বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কষ্ট গুলা মনের আকাশে কালো মেঘের মত ছেয়ে আছে।কখনো কখনো দুচোখ বেয়ে টুপ করে ঝরে পরে।কখনো কখনো কারো সামনে,কখনো বা সবার আড়ালে।আমার স্বপ্নগুলাও সেই মেঘের আড়ালে ঢাঁকা পরে আছে... যেই লক্ষ্য নিয়ে যান্ত্রিক শহরটাতে পা রেখে ছিলাম সেই লক্ষ্য থেকে আমি এখন বহুদূরে অবস্থান করছি।
.
স্কুললাইফে সব সময় টপ-থ্রীর মধ্যে থাকতাম।হাতে গোনা চার-পাঁচটা ফ্রেন্ড আমার।কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসএসি পাশ করলাম।ইচ্ছা ছিলো কোন পাবলিক ভার্সিটিতে পড়ার।কিন্তু দুইবছর ভর্তি পরিক্ষা দেয়ার পরেও ভাগ্য আমার প্রতি সদয় হলো না।ড্যাফেডিল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম…..
.
আমি ক্লাসমেইট গুলাকে কখনো আমার ফ্রেন্ড মনে করতাম না।পুরনো ফ্রেন্ড তিনজন আর নতুন করে পরিচিত হলো আরো দুইজন।এদের বাইরে আমি কখনো কারোর সাথে মিশতাম না।এরাই ভার্সিটি লাইফে আমার কাছে সব কিছু ছিলো.........
.
একই স্কুলে একসাথে পড়ার সময় এমনকি ভার্সিটিতেও কখনো তোমার সাথে কথা বলিনি।মাঝে মাঝে চোখাচোখি হত এই আর কি...
ভার্সিটি লাইফ শেষ হলো নভেম্বর মাসের পনের তারিখে।আর তোমার সাথে রিলেশন শুরু হলো ঠিক ডিসেম্বরের ছাব্বিশ তারিখে।ভাবতে পারো মাত্র কয়েকটা দিনে তোমার প্রতি কি পরিমাণ এডিক্টেড হয়ে পরে ছিলাম?তোমার করা প্রতিটা টেক্সট তোমার বলা প্রতিটা কথায় আমি মুগ্ধ হতাম।তোমার আমার রিলেশনের কথা সর্বপ্রথম আমি মাকে জানাই।তুমি তো জানো মা আমার বেস্টফ্রেন্ড।আমি তো খুব ভয়ে ছিলাম।কিন্তু মা আমাদের রিলেশন এক্সেপ্ট করে নিলো……
.
তারপর তোমার আমার কিছু মধুর সময় কাটলো...এই ধানমন্ডি লেক পার,এই রবিন্দ্রসরোবর কত এসেছি এইখানে বন্ধুদের সাথে কিন্তু কখনো তো এত স্পেশাল ফিল করিনি...কখনো তো লেকের পাশটা এত সুন্দর মনে হয়নি। সেদিন এত স্পেশাল মনে হওয়ার কারনটা ছিলে তুমি!!তোমার আঙুলের প্রথম ছোঁয়া।পুরো সময়টাতে একটা ভালোলাগার আবেশ আমার চারাপাশটা জড়িয়ে রেখেছিলো। আমাকে বাসার সামনে যখন তুমি নামিয়ে দিয়ে গেলে খুব কষ্ট হচ্ছিলো।আরো খানিকটা সময় তোমার সাথে থাকতে ইচ্ছা করছিলো...কি এমন মাদকতা ছিলো তোমার মাঝে?যা আমাকে এতটা মোহিত করেছিলো?
.
