বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি আবার বললাম
-আমি আসতে পারবো না !
এবার গলায় একটু রাগের ভাব ছিল । আর
খানিকটা বিরক্তির ভাব !
নিশি নিশ্চই বুঝতে পেরেছে যে আমি
ওর কথায় খানিকটা বিরক্ত হয়েছি !
তাই চুপ করে রইলো !
আমি ফোনটা কানের কাছে ধরেই
রাখলাম কিছুক্ষন ! কোন সারা শব্দ
পাওয়া যাচ্ছে না ! বললাম
-তুমি শুনতে পাচ্ছ?
নিশি মৃদুস্বরে বলল
-পাচ্ছি তো ! বল !
-আমি এখন আসতে পারবো না !
-দেখ না একটু ? প্লিজ ! তোমাকে খুব
দেখতে ইচ্ছা করছে ! আর খুব তো বেশি
দুরে না ! আমি উত্তরা থেকে আসতে
পারছি আর তুমি এই দুরে আসতে পারবে
না ?
-উত্তরা থেকে আসতে পারছো
মানে ?? তুমি কি চলে এসেছো ?
নিশি কোন কথা বলল না । চুপ করেই
রইলো ! আমার মেজাজটা এবার একটু
সত্যি খারাপ হল ! এই ফাজিল মেয়ে
আসবি তো আয় আগে একবার ফোন
দিয়ে আসবি না ?
আমার কাজ থাকতে পারে না । আর
এখন শীত কাল । সকাল বেলা বেশ শীত
পড়ে । বাইরে একদম বের হতে ইচ্ছা করে
না ! আমার তাই ইচ্ছাই ছিল না একদম
বাইয়ে রের হওয়ার । আর আজকে
টিউশনীও নাই ! প্লান ছিল সারাদিন
ঘরে বসে বসে ঘুমাবো আর টিভি
দেখবো !
তার উপর মাসের শেষ ! হাতে একদম
টাকা পয়সা নাই ! নিশি কে নিয়ে
বের হওয়া মানে টাকা পয়সার খরচ !
আমি আবার বললাম
-কি হল কথা বলছো না কেন? তুমি চলে
এসেছ ?
-হুম !
আমার মেজাজ এবার সত্যিই খারাপ হল
। এই শীতের ভিতরেও আমাকে এখন
বের হতে হবে ! ঝামেলা !!!
আমি আরো খানিকটা মেজাজ গরম
করে বললাম
-যেমন নিজে নিজে এসেছ আবার
নিজে নিজে চলে যাও ! আমার কাছে
কোন টাকা পয়সা নাই ! রিক্সা ভাড়া
দেওয়ার মতও কোন টাকা নাই ! আমি
চাইলেও আসতে পারবো না !
নিশি আরো কিছুক্ষন চুপ করে রইলো !
তারপর নিশি বলল
-তুমি রিক্সা নিয়ে আসো ! আমি
ভাড়া দিয়ে দিচ্ছি ! আসো না
প্লিজ ! একটু আসো !
-কি টাকা পয়সা বেশি হয়ে গেছে
নাকি ?
নিশি চুপ করে রইলো আবার !
নিশির এই ব্যাপার টা আমার একটু
পছন্দের ! নিশি কখনও আমার সাথে
কোন বিষয়ে কোন আরগু করে না । যদি
ও কিছু চায় আর তাতে যদি আমার মত
না থাকে তখন চুপ করে থাকে ! কোন
চিৎকার চেচামিচি করে না ! ও খুব
ভাল করেই জানে আমি যতই নাহু নাহু
করি শেষে গিয়ে আমি ঠিকই রাজি
হয়ে যাবো !
আমি বললাম
-কোথায় তুমি এখন ?
-এই তো বাস স্টান্ড !
-কোথাকার বাসস্টান্ড ?
-মোঃপুর !
-বাহ ! চলেও এসেছো !
-হুম ! দাড়াও ! আসতেছি !
রিক্সা করে যখন বাসস্টান্ড নামলাম
তখন বাইরে আসলেই বেশ শীত পড়েছে ।
গায়ে গ্যাবাডিনের ব্লেজারেও
শীত মানছিল না ! কাঁপতে কাঁপতে
রিক্সার ভাড়া দিতে যাবো তখন
কোথা থেকে নিশি এসে হাজির !
বলল
-আমি দিচ্ছি !!
আমি নিশির দিকে তাকিয়ে বললমা
-এতোটা ফকির হয়ে যাইনি এখনও !
আমার কথা শুনে একটু হাসলো ও ! আমি
নিশি দিকে তাকিয়ে একটু অবাক
হলাম । অবাক হলাম ওর পরনের পোষাক
দেখে ! নিশি সাদা রংয়ের একটা
চাদর পরে আছে ! ভিতরে কালো
কামিজ ! আর কালো ল্যগিংস !
এই শীতে কেবল ল্যাগিংস পরে বের
হয়েছে মেয়েটা ?
মাথা খারাপ নাকি ? আমার জিন্স
প্যান্টেও শীত মানছে না !
আর এই মেয়েটা ???
আর মাথায় কোন টুপিও পরে নি ! ঠান্ড
বাতাসে যেন একটু কাঁপছে ! সারাটা
পথ নিশ্চই এমন কাঁপতে কাঁপতে
এসেছে !!
