বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অরিনের কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ফোন রেখে দেয় অনি।
অনি রেখে দেয়ার পর ও দীর্ঘ সময় ফোন কানে নিয়ে বসে থাকে অরিন। এমন লাগছে কেন? গলায় কি যেন দলা পেকে আছে মনে হচ্ছে। অনি তাকে রেখে অন্য কাউকে সময় দিবে, গুরুত্ত দিবে মেনে নিতে পারছেনা সে। কিন্তু কেন? তিন বছরের দীর্ঘ বন্ধুত্তে কখনো এমন মনে হয়নি তার। আর অনির বিষণ্ণতা মুক্ত কণ্ঠস্বর শুনে তার খুশি হওয়া উচিত। কিন্তু মনে হচ্ছে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুটিকে সে হারিয়ে ফেলেছে। তার সেই বিষণ্ণ চোখ জোড়াই যে অরিনের সবচেয়ে প্রিয় ছিল। সারারাত জেগে কাটিয়ে দেয় অরিন। অনি ঠিক ই বলেছিল, সারারাত মুনা ঘুমোতে পারবেনা “খুশিতে” খুব কম সময়ের ভিতরেই অনির জীবনে অরিনের জায়গাটা রিমুর হয়ে যায়। অরিন নিরব চোখে অনির বদলে যাওয়া অনেক চুপচাপ হয়ে যেতে থাকে অরিন। ব্যাপারটা চোখ এড়ায়না অনির। অরিনকে সে অনেক ভাল করে চিনে।
একদিন বিকেলে অরিনকে দেখা করতে বলে অনি। মাথা ব্যথার বাহানা দিয়ে এড়িয়ে যায় অরিন। কিন্তু অনির অনুরোধে শেষমেশ রাজি হয় সে।
অনি-- কি হয়েছে তোর? এত চুপচাপ থাকিস কেন?
অরিন-- না তো ,এমনি।
অনি-- তোকে আমি চিনিনা ভেবেছিস? আমি জানি আমি তোকে সময় কম দেয়ায় খারাপ লাগছে তোর।
অরিন-- কম??? হাসে অরিন। শেষ কবে আমাকে দরকার ছাড়া ফোন দিয়েছিস বলতো? তোর মন খারাপ থাকলেই অরিনকে লাগে। এছাড়া একবারও জিজ্ঞেস করেছিস কেমন আছি আমি? স্বার্থপর তুই।
অনি--- আমি জানি অরিন তুই অনেক একা হয়ে গিয়েছিস। কিন্তু আমি যে অপারগ। কি করতে পারি আমি তুই বল?
অরিন-- আমি তোকে কিছু করতে বলেছি? তুই আসতে বলেছিস কেন আমাকে? আমি অনেক ভাল আছি, আমাকে নিয়ে ভাবতে হবেনা তোর।
চলে যায় অরিন। তাকে কোনভাবেই শান্ত করতে পারেনি অনি। অনি কিভাবে বোঝায় অরিনের জন্য তার গভীর মায়া কাজ করে। হাসিখুশি এই মেয়েটি তার সব খারাপ সময়ে তাকে আগলে রেখেছে। আসলেই স্বার্থপর সে। অরিন বুঝতে পারে সে অনিকে অনেক ভালবাসে। অনি জগত জুড়ে শুধু সেই ছিল তাই এই অনুভূতিকে আবিষ্কার করতে পারেনি আগে। তার জায়গাটায় অন্য কেউ বসে যাওয়াতে সে বুঝতে পারছে অনি তার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অরিন ভাবে অনিকে সব বুঝিয়ে বলে তার জীবন থেকে সরে আসবে সে।
একদিন ফোন করে সব কথা খুলে বলে অনিকে । চুপচাপ শুনে যায় অনি । অরিনের ভিতর চিৎকার করে বলতে থাকে প্লিজ অনি আমাকে চলে যেতে দিস না, একটা বার আটকানোর চেষ্টা কর আমাকে। তুই ই যে আমার হাসির কারন ছিলি। তুই ছাড়া আমি কখন হাসতে পারবোনা রে। কিন্তু মুখে কিছুই বলেনা অরিন। শক্ত কণ্ঠে বলে
“ভাল থাকিস, আমার দূরে সরে যাওয়াটাই ভাল। কাছের মানুষের অবহেলার স্বাদ আমি পেতে চাইনা।”
অনি বলে “আমাকে কিছু বলার সুযোগ তো ...”
অরিন-- না অনি, আমি জানি কি বলবি তুই। করুণা চাইনা আমি। আমাকে সরে যেতে দে, দোহাই লাগে তোর। তুই সুখে থাক, তাতেই আমার চলবে।
:
:
````````````` „একজন আমি„ `````````
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now