বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বরযাত্রী আসার জন্য সবাই অপেক্ষায় ওদিকে সালেহার বাবা বার বার বার্বুচীদের সাথে কথা বলছেন পর্যাপ্ত পরিমান খাবার হয়েছে কিনা। আজ যেন সালেহার বাবার পায়চারীটা অধিক পর্যায়ে পড়ে। কারণ উনি কনের বাবা। সালেহার মা বার বার সালেহাকে বুঝচ্ছেন 'মেয়ে হয়ে জন্ম নিলে স্বামীর সংসারে যেতে হবে'। এসব কিছুর মাঝে হঠাৎ বাড়ীতে হই- হল্লোর শুনা যাচ্ছে। সালেহার আর বুঝতে বাকি নেই নিশ্চই বর এসেছে। সবার বাধ ভাঙা খুশির মাঝে তার কান্নাকাটি এক প্রকার চাপা পড়ে গেল । খাদ্য গ্রহণ, স্ত্রী গ্রহণ, শ্বাশুড় -শ্বাশুড়ীর কাছ হতে দোয়া গ্রহণ করে বেশ আনন্দের সহিত সালেহাকে নিয়ে বর নিজ বাড়ী অভিমুখে যাত্রা করলেন। পিছনে পড়ে রইলো সালেহার মাকে জড়িয়ে কান্নার দৃশ্য আর শৈশবে বেড়ে ওঠা গ্রাম খানি। স্মৃতিপটে বার বার এগুলো ভাসছিল।সন্ধ্যা লগ্নে স্বামীর বাড়ীতে পৌছিল সালেহা পেছনে স্বামীর আত্মীয় স্বজন সবাই জড়ো হয়েছেন। সব শেষ কনের বাড়ী থেকে সালেহার স্বামীর বাড়ীতে যা পৌছিল তা হল, নিতান্ত গরিব বাবা কতৃক প্রদত্ত এক ট্রাক আসবাব পত্র । কিভাবে পৌছিল সে ইতিহাস বলার চেয়ে, সালেহার বাবা কিভাবে দিলেন তা বলা একান্ত প্রয়োজন। মেয়ের জামাই বিদেশে থাকে তার উপর মেয়ের শ্বশুর পূর্বেকার ইউনিয়নের মেম্বার। নিতান্ত মেয়ে সুন্দর দেখে সালেহাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বর পক্ষ। তাদের কথা আর ফেলে দিতে পারেন নি সালেহার বাবা। মেয়ের শ্বশুরের চাহিদা অনুযায়ী সালেহার বাবা আসবাব পত্র দেওয়ার জন্য (সালেহার) দাদার আমলের বাড়ীর গাছগুলো বিক্রি করে দিয়ে ও চাহিদা পূরণ করেছেন। কারণ মেম্বার সাহেব পূৃবে বলেছেন যে বড় ঘরে মেয়ে বিয়ে দিতে হলে একটু আধটু উপহার লাগবে।
বিয়ের রাত্রি পার হবার পর থেকে সালেহা রান্নাঘরে প্রবেশের আয়োজন হল। পুরো ঘর ভরা মানুষ সালেহা কাউকে তেমন একটা চেনা না। শ্বাশুড়ী কে ইতিমধ্যে মা বলতে শুরু করেছে একমাত্র ভাসুরের বউকে করিমা'বু বলে ডাকে। বিয়ের দু-দিন হয়ে গেছে তবু সালেহার স্বামীর বাড়ীটা অদ্ভদ্ধ একটা কিছু মনে হয়। এ বাড়ীতে আসার পর হতে সালেহা অনেক বুঝে শুনে কাজ করে। মাথায় কাপড় দিয়ে রাখে। সবার মন রক্ষা করে চলে। আরো কত কি ।
আজ সালেহা ঘুম থেকে উঠার পর শ্বাশুড়ী এসে বললেন নবাবজাদীর মত না ঘুমিয়ে এবার উঠো। সালেহা এসব বব্যহার সহ্য করার চেষ্টা করে যে সময় পারে না নিরবে দু-ফুটা জল ফেলা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। তবু সালেহা নিজের স্বামীকে খুব আপন ভেবে দিনপাত করছে।