বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ল্যাবের পলিটিক্স

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X জীবন হলো এক অদ্ভূত জিনিস। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জটিলতায় পরিপূর্ণ। কি ব্যক্তি জীবন, কি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব জায়গায় পলিটক্স। কোথায় যেন শুনেছিলাম কেউ একজন বলেছিলো যে, তোমরা রাজনীতি করো কিন্তু পলিটিক্স করোনা। উনার মতে পলিটিক্স হলো নোংরা জিনিস। গ্রামীন পরিবেশে শৈশব কাটানো আমার জীবনটা ছিলো অনেক সহজ সরল। ছোট বেলায় যখন গ্রামে থাকতাম আমি খেলতে যেতাম সবার সাথে। আমার ঠিক উপরের বড় ভাইটি গ্রামীন কিছু খেলা ভালো খেলতে পারতো, যেমনঃ মার্বেল খেলা, দিয়াশলাইয়ের খোলস দিয়ে খেলা, তারপর পয়সা দিয়ে দান মারা আমি এসব খুব একটা পারতাম না তবে আমার বড় ভাইয়ের জিনিস গুলো হাতে ধরে রাখতাম। এখন আর সেই ছোট নেই। দেশ ছেড়ে বহুদুরে। ছোট বেলায় ভাবতাম হয় ডাক্তার হবো নয়ত ডক্টর হবো। আল্লাহ পরের আশাটা পুরন করার পথে। প্রায় ৫ বছর আছি গবেষনায়। ছা্ত্রহিসেবে আমি মধ্যবিত্ত তাই আমার মনের মত ল্যাবে কাজ করার সুযোগের চেষ্টা করতে পারিনি। একাডেমিক ছাত্র হিসেবে যেমন মধ্যবিত্ত অর্থনৈতিকভাবেও ছিলাম মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন ছোট সদস্য। বিদেশে আসার কিছুদিন পরই চিন্তায় পরে গেলাম কি করা যায়, জীবনের সংগ্রামে পড়ে গেলাম। দেশে থাকলে হয়ত বিসিএস এ একটা পজিশন নিতাম। সুতরাং পিএইচডি পজিশনটা পাওয়া সোনর হরিনের মত হয়ে উঠলো। আল্লাহর রহমতে পেয়ে গেলাম। আলহামদুলিল্লাহ! ল্যাব সুপারভাইজর মানুষ হিসেবে ভালো। তবে গবেষনার কাজ শুরু করার কিছুদিন পর কিছু কিছু বিষয় বুঝতে পারলাম, যে গবেষনায় ধরন আলাদা হলেও রাজনীতি আছে। আর একটি জিনিস বুঝলাম গবেষনা যেমন একটি প্যাশনের ব্যাপার তবে অনেক মানুষ আছে গবেষনা করে শখের বশে, অথবা কেউ করে ব্যবসা হিসেবে। নিজের পাবলিকেশনে দেখবেন আর একজন প্রথম অথার হয়ে বসে আছে। খুব পরিশ্রম করে কাজ করলেন প্রফেসর এসে বললো তাড়াতাড়ি ডিফেন্স দাও। ৪ বছরের কাজ ৩ বছরে শেষ করলাম, যাতে করে শেষ বছরটায় আরো বেশি কাজ করে আরো ভালো একটি পাবলিশন করা যায়, দেখা গেল প্রফেসর এসে বলছে জলদি ডিফেন্স দাও। মধ্যবি্ত্তের বিড়ম্বনা! জীবনের প্রতিটি জিনিসের মধ্যেই জটিলতা, পলিটিক্স আর বিড়ম্বনায় ভরপুর। সে তুলনায় আগের গ্রামীন জীবনকে আমার কাজে বেশি সরল মনেহয়। কারন সেখানকার মানুষগুলো অল্পতেই জীবনে সূখী হতে পারে। তবে ইদানিং শহুরে পলিটিক্সের ছোয়া গ্রামে লাগার কারনে গ্রামীন সমাজের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে গেছে। তবে যাহাই ঘটুক জীবনকে উপভোগ করতে পারার মধ্যে প্রকৃত সূখ নিহিত। জীবনে পাওয়া না পাওয়ার হিসেব না করে শুধু সামনে এগুনোর মধ্যেই সফলতা। জীবনকে কারো সাথে তুলনা না করে নিজের জীবনকে নিজের মতে করে যাপন করার মধ্যে ই মূলতঃ প্রকৃত শান্তি। প্রত্যেকটি মানুষ আলাদা, প্রত্যেকটি মানুষের পেছনের ইতিহাস, পেছনের পরিবেশ আলাদা। সুতরাং প্রত্যেকটি মানুষের আউটকাম ও আলাদা হবে, সবার আউটকামের তাৎপর্য্যও আলাদা। তবে সমাজের সব মানুষের কাজের তাৎপর্য আছে তাই সবার কাজকে সবার সন্মান করা উচিত। যেখানে যাই ঘটুক গবেষনার ল্যাব গুলো থেকে পলিটিক্স দুরে থাক এই কামনা করি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ল্যাবের পলিটিক্স

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now