আমি বলল
-তোমার শীত লাগছে না ? শুধু
ল্যগিংস পরেছ কেন?
নিশি আবারও চুপ করে রইলো !
আমি আবার বললাম
-দেখ কথা বল ! চুপ করে থাকবা না !
নিশি নিচু স্বরে বলল
-তুমি পছন্দ কর যে !
-আমি পছন্দ করি বলেই এতো ঠান্ডার
ভিতরে পাতলা ল্যাগিংস পরে বের
হতে হবে ! আমি যদি বলি মিনিস্কার্ট
আমার খুব পছন্দ তুমি তাই তাই পরে
রাস্তায় বের হবে ?
কোন উত্তর নাই ?
এই ফাজিলটা কথা বলে না কেন ?
আমি রাগ করতে গিয়েও পারি না !
এমন মেয়ের উপর কেমনে রাগ করবো !!
একটু নমনীয় কন্ঠে বললাম
-এই রকম পাগলামী আর করবা না । মনে
থাকবে ?
নিশি এবার আমার মুখের দিকে
তাকালো ! ওর মুখটা কেমন হাসি
হাসি মনে হল ! যেন খুব মজা পাচ্ছে !
আমার কথায় উত্তরে নিশি একটু মাথা
নাড়িয়ে বলল
-না ! মনে থাকবে না !
আমি বললাম
-তোমার খুব মজা লাগছে ! তাই না?
আমি তোমাকে বকছি গায়ে লাগছে
না ?
-তোমার বকা শুনতে খুব ভাল লাগে
যে ! তুমি যখন আমাকে বকা দেও
তোমার কান আর নাকটা কেমন লাল
হয়ে যায় ! দেখতে খুব সুইট লাগে !
নিশি মুখ টিপে হাসতে লাগলো !
আমি তাকিয়ে রইলো ওর দিকে ! রাগ
আনার চেষ্টা করলাম ! কিন্তু কেন
জানি ঠিক রাগ উঠছে না ।
নিশি আবার বলল
-শুনো খামোখা চেষ্টা কর না ! তুমি
এখন আমার উপর রাগ করতে পারবে না !
-বুঝলাম ! এখন কি করবা বল !
নিশি বাচ্চা মেয়েদের মত খুশি হয়ে
বলল
-চলবাসে উঠি ! সেদিন মতিঝিলের
দিকে গেছিলাম আজ চল গুলাশানের
দিকে যাই !
-এই শীতের ভিতর ?
-চল না ! প্লিজ ! একদম শেষ মাথা পর্যন্ত
যাবো আবার আসবো !
নিশির এই একটা অভ্যাস খুব আছে ! মানুষ
তো ডেটিং করতে কত যায়গায় যায় !
কত রেস্টুরেন্টে যায় নিশির এসবের
কোন কিছুই পছন্দ না ! ও প্রায়ই কোন বাস
উঠে পরবে আমাকে নিয়ে ! পিছনের
দিকে একটা ডাবল সিটে বসে এবার
গল্প করতে করতে যাবে !
একবার ইডেনের সামনে থেকে নিশি
আমাকে নিয়ে মিরপুর ১৪ নম্বরের একটা বাসে উঠল ! পিছনের দিকে বসে
আমরা প্রায় তিন ঘন্টা পর ১৪ নম্বরে
পৌছালাম । আমার মনে হয়েছিল যে
ওর নিশ্চই কোন কাজ আছে এই জন্য
আমাকে নিয়ে যাচ্ছে ! মিরপুরে
গিয়ে আমরা যখন নামলাম তখন নিশি
বলল
-চল যাই !
আমি অবাক হয়ে বললাম
-চল যাই মানে? তুমি কিসের জন্য
এখানে এসেছ !
নিশি খুব স্বাভাবিক ভাবে বলল
-এই তোমার সাথে আসলাম । গল্প করতে
করতে আসলাম ! কি চমৎকার সময়
কাটলো !
-এই তিন ঘন্টা জ্যামে আটকে থেকে
আমি হাজির হলাম । কোন করন ছাড়াই !
নিশি বলল
-কেন এই যে আমরা একসাথে আসলাম
না ?
আমি খুব হবাক হয়ে রইলাম !!
তারপর থেকে প্রায়ই এরকম প্রেম ভ্রমন
করতে হত !
প্রথম প্রথম বিরক্ত লাগলেও পরে মনে হল
নিশির সাথে জার্নিটা নেহত মন্দ হয়
না ! সময়টা ভালই কাটে !
আমি টিকিট কাটতে যাবো নিশি
বলল
-আমি টিকিট কেটেছি ! আসো এই
বাস !
নিশি আমাকে বাস দেখালো !আমি
বললাম
-আমিচিনি গুলশানের বাস চিনি ! চল !
নিশিকে নিয়ে বাসের শেষের
দিকের একটা ডাবল সিটে বসলাম !
নিশি বসল জানলার পাশে ! কেমন
জড়সর হয়ে !
ওর শীত লাগছে !
আমার মাথার কানটুপিটা ওকে
পরিয়ে দিলাম ! বললাম
-এমন বোকামী আর করবা না ? মনে
থাকবে ?
-আচ্ছা থাকবে থাকবে ! এখন বসতো
আমার পাশে !
আমি বসলাম !
একটু পরেই বাস চলতে শুরু করলো ! শুরু হল
আমাদের বাস ডেটিং !
.
লিখাঃ শুভ্র
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now