল‚ ‘বাঁবু‚ এবার কিছু সিক্রেট কাজ আছে। তুঁমি বরং বাইরে গাড়িতে গিয়ে বসো। আঁধ ঘণ্টার মতো লাগবে। কাঁজটা হয়ে গেলেই পেপার সই করে দিচ্ছি।’
মরা লাশ সংরক্ষণের ব্যাপারে গুড হোমের জোসেফের যে কিছু একান্ত গোপনীয় ক্রিয়াকর্ম রয়েছে‚ জানা ছিল গোবিন্দর। সেই দৌলতে আধপচা লাশ এক মাস পরেও মনে হবে এক দিন আগের। বলা যায়‚ বুড়োর এই হাতের কাজের কারণেই গুড হোমের নামডাক। সবাই ছুটে আসে। বলা বাহুল্য‚ সেসব একেবারেই গোপনীয় ব্যাপার। গোবিন্দ বলল‚ ‘তাহলে বাইরে গাড়িতে গিয়ে বসছি আমি।’
মুহূর্তে উঠে দাঁড়িয়ে গোবিন্দ বের হয়ে পড়ল ঘর থেকে। বলা যায় হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।
বুড়ো আধ ঘণ্টার মতো লাগবে বলেছিল। কিন্তু একটু একটু করে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পার হয়ে গেল‚ তখনও ওদিকে থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরে গোবিন্দ গাড়ি থেকে নেমে দরজার সামনে এসে দাঁড়াল।
বেরোবার সময় দরজাটা সামান্য টেনে দিয়েছিল। সেইভাবেই রয়েছে। ঠেলে সরিয়ে ও ভিতরের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। এই দরজাটাও ও হালকা ভাবে টেনে দিয়েছিল। এখন ভিতর থেকে বন্ধ। ও বেল টিপবে কিনা ভাবছে। ভিতরে মানুষের আওয়াজ শুনতে পেল। কেউ উত্তেজিত গলায় কথা বলছে। কিন্তু ভারি দরজার কারণে বুঝতে পারল না। বুড়োর কাজ এখনও শেষ হয়নি ভেবে ও ফের গাড়িতে এসে বসল।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল রাত সাড়ে দশটা। আর কতক্ষণ এভাবে থাকতে হবে ভেবে না পেয়ে ম্যানেজার হারাধন নন্দীকে ফের ফোন করবে কিনা ভাবছে। ওই সময় মোবাইলটা বেজে উঠল।
বের করেই দেখে খোদ ম্যানেজার হারধন নন্দীরই ফোন। রিসিভ করতেই ওদিক থেকে হারাধন নন্দীর উত্তেজিত গলা‚ ‘কী সর্বনেশে কাজ করেছ গোবিন্দ! তোমার চাকরি তো গেছেই। টানাটানি পড়বে আমার চাকরি নিয়েও।’
সন্ধের পর থেকে হেনস্তা এযাবৎ কম হয়নি। তাই ম্যানেজারের ধমক খেয়েও গোবিন্দর কোনো প্রতিক্রিয়া হল না।
ঠাণ্ডা গলায় বলল‚ ‘কেন‚ কী হয়েছে হারধনদা?’
‘তুমি কোথায় এখন? বাড়িতে?’
‘বাড়িতে! বাড়িতে কেন! গুড হোমে বুড়ো জোসেফের কাছে বডি জমা করে বাইরে গাড়িতে বসে আছি। এখনো কাগজ সই হয়নি।’
কয়েক মুহূর্ত ওদিকে কোনো কথা নেই।
তারপর হারাধন নন্দীর ভয়ার্ত গলা
‚ ‘জোসেফ বডি জমা নিয়েছে?’
‘হ্যাঁ‚ হারাধনদা। বডির অবস্থা মোটেই ভাল নয় বলে ওষুধপত্র লাগাতে লাগাতে আমাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলল।’
‘গোবিন্দ‚ যা বলছি একটু ঠাণ্ডা মাথায় শোন। গুড হোমে বডি রাখার নাকি জায়গা নেই। আমি টমাসকে বলে দিচ্ছি।
ওর কাছে থেকে বডি নিয়ে কাছেই ওরিয়েন্ট হসপিটালে পৌঁছে দাও। কথা বলেছি‚ ওখানে ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’
‘কেন হারাধনদা? জোসেফ তো তেমন কিছু বলল না!’ অবাক হয়ে গোবিন্দ প্রশ্ন করলেও ওদিকে থেকে কোনো উত্তর এল না। হারাধন নন্দী লাইন কেটে দিয়েছে।
হতচকিত গোবিন্দ ফের তাঁকে ফোন করবে কিনা ভাবছে। সশব্দে গুড হোমের দরজা খুলে বেরিয়ে এল টমাস।
‘ইউ বাস্টার্ড
‚ তোমাকে ‚ তোমাকে গুলি করে মারব আমি!’
নেশাখোর টমাস এভাবেই কথা বলতে অভ্যস্ত। গোবিন্দ মোলায়েম গলায় বলল‚ ‘কেন গো দাদা? কী অপরাধ?’
‘তোমাকে আমি বলেছিলাম না‚ গুড হোমে বডি রাখার জায়গা নেই।’
‘বলেছিলেন তো। চলেও তো গিয়েছিলাম। তারপর ফের…।’
‘তারপর ফের ফিরে এসে‚’ গোবিন্দর কথা কেড়ে নিয়ে টমাস বলল‚ ‘লাশ নিয়ে চোরের মতো ভিতরে ঢুকেছ। দশ নম্বর ড্রয়ারে আমার বাবার বডি ছিল। সেটা বের করে বাইরে টেবিলে রেখে ড্রয়ারের ভিতর তোমার আনা লাশ ঢুকিয়ে দিয়েছ! আস্পর্ধা তো কম নয়!’
‘জ–জোসেফ সাহেবের ব…!’ কথা শেষ করতে পারল না গোবিন্দ। মুখটা হাঁ হয়ে আটকে গেল।
‘হ্যাঁ‚ জোসেফ সাহেবের বডি। আজ সন্ধ্যেয় হঠাৎই মারা গেছেন উনি।
সেরিব্র্যাল অ্যাটাক।’
লাশ–গাড়ি চালিয়ে গোবিন্দর বুকের পাটা কিছু বেড়েছে‚ সন্দেহ নেই। নইলে ওই কথা শোনার পরেও গাড়িতে স্টার্ট দিতে পেরেছে। তারপর ঘটাং–ঘট শব্দে একদম টপ গিয়ার। পিছনে টমাস তখন চ্যাঁচাতে শুরু করেছে। ‘যাচ্ছ কোথায়! বডি আর কাগজপত্রগুলো নিয়ে যাও।’
কিন্তু তাতে কিছুমাত্র কান দিল না গোবিন্দ। পকেটে মোবাইলটাও বেজে উঠল ওই সময়। সন্দেহ নেই‚ ম্যানেজারবাবু। কিন্তু মরে গেলেও এই রাতে গুড হোমে আর লাশ আনতে যাচ্ছে না। তেমন বুঝলে ছেড়েই দেবে চাকরিটা।
..
...
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now