আস্তে আস্তে আমার বাসার সবাই আমাদের রিলেশনের কথা জেনে গেলো।বাসায় যাওয়ার পরে বাবা যেদিন আমাকে সামনে বসিয়ে তোমার কথা জিজ্ঞেস করছিলো সেদিন কেন জানি আমি এতটুকুও ভয় পাইনি।অথচ যে বাবাকে কিনা আমি যমের মত ভয় পেতাম...বাবার সম্মতিও পেলাম... বাবা আমাকে জানালো তোমার জব পেতে যতদেরিই হোক না কেন আমার ফ্যামিলি অপেক্ষা করবে…
.
আমার বাবা সোনালি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার।পরিচিত কলিগরা প্রায় সবাই জানে আমাদের ফ্যামিলির সম্পর্কে।একটার পর একটা প্রস্তাব আসতে থাকে আমার জন্যে।কিন্তু কোনটাতেই আমার সম্মতি ছিলো না।এমন সময় আমার ছোট-মামা একটা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসলো বাবার কাছে।বাবা তো সরাসরি এটা বলতে পারেননা যে আমার মেয়ের অন্য কোনজায়গায় সম্পর্ক আছে?
এবার বাসা থেকে আমাকে চাপ দিতে শুরু করলো?তারা আর কতদিন অপেক্ষা করবে?তোমার ফ্যামিলির সাথে কথা বলতে চাইলো।আমি তোমাকে ফোন দিয়ে বললাম “পারভেজ তুমি কিছু একটা করো?”
আর তুমি আমাকে কি বললে- “ইভা তুমি বিয়ে করে নাও।আমি জানিনা আমার ফ্যামিলি তোমাকে মেনে নিবে কিনা”?
এরপর তুমি ফোনের লাইনটা কেটে দিয়ে ফোন সুইচড অফ করে রাখলে।আমার বিশ্বাসই হচ্ছিলো না যে তুমি!!পারভেজ তুমি এরকম একটা কাজ করতে পারো।অনেক বার তোমার নাম্বারে ট্রাই করেছি।কত শত টেক্সট করেছি তার কোন হিসেব রাখিনি।কিন্তু পরের চার-পাঁচ দিন তোমার কোন খোঁজ-খবরই নাই।ফোন অন থাকলে কল রিসিভ করতেনা টেক্সটের কোন রিপ্লাই দাওনা।এই কয়দিন তোমার সাথে কথা বলতে না পেরে আমার যে কি পরিমাণ কষ্ট হচ্ছিলো তা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না...
.
তারপর দিন আমি অফিসে না গিয়ে তোমার বাসার সামনের রাস্তায় ঠিক চারঘন্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম কিন্তু সেদিনও তুমি কোন টেক্সটের রিপ্লাই দিলেনা।দেখা হলো তোমার এক রুমমেটের সাথে...সে আমাকে কি বলেছিলো জানো?? “ইভা পাগলামি করিস না।বাসায় যা।তুই যা চাচ্ছিস তা সম্ভব না।পারভেজ এই রিলেশনশিপ নিয়ে সিরিয়াস না।”
.
সেদিন আমি কান্না করতে করতে বাসায় ফিরে আসি... বাসায় ফেরার পরেও চোখের পানি শুকাচ্ছিলো না...এরপর নির্ঘুম কিছু রাত কেটে গেলো...জবটা ছেড়ে দিলাম।পাগলের মতো ছুটলাম তোমার কোচিং সেন্টারে।তোমাকে শুধু একবার দেখার জন্য।কোচিং সেন্টারের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম।আমার খুব ইচ্ছা ছিলো তোমাদের ব্যাচেই ভর্তি হওয়ার।যেন তোমাকে চোখের দেখাটা দেখতে পারি।কিন্তু ভাগ্য আমাকে এখানেও প্রত্যাখ্যান করলো।ক্লাস শেষ করে তুমি যখন বের হলে তোমাকে দেখে চোখদুইটা যে কি শান্তি পেয়েছিলো সেটা কি আর তুমি জানো?তুমি জানো না..
.
