বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সিরাজবাগের সদাশিব বাবু যেমন ধনী তেমনি মহৎ । নিজের কাজ ছাড়াও অন্য কোন মানুষের দরকারে অদরকারে ঝাঁপিয়ে পড়তে পিছুপা হন না তিনি । সৎ মানুষ হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম আছে,তাঁর নিজস্ব ব্যবসা ।
চুমকি আর জরির শাড়ির দোকান ।তার দোকানে প্রচুর খদ্দের নিত্যি ভীড় করে থাকে । বিভিন্ন শাড়িতে চুমকির কাজ করার জন্য প্রচুর অর্ডার পড়ে ।জরির পাড় লাগাতেও ভীড় করে থাকে ছেলেমেয়েরা । পূজাপার্বণ আর অনুষ্ঠান এর মরশুমে সারা বছর ধরে তাই তার ব্যবসা রমরমিয়ে চলে ।
সদাশিব বাবুর পুত্র প্রদীপ ব্যবসায় বাবাকে সাহায্য করে প্রদীপের বিয়ের বয়স হয়েছে । সদাশিব বাবু কুলবধু হিসেবে এমন একজনকে আনতে চান যে রূপে-গুণে সুন্দর হবে । দূর দূর থেকে অনেক মেয়ের খোঁজ আসে ,
কিন্তু সদাশিব বাবুর কাউকে মনে ধরে না । আসলে ধরবে কি করে তারা যে সদাশিব বাবুর নেওয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না । এই তো কদিন আগেই তিতাসপুরে নির্ঝর বাবুর মেয়ে দেখতে সদাশিব বাবু গেছিলেন।
সব কিছুই তার ভালো লেগেছিল কিন্তু বাদ সাধল একটা জায়গাতেই । সে মেয়েকে জিজ্ঞেস করে জানা গেল, সে সাজগোজ করতে ভালোবাসে বলে প্রত্যেক মাসেই নতুন ধরণের কোন জরি বসানো শাড়ি দোকানে এলেই সে কিনে ফেলে ,
কিন্তু কদিন যেতে না যেতেই সে শাড়িতে তার অরুচি ধরে যায়। মন তখন ব্যাকুল হয়ে ওঠে আবার কোন ঝাঁ চকচকে নতুন শাড়িরজে । সদাশিব বাবু বুঝলেন এই মেয়ে তার পুত্রবধু রূপে এলে তার খরচ যোগাতে যোগাতে হিমশিম খাবেন তিনি আর তার ব্যবসার লোকন হবে। সঞ্চিত ধনে টান পড়বে।
নাহ এ মেয়ে বাতিল । আবার নতুন করে খোঁজশুরু করতে হবে তাঁকে ।
এইরকম করে দিনের পর দিন কেটে যায়,মনের মতন আর কাউকে তিনি পান না । একদিন তিনি দোকানে বসে ভাবছেন কি করা যায়, এমন সময় একটি মেয়ে এল তার দোকানে । সে এসেই জিগ্যেস করল
, “আচ্ছা আপনার দোকানে জরি বা চুমকি ছাড়া কোন শাড়ি নেই ?” সদাশিব বাবু তাকে এক পলক দেখে বললেন,-“কেন মা, আজকাল তো এইরকম শাড়ি সবাই পড়ছে, তুমি বুঝি এই ধরনের শাড়ি পরতে পছন্দ কর না ?” মেয়েটি হেসে উত্তর দিল-“আমিও পরতে ভালবাসি, তবে আমার ঘরে অনেক কাজ করা শাড়ি আছে,
যা অনেক পুরোনো হয়ে গেছে কিন্তু জরির পাড় আর চুমকিগুলো এখনও সুন্দর আছে, তাই আমি এমন শাড়ি জছি যাতে আমি সেই চুমকি আর জড়ি গুলো ছোট্ট আল্পনায় ভরিয়ে নতুন করে তুলতে পারি । আমি আঁকতে জানি ,তাই নিজেই সেসব এঁকে নিতে পারব। ” এই বলে মেয়েটি থামল ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now