বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সেই কথায় প্রায় যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল গোবিন্দ। হ্যাঁ‚ ‘গুড হোম’ নামে এই লাশঘরের মালিক জোসেফ স্মিথই বটে।
তবু কথা বলতে গিয়ে বার কয়েক ঢোঁক গিলতে হল।
দু’এক কথায় বিষয়টি ব্যক্ত করার পরে লোকটা গলা সামান্য ঝেড়ে নিয়ে বলল
‚ ‘ফোঁনে তোমার কথা খানিক আগে জানিয়েছে। তা কাগজপত্র এনেছ?’
গাড়িতে কাগজপত্র ছিল। ফিরে গিয়ে গোবিন্দ সেগুলো এনে দিল। অন্ধকারেই লোকটা মিনিট কয়েক কাগজের উপর চোখ বুলিয়ে বলল‚ ‘হুম‚ ঠিক আছে। তুমি ভিতরে গিয়ে বসো। আমি লাশ নিয়ে আসছি।’
দরজার ওধারে প্রায় ঘুটঘুটে অন্ধকার।
এই মাঝ রাতে ওই অন্ধকারে লাশঘরের ভিতরে একা যাবার কথা শুনে প্রায় আঁতকে উঠে গোবিন্দ যথাস্থানে দাঁড়িয়ে রইল।
ওদিকে জোসেফ ততক্ষণে লম্বা পায়ে লাশ–গাড়ির পিছনের দরজা খুলে এক টানে স্ট্রেচারের অর্ধেক বের করে ফেলেছে। এই অবস্থায় ট্রলিতে করেই লাশ নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তেমন কিছু নেই দেখে গোবিন্দ যখন ভাবছে‚ স্ট্রেচার ধরার জন্য হয়তো ডাকবে। সেই সময় লোকটা হঠাৎ ধাঁ করে লাশটা পাঁজাকোলা করে তুলে ফেলল।
তারপর সামান্য কুঁজো হয়ে লম্বা পা ফেলে দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ল। অগত্যা পিছনে ছুটতেই হল গোবিন্দকে। কাগজে সই করে বডি রিসিভ না করা পর্যন্ত ছুটি নেই তার।
দরজা পার হয়ে অন্ধকারে কয়েক ধাপ সিঁড়ি। উঁচু এক চাতালে উঠে বাঁ দিকে ঘুরলেই আর একটা দরজা। পার হলেই বড় এক হলঘর। ভিতরে টিমটিম করে একটা মাঝারি পাওয়ারের হলদে বাতি জ্বলছে। সেই সামান্য আলোয় অতবড় ঘরটায় প্রায় গা ছমছম পরিবেশ। কাঠের মেঝে হলেও ভিজে শ্যাওলা ধরা স্যাঁতসেঁতে দেয়াল।
ঝাঁঝালো ওষুধের গন্ধ। দেয়ালে গোটা কয়েক মস্ত টিকটিকি শিকারের অপেক্ষায় স্থির হয়ে রয়েছে। ফ্যাকাসে হলদে রঙের সেই টিকটিকিগুলোর দিকে তাকিয়ে গোবিন্দর সারা শরীর হঠাৎ কেমন শিরশির করে উঠল। ও তাড়াতাড়ি ঘাড় নামিয়ে জোসেফের দিকে তাকাল। খালি গায়ে লিকলিকে চেহারার লোকটা ততক্ষণে কাজে লেগে পড়েছে। ঘরের মাঝে বড় এক টেবিলে বডিটা রেখে টর্চের আলোয় চোখের পাতা উলটে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখছে। এরপর অদ্ভুত কায়দায় চ্যাপ্টা এক চিমটে দিয়ে দুই ঠোঁট উলটে দেখে নিয়ে একগাল হেসে বলল‚ ‘নাহ‚ হাসপাতাল পার্টির কাছে যত্নেই ছিল দেখছি। দিন চারেক ভালই থাকবে এখন। একটু বসো বাপু।
ড্রয়ারে ঢুকিয়েই ছেড়ে দিচ্ছি তোমাকে।’
নতুন লাশের ব্যাপারে বুড়ো যে বেজায় খুঁতখুঁতে‚ গোবিন্দ আগেই শুনেছিল।
তাই কিছুটা হলেও হাঁফ ছেড়েছিল এরপর।
কিন্তু সেই একটু সময় যে কতক্ষণ
‚ একেবারেই আঁচ করতে পারেনি। হাড়ে হাড়ে মালুম পেল তারপর। ঘরের একপাশের দেয়াল জুড়ে প্রমাণ সাইজের সারি সারি ড্রয়ার। প্রতিটির সামনে একটা করে কার্ড ঝুলছে। সেই কার্ডে ভিতরে ঢোকানো লাশের বিবরণ। বুড়ো অবশ্য ইতিমধ্যে টেবিলের একধারে রাখা মোটা এক বাঁধানো খাতা খুলে ফেলেছে। সেই খাতার কাজ শেষ হতে লাগল প্রায় মিনিট পনেরো।
তারপর টেবিলের লাশ ফাঁকা এক ড্রয়ারে ঢুকিয়ে সামনে লেবেল ঝুলিয়ে দিয়ে যখন কাগজে সই করে দিল‚ নয় নয় করেও পৌনে একঘণ্টা সময় পার হয়ে গেছে। সারাটা সময় সেই ভয়ানক ঘরের ভিতর প্রায় দম বন্ধ করে পড়ে থাকা ছাড়া উপায় ছিল না। সই করা কাগজ ফেরত পেতে তাই আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি।
প্রথম দিনের সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতা গোবিন্দ তারপর আর মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারেনি। আজও তাড়া করে বেড়ায়। শুধু মাত্র এই কারণেই অনেক বার ভেবেছে‚ ছেড়েই দেবে কাজটা। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও বিকল্প একটা ব্যবস্থা না হওয়ায় ছাড়া হয়নি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now