আমাকে এভাবে তোমার কোচিং এর সামনে দেখে তোমার মেজাজ যেন সপ্তমে!!রাগের মাথায় আমাকে কতগুলা কথা শুনিয়েছিলে মনে পরে তোমার??কত আজেবাজে ভাষায় গালিও দিয়েছিলে...আমি শুধু তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে চিন্তা করছিলাম এটাই কি ছয়মাস আগের পারভেজ?? যে কিনা আমাকে এত স্বপ্ন দেখিয়েছিলো...নাহ মনে মনে অংকটা কষতে কষতে বাসায় ফিরে যায়।কিন্তু আমি কিছুতেই মেলাতে পারিনা আগের পারভেজে আর সেদিনকার দেখা পারভেজকে...
.
ঈদে বাড়ি যাওয়ার পরে মায়ের কোলে মাথা রেখে অনেক সময় ধরে কেঁদেছিলাম।বাসার সবাই আপু-ভাইয়া আমাকে অনেক বুঝিয়েছে যে তোমাকে চায় না তার জন্যে এভাবে কান্নাকাটি করে কোন লাভ নেই ইভা।তার থেকে বরং তুমি ছেলেটাকে ভুলে যাও? তুমিই বলো এত সহজে কি কাওকে ভুলে যাওয়া যায়??এবং যদি সেইটা প্রথম প্রেম হয়?? ঈদের দিন তোমাকে ছোট্ট একটা ম্যাসেজ পাঠিয়েছিলাম।সেইটা বড় আপু দেখে আমাকে অনেক বকেছিলো...মনে ক্ষীণ আশা ছিলো যে তুমি হয়তো বা আজকের দিনটাতে রিপ্লাই দিবে।কিন্তু না দিন শেষে আমাকে হতাশই হতে হলো...
.
এখন আর কিছু ভালো লাগেনা।আমার এখনো মনে হয় যদি তুমি একবার ফিরে এসে আমাকে স্যরি বলো আমি সব কিছু ভুলে তোমাকে মাফ করে দেবো।আমি এখনো বুঝতে উঠতে পারিনা কেন করলে তুমি আমার সাথে এরকম?ভুলটা তবে কার?তোমার?নাকি আমার?হয়তো ভুলটা আমারই।তোমাকে চাওয়াটা আমার ভুল?তোমাকে ভালোবাসাটা আমার ভুল?তুমি তো অনেক সুন্দর আর হ্যান্ডসাম একটা ছেলে।তোমার জন্য হয়তো তোমার ফ্যামিলি সুন্দরী কোন মেয়েকেই বেঁছে নিবে।আমি তো আর এক্সট্রিম লেভেলের সুন্দরী ছিলাম না।যে কেউ প্রথমবার দেখেই মুগ্ধ হয়ে যাবে।কিন্তু তুমি তো সবটা জানতে আমার সম্পর্কে।তোমার ফ্যামিলি যখন আমাকে মেনেই নিবেনা তাহলে কেন আমার সাথে এই প্রেম প্রেম খেলাটা খেললে??কেন পারভেজ?কেন?
.
পরিচিত কারো সাথে বা অপরিচিত কারো সাথে দেখা হলে তোমার আমার গল্পের ছলে বুঝিয়ে দেয় ভুল মানুষ কে বিশ্বাস করাটা যে কত বড় একটা ভুল!!বলার সময় চোখ বেয়ে কষ্ট গুলা ঝরে পরে...তারপর কাটে নির্ঘুম একটা রাত আর নিঃসঙ্গ কিছু সময়।যে সময়টাতে এই অবুঝ মনটা শুধু তোমাকে কাছে চায়।আর আমি অবুঝ মনটাকে বুঝাতে বুঝাতে খুব ক্লান্ত হয়ে পরি।অন্ধকার আর নিঃসঙ্গতা আমাকে চেপে ধরে রাখে।কেন জানি এই ছাব্বিশ বছর বয়সটা আমার কাছে বড্ড বেশি মনে হচ্ছে।আমি কি তবে এই অন্ধকারেই হারিয়ে যাবো একদিন??
.
*********মিমি
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now