বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কষ্টের রং

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rafi Orton (০ পয়েন্ট)

X -আচ্ছা সেতু বলতো,কষ্টের কোন রং হয়না কেন?শরীরের কোথাও আঘাত পেলে রক্ত ঝরে,সেই রক্তের রং লাল;কাউকে না বললেও সবাই ব্যথার কথাটা ঠিক টের পেয়ে যায়।কিন্তু শত আঘাতে হৃদয় নামক বস্তুটা যখন ঝাঁঝরা হয়ে যায় তখন কেন কেউ বুঝতে পারেনা?কেন মুখ ফুটে নিজেকেই বলতে হয়;আমার বড় কষ্ট হচ্ছে? আমার বুদ্ধিমতী মেজ আপার প্রশ্ন শুনে সেদিন বোকাসোকা আমিও বড় অবাক আর বিরক্ত হয়েছিলাম।বয়স আমার তখন কত আর হবে,চৌদ্দ কি পনের।রাজা-রাণী,রাক্ষস-খোক্ষস,চাচা চৌধুরী-তিন গোয়েন্দা শেষ করে তখন সবে শরৎ শুরু করেছি।মেজ আপার প্রশ্ন শুনে আমি শুধু গম্ভীরমুখে একবার চশমা ঠিক করে আবার 'অরক্ষণীয়া' তে মনযোগ দিয়েছিলাম। সেদিনটাও আজকের মত ঝড়বাদলার দিন ছিল।জ্ঞানদার দুঃখে আমি নিজেই যখন কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানির জন্য দুনিয়া ঝাপসা দেখছিলাম তখনই হঠাত কারেন্ট চলে গেল।ভীতু আমি ভয় পেয়ে বই ফেলে একদৌড়ে পাশের রুমে মেজ আপার কাছে চলে এসে দেখি আপা ঘুমুচ্ছে।আপাকে আর এর আগে কখনোই সন্ধ্যেবেলায় ঘুমুতে দেখিনি।গোধূলিবেলার আবছা আলোতে ঘুমন্ত আপাকে বড় সুন্দর লাগছিলো।ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি আর চোখের মুখের বিষণ্ণতা মিলে আপাকে কেমন যেন মায়াবী লাগছিলো।আমি চুপচাপ গুটিসুটি মেরে আপার পাশে শুয়ে পরেছিলাম।আপার মায়াবী মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কোন ফাঁকে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টেরই পাইনি।ঘুম ভেঙেছিল রাত নটায় বাবার অফিস থেকে ফেরার পর।আপা তখনো ঘুমোচ্ছিল।বড় শান্তির ঘুম।সেই ঠোঁটের কোণের হাসিটা তখন চোখের মুখের বিষণ্ণতার রংয়ে মিলিয়ে গেছে।ইচ্ছে করছিলো আপাকে ডেকে বলি; -আপা কষ্টেরও রং হয়,বিশ্বাস না হয় আয়নাতে দেখ।ডেকেও ছিলাম আপাকে,তবে ততক্ষণে সকল প্রশ্ন উত্তরের পালা সাঙ্গ করে আপা অন্য জগতে পাড়ি জমিয়েছিলো।আপার মৃত্যু হয়েছিল ঘুমের মাঝখানে,গোটা ত্রিশেক ঘুমের ঔষধ খাওয়ার ফলে। আপা মারা গেছে আজ প্রায় বছর দশেক হতে চলল,তবুও এখনো ভাবতে ইচ্ছে করে আপা বেঁচে আছে।কোন একদিন পথ চলতে গিয়ে আপাকে হঠাত পেয়ে যাব আর আপার প্রশ্নের উত্তর দিব।বলবো, -কষ্টেরও রং হয়রে আপা,বড় ভয়ানক সেই রং।সেই রং চেনার পর পৃথিবীর বাকি সব রং বর্ণহীন হয়ে পড়ে।সেই বর্ণহীন পৃথিবীতে বেঁচে থাকা যায়না।চুপিচুপি পালিয়ে যেতে হয়।জানিস আপা,আমারও আজকাল তোর মত পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে।ইচ্ছে করে তোর পাশে আগের মত গুটিসুটি মেরে চুপচাপ শুয়ে থাকি।আপা,নিয়ে যাবি আমাকে তোর কাছে?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ যোগ ব্যায়ামে শ্বাসকষ্টের উপশম
→ কষ্টের
→ দুঃখী মেয়েটার কষ্টের গল্প
→ মেয়েদের গোপন কিছু কষ্টের গল্প...!
→ কষ্টের বহ্নিশিখা
→ "নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে"
→ কষ্টের গল্পপ
→ ভালোবাসা অনেক কষ্টের( পর্ব ২)
→ ভালোবাসা অনেক কষ্টের (পর্ব১)
→ কষ্টের রং
→ কষ্টের লিখা সব ব্রিধা গেল
→ আমার কষ্টের পুরষ্কার দুনিয়াতেই যেন লাভ না হয
→ কষ্টের জীবনী
→ অনেক কষ্টের ভালবাসা
→ একটি ছোট কষ্টের কাহিনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now