বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লাজুক বউ Sherin Sabiha Tonny

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X . ম্যাজিষ্ট্রেট তো কি হয়েছে?দেখতে পাচ্ছ না মাথা জুড়ে বিশাল একটা টাক! এটাই ছিল আমার স্বামীর সম্পর্কে আমার প্রথম মন্তব্য। আমার দাদাজানের মেয়ের শখ ছিল।তাই এক এক করে দাদা দাদীর পাঁচ পুত্র।আর বাবা চাচা পাঁচ ভাইয়ের আমি এক মাত্র কন্যা আর আট ছেলে।তাই আমার আট ভাই।এ কারনে আমার জন্য আদর আহ্লাদের আর কমতি নেই। ছেলেবেলা থেকে শখ ডাক্তার হবো।মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবার পরদিন থেকেই আমার প্রানপ্রিয় দাদীজান আমার বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন।সব পাত্রই রূপে গুনে অতুলনীয়।সব পাত্রের ই দেশের বাড়ীতে বিরাট প্রাসাদ তুল্য বাড়ী আছে!সব পাত্রের দাদা বা নানা একজন,কখন ও বা দুজন ই জমিদার ছিলেন।সব পাত্রের বাবাই অনেক বড় অফিসার বা ব্যবসায়ী।সব পাত্রের মায়েরাই এক্কেবারে কাঁদার মত নরম,ছেলে বৌকে মাথায় করে রাখবে।আর সব পাত্রই বিশাল বড় ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,ব্যারিষ্টার বা বিশাল বড় ম্যাজিষ্ট্রেট নয় পুলিশ অফিসার! বলার সময় আমার দাদীজানের ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন যা হয় না,দেখার মত!এত্ত নাটুকে আমার দাদীজান।ভাবছি এই যুগে এলে উনি কবে না যেন সিনেমায় নেমে যেতেন। আমি যখন বলি,এত্ত বড় পুলিশ অফিসার মানে কি দিদা,এসপি??তবে তো ছোট কাকুর বয়সী কেউ হবেন।অমনি বুড়ী চোখ পাকিয়ে ঠোঁটের কোনে হাসি এনে বলবেন,না না না।বুড়ো হবে কেন?ছবি খানা দেখ!এ তো দাবাং!সালমান খান! যাই হোক।প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ এমন কুদ্দুস মার্কা হাজারো সালমান খান দেখে দেখে আমি বিরক্ত!তাই দাদীর হাত থেকে বাঁচতে আমার নতুন কৌশল পাত্রের চুল।এই পাত্রের চুল আসলেই একটু কম ছিল।তাই মায়ের সাপোর্ট ও পেলাম।আমাকে আর পায় কে?? কেবল প্রথম বারের মত বাবা একটু মন খারাপ করেছেন।তার ছেলে বেলার বন্ধুর ছোট পুত্র।ছেলেবেলায় বাবার খুব ন্যাওটা ছিল নাকি।পরে আর ঐভাবে যোগাযোগ হয়নি।এতদিন পর এক্কেবারে মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব!বাবা খাবার টেবিলে বলছিলেন,বিয়ে করবে না ঠিক আছে,,আবিরকে টাক বলে ক্রিটিসাইজ কেন করছে তোমার মেয়ে?? একটু হাসলাম।আমি ভীষন ব্যস্ত তখন।কমিউনিটি ট্যুরে সিলেট,কক্সবাজার যাব পুরো ব্যাচ।আমাকে কিছুদিন আর এই যন্ত্রনা সইতে হবে না!মজাই মজা! একবার আর দুবার নয় তিন তিন বার দেখা! কক্সবাজারে প্রথম দিন।সকালে বীচ থেকে ফিরেই ঘুম।ঐদিন পূর্নিমা ছিল।সন্ধ্যার পর সবাই বেড়িয়েছে।আমি বেষ্ট ফ্রেন্ড উর্মিকে নিয়ে বীচে গেলাম।একটা চেয়ার ভাড়া করে একটু দূরে নিরিবিলি দুজন বসলাম।সামনে অথৈ সমুদ্র।আকাশ জুড়ে বিশাল এক রুপালী চাঁদ।সমুদ্রের রোমাঞ্চকর গর্জন আর সাথে পায়ের উপর আছড়ে পরা ফেনিল সমুদ্রের ঢেউ।হঠাৎ চিৎকার।সাত আটটা ছেলে যেন আকাশ ফুঁড়ে গজিয়ে ঘিরে ধরল আমাদের।হাতে বোতল,মাতলামী ও করছে।ওদের একজন উর্মির হাত ধরে টানছে।উর্মি বাংলা সিনেমার মত করে বলছে,এই শয়তান ছাড়!ছাড় আমাকে!আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে আর উর্মির অবস্থা থেকে অদ্ভুত আওয়াজ করতে লাগলাম।তখন ই সে এল।সাথে আরো দুজন।পুরো মুভি।মাতাল গুলোকে ঢুস ঢাস লাগালো।দু চারটে ফোন করল।ওরা পালাল।কিছুদূর চলে গিয়ে আবার এল।চাঁদের আলোতে চেহারা চেনা যাচ্ছিল না।