তার এই দার্শনিক চিন্তধারা বেশি দিন থাকল না। সেদিন ভোরে স্বামী সালেহাকে বলেছিলেন গরম পানি চুলায় বসানোর জন্য কিন্তু সালেহা ঘুমিয়ে পড়েছিল। তারপর যা শুনলো তা এ রকম ' বিয়ের সময় তর বাবা এক খানা খাট দিতে পারে নি আর আমার বাবার খাটে শুয়ে নবাবজাদী সাজ-ছ, বের হ ঘর থেকে। সালেহা বলতে চেয়ে ছিল রাতে শ্বাশুড়ীর পা মালিশ করতে করতে দু-টা হয়ে গিয়েছিল যার জন্য এরকম হয়েছে। তবু ও বলার সাহস হল না। আজ এ বাড়ীতে আসার দশ দিন হলো ভাবতেছে সালেহা, পেছন থেকে করিমা'বুর গলার আওয়াজ পেল। করিমা'বুকে আজ খানিকটা বেশি সাজ্জ করেছেন লাগছে সালেহার কাছে। কোথাও বেড়াতে যাবে কি না জানতে চাইলো সে। উত্তরে করিমা'বু যা বললেন'মা বলছেন আমি এ বাড়ীর বড় বউ এতদিন একা সব কিছু দেখাশুনা করছি এখন থেকে তুমি করবে আমি আর কত করবো' তা শুনার জন্য সে প্রস্তুত ছিলনা সে। তবুও তার কিছু করার ছিলনা, মাথা পেত নেওয়া ছাড়া। আজ অনেক দিন হলো বাবা মাকে দেখেনি সে, মনের মাঝে সে কথা আর আটকে থাকলো না শ্বাশুড়ী মাকে বলার পর মনের মাঝে আটকে থাকা বাবার বাড়ী যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ হল তবু যাওয়া হল না। তিনটা মাস অতিদ্রুত চলে গেল তার জিবন থেকে কিন্তু কষ্ট থাকে খুব আপন করে ধরে রেখেছে । অন্নের অভাবে না হলেও আনন্দ বা স্বাধীনতার অভাবে সালেহার ভিতর থেকে সালেহার মৃত্যু হল নিরবে। তার এখন খুব ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে পুরো সংসারটা তার উপর। মাঝে মাঝো কাউকে তার সম্পর্কে বলতে শুনে মেয়েটা খুব লক্ষী, শ্বশুড় শ্বাশুড়ীর সব কথা চুপ করে শুনে যায়। এটা শুনে তার এক প্রকার ভাল লাগে আবার শ্বাশুড়ীর কথাগুলো অন্য রকম তিনি প্রায় বলে থাকেন 'বাপের বাড়ী থেকে কি আনস' স ' তখন সে চুখের জল ভাল ভাবে আটকে রাখতে পারে না।
আজ ভোর হতেই সালেহা দেখতে পেল তার বাবা আসছেন মনের মধ্যে আনন্দের প্রতিফলন টা মুখের মুখের হাসির মাঝে পড়ল। বেশ কয়েক মাস পর বাবার পাশে বসে গল্প করে করে বাবা কে ভাত প্লেটে দিচ্ছে সালেহা, তা আজ প্রথম নয় বিয়ের আগে সালেহাকে ই বাবাকে খাওয়াতে হত। কিন্তু এত মাস পর বাবাকে সালেহার আনন্দটা অন্যরকম । হঠাৎ বাবার কাছে জানতে চাইলো সে এতদিন পরে আসলে যে, উত্তরে বাবা বললেন 'তর স্বামী বিদেশ যাওয়ার আগে একবার দাওয়াত না খাওয়ালে কি রকম দেখায় না'। সালেহা আর জানতে বাকি থাকলো না যে স্বামী বিদেশ চলে যাবেন । এর মাঝে একটু আনন্দের বস্তুটা হয়তো ওর স্বামীর সাথে বাবার বাড়ী যাওয়া, অনেকদিন পর মাকে দেখতে পারবে। খাওয়া -দাওয়া শেষে মেয়ে আর মেয়ের জামাইকে নিয়ে যতটুুক আনন্দে বাড়ী অভিমুখে যাত্রা করতে চেয়েছিলেন তা আর হল না, সালেহার শ্বশুড় বললেন ছেলে আমার যে রকম আপনার ও মেয়ের জামাই তা ই বিদেশ যাওয়ার জন্য লাখ তিন এক টাকা লাগবে। আমি আপনার অবস্থার কথা চিন্তা করে তা আর চাইলাম না তবে এক লাখ টাকা দিতে হবে। কোন কথা শোনবো না নইলে, সালেহার বাবার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল।
