বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমার বয়স ২১ বছর!!অনার্স সেকেন্ড ইয়ার এ পড়ি কেবল!!
বাবা,ইউ এস এ থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করা ব্রাইট পাত্র পেয়ে আর দেরী করলেন না!!করবেনই কেন??বিয়ে হলেই কি সব শেষ হয়ে যায়??ওটা তো নতুন জীবনের সূচনা!!আরো সুন্দর আরো মিষ্টি!!তার আদরের রাজকন্যার পাশে লক্ষী রাজপুত্র!!ক্ষতি কি??বিয়ের পরে মেয়ে পড়ালেখা করবে,চাকরি করবে!!তাহলেই তো হলো!!
সত্যি বলতে কি,আমিও আপত্তি করিনি!!বরং অনেক ভালো লাগছিল বিয়ের কথা ভেবে!!ওকেও খুব মনে ধরেছিল প্রথম যেদিন আধঘন্টার জন্য দেখি,তখনই!!কি সুন্দর দেখতে ছিল ও!!একদম রাজপুত্রের মতই!!আমার পাশে পারফেক্ট!!
আর কি যে সুন্দর করে কথা বলছিল,না কম না বেশি,না জোরে না আস্তে!!আর এত্ত ওয়েল ম্যানারড!!আমিতো প্রথম দর্শনেই ফ্ল্যাট!!
তারপর এক শীতের সন্ধ্যায় বিয়ে হয়ে গেল আমার!!চোখের পানি নাকের পানি এক করে কাঁদতে কাঁদতে এলাম শশুর বাড়িতে!!
বিয়ের রাতেই বুঝলাম বিবাহিত জীবনটাকে যতটা স্বপ্নময় ভেবেছিলাম ঠিক ততখানি নয়!!প্রথম রাতেই আমার অতিভদ্র স্বামী বলল,শোন তারাতারি ঘুমিয়ে পড়তে হবে এবং আর্লি উঠতে হবে!!আমার মা মানে তোমার শাশুড়ি ইনডিসিপ্লিনড লাইফ একদম পছন্দ করেন না,ইভেন আমিও না!!বুঝেছ??
ও তো খুব খারাপ কিছু বলেনি তবুও কেন জানিনা আমার গলার কাছে কি যেন জমাট বেঁধে রইলো সারারাত!!
পরের দিন ঘুম থেকে ওঠার পরেই বুঝতে পারলাম আমার স্বামী তার মায়ের একান্ত বাধ্যগত সন্তান!!মার সমস্ত কথার সাথে উনি শুধু জ্বি জ্বি বলেন!!তার বেশি কিছুনা!!
এটাও তো খুব ভালো একটা ব্যাপার তবু এবারও আমার কান্না পেল!!তাহলে কি আমিই খারাপ??
শুরু হলো আমার বিবাহিত জীবন!!আমরা হানিমুন এ গেলাম নেপাল এ!!আমার শাশুড়ি রোজ ফোন করতেন আর ডুজ আর ডোন্টস বলে দিতেন --শোন বৌমা,সৌরভ এর কিন্তু ঠান্ডা একদমই সহ্য হয়না,খেয়াল রাখবে যেন মাফলার দিয়ে কান পেঁচিয়ে রাখে সবসময়,ওর গোসলের আগে গিজার থেকে ঠান্ডাগরম পানি মিলিয়ে রেখো বালতিতে!!ছোট বেলায় একবার গিজারের গরম পানিতে গা পুড়ে গয়েছিল এরপর থেকে আমি পানি চেক না করে ওকে গোসল করতে দেই না!!
জেদে আমার চোখে পানি আসে!!একবার ইচ্ছে করে বলেই ফেলি- মা আপনার ছেলে যখন এমেরিকায় পড়ালেখা করত সেই পাঁচবছর কি গোছল করেনি??নাকি তখন তার আরেকটা বউ ছিল??
আমি বলিনা,চুপ করে শুনে যাই!!কারণ আমার মা আমাকে বড়দের সাথে তর্ক করতে শেখাননি,শিখিয়েছেন বড়ররা অন্যায় কিছু বললেও চুপ থাকতে হয়!!