অবয়ব টা চেনা লাগছিল।আমাদের সাথে হোটেলে পৌছে দিতে আসল সে।হোটেলের কাছে আলোতে আসতেই আমি হতভম্ব।আরে! এ তো দাদীজানের সেই টাকলু ম্যাজিষ্ট্রেট।সচেতন ভাবে নিজের পরিচয় এড়িয়ে গেলাম। দ্বিতীয় ইভেন্ট ঘটল পরের দিন সকালে।এক পাগল পাখি বিক্রেতা এত ঢং ঢাং করে তোতাপাখির গুন গাইছিল।আমি,উর্মি দলছুট হয়ে পাখিটার কাছে গেলাম।কিছুক্ষন পর পাখিওয়ালা খাঁচাসহ পাখি দিয়ে দাম চাইল সাড়ে তিন হাজার টাকা।আমাদের দুজনের ই কান্না কান্না হাল।দুজনের কাছে সব মিলে সতেরশ টাকা আছে।আর অত টাকা দিয়ে পাখি কেনার ইচ্ছেও নেই।আর ঐ ব্যাটা ও ছাড়বে না।অবশেষে তার আগমন।অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে ঐ ব্যাটাকে দুই হাজারে রাজী করে তিনশ টাকা ধার দিয়ে আমাদের মুক্ত করলেন। যাবার সময় বিরক্তির একটা লুক দিলেন।আর আমার হঠাৎ মনে হলো,সত্যই তো একে সালমান খানের মত দেখতে।কেবল মাথায় চুল একটু কম।সেরেছে!আমাকে কি তাহলে দাদীর ভূতে পেয়েছে। ঐদিন বিকেলে তার বিরক্তির কঠিন রূপ দেখব বলে ভেবেছিলেম।উল্টোটা হলো।সে পুরো কমেডি কিং হয়ে গেল।বিকেলে আমরা সাফারী পার্কে গেলাম।আমি এক অপরুপ সুন্দর পাখির ছবি তুলতে লাগলাম।পাখিটাকে ফলো করে করে পথ হারিয়ে ফেললাম।আমার মোবাইল ছিল উর্মির ব্যাগে।আমি কিছুতেই ওদের খুঁজে পাচ্ছিলাম না।এত ভয় পেলাম।আমি কাঁদছি আর কাঁদছি।তখন ই তার দেখা।আমাকে পথ খুঁজে দলের কাছে পৌছে দিলেন।কোন অযাচিত কৌতুহল না,মেয়ে বলে খাতির দেখানো না।শুধুই পথ চলা। এটুকু জানলাম,বিদেশ থেকে এক বন্ধু এসেছে।তার বিয়েতে বন্ধুদের গেট টুগেদার এ সে কক্সবাজারে এসেছে।আমি কিছুই বলিনি।সে শুধু বলল,,সাহসী হন।আপনারা নারীরা অধিকারের কথা বলেন আর নিজেরাই বার বার বিপদে পড়েন।যেদিন দেখবেন একা চলতে শিখেছন,সেদিন এই সমাজ অধিকার দিতে নিজে এসে আপনার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়বে। পরের ইতিহাস ছোট।ট্যুর থেকে ফিরে আমার নাটুকে দাদীকে বললাম।ভাবছি,ঐ টাকলুকেই বিয়ে করব। দাদী তো নৃত্য করছে!বাবা ও ভীষন খুশি।আমার কোন ছবি,ফেসবুক আইডি কিছুই ওদের দেইনি। শেষের দিকে পাত্র খুব চেয়েছে বিয়ের আগে একবার অন্তত দেখা হোক।পাত্রী রাজী হয়নি।পাত্রী চেয়েছিল তার বরকে একটা ভীষন রকমের সারপ্রাইজ দিতে! আজ আমার বিয়ে। আজ আকদ হলো।কাল রিসেপশন! এখন আমি বাসর ঘরে আমার বরের অপেক্ষায়।লম্বা ঘোমটার আড়ালে আমি।খাটের অদূরে আমার টেকো সালমান খান।খুট খাট শব্দ করছে।হয়ত কথা খুঁজে পাচ্ছে না।খুব দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে আমাকে দেখে তার অভিব্যক্তি কি হয় !!!! আমি ঘোমটা খুলে মুখটা তুলে তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,আপনার তো সাহসী মেয়ে পছন্দ।তাই না?এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে আবির আমার দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল,পানি খাবো। আমি খিল খিল শব্দে হেসে উঠলাম। পানির গ্লাস শেষ করেই আবির আমার চোখের দিকে তাকাল। নাহ!এ তো কক্সবাজারে দেখা সেই চুপচাপ,মেয়েদের পায়ের পাতায় চেয়ে থাকা আবির নয়।ওর দৃষ্টি যেন আমার অন্তরের অন্তঃস্থল ছুয়ে দিল। আমি কি লজ্জা পেলাম? গাল দুটো আরক্ত হলো? দৃষ্টি অবনত হলো? নীচের ঠোঁটে চাপা লজ্জা! আমার মুখ খানা হাতে তুলে এবার সে হাসল! বলল,উমহু,,সাহসী না।আজ আমার লাজুক বউ চাই।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ লাজুক বউ Sherin Sabiha Tonny

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now