বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
" লাশঘর "
--------------
হরেকৃষ্ণ সৎকার সমিতির গাড়িটা যখন ‘গুড হোম’এর সামনে এসে দাঁড়াল‚ রাত তখন সাড়ে আটটা। কলকাতা শহরে সন্ধে রাত বলা যায়। তবে আজকের কথা অনেকটাই আলাদা। সকাল থেকেই টিপটিপে বৃষ্টি। সেই সাথে মাঝেমধ্যেই ঝোড়ো হাওয়া। এক কথায় দুর্যোগ। দিনটা তবু কিছু ভাল ছিল। সন্ধে থেকে বৃষ্টির তেজ আরও বেড়েছে। অগত্যা সরু গলিটা প্রায় সুনসান।
জনমানুষ তো ছার‚ একটা বাইক বা গড়িও নেই। ভরসা বলতে কর্পোরেশনের গোটা কয়েক টিমটিমে বাতি। এই বাদলার রাতে তাতে অন্ধকার দূর হয়েছে সামান্যই। সেই আধো অন্ধকারে প্রায় ভুতের মতো দাঁড়িয়ে পুরোনো দিনের ছোট দু’তলা বাড়িটা। ‘গুড হোম’। গাড়ি থামিয়ে গোবিন্দ সাবধানে সেই বাড়ির দিকে তাকাল।
নাম ‘গুড হোম’ হলেও‚ আসলে লাশঘর।
মড়া বা লাশ নিয়ে অবশ্য গোবিন্দর কোনো অ্যালার্জি নেই। সৎকার সমিতির গাড়ির ড্রাইভার। লাশ নিয়েই কারবার। গত দশ বছর এই চাকরিতে রয়েছে। কয়েক হাজার লাশ শ্মশান‚ গোরস্থান নয়তো লাশঘরে পৌঁছে দিয়েছে। রাত দুপুরের বেরোতে হয় হামেশাই। কিন্তু কোনোটাই এই ‘গুড হোম’এর মতো নয়। সেই দশ বছর আগে এক রাতে প্রথম যেদিন এখানে লাশ পৌঁছে দিতে এসেছিল
‚ সেই অভিজ্ঞতা আজও তাড়া করে বেড়ায়।
জরুরি তলব পেয়ে সেদিন হসপিটাল থেকে এক লাশ নিয়ে যখন এই বাড়িতে পৌঁছেছিল রাত প্রায় দেড়টা। আধা সাহেব পাড়া। ভেবেছিল‚ পথে নিশ্চয় লোকজন থাকবে। কিন্তু কোথায় কী? প্রায় নির্জন রাস্তায় পুরোনো বাড়িটা প্রায় ভূতের মতো দাঁড়িয়ে। ভারি কাঠের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। গোড়ায় তো মনে হয়েছিল‚ বোধ হয় চিনতে ভুল হয়েছে। কিন্তু ভাল করে নজর করতে ভুল ভাঙল। ভারি দরজার একপাশে ছোট এক নেম প্লেটে আরও ছোট করে লেখা ‘গুড হোম’। পাশে কলিং বেলের সুইচ।
সামান্য ইতস্তত করে সেই সুইচে চাপ দিয়েছিল। তেমন বড় বাড়ি নয়। বাইরে থেকে আওয়াজ পাওয়ার কথা। কিন্তু কিছুই শুনতে পেল না। গোড়ায় তো মনে হয়েছিল
‚ বেল খারাপ। তবু দরজার কড়া নাড়বার আগে ফের একবার সুইচ টিপতে যাবে‚ প্রায় বিনা নোটিসে মস্ত দরজাটা ক্যাঁচ করে খুলে গেল। দরজার ওপাশে আধো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রোগা পাতলা একটা মানুষ।
মাথায় কদমছাঁট চুল। হলদে ফ্যাকাসে শরীরে পোশাক বলতে ছোট এক শর্টস। আধো অন্ধকারেও লোকটার হাড় সর্বস্ব বুকের পাঁজরা গুনে নেওয়া যায়। গোবিন্দ রোগা–
পাতলা মানুষ কম দেখেনি‚ কিন্তু এমন আগে দেখেছে বলে মনে করতে পারল না। আধো অন্ধকারে লোকটা যেভাবে স্থির হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ছিল‚ বেজায় ঘাবড়ে গিয়ে গোবিন্দ পিছিয়ে গেল কয়েক পা।
দেখে লোকটা অন্ধকারে দু’পাটি দাঁত বের করে নাকি সুরে বলল‚ ‘ম্যাঁন‚ হোঁয়াই আর ইউ নার্ভাস? আঁই জোঁ‚ জোঁসেফ স্মিথ।’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now