আমার স্বামী মানুষ হিসেবে খারাপ নয় বরং অনেক ভালো!!সে আমাকে অনেক ভালবাসে!!সে ভুলেও কখনো আমার সাথে জোরে কথাও বলে না!!বাবার রাজকন্যাকে সে রাজকন্যার মতই ট্রিট করে!!তার মায়ের কোনো কথায় আমার মন খারাপ হলে সে আমাকে বোঝায়-আরে মা তো,ভালর জন্যই বলে!!
আমার আবার মুখে চলে আসে-হ্যা মা ই তো!!তবে তোমার,আমার তো উনি কেবলই শাশুড়ি!!আমার মা হবার কোনো ইচ্ছা উনার আছে বলে মনে হয়না!!আমাকেই জোর করেই উনাকে মা ভাবতে হবে,তাই না??
আমি কিছুই বলিনা,চুপ করে থাকি!!
কিছুদিনের মধ্যেই আমি বুঝলাম এই বাড়িতে আমার নিজের কোনো ইচ্ছা অনিচ্ছার দাম নেই!!এমনকি স্বামীর সাথে বেড়াতে যাবার আগেও শাশুড়ির পারমিশন নিতে হয়!!আরো বুঝলাম যতটা সম্পর্ক আমার শশুরবাড়ির মানুষের সাথে আমার তার থেকে বেশি সম্পর্ক সেই বাড়ির কাজের লোক আর রান্না ঘরের সাথে!!
তবুও কোনো অভিযোগ ছিল না আমার!!কারণ আমার স্বামী আমাকে অনেক ভালবাসত!!সে রাগ হতনা কখনো,জোরে কথা বলত না!!এটাই তো ভালবাসা!!
বিয়ের এক বছরের মাথায় আমাকে বাচ্চা প্ল্যান করতে হলো!!পড়ালেখার অবস্থাত আগেই তথৈবচ ছিল এবার পুরোই শিকেয় ওঠার উপক্রম!!ওকে বললাম সংসার সামলেই পড়তে পারিনা বাচ্চা হলে কি করে পড়ব??
ও আমাকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু দিয়ে বলল-আরে তোমার কি ইনকাম করতে হবে নাকি??জাস্ট অনার্স এর সার্টিফিকেট টা পেলেই হলো!!আর মাস্টার্স না করলেও চলবে!!ইউজলেস!আমার তখন আর কান্না আসেনা!!আমি বুঝে গেছি ওটাই আমার জীবন!!
এরপর আমার মেয়ে,কুহুর জন্ম হলো,আমি মা হলাম!!রেসপনসিবিলিটি আরো বেড়ে গেল!!বাজার কি হবে,কোন বেলা কি রান্না হবে,শাশুড়িকে ওষুধ খাওয়ানো,শশুরের প্রেসার ডায়াবেটিস চেক করা আর ছোট্ট কুহু!!সব মিলিয়ে আমার ব্যস্ত জীবন!!এভাবেই চলতে থাকে আমার দিনরাত গুলো!!মাসের পর মাস,বছরের পর বছর!!
একদিন আয়নায় তাকিয়ে দেখি আমার ছিপছিপে শরীরটা তে কেমন থলথলে অগোছালো ভাব!!চোখের নিচটা ফোলা ফোলা!!চুলগুলো পরে পাতলা হয়ে গেছে অযত্নে!!
একদিন কাবার্ড ক্লিন করতে গিয়ে আমার সার্টিফিকেট গুলোকে পাই!!আর আমার পুরনো একটা ডায়রির!!ফাইল থেকে বছরের পর বছর বের হয়নি ওগুলো!!কেমন রং জ্বলে গেছে কাগজ গুলোর!!
অনেক দিন পর হঠাত অনেক কান্না পেল!!অনেক দিন পর কিছু লিখতে ইচ্ছে করলো
ডায়ররীর একটা সাদা পাতা বের করে শিরোনাম লিখলাম
"লাইফ সাইকেল অফ আ ম্যারেড উওম্যান"
লিখাঃ Rakhi Nahid
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now