বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কয়েকটি প্রাইজবন্ড

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কয়েকটি প্রাইজবন্ড আশিক পিয়াল জনাব তরিকুল সাহেব গতকালের পত্রিকার মধ্যপাতায় যেখানে হিজিবিজি অনেক ছোট ছোট লেখা থাকে তার উপর ঝুঁকে আছেন। পাশে কতগুলো প্রাইজবন্ডের কাগজ। কিন্তু তিনি ওগুলোর নম্বর পত্রিকায় না মিলিয়ে শুধু শুধু তাকিয়ে আছেন। আমি জানিনা এভাবে আহাম্মকের মত ঐ হিজিবিজি লেখায় তাকিয়ে থাকার মানে কি। লোকটা আসলেই আহাম্মক এবং তিনিই আমার বাড়িওয়ালা। গত দু'মাসের বকেয়া ভাড়া দিতে এসে ভালো রকম ফেসে গেছি। পকেটে টাকার খাম নিয়ে তিনতলা থেকে দু'তলায় এলাম। দরজা চাপানো ছিল, বেল দেয়া লাগল না। ঢুকলাম, আমাকে দেখে ওনার ছোটমেয়ে শায়লা চোখ বড়বড় করে সোফা ছেড়ে পাশের ঘরে চলে গেল। ও ইন্টারের ছাত্রী। আমাকে দেখলেই মেয়েটা এমন করে, কারণ জানিনা, একদিন জিজ্ঞেস করতে হবে। তারপর তরিকুল সাহেব একবার একটু মাথা তুলে বললেন- বসো। সে থেকে বসেই আছি, তার মাথা আর ওঠে না। এমনকি এতক্ষণ বসে থাকার সময়ে আমাকে কোন প্রকার চা, বিস্কুট কিংবা একগ্লাস পানিও দেয়া হল না। আগে দিত। অদ্ভুত! বাহিরে ঝড় শুরু হয়েছে, এতক্ষণ শুধু বৃষ্টি ছিল। বৃষ্টি আমার ভালো লাগে না কিন্তু তাও আমি ভিজি, কারণ সরাসরি বিদ্যুৎ চমকানো দেখতে ভাল লাগে। শুধু ভালো না, ভয়াবহ ভালো। . ছাদের দরজার পাশে হেলান দিয়ে বসে বিদ্যুৎ চমকানো দেখছি। কেন জানি ভিজতে ইচ্ছে করছে না। কেন করছে না? ইদানিং আমার অনেক কিছুই করতে ইচ্ছে করে না যা আগে করতাম। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ- ক'মাস আগেও বাড়িওয়ালার ছোটমেয়ে শায়লাকে দেখলেই আমি একনজরে তাকিয়ে থাকতাম, মুখ সামান্য হা হত। আর এখন একহাত দূরত্বে ওকে পাশ কাটিয়ে গেলেও আমার কোন অনুভূতি নেই। অদ্ভুত! আমার সম্ভবত ইমোশন ড্যামেজ ঘটছে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন আমি সম্পূর্ণ আবেগ অনুভূতিহীন হয়ে যাব। আমার গলায় চাকু ধরে যদি বলা হয়- "এখন তোমার কন্ঠনালীর শিরা উপশিরাগুলো একটা একটা করে কেটে ফেলা হবে, তোমার অনুভূতি কি?" তখন আমি কিছুই বলতে পারব না। ব্যাপারটা মজার। . বিরাট শব্দে চারপাশ কাঁপিয়ে কোথাও বাজ পড়লো। শীত শীত করছে। আজ রাতেই জ্বর আসবে এটা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেল এবার। কারণ সকাল থেকেই সারাদিন এমন শীত শীত করছিল। মনটা খারাপ হয়ে গেল। কারণ অসুখে পড়লেই আমার খেয়াল হয় আমি একা, আমাকে বড় যত্ন করে সেবা করার কেউ নেই। . রাত আনুমানিক দেড়টা। পুনরায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে একটু একটু টের পাচ্ছি। শায়লা দরজা জানালা সব বন্ধ করে সারাঘর একদম গুমোট করে ফেলেছে। জ্বরের ঘোরেই ধমক দিলাম, "ঘরটাতো কবর বানায়া ফেলছো, জানালা খুলো। আরে এইটা কেন, ঐটা খুলো, হ্যা।" জানালা খোলা হল। ঘরময় শীতল হাওয়ার ছড়াছড়ি শুরু হল মুহূর্তেই। আমার কপালে শায়লার যত্ন মাখানো হাত। স্বর্গীয় অনুভুতি। কত কাল এমন যত্ন নিয়ে আমার কপালে কেউ হাত রাখেনি। . তখন ছাদ থেকে আমার ঘরে ফিরে এসে দেখি তরিকুল সাহেব, আমার বাড়িওয়ালা। ডাইনিং টেবিলের একটা চেয়ার পেতে ঘরের মাঝখানে বসে আছেন। হাতে সেই পত্রিকা, ওনার মুখ থমথমে। থমথমে গলায়ই তিনি বললেন, "প্রাইজবন্ড এবারও মিলল না, ভাগ্যে নাই।" "চাচা আপনি কি প্রাইজবন্ডগুলো পেপারের নম্বরের সাথে মিলাইছিলেন?" "জাহিদ?" "জ্বি।" "আমাকে তোমার অনেক আহাম্মক মনে হয় আমি জানি। আমি এটাও জানি আমার ছোট মেয়েটাকে তুমি পছন্দ করো। কি, করো না?" "জ্বি-না মানে জ্বি।" "একটা বোবা মেয়েকে সারাজীবন আগলায়া রাখতে পারবা না তুমি। তোমাকে আমি চিনি বাবা, তুমি ভদ্র ছেলে। তোমার কাছে আমি যতটা বিরক্তিকর, ঠিক তেমনি আমার কাছে তুমি ততটাই ভালো। কিন্তু আমার ছোটমেয়েটাকে যে তুমি সারাজীবন বুকের মধ্যে আগলায়া রাখবা আমি যেমন রাখছি, তা পারবা বলে আমার মনে হয় না।" "আপনার ধারণা সত্য চাচা।" "তুমি এমন কাঁপতেছো কেন?" "ভীষণ জ্বর আসার আগে আমার এমন হয়।" "জলদি গিয়ে শুইয়া পড়ো, দরজা লাগাবা না, আমি আসতেছি।" তরিকুল সাহেব হন্তদন্ত ভাবে চলে গেলেন। খালি চেয়ারটাতে গিয়ে আমি বসলাম। খোলা দরজায় চোখ ফিরিয়ে বসে আছি। মাথা ভার ভার লাগা শুরু হয়েছে, চোখের পাতা খোলা রাখা যাচ্ছে না আর। কিন্তু চোখ বন্ধ হওয়ার আগে আমি একটু শায়লাকে দেখতে চাই। যদি এমন হয় এই চোখ বন্ধ হওয়াই শেষ বন্ধ হওয়া, আর খুললো না, তখন?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কয়েকটি প্রাইজবন্ড

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now