সন্ধ্যার আগে ই মেয়ে আর মেয়ের জামাই নিয়ে বাড়ী পৌছিলেন সালেহার বাবা। যতটুক আনন্দে নিয়ে মেয়ে বাড়ীতে নিয়ে আসার জন্য গিয়েছিলেন তার সামন্য পরিমাণ আনন্দ নেই । দেখতে দেখতে বাবার বাড়ীতে সালেহার সাত দিন কেটে গেল। কালকে সালেহা স্বামীর বাড়িতে আসবে । যাওয়ার সময় মেয়ের সাথে নাইওরী দিতে সালেহার মা বাবা হিমশিম খাচ্ছেন কি দিবেন তখন সালেহার একটা গল্প মনে পড়ছে তার ছোট চাচির বিয়ের পর সালেহা সব সময় অপেক্ষায় থাকতো কবে চাচির বাপের বাড়ি থেকে নাইওরী আসবে? আজ সালেহা ভাল ভাবে বুঝছে মেয়েদের বাবার বাড়ি থেকে কিভাবে নাইওরী আসে। বাবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগমূর্হতে সালেহার বাবা সালেহার স্বামীর কাছে আশি হাজার টাকা দিলেন তবে কোথা থেকে এ টাকা পেলেন তিনি কেউ সে ইতিহাস জানলো না। মেয়ের জামাইকে আর যা দিলেন একটা লুঙ্গি আর সাদা শার্ট। এগুলো কোথা থেকে দিয়েছেন সে ইতিহাস সালেহা জানে, একবার শহর থেকে তার কোন এক আত্মীয় বাবাকে এগুলো দিয়েছিলেন তা খুব যত্নে রেখে ছিলেন সালেহার বাবা আজ তা মেয়ের জামাইকে দিলেন তার আর গায়ে পড়া হল না। এক প্রকার প্রকান্ড অশ্রুপাত করে সালেহা স্বামী গৃহে আসলো। দিন কয়েক পর সালেহা জানতে পারলো বাবা তার এক মাত্র সম্বল বাড়িটা বিক্রি করে তার স্বামী কে আশি হাজার টাকা দিয়েছেন। সব হারিয়ে সালেহার বাবা মা সালেহার ফুফুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
আজ সালেহার স্বামী বিদেশ চলে যাবেন খুব ভোরে উঠে শ্বশুড় তার স্বামীকে নিয়ে বের হলেন। সালেহার কান্নার ইতিহাসটা আর বলার প্রয়োজন নেই। বছর যাওয়ার পর সালেহার একটা মেয়ে হলো, সালেহা মা হলো, কয়েকদিন আগে সালেহার বাবা মারা গেলেন, সালেহার মা এখন তার খালার বাড়িতে থাকেন । শত কষ্টের মাঝে সালেহার হাসিটা হলো ওর পরীর ন্যায় মেয়েটা।
আজ দেখতে সালেহার মেয়ে ক্লাস টেন এ উঠলো, সালেহার বৃদ্ধ মা এখন মৃত্যুর সাথে লড়াইয়ে ব্যস্ত। মাঝে মাঝে নাতনি গিয়ে দেখে নানিকে বিয়ের পর হত সালেহা বাবা মার বন্ধন থেকে আলদা হয়েগেছে মনে হয়, চাইলে ও সে তাদের কাছে যেতে পারে না।
এর মাঝে হঠাৎ সালেহার স্বামী বিদেশ থেকে আসলেন। মা, মেয়ের আনন্দে ভাটা পড়ল যখন সালেহার মা মারা গেলেন। তারপর দিন যেতে লাগলো সালেহা এখন তার মেয়ের দিকে থাকালে তার অতীত কে মনে পড়ে। সালেহা ও তার মেয়ের মত তখন ক্লাস টেন এ পড়তো হঠাৎ একদিন শুনলো তার বিয়ে ঠিক হয়েছে তারপর সে আজ এখানে। এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লে ঘুম থেকে উঠার পর সালেহার স্বামী বললেন, "আব্বা আমাদের মেয়ের জন্য পাত্র ঠিক করেছেন। আগামী মাসে বিয়ে। সালেহা প্রতিবাদ করল তবে থেমে গেল কারণ সালেহা জানে মেয়েদের প্রতিবাদ করতে গেলে ঘর ছাড়া হতে হয়। দেখতে দেখতে আজ সালেহার মেয়ের বিয়ে, মেয়েকে কাদঁতে দেখে সালেহা বার বার বুঝাচ্ছে "মেয়ে হয়ে জন্ম নিলে স্বামীর সংসারে যেতে হয়" আর আড়ালে সালেহা ও কাদঁছে। অতপর সালেহা আলমারি থেকে তার বিয়ের লাল -শাড়িটা বের করে মেয়ে কে পড়িয়ে দিতে লাগলো। আজ সালেহা জানে, বিয়ের দিনের লাল-শাড়ীর ন্যায় বিয়ের পরের জিবনটা রঙ্গিন হয় না। তারপর সালেহার ইতিহাসটা শেষ হয়ে তার মেয়ের ইতিহাস শুরু